Weekend Trip To Lepchajagat and Singell Tea Estate

Weekend Trip To Lepchajagat and Singell Tea Estate

Weekend Trip To Lepchajagat and Singell Tea Estate

লেপচাজগৎ

দার্জিলিং হিমালয়ে ৬৯০০ ফুট উচ্চতায়, আরণ্যক পরিবেশে, নৈস্বর্গিক শোভায় ভরা এক ছোট্ট গ্রাম। ঘুম – সুখিয়াপোখরি সড়কের উপর, ঘুম থেকে ৮ কিমি দূরে অবস্থান লেপচাজগতের।





পাহাড়ের রানি জনপ্রিয় শৈল শহর দার্জিলিংয়ের জাকজমকের অন্তরালে থাকা, অল্পচেনা এই সুন্দর পর্যটন গ্রামটির চারিদিকে বিস্তৃত পাইন, ওক ও রডোডেনড্রনের ঘন জঙ্গল। মেঘমুক্ত আকাশে জঙ্গলের মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রাজকীয় কাঞ্চনজঙ্ঘার শ্বেতশুভ্র পর্বত শিখর, লেপচাজগতের শোভা বর্ধন করে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা

‘ড্যাং’, ‘ক্যাং’ বা ‘গ্যাং’ – অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং বা গ্যাংটক, বেশ কয়েকবার ঘোরা হয়ে গেছে। এখন দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে ছুটে চলা কোন অল্পচেনা ট্যুরিস্ট স্পট বা অপরিচিত পাহাড়ি গ্রামের আকর্ষণে, যেখানে অখন্ড প্রাকৃ্তিক সৌন্দর্যের সাথে মিলে মিশে থাকবে শান্ত, নিরিবিলি, নির্মল এক পরিবেশ। আর তার সাথে যদি মেলে হোম স্টেতে থেকে স্থানীয় পাহাড়িদের আতিথেয়তা। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে (২০১৭ সালে) ছোট্ট ভ্রমণ সূচিতে বেরিয়ে পড়েছি এমনই অল্পচেনা গ্রাম লেপচাজগৎ আর তার সাথে ‘সিঙ্গেল’ চা বাগানের উদ্দেশে।

লেপচাজগৎ

আগের রাতে কলকাতা স্টেশন থেকে গরীব রথ এক্সপ্রেসে চেপে সকাল ন’টা নাগাদ নামলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। সেই চেনা এন জে পি স্টেশনের বহু পরিচিত জিপ স্ট্যান্ড। দার্জিলিং গামী একটি শেয়ার জিপে চেপে বসলাম। ঘুম পর্যন্ত যাব। গাড়ি পাহাড়ে ওঠার পর, নতুন তৈরি হওয়া রোহিনি রোড ধরে গাড়ি ছুটল কার্শিয়াং অবধি। ব্রেথটেকিং ভিউ এ রাস্তাটিতে। কার্শিয়াং পৌঁছানোর পর ঘিঞ্জি হিলকার্ট রোডে পড়লাম। তারপর দিলারাম, সোনাদা  পেরিয়ে ঘুম স্টেশনে নেমে পড়লাম আমরা। ৭৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ঘুম স্টেশনটি দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের তথা দেশের উচ্চতম রেল স্টেশন। আগে থেকে বুক করে রাখা হোম স্টে থেকে পাঠানো গাড়িতে ঘুম থেকে আধ ঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম লেপচাজগতের পাখরিন হোম স্টে তে।

পাখরিন হোমস্টের পথে

লেপচাদের জগৎ। কয়েক ঘর লেপচা ও তামাং পরিবারের বাস এই গ্রামে। লেপচাজগতে প্রবেশ করেই মূল সড়কের পাশেই তামাং পরিবারের পাখরিন হোম স্টে টি। অনেক আগে থেকে সব ঘর বুকড থাকায়, মূল দোতলা বাড়িটিতে জায়গা হয় নি আমাদের। পাশেই রবিন তামাংয়ের মামাতো ভাইয়ের ঘরে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। সাদামাটা চলনসই। তবে পরিবারের সদস্যদের উষ্ণ আতিথেয়তাই মন ভরিয়ে দেয়। ইদানিং কালে, পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠার সাথে সাথে, স্থানীয় পরিবারগুলির পরিচালনায় বেশ কয়েকটি হোম স্টে তৈরি হয়েছে লেপচাজগতে। অবকাশ যাপনে এসে অখন্ড নির্জনতার মাঝে, পাহাড় শ্রেণী, উপত্যকা ও জঙ্গলের চিত্তাকর্ষক দৃশ্যাবলি উপভোগ করা যায় লেপচাজগতে। উত্তর-পূর্বে, সামনের পাহাড়ে দার্জিলিং শহর ও উত্তরে সিমিকের নামচি শহর দৃশ্যমান এখান থেকে।

লেপচাজগৎ

দুপুরে লাঞ্চের পর পায়ে পায়ে হেঁটে দেখতে বেরলাম লেপচাজগৎকে। ঘুম থেকে আসা মূল সড়ক ছেড়ে, পাখরিনের নিচ দিয়ে চলা জঙ্গলের রাস্তায় ৫০০ মিটার চলে পৌঁছে গেলাম পুরোনো যুগের এক বাংলোয়। নির্জন প্রকৃ্তির মাঝে অবস্থিত এই বাংলোটি আজ পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের (WBFDC) নেচার রিসর্ট, যা লেপচাজগতের সবচেয়ে ভাল থাকার জায়গা। যদিও আমরা এবার স্থানীয় নেপালি পরিবারের উষ্ণ আতিথেয়তা নিতে থাকার জন্য বেছে নিয়েছি হোম স্টে। পাখির ডাক শুনতে শুনতে ও জঙ্গলের গাছপালার ঘ্রাণ নিতে নিতে একই রাস্তায় ফিরে এসে, এবার চললাম এখানকার ভিউ পয়েন্টে। হোম স্টে থেকে চড়াই পাথুরে পথে ২-৩ মিনিটের ট্রেক করে পাহাড়ের একেবারে মাথায় একটি ভিউ পয়েন্ট। পাহাড় ও উপত্যকার অসাধারণ দৃশ্য ভিউ পয়েন্ট থেকে। সামনেই খাদের ওপারে সিকিমের পাহাড়। একটু নিচে নামচি শহর। উত্তর পূর্বে দার্জিলিংয়ের পাহাড় শ্রেণী। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ। কনকনে ঠান্ডা। সেই সাথে বইছে হিমেল ঝোড়ো বাতাস, থেকে থেকে।

লেপচাজগৎ

সন্ধ্যের পর আরেক রূপ লেপচাজগতের। উত্তর পূর্বের পাহাড়ে জোনাকির মত অজস্র আলোকবিন্দু। আলোকামালায় সেজে উঠেছে ঘুম ও দার্জিলিং শহর। অদ্ভুত সুন্দর সে দৃশ্য। একটু নিচে সিকিমের নামচি শহরের আলোও দেখা যাচ্ছে। রাতে প্রচন্ড ঠান্ডায় কাঁপুনি ধরে যাবার জোগাড়। তামাং পরিবারের সদস্যরা কাঠ যোগাড় করে বোন ফায়ারের ব্যবস্থা করেছিল, আমাদের ঘরের বাইরে। পরিবারের মহিলাদের তৈরি গরম গরম মোমোর সাথে, আগুনে হাত পা সেঁকতে সেঁকতে, নানান গল্প চলছিল পাহাড়ি মানুষগুলির সাথে। আগুনের পাশে বসে কনকনে ঠান্ডা থেকে সাময়িক আরাম পাওয়া গেল।




প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল সে রাতে। পরদিন ভোরে উঠে রুমের বাইরে বেরিয়ে দেখি ঝকঝকে পরিস্কার আকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার শ্বেতশুভ্র চূড়া। উঠে এলাম ভিউ পয়েন্টটিতে। সামনে সকালের নরম আলোয় উদ্ভাসিত তুষার শুভ্র পর্বত শ্রেণী। বরাফাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘার রাজকীয় দৃশ্য। আমাদের এবারের ছোট্ট ভ্রমণ সূচীতে সেরা প্রাপ্তি এটাই। বহুবার দেখলেও পুরনো হয় না সে দৃশ্য। প্রতিবারেই নতুন লাগে, আনন্দে উদ্বেলিত হই, কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শনে। ছবি তুলে ক্যামেরা বন্দী করে রাখার চেষ্টা করলাম কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে হালকা মেঘ এসে ভিড় জমাতে  থাকল শ্বেতশুভ্র পর্বত শিখরের মাথায়।

লেপচাজগৎ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

সকালের উজ্জ্বল রোদে আরো ভাল লাগছিল লেপচাজগতকে। ঝকঝকে সবুজ চারিদিকে। পাইন – ওকের জঙ্গলের সুন্দর রূপ। ঘুম থেকে আসা রাস্তাটি লেপচাজগৎ ছাড়িয়ে পশ্চিমে চলে গেছে সুখিয়াপোখরি হয়ে মানেভঞ্জং। দার্জিলিং ও ঘুম থেকে সুখিয়া হয়ে মানেভঞ্জং অবধি সারাদিন জিপ চলাচল করে এ রাস্তায়। সান্দাকফু পর্বতে ট্রেক করে বা জিপে চড়ে যাওয়া যায় মানেভঞ্জং থেকেই। সুখিয়া লেপচাজগৎ থেকে ৫ কিমি। সুখিয়া থেকে আরেকটি রাস্তা মিরিক হয়ে নিচে নেমে গেছে শিলিগুড়ির দিকে। একটি পর্যটক পরিবার গাড়ি নিয়ে সেদিকেই বেরিয়ে গেল সকাল সকাল। আবার এ রাস্তা দিয়ে চলে আরেকটি নতুন ট্যুরিস্ট স্পট জোড়পোখরি, যেখানে জি টি এ র পর্যটক আবাস তৈরি হয়েছে। সেদিকে ঘুরে আসার ইচ্ছে থাকলেও খারাপ রাস্তার কথা শুনে তা মুলতুবি রাখতে হল এ যাত্রায়।




সিঙ্গেল টি এস্টেট

এরপরের গন্তব্য ছিল কার্শিয়াংয়ের কাছে ‘সিঙ্গেল’ (Singell) টি এস্টেট। সেখানে থাকার ব্যবস্থা আরেকটি হোম স্টে তে। ব্রেকফাস্টের পর গাড়ির কথা বলাতে, পাখরিন হোম স্টের কো-ওনার, রবিনের ভাই অনিল তামাং নিজেই গাড়ি নিয়ে আমাদের পৌঁছে দিতে রাজি হয়ে গেল। এগারোটা নাগাদ লেপচাজগৎকে বিদায় জানিয়ে যাত্রা করলাম পরের গন্তব্যের দিকে।

বাতাসিয়া লুপ থেকে দার্জিলিং

ঘুমে পৌঁছে দার্জিলিং গামী বাঁহাতি রাস্তায় ১ কিমি চলে বাতাসিয়া লুপ। এখান থেকে দার্জিলিং আরো ৫ কিমি। ব্রিটিশ আমলের উচ্চমানের প্রযুক্তির নিদর্শন এই বাতাসিয়া লুপ, তৈরি হয়েছিল টয় ট্রেন চলার পথ সুগম করতে। সেযুগের ইঞ্জিনিয়াররা সমস্যায় পড়েছিলেন, বেশি উচ্চতার ঘুম থেকে অনেকটা কমে যাওয়া উচ্চতায় রেল লাইন পেতে দার্জিলিংয়ের দিকে নিয়ে যেতে। সে সময় রেল লাইনের লুপটি নির্মাণ করে উচ্চতার পরিবর্তন মোকাবিলা করে টয় ট্রেনের যাত্রা পথ সম্পূর্ণ করা হয়। একটি ওয়ার মেমোরিয়াল আছে বাতাসিয়া লুপে। পাশে এক গোরখা সৈনিকের মূর্তি ও জাতীয় পতাকা। বাতাসিয়া লুপ থেকে দার্জিলিং শহরের দৃশ্য ও তার মাথার উপর বিস্তৃত শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার পর্বত শিখর এক কথায় অনবদ্য। যেন হাত বাড়ালেই দার্জিলিং। এর আগে কয়েকবার দার্জিলিং ভ্রমণে এসেছি। এ যাত্রায় তাই আর দার্জিলিং যাব না। তবে বাতাসিয়া লুপে এই প্রথম। একটি টয় ট্রেনের দেখাও মিলল বাতাসিয়া লুপে। ঘুমের দিক থেকে এসে, কু ঝিক ঝিক শব্দ করতে করতে ও হুইসল বাজাতে বাজাতে পুরো লুপটা প্রদক্ষিণ করে, ট্রেনটি একটি টানেলের মধ্যে দিয়ে হিল কার্ট রোডে নেমে পাহাড়ের একটি বাঁক পেরিয়ে চলে গেল দার্জিলিংয়ের দিকে।

বাতাসিয়া লুপ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

এরপর ঘুম মনাস্ট্রি। সামতেন চোলিং মনাস্ট্রি। প্রাচীন এই বৌদ্ধ গুম্ফা। উপাসনা গৃহে বুদ্ধ মূর্তি। ভিতরে শান্ত গম্ভীর পরিবেশ। চাতালে অল্পবয়সী লামাদের দল। এরপর আরো ঘণ্টা খানেক চলে অনিলের গাড়িতে পৌঁছে গেলাম ‘সিঙ্গেল’। আগের দিন লেপচাজগৎ যাওয়ার পথে ‘Singell Organic Tea Estate’ লেখা বোর্ডটা দেখে রেখেছিলাম। সেখান থেকে হিল কার্ট রোড ছেড়ে নিচে নেমে যাওয়া একটি রাস্তায় ‘হোম স্টে’টি। কার্শিয়াংয়ের ২ কিমি আগে, সিঙ্গেল অর্গানিক টি এস্টেটের মাথার উপর এর অবস্থান।

ঘুম মোনাসট্রি

ঘুম স্টেশন

টয় ট্রেন

এক শিক্ষিত পরিবার –  প্রধানরা, তাদের নিজেদের বাড়িতেই পর্যটকদের জন্য চালু করেছে এই হোম স্টে। থাকার জন্য রয়েছে ৪টি ঘর। সুন্দর ফারনিশড, ব্যালকনি ওয়ালা একটা ঘর আমাদের জন্য বরাদ্দ। ঘরে বসেই দেখা যায় সামনের পাহাড় ও নিচে চা বাগান ও উপত্যকার দৃশ্য। সামনের পাহাড়ের বাঁক থেকে একটি টয় ট্রেন কু ঝিক ঝিক শব্দে বাঁশি বাজাতে বাজাতে সামনে দিয়ে চলে গেল। কার্শিয়াংয়ের কাছে, অথচ শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে এই সিঙ্গেল। এছাড়া হিল কার্ট রোড থেকে ৫০০মি নিচে এই বাড়িটির অবস্থান হওয়ায় মূল সড়কের অনবরত গাড়ি চলাচলের শব্দ তেমন একটা আসে না এখানে। নিরিবিলিতে অবকাশ যাপনের এক আদর্শ ঠিকানা এই হোম স্টে। এন জে পি এখান থেকে ৪৮কিমি। ঘণ্টা দেড়েকেই পৌঁছে যাওয়া যায়। পরদিন এন জে পি থেকে ফেরার ট্রেনের সময় সকালের দিকে হওয়ায় এমন একটি পাহাড়ি জায়গা খুঁজছিলাম, যা একাধারে অবকাশ যাপনের জন্য সুন্দর ও এন জে পি স্টেশন যেখান থেকে কম সময়ে পৌঁছন যায়। সেই ভেবেই এবারের ভ্রমণ সূচিতে দ্বিতীয় জায়গা হিসাবে বেছে নিয়েছি সিঙ্গেল হোম স্টে।

হোম স্টে থেকে দূরের টয় ট্রেন

প্রধান পরিবারের নিজেদের ডাইনিং টেবিলেই খাবার ব্যবস্থা। বাড়ির মহিলাদের তৈরি একেবারে ঘরোয়া রান্না। চিকেন সহযোগে লাঞ্চ। খাবার পর বাড়ির ছাদে গিয়ে দাঁড়ালাম। রং বেরঙের পতাকা ও বসার জায়গা। ছাদ থেকে চারপাশের দৃশ্য আরো ভাল করে দেখা যায়। চারিদিকে সবুজের সমারোহ। নিচে চা বাগান। পিছনে মাথার উপর হিল কার্ট রোড। শেষ দুপুরে মিনিট দশেক পাকদন্ডি পথে উৎরাইয়ে হেঁটে পৌঁছে গেলাম নিচের চা বাগানে। রাস্তার দুধারে পাইনের সারি। অনেক নিচে চা বাগানের ফ্যাক্টরি ও কলোনি। দু একটি গাড়ি লোক নিয়ে মাঝে মধ্যে উৎরাইয়ে নেমে চলেছে সেদিকে।
রৌদ্রজ্জ্বল ঝলমলে একটি শীতের বিকেল। মিঠে রোদ গায়ে মেখে, দু ধারে পাইনে ছাওয়া রাস্তা ধরে, চা বাগানের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে চলা পথে খানিক হাঁটাহাঁটি, কখনও বা পথের পাশের বেঞ্চিতে বসে অলস ভাবে জিরিয়ে নেওয়া ও পাহাড়ের প্রকৃ্তিকে উপভোগ করা। সিঙ্গেলে এসে মিলল একটি সুন্দর নিশ্চিন্ত বিকেল, যা আমাদের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে বড়ই দরকার ছিল, মনকে তাজা করে নিতে। সবশেষে চা বাগানের ওপর পাহাড়ের মাথায়, একেবারে নির্মল মেঘমুক্ত, পশ্চিমাকাশে এক অনবদ্য সূর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করলাম, যা পূর্ব হিমালয়ের নিরিখে খানিক বিরল দৃশ্য।

সিঙ্গেল চা বাগান থেকে সূর্যাস্ত

বিকেলের সিঙ্গেল চা বাগান

সন্ধ্যের সময় চললাম কার্শিয়াং শহরে। হিল কার্ট রোডে এসে দার্জিলিংয়ের দিক থেকে আসা একটি শেয়ার জিপে উঠে  মিনিট দশেকে পৌঁছে গেলাম কার্শিয়াং। জমজমাট বাজার এলাকা। অনেক দোকানপাট। একটু আধটু কেনাকাটা সেরে চললাম কার্শিয়াংয়ের টয় ট্রেনের স্টেশনে। যেন কোন পুরনো যুগের স্টেশনটি। বেশ রোম্যান্টিকতা আছে এরকম স্টেশনে। বেশি দেরি হলে পাছে ফেরার গাড়ি না পাই, তাই খানিকক্ষণ বাদেই ফেরার পথ ধরতে হল। ‘সিঙ্গেল অর্গানিক টি এস্টেট’ লেখা বোর্ডটার সামনে, মোড়ের মাথায় নামিয়ে দিয়ে চলে গেলে গাড়িটি। গাড়িটি চলে যেতেই চারিদিক অন্ধকার। নিঝুম নিস্তব্ধ সে অন্ধকার একেবারে লেপ্টে রয়েছে চারিপাশে, এই সাড়ে ৬টাতেই। একটু ধাতস্ত হয়ে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে অন্ধকার হাতড়ে কোনক্রমে পৌঁছলাম হোম স্টে তে।




রাতে ডিনারের সময় খানিক আলাপচারিতা হল প্রধান পরিবারের সাথে। মিঃ প্রধান সরকারি চাকুরে। শীতকালে পাহাড়ে ঠান্ডা তো হবেই, তবে গতরাতের লেপচাজগতের মত মারাত্মক ঠান্ডাটা এখানে নেই। এই নিস্তব্ধ রাতে আরামদায়ক বিছানায় শয্যা নিলাম। পরদিন ভোরে উঠে এন জে পি যাওয়ার পালা। মিঃ প্রধান গাড়ির ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। প্যাকড ব্রেকফাস্ট নিয়ে সকাল সকাল রওনা হলাম ‘সিঙ্গেল’কে বিদায় জানিয়ে। লেপচাজগৎ ও সিঙ্গেলের এক দারুণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে কার্শিয়াং পেরিয়ে রোহিনি রোড ধরে এবারের মত ফিরে চললাম নিউ জলপাইগুড়ি।

Contact number of Pakhrin Homestay owner : 8348924355

Contact number of Singell Homestay : 9832057237
Contact number of Firoz Mukhiya for car : 8942820444


This content has been written by Mr. Subhrangsu Dasgupta. And the beautiful pictures have also been clicked by him.





Trackbacks/Pingbacks

  1. How to Plan your holidays in 2019 | Tour Planner Blog - […] Read more here […]
  2. 5 Offbeat Destinations for your Perfect Weekend Gateway - Tour Planner Blog - […] To know more about this place, click the link. […]

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement