Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

সপ্তাহান্তে রাঁচিতে দুদিন 

content by Mr. Subhrangsu Dasgupta

অফিসে কাজের চাপে পাগল পাগল অবস্থা। সে চাপ কাটিয়ে কোথাও একটু ঘুরে আসতে মন চায়। সেই ভেবে শীতের শুরুর উইকএন্ডে ঠিক করলাম রাঁচীই ঘুরে আসি। শনি রবি দুদিনের ট্যুর। মূলত ছোট নাগপুর মালভুমির প্রকৃতির মাঝে রাঁচীর আশেপাশের বিখ্যাত জলপ্রপাতগুলির দর্শন। হুড্রু, জোনা, সীতা ও দশম ফলস, সাথে উপরি ড্যাম ও মন্দির সহ আরো কিছু দ্রষ্টব্য স্থান।



শুক্রবার রাতে হাওড়া থেকে হাতিয়া এক্সপ্রেস (বর্তমান নাম ক্রীয়াযোগা এক্সপ্রেস) ধরে রওনা হলাম দুজনায়। তিন ঘন্টা লেটে রাত সোয়া একটায় ছাড়ল সে ট্রেন। সকালে ঘুম ভাঙতে দেখি ট্রেন ‘মুরি’ স্টেশনে দাঁড়িয়ে। মনে পড়ে যায় ‘চারমূর্তি’ সিনেমায় ঘুটঘুটানন্দের সেই মুরি। এখানে আছে হিন্ডালকোর অ্যালুমিনিয়াম প্লান্ট, যার কো-জেন পাওয়ার প্রোজেক্টের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে যুক্ত ছিলাম কর্মজীবনের প্রথম দিকে। মুরিতে ইঞ্জিন বদল করে উল্টোদিকে চলতে থাকে ট্রেন। অনেকেরই জানা মুরি থেকে রাঁচীর ঘন্টা দেড়েকের রেল যাত্রা পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বেশ মনোরম। গঙ্গাঘাট, টাটিসিলওয়াই, নামকুম পেরিয়ে রাঁচী (Ranchi) পৌঁছতে পৌনে দশটা বেজে গেল।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

প্রথম দিনঃ

স্টেশনের কাছেই হোটেল অম্রিতে (Hotel Amrit) কথা বলা ছিল। এশহরে কিছু আত্মীয়ের বাড়ি থাকলেও, যেহেতু ঘোরার উদ্দেশে আসা, তাই হোটেলেই থাকব ঠিক করেছিলাম। হোটেলে আমাদের জন্য গাড়ি নিয়ে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল রাজেশ কুমার। আত্মীয়দের মাধ্যমেই তাদের পরিচিত ড্রাইভার রাজেশের গাড়ির ব্যবস্থা হয়ছিল। এই দুদিন সেই আমাদের সব ঘোরাবে। হোটেলের ঘরে চটপট স্নান ও ব্রেকফাস্ট সেরে এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম রাজেশের গাড়িতে, ফলস দেখার উদ্দেশে। এখানে বলে রাখি জলপ্রপাতগুলি রাঁচী শহর থেকে কিছুটা দূরে দূরে। আবার হুড্রু, জোনা যেদিকে দশম ফলস তার একেবারে অন্য দিকে। অনেকটা ওঠা নামা করতে হয় বলে প্রতিটা ফলস দেখতে অনেকটা সময়ও লেগে যায়। তাই সব কটি ফলস একদিনের ট্যুরে কভার করা কষ্টসাধ্য। ট্রেন লেট করার দরুণ অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হুড্রু, জোনার প্ল্যান এদিনের জন্য ক্যানসেল করে, প্রথমদিন দশম ফলসের দিকে যাওয়া ঠিক করলাম। অনেক আগে রাঁচী এলেও জলপ্রপাত গুলি দেখা হয় নি আমাদের দুজনেরই।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Ranchi

ঝাড়খন্ডের রাজধানী হওয়ার পর রাঁচী শহর অনেক জমজমাট হয়ে উঠেছে। আগের দেখা রাঁচী এখন অনেক ঘিঞ্জি, বেড়েছে যানজট। শহর ছাড়িয়ে টাটাগামী সুন্দর মসৃণ সড়কে ছুটল গাড়ি। ঘন্টাখানেক চলে জাতীয় সড়ক ছেড়ে ডানহাতি একটি রাস্তা ধরে কয়েকটি গ্রামের মধ্যে দিয়ে পৌঁছে গেলাম দশম ফলস। রাঁচী থেকে দূরত্ব ৪০ কিমি।

দশম ফলস (Dassam Falls):

ছোট্ট গ্রাম তাইমারার পাশে কাঞ্চী নদীর উপর এই জলপ্রপাত। নদী এখানে ১৪৪ফুট নীচে জলপ্রপাতের আকারে সশব্দে ঝড়ে পড়ছে। বাদামী রঙের খাড়াই পাথরের দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে আছড়ে পড়া জলপ্রপাতের দৃশ্য ভীষণ সুন্দর। প্রায় ৩০০টি বাঁধানো সিঁড়ি নেমে পৌঁছানো যায় ফলসের পাদদেশে। নামার পথে বিভিন্ন উচ্চতায় একাধিক ভিউ পয়েন্ট বানানো, যেখান থেকে ফলসের দৃশ্য দেখা যায়। পুরো জায়গাটার তিন দিকে খাড়াই পাথরের দেওয়াল। সিঁড়ির শেষে অনেকটা জায়গা জুড়ে একগাদা বড় বড় চ্যাপ্টা প্রস্তর খন্ড। জলপ্রপাতের নীচে সবজে নীল কুন্ডের সৃষ্টি হয়েছে। তারপর পাথরের মধ্যে দিয়ে বেগে নীচের দিকে বয়ে চলেছে কাঞ্চী নদী। জলে প্রচন্ড স্রোত। পিচ্ছিল প্রস্তরখন্ডের মধ্যে দিয়ে জলে নামা এখানে অত্যন্ত বিপজ্জনক। শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে একটা পাথরের উপর বসে অনেকক্ষণ উপভোগ করলাম জলপ্রপাতের দৃশ্য। খানিকটা তফাতে ফলসের একপাশে পাথরের উপর একটা সমতল জায়গায় চলছে কোন ফিল্মের শুটিং। আর জলপ্রপাতের উপরের দিকে, নদীর ওপারে, জড়ো হওয়া স্থানীয় আদিবাসীদের মাদল বাজিয়ে চলছে কোন পরব পালন। অবিরাম জল পরার শব্দের সাথে মাদলের সে শব্দ এক অদ্ভুত আবহ তৈরি করেছিল।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Dassam Falls

সূর্য মন্দির (Sun Temple):

এরপরের গন্তব্য সূর্য মন্দির। জাতীয় সড়কে ফিরে টাটার দিকে আরো ৫ কিমি চলে আবার ডানহাতি একটি রাস্তায় গাড়ি ঢুকল। একটা পাক মেরে উঠে একটা টিলার মাথায় সূর্য মন্দিরে পৌঁছে গেলাম। সংস্কৃতি বিহার ট্রাস্টের উদ্যোগে তৈরি এই মন্দিরটির অতি চমৎকার গঠন শৈলী। সাতটি ঘোড়ায় টানা বিশাল রথের আকারে মন্দিরটি। ভিতরে সূর্যের উপাসনা। টিলার উপর থেকে আশেপাশের দৃশ্য দেখা যায়।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Surya Mandir

ফিরতি পথে ফিরে চলা রাঁচীর দিকে। এবার গন্তব্য কাঁকে ও পাত্রাতু ড্যাম। মূল শহরে না ঢুকে বাইপাস রাস্তা হয়ে পৌঁছলাম ডোরান্ডা। এখানেই রয়েছে নানা অফিস, মন্ত্রালয়, মুখ্যমন্ত্রীর আবাস প্রভৃতি। কাঁকে (Kanke) পাহাড় ও ড্যাম রাঁচী শহরের অন্যতম দ্রষ্টব্য। এছাড়াও রাঁচী শহরের আরো দ্রষ্টব্য হল রাঁচী হিল ও মন্দির, টেগোর হিল বা মোরাবাদী পাহাড়। তবে এসবই আগে দেখেছি। কাঁকের কাছেই পড়ল রাঁচীর বিখ্যাত বা কুখ্যাত পাগলাগারদ। একটি রাজ্য সরকারের, একটি কেন্দ্রীয় সরকারের ও আরেকটি বেসরকারী।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Surya Mandir

পাত্রাতু ঘাটি ও ড্যাম (Patratu Hill & Dam):

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Patratu Dam

আমরা চললাম কাঁকে ছাড়িয়ে আরো ২০ কিমি দূরে পাত্রাতু ঘাটি ও ড্যাম দেখতে। শহর এলাকা ছাড়ালে পাহাড়ি পথের শুরু। তার সাথে হালকা জঙ্গল। চওড়া, মসৃণ রাস্তায় পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে চলে পৌঁছে গেলাম পাত্রাতু ঘাটি। রাস্তার পাশে ভিউ পয়েন্ট থেকে নীচের উপত্যকা ও সামনের পাহাড়ের সারির ব্রেথ টেকিং ভিউ। এই রাস্তাটিই পাক খেয়ে নীচের দিকে নেমে গেছে এঁকে বেঁকে। নীচে একপাশে দেখা যাচ্ছে পাত্রাতু ড্যামের বিশাল জলরাশি। এরপর আরো ৫ কিমি নীচের দিকে চলে পৌঁছে গেলাম উপর থেকে দেখা পাত্রাতু ড্যামের পাশে। স্থানীয় নলকরি নদীতে তৈরি হয়েছে পাত্রাতু ড্যাম ও জলাধার।




পাত্রাতু তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জলের সরবরাহ হয় এই জলাধার থেকে। আবার রামগড় ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতেও জল যায় এখান থেকে। এই রাস্তাটিই পাত্রাতু তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কলোনী ছাড়িয়ে চলে গেছে রাঁচী-হাজারিবাগ রোডের রামগড় অবধি। বিশাল জলাশয়টিতে শীতের এসময় হালকা কুয়াশার চাদর। জলের পাশে বাঁধা বেশ কয়েকটি নৌকা। শীতে এই জলাশয়ে নানা পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। পর্যটকরা নৌকা নিয়ে ভেসে পড়তে পারে জলে, পাখি দেখতে। তবে শীতের ছোট দিনে, শেষ হতে চলা বিকেলে, জলে ভেসে পড়ার ইচ্ছে মুলতুবি রেখে ফিরতি পথ ধরলাম। পথে একটি ছোট পাহাড়ি নদীর উপর ব্রীজ পার হওয়ার সময় সূর্যাস্ত দেখলাম। নদীর উপর রঙ ছড়িয়ে পাহাড়ের পিছনে সেদিনের মত অস্ত গেল লাল টকটকে সূর্য। রাঁচী ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে গেল।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

View point of Patratu

দ্বিতীয় দিনঃ

পরদিন সকাল ন’টা নাগাদ ব্রেকফাস্ট সেরে রাজেশের গাড়িতে আবার বেরিয়ে পড়লাম। এদিনের সূচীতে হুড্রু, জোনা ও সীতা ফলস, সাথে হুড্রুর কাছে গেতালসুদ ড্যাম। রাঁচী থেকে হুড্রু ৪৩ কিমি। এদিকের রাস্তাও ঝকঝকে মসৃণ। শুধু রাঁচীর আশেপাশেই নয়, ইদানিং সরকারী উদ্যোগে গোটা ঝাড়খন্ডের রাস্তাঘাটের প্রভুত উন্নতি হয়েছে। রাজেশ সে কথাই বলছিল।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

গেতালসুদ ড্যাম (Getalsud Dam):

হুড্রুরকিছু আগে পথের পাশে পড়ল গেতালসুদ ড্যাম। সুবর্ণরেখা নদীর উপর তৈরি বাঁধ ও ৭১৭ বর্গ কিমি জুড়ে বিশাল জলাধার। অনুচ্চ পাহাড় সারিতে ঘেরা স্বচ্ছ নীল জলরাশির মনোরম দৃশ্য। বাঁধের উপর দিয়ে জলাধারের পাড় বরাবর রাস্তা ধরে গাড়ি চলল। ড্যামের নিচে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। লক গেট খুলে ছাড়া হয় সুবর্ণরেখার জল। বাঁধ পেরিয়ে সুবর্ণরেখা নদী এঁকে বেঁকে চলেছে হুড্রুর দিকে। রবিবার ড্যামের পাশে এক জায়গায় বসেছে হাট।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Getalsud Dam

হুড্রু ফলস (Hundru Falls):

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Hundru Falls in July, Pic courtesey : Sourav Ghosh

ড্যাম দেখার পর শালের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে আরো ৮ কিমি চলে পৌঁছলাম হুড্রু। দোকানপাট নিয়ে বেশ জমজমাট এই ফলস। রাঁচী মালভুমির পাহাড়-জঙ্গলের প্রকৃতির মাঝে এই জলপ্রপাতে নামার সিঁড়ির পথটি খুব সুন্দর। নামার পথে এক জায়গায় কয়েকটা চ্যাপ্টা প্রস্তর খন্ডের উপর বসে নীচের সর্ষে ক্ষেত ও দূরের অরণ্যময় পাহাড়ের অসাধারণ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ছোট নাগপুর মালভূমির প্রকৃতি যেন এখানে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। গাড়ির রাস্তা থেকে ৭৪৫টি সিঁড়ি নেমে, তারপর আবার কিছুটা পাথুরে পথ পেরিয়ে পৌঁছানো যায় জলপ্রপাতে। হুড্রু জলপ্রপাত ঝাড়খন্ডের অন্যতম সুন্দর ও উচ্চতম জলপ্রপাত গুলির মধ্যে একটি। সুবর্ণরেখা নদী এখানে পাহাড়ের গা বেয়ে খাড়া ৩২২ ফুট নিচে আছড়ে পড়ছে। তারপর পাথরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে। জলের ধারায় ক্ষয়িত হয়ে নানান আকৃতি ধারণ করা পাথরগুলি জায়গাটির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করেছে। জলপ্রপাতের পাদদেশে চলছে ফোটোশুট। ঝর্ণার নিচে সৃষ্টি হওয়া কুন্ডে ভেলায় চড়ে ভেসে বেড়ানো ও ছবি তোলার ব্যবস্থা। আগে এই জলপ্রপাত বর্ষায় ভয়ঙ্কর রূপ নিত। একটু আগে দেখে আসা গেতালসুদ ড্যাম তৈরি করে জলরাশি রোধ করার পর হুড্রুর জল অনেক কমে গেছে। এখন ড্যামের লকগেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হুড্রু ফলস। ফলস দেখার পর আবার ঐ ৭৪৫টি সিঁড়ি ভেঙে গাড়ির রাস্তায় ওঠার সময় বেশ কষ্ট মালুম হল।




হুড্রু থেকে ফেরার পথে গেতালসুদের রামকৃষ্ণ মিশন দর্শন করলাম। অনেকটা চাষের জমির মাঝে গাছে ছাওয়া শান্তির পরিবেশে মিশনের কর্মকান্ড। রয়েছে মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, কৃষি কেন্দ্র। এমন শান্ত পরিবেশে এসে মনে হয় যেন এখানেই থেকে যাই।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

সীতা ফলস (Sita Falls):

এরপর পুরুলিয়া রোড ধরে চললাম জোনা ও সীতা ফলসের দিকে। রাস্তার ধারেই মধুবন হোটেলে মধ্যাহ্ন ভোজ পর্ব সারা হল। বেশ সস্তা ও ভাল খাবার। পরিস্কার খাবার জায়গাটার পিছনে পাহাড়ের সারি। এরপর গঙ্গাঘাট স্টেশনের কাছে রেল লাইন পার হয়ে রাস্তাটি দু ভাগ গয়ে গেল। একটি পথ জোনার দিকে ও আরেকটি সীতা ফলসের দিকে। প্রথমে চললাম সীতা ফলসে। সুন্দর টাইলসের সিঁড়ি পথ জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে নেমে গেছে। অন্য ফলসের তুলনায় সীতা ফলসে সিঁড়ি অনেক কম। ১০০টার মত সিঁড়ি নেমেই জঙ্গলের ফাঁক দিয়ে দেখা মিলল পাহাড়ের গায়ে সীতা ফলসের। কাঞ্চী নদীতে সৃষ্ট এই জলপ্রপাত পাহাড়ের ৩০০ফুট উঁচ্চতা থেকে নীচে ঝড়ে পড়ছে। আরো কিছুটা নেমে সিঁড়ির পথ শেষে পাথরের পথ। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে বনবাসের সময় রাম-সীতা এখানে কিছুদিন কাটিয়েছিলেন। সেই থেকে এর নাম সীতা ফলস। আরণ্যক পরিবেশে এই জলপ্রপাতটির সৌন্দর্য অতুলনীয়। সিঁড়ির পাশে বসে জঙ্গলের ঘ্রাণ নিয়ে, পাখিদের কলতানের সাথে জলপ্রপাতের শব্দ শুনতে বেশ লাগছিল।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Sita Falls

জোনা ফলস (Jonha Falls):

সীতার কাছেই জোনা। হূড্রুর মতই বেশ জমজমাট। রাঁচী থেকে দূরত্ব ৪০কিমি। এখানেও ৭২২টি সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে হয় জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছাতে। এখানকার সিঁড়ি বেশ খাড়াই। অনেকে চড়ুইবাতি করতে এসেছে। রান্না বান্না করে চলছে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। খানিকটা উপর থেকে জল পড়ার শব্দ শোনা গেলেও একেবারে সিঁড়ির শেষে জলপ্রপাতের দেখা মেলে। গুঙ্গা নদী ও রারু নদীর স্রোতে সৃষ্ট এই জলপ্রপাত খাড়াই পাথরের দেওয়াল বেয়ে, অনেকটা জায়গা জুড়ে, তিন চারটি ধারায় সশব্দে নেমে আসছে ১৪১ ফুট নীচে। অনেকে পাথরের মধ্যে দিয়ে জলে নেমে স্নান করছে। প্রস্তরময় নদী বক্ষে নেমে পড়েছে অনেক পর্যটক। জোনার আরেক নাম গৌতম ধারা। কথিত আছে গৌতম বুদ্ধ নাকি এই জলের ধারায় স্নান করেছিলেন। নদীর উল্টো পাড়ে একটা বাংলো বাড়ি। সেখানে একটা গাড়ি দেখে বুঝলাম উল্টোদিক দিয়েও একটি রাস্তা আছে, আর সেদিক দিয়ে এলে নদীর উপর বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে, সিঁড়ি না ভেঙেই জোনা ফলস দেখতে আসা যায়। তবে শুনলাম ওদিকের রাস্তা নাকি ভাল নয় বলে ড্রাইভাররা সেদিক দিয়ে নিয়ে আসে না। স্রোতস্বিনি জোনার পারে বসে বিকেল হয়ে এল। সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে।




এবার ফেরার পালা। ফলস দেখা এবারের মত সম্পূর্ণ করে রাঁচীর ফিরতি পথ ধরলাম। টাটিসিলওয়াই, নামকুম হয়ে রাঁচীর যানজট পেরিয়ে সন্ধ্যের মুখে ফিরে এলাম হোটেলে।

ছোট নাগপুর মালভুমির পাহাড় ও জঙ্গলময় অপূর্ব প্রকৃতির মাঝে জলপ্রপাতগুলির দর্শন করে কেটে গেল দুটো দিন। এবার রাত ৯-৪০ এর হাওড়া ফেরার ট্রেনের অপেক্ষা।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi

Jonha Falls

প্রয়োজনীয় তথ্যঃ

এই ভ্রমণে ফলস গুলি দেখতে গেলে হাঁটুর জোর থাকা জরুরী। কারণ প্রতিটা ফলস দেখতে গেলে কয়েকশো সিঁড়ি নামতে হয় এবং তারপর আবার একই পথে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে আসতে হয়। স্থানীয়দের রুজির স্বার্থে প্রতিটা ফলসে পার্কিং ফি ও এন্ট্রি ফি চালু করেছে ঝাড়খন্ড সরকার। এর ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ভাল হয়েছে। একসময়ের কিছু অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার ছবি কাটিয়ে উঠে, নতুন ভাবে পর্যটনে সেজে উঠেছে এই জায়গা গুলি। প্রতিটা ফলসের প্রবেশ বিকেল ৪টে অবধি। তাই সেই মত প্ল্যান করে, সম্ভব হলে দুটো দিন হাতে নিয়ে এই সফর করা উচিৎ হবে।



থাকার জায়গাঃ

Hotels in Ranchi:

রাঁচী স্টেশনের বাইরে স্টেশন রোডে অসংখ্য হোটেল আছে বিভিন্ন দাম ও মানের। এছাড়া শহরে আছে JTDC র হোটেল ‘বিরসা বিহার’।

Hotel Amrit Contact: 0651 2462068/ 9431105884, হোটেলে বললে ওরাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে।

যাতায়াতঃ

সাইট সিয়িং ও জলপ্রপাত দর্শনের জন্য রাঁচী থেকে গাড়ি বুক করে ঘুরতে চাইলে ছোট গাড়ির ভাড়া প্রতিদিন ৯০০ টাকা প্লাস প্রতি ১০ কিমিতে এক লিটার তেলের দাম। আমাদের প্রথম দিন মোট ১৮০ কিমি ও দ্বিতীয় দিন ১২৫ কিমি যাতায়াত হয়েছিল।

Weekend tour : Ranchi tourism and Hotels in Ranchi


This content is written by Mr. Subhrangsu Dasgupta. The beautiful pictures except the cover photo and unless and otherwise mentioned, are clicked by him.





1 Comment

  1. Nice

    Reply

Trackbacks/Pingbacks

  1. Top 20 weekend destinations from kolkata for 2019 - Tour Planner Blog - […] Read more here […]

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement