Kenjakura Muri Mela – Fair and Festival of West Bengal

Kenjakura Muri Mela – Fair and Festival of West Bengal

Reading Time: 3 minutesKENJAKURA MURI MELA – কেঞ্জাকুড়ার মুড়ি মেলা – সন্দীপের কলমে Beside Durga Puja, there are lots of fairs and festivals in west bengal, especially on food of westbengal. Ahare bangla is one of popular food festivals organized by govgrnment of west bengal in Kolkata, but there are more option on wb food. Here is one of them বাঁকুড়া জেলার কেঞ্জাকুড়া গ্রামে ৪ ঠা মাঘ মানে, মুড়ি পরবের দিন। সকাল থেকে কেঞ্জাকুড়া গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন জেলার মানুষ এসে যোগদান করে এই মেলাতে। দ্বারকেশ্বর নদের পাড়ে সঞ্জীবনী আশ্রমে ১লা মাঘ চব্বিশ প্রহর ব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন এর মধ্যেদিয়ে শুরু হয় মেলা, শেষ হয় ৪ঠা মাঘ। চারদিন মেলা থাকলেও আসল ভিড় হয় ৪ঠা মাঘ। সেদিন সকাল থেকেই কেঞ্জাকুড়া গ্রামের পাশা পাশি সমস্ত গ্রাম থেকে লোক মুড়ি, চপ, শিঙাড়া, লংকা, নারকেল নাড়ু,শশা, মুলা, পেয়াজ, বিলাতি,জিলিপি,বেগুনি, চানাচুর, ইত্যাদি নিয়ে হাজির হয় নদের চরে। সকলে মিলে একসাথে মুড়ি মেখে খায়। সকালে মুড়ি খাওয়ার পর নদের পাড়ে মেলা দেখে, কেউ বিশ্রাম করে, কেউ বা অপন মানুষের সাথে একান্তে সময় কাটায়। অবশেষে দুপুরে সমস্ত মেলার উপস্থিত মানুষদের জন্য থাকে খিচুড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা। যাতে সকলে প্রসাদ গ্রহন করতে পারে, তার জন্য প্রচুর লোক প্রসাদ তৈরির জন্য কাজ করে সারারাত ধরে। এদিন বিকাল পর্যন্ত খিচুরি খাওয়ানো হয়। মেলাকে নিয়ে প্রচলিত কাহিনী : বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া গ্রামের কাছেই দ্বারকেশ্বর নদের পাড়ে রয়েছে সঞ্জীবনী আশ্রম। এই আশ্রমে বহু প্রাচীন কাল থেকে মকর সংক্রান্তিতে সঞ্জীবনী মাতার বাৎসরিক পুজো উপলক্ষে অনেক মানুষ এখানে জড়ো হতেন। হরিনাম সংকীর্তন চলে মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহ-জুড়ে। লোকালয় থেকে অনেকটা দূরে এক সময় ওই এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা হরিনাম শুনতে আসতেন আশ্রমে। হিংস্র জীবজন্তুর আক্রমণের ভয়ে রাতে তাঁরা নিজেদের গ্রামে ফিরতে পারতেন...
Tulsi Chara Mela

Tulsi Chara Mela

Reading Time: 5 minutesTULSI CHARA MELA : মজার মেলা – পার্থ দের কলমে ছোটবেলায় বাংলা রচনা লিখতে হত “মেলার মজা”। এখন আমি বলব এক মজার মেলার গল্প। চিত্র ১) দয়ালহরি রায় ব্যাগ হাতে হনহন করে চলেছেন। প্রতিবেশী জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার কোথায় যাচ্ছ ? দয়ালহরিবাবু বললেন, বাড়িতে মেয়ে জামাই এসেছে। তাই মেলা থেকে একটু খাসি মাংস কিনতে যাচ্ছি। চিত্র ২) টোটোচালক কার্তিক ঘোষ পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মেলাতে এসেছেন পূজোর কেনাকাটা করতে। অবাক হচ্ছেন, পৌষ সংক্রান্তির সময় পূজোর কেনাকাটা ? একদমই ঠিক বলছি। এখানকার মানুষজন এই মেলা থেকেই দুর্গা পুজোতে পরার জামাকাপড় কিনে রাখেন। কারন দুর্গা পূজোর সময় কাপড়ের দোকানে যা দাম থাকে তার অর্ধেক দামে মেলা থেকে পছন্দসই জিনিস কেনা যায়। চিত্র ৩) ষাটোর্ধ্ব পৃথ্বীশবাবু ছোটছোট নাতি নাতনিদেরকে সিনেমা দেখাতে মেলাতে নিয়ে এসেছেন। ১৫ কিমি দূরে একটা সিনেমা হল ছিল, সেটা এখন বন্ধ। তাই নাতনিদেরকে একটু আনন্দ দিতে বাড়ির কাছে এই মেলায় আসা। পাশ থেকে একটা পুঁচকি বলে ওঠে, দাদু আগেরবারে আধখানা ডিম কিনে দিয়েছিলে। এবারে কিন্ত গোটা ডিম কিনে দিতে হবে। চিত্র ৪) কোলকাতা থেকে লীনা সাহা মেলা উপলক্ষে গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। মেলার মাঠে হোঁচট খেয়ে গেল জুতোখানা ছিঁড়ে। মেলাতেই ছিল অনেকগুলো জুতোর দোকান। মুশকিল আসান হল। দরদাম করে ১৩৫ টাকায় একজোড়া নতুন জুতো কিনে ফেললেন লীনাদেবী। হাসতে হাসতে সঙ্গের মেয়েটিকে বললেন, কি সুন্দর জুতোগুলো! কলকাতার থেকে দামও অনেক কম!! উপরের ঘটনাগুলো পড়ে অবাক হলেও সত্যি এ এক মজার মেলা। বিচিত্র এই মেলাতে এতকিছু ধরনের জিনিস পাওয়া যায়, যা শহরের একটা শপিং মলেও হয়তো পাওয়া যাবে না। তাই মেলাটাকে ‘গরীবের শপিং মল’ বলা যেতেই পারে। আরেকটা বিশেষ ব্যাপার, মেলা কমিটি থেকে কোন ডিজে বক্স বা মাইকে গান বাজানো হয় না। শুধুমাত্র মেলায় হারিয়ে গেলে...
CHAPCHAR KUT – THE FESTIVAL OF JOY IN MIZORAM

CHAPCHAR KUT – THE FESTIVAL OF JOY IN MIZORAM

Reading Time: 5 minutesChapchar Kut – The Festival of Joy in Mizoram – রেশমি পালের কলমে যখন দেখলাম ট্র্যাডিশনাল পোশাকে-মুকুটে-গয়নায় পুরোদস্তুর সাজুগুজু সত্ত্বেও মেয়েগুলো চড়া মেক-আপ করেনি আর ছবি তোলার সময় প্রাণখোলা মিষ্টি হাসিতে সোজাসুজি ক্যামেরার দিকে তাকাচ্ছে, ঘাড় বেঁকিয়ে মোহময়ী কটাক্ষ-ফটাক্ষ দিয়ে আবেদন-টাবেদন সৃষ্টি করার কোনো চেষ্টা নেই, আর এত্ত বড়ো একটা উৎসবের জমায়েত সত্ত্বেও শহরের এক কুচি আকাশও বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংএ মুখ ঢাকেনি, তখন মনে হল যাক বাবা ঠিক জায়গাতেই এসেছি। হুজুগে সামিল হইনি, সামিল হয়েছি উৎসবে। সত্যিকারের উৎসবে। কলকাতা থেকে আইজল উড়ে আসা সার্থক। মিজোরামের বসন্তোৎসব চাপচারকুট। যদিও রঙ খেলার ব্যাপার নেই, বরং উপলক্ষটা অনেকটাই আমাদের নবান্নের মতো। ঝুমচাষের পর নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ উদ্‌যাপন। বিভিন্ন মিজো গ্রামে আলাদা আলাদা দিনে চাপচারকুট পালিত হলেও রাজধানী আইজলের মাঠে যে চাপচারকুট হয় তা সবচেয়ে জমকালো, আর পালন করা হয় প্রতি বছর মার্চের প্রথম শুক্রবার। ঘটনাচক্রে এ বছর সেদিনটা হোলি ছিল। সারা দেশে যখন বেলুন-পিচকিরি-আবিরের ‘হোলি হ্যায়’ হুল্লোড়, তখন ভারতের এক্কেবারে পুবপ্রান্তের পাহাড়ি শহরটাতেও রঙের মেলা। লালে-সাদায়-কালোয় কি অসম্ভব উজ্জ্বল রঙিন পোশাক ওদের! চোখ ফেরানো যায় না। শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসবে যেমন যারা নাচগান করে তারাই শুধু নয়, আমরা দর্শকরাও নিজেদের সাজিয়ে তুলি হলুদ শাড়িতে-পাঞ্জাবিতে, পলাশের মালায়, এখানেও ঠিক তেমনি ছেলেমেয়ে সকলেই সেজেছে ট্র্যাডিশনাল মিজো পোশাকে-গয়নায়। সমস্ত বড় অনুষ্ঠানের মতো চাপচারকুটও শুরু হল কেউকেটাদের ভ্যাজরং ভ্যাজরং দ্বারা পাবলিককে তুমুল বোর করার মধ্যে দিয়ে। আমার অগত্যা মাঠের গ্যালারিতে বসে বসে দেখতে লাগলাম সারা মাঠ জুড়ে বাঁশ পড়ছে। না না প্যান্ডেল হবে না। নাচ হবে – বাঁশের নাচ। ব্যাম্বু ড্যান্স বা ‘চেরাও’ উত্তর-পূর্ব ভারতসহ সারা দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতেই বেশ জনপ্রিয়। এক-একটা দলে দশ-কুড়ি জন করে থাকে। ছেলেরা বাজনার তালে তালে বাঁশ এদিক ওদিক করে আর মেয়েরা বাঁশের এ পাশে ও পাশে পা দিয়ে দিয়ে...
Singti Fair in West Bengal

Singti Fair in West Bengal

Reading Time: 4 minutesSingti Fair in West Bengal সিংটির মেলা Content by Reshmi Pal ‘ভিডিও করতেচে রে’, ‘কোন কাগজ থেকে?’, ‘টিভিতে দ্যাকাবে?’ – একযুগ পর শুনলাম এসব কথা। আজ থেকে প্রায় আট-ন বছর আগে যখন কুমোরটুলির ঠাকুর গড়া, বাগবাজারে সিঁদুরখেলা কি ইস্কনের রথের ছবি তুলতে যেতাম, তখন গলায় এস এল আর ক্যামেরা দেখে লোকজন এমন প্রশ্ন করত। আজকাল লোকের কাছে এসব নেহাত জলভাত হয়ে গেছে। তাই এবার সিংটির মেলা দেখতে গিয়ে যখন লোকজনকে আগের মতোই সরল বিশ্বাস থেকে প্রশ্ন করতে দেখলাম, সেটা বেশ একটা নতুন রকমের ব্যাপার ছিল। সিংটির মেলাটা গ্রামের মেলা হতেই পারে, কিন্তু মোটেই প্রত্যন্ত গ্রাম নয়। কোলকাতা থেকে মোটে চুয়ান্ন কিমি দূরে, হাওড়া-হুগলির বর্ডারে বাসরাস্তার একদম কাছেই মেলাটা। যে রাস্তা দিয়ে দিল্লী পাবলিক স্কুল ডোমজুড়ের উজ্জ্বল হলুদ স্কুলবাস চকচকে পড়ুয়াদের তুলতে তুলতে যায়। যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কোলকাতায় কাজ করতে আসেন। যে মেলায় ঘুরতে আসা অল্পবয়সীদের সাজ-পোশাকে, হাবভাবে কলকাত্তাইয়া কেতা নকল করার প্রাণান্তকর চেষ্টা চোখে পড়ে, যেখানে পাড়াগেঁয়ে মনসাপুজোতেও ডিজে না এলে ঠিক মস্তি হয় না, সেইখানে সেই সিংটিতে লোকে এখনও মেলায় এস এল আর নিয়ে ঘুরতে আসা লোক দেখলে এমন অবাক হয়! আসলে বিস্তর ‘ক্যাল কানেকশন’ সত্ত্বেও শহুরে লোকেদের মোটেই এ মেলায় বেড়াতে আসতে দেখা যায় না। কারণ এ মেলার কথা শহরে বিশেষ কেউ জানেই না। আসলে অবাকটা আমাদেরই হওয়ার কথা। আমরা মুঠোয় স্মার্টফোন ভরে দুনিয়াদারি করে বেড়াই, কিন্তু ‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’ এমন একটা অন্যরকম গ্রামীণ মেলা যে প্রতি বছর পয়লা মাঘে বসে সে খবর কেউ রাখি না। এবার বলি মেলাটা কেন অন্যরকম। নতুন ধান ওঠার উদযাপন যেমন নবান্নে-পিঠেপুলিতে, তেমনি নতুন আলুর আনন্দও কি বাদ দিলে চলে? সিংটি সংলগ্ন এলাকায় অনেক আলুচাষ হয়। পয়লা মাঘে সিংটিতে একটা গোটা মাঠ...
Moichara Cattle Race Festival

Moichara Cattle Race Festival

Reading Time: 3 minutesMoichara : The cattle race festival of Bengal মৈচারার ইতিবৃত্ত ” মৈচারা ” নামটা বেশ অজানা ছিল আমার কাছে। বলতে পারি প্রথম শুনেছিলাম। খুব কৌতুহল হতো যে কি এটা। এর অর্থই বা কি। কৌতুহল টা খুব বেশিদিন আর রইলো না, অজানাকে জানার ইচ্ছা তো আমার প্রথম থেকেই আছে। তাই সেই অজানাকে জানার জন্যএকটু অপেক্ষাতে ছিলাম। যাইহোক সেই সুযোগ এসে হাজির হলো। ২রা জুলাই ২০১৭ সাল, এই দিনটা আমার কাছে একটা দারুন দিন। এতো ছবি তুলি এতো জায়গাতে যাই, কিন্তু আমাদের বাংলাতে যে কত ধরণের উৎসব পালিত হয়ে তা অনেকটা হলেও আমার অজানা। এমনই এক উৎসব হলো “মৈচারা উৎসব”। উৎসবের সময়কাল : প্রতিবছর জুন-জুলাই করে মানে ভরা বর্ষাতে এই উৎসবের আসর বসে ক্যানিং সংলগ্ন ” হেরোভাঙা ” গ্রামে। স্থানীয় তরুণ সংঘ নামক ক্লাব এই উৎসবের পরিচালনা করে। ২দিন ব্যাপী এই উৎসব চলে। সঠিক দিন ক্ষণ জানার জন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এ নজর দিতে হবে অথবা সংবাদ মাধ্যমেও খবর নেওয়া যায়। কেমন এই উৎসব: এই গ্রামের স্থানীয় কৃষকরা তথা আসে পাশের ক্যানিং সংলগ্ন গ্রাম থেকে অনেক কৃষকরা তাদের গবাদি বলদ দের নিয়ে হাজির হয়ে এই উৎসবে। এটি একটি বলদের দৌড়। এই দৌড়ে অনেক পুরস্কার থাকে। এই দৌড়টি জলে ভরা জমিতে অনুষ্ঠিত হয়ে। যায় বলদ সঠিকসময়ে ও সঠিক ভাবে দৌড় দেয় তারা পুরস্কার পায়ে। স্পেন এ যেমন বুল ফাইট হয়ে আমাদের এই বাংলাতে বলদের দৌড় মানে ” মৈচারা ” উৎসব হয়ে। দূরদূরান্ত থেকে শয়ে শয়ে ফটোগ্রাফার আসে এই উৎসব তথা এই দৌড়ের চিত্র সংগ্রহ করতে। কিন্তু বলে রাখি এইদৌড়ের ছবি সংগ্রহ করতে একটু বিপদ ও থাকে। বলদের দৌড়ের সময়ে অনেক বলদ দিক পরিবর্তন করে এই ছবিপ্রমিক দের দিকে ধাওয়া করে। একে জল কাদা ভরা জমি, তার ওপর বলদের তারা খেয়ে অনেকে...
গঙ্গাসাগর

গঙ্গাসাগর

Reading Time: 11 minutes॥ গঙ্গাসাগর ॥ ( Gangasagar ) – পূর্ণেন্দু ফাদিকার আমাদের গ্রামের বাড়ীটা ভারী অদ্ভুদ সুন্দর জায়গায়। তিন জেলার সঙ্গমস্থলে। একদিকে বয়ে চলেছে রূপনারায়ণ নদ তার সাথে এসে মিশেছে দামোদরের শাখা নদী মুন্ডেশ্বরী। এই নদীগুলিই তিন জেলার সীমানা তৈরি করেছে। রূপনারায়ণের এক পাড়ে মেদিনীপুর (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর)। এখানেই কৈজুড়ী গ্রামে আমার বাপ ঠাকুরদার আদি বাড়ী। মুন্ডেশ্বরী যেখানে রূপনারায়ণের সাথে মিশেছে তার উত্তর দিকটা হুগলি জেলার মাড়োখানা ও দক্ষিণ দিকটা হাওড়া জেলার উত্তর ভাটোরা গ্রাম। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতায় হলেও মাঝে মাঝেই গ্রামের বাড়ী বেড়াতে যাই। অনেক ছোট বেলায় – কোনও এক শীত কালের ঘটনা এখনও স্পষ্ট মনে আছে। তখন গঙ্গসাগর মেলা উপলক্ষে হুগলী জেলার তীরে মাড়োখানা থেকে বড় বড় কাঠের পাল তোলা নৌকা সারা মাসের সব রসদ নিয়ে পাড়ি জমাতো গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির মন্দিরে তীর্থ করতে। তখন দেখছিলাম যারা যাচ্ছে তাদের বাড়ির লোকজন অঝোরে কাঁদছে। আমার ছয় বছরের মনটা তখনও সবটা বুঝতে পারতো না। কেন সবাই কাঁদছ? কোথাও বেড়াতে গেলে তো খুব মজার ব্যাপার, তাও এরা কাঁদছে কেন? মাকে জিজ্ঞাসা করতে জানতে পারলাম যে গঙ্গাসাগরের পথ খুবই দুর্গম এবং বিপদসঙ্কুল। অনেক নৌকাই নাকি যাবার পথে বা ফেরার পথে ডুবে যায়। তাই ওরা সব পুণ্য অর্জন করে বাড়ী ফিরবে কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ছোট্ট মনটা তখনই ছ্যঁক করে উঠেছিল! আরে ঐ নৌকায় তো আমার বড় পিসিই পাড়ী দিচ্ছে। মাকে বলেছিলাম – ‘মা বড় পিসি ফিরবে তো?’ মা বলেছিলো ভগবানকে ডাক। তখনই জেনেছিলাম – ‘সব তীর্থ বারবার …. গঙ্গাসাগর একবার।’ না, কোনও রকম দুর্ঘটনা ঘটে নি। পিসি ভালো ভাবেই ফিরে এসেছিল। পরে পিসি কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম– কেমন বেড়িয়ে এলে? (তখনও আমি তীর্থযাত্রা মানে বেড়ানোই বুঝতাম!) পিসি সস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল – বড় হয়ে তুইও যাবি।...