Bonda Tribe : The Oldest and Primitive tribe of Mainland India

Bonda Tribe : The Oldest and Primitive tribe of Mainland India

THE OLDEST AND MOST PRIMITIVE TRIBE IN MAINLAND INDIA : BONDA TRIBE – এক আদি অনার্যের উপাখ্যান – ডাঃ কৌশিক মন্ডলের কলমে




বন্ডা (বোন্ডা) জনজাতি বা Bonda Tribes হলো ভারতে বসবাসকারী প্রথম জনজাতি। আনুমানিক ষাট হাজার বছর আগে অধুনা আফ্রিকা থেকে যে আদিম জনগোষ্ঠী পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল বন্ডা তাদের অন্যতম। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি যে জীবাশ্মবিদ (ফসিল-বিশারদ) এবং নৃতত্ত্ববিদরা বিস্তর গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে আফ্রিকাই হলো আধুনিক মানব, বা হোমো স্যাপিয়েন্স-এর আসল আঁতুড়ঘর। আরো স্পেসিফিক্যালি বলতে হলে ইথিওপিয়া এবং সংলগ্ন আফ্রিকা। এই অঞ্চল থেকেই তখনকার মানুষ মাইগ্রেট করা শুরু করে। মাইগ্রেশনটা অবশ্য এক বারে নয়, বরং বেশ কয়েকটা কিস্তিতে হয়েছিলো। প্রথম কিস্তিটা আজ থেকে মোটামুটি ষাট-সত্তর হাজার বছর আগের কথা। সেবার বেশ কিছু আদিম নরনারী আফ্রিকা থেকে ‘Horn of Africa’ হয়ে অধুনা Yemen-এ পৌঁছাল, তার পর আরো এগোতে এগোতে বিভিন্ন ভাগে ছড়িয়ে পড়লো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটা অঞ্চলে। সেখানে তারা জঙ্গলের মধ্যে গোষ্ঠীগত ভাবে বসবাস শুরু করলো। এই আদিম নরনারীর একটা গোষ্ঠী হচ্ছে বন্ডা।

পৌরাণিক আখ্যানে বর্ণিত বন্ডা সম্প্রদায়:

বন্ডারা এসে যেখানে ঘাঁটি গাড়লো সেটাকেই পৌরাণিক কাহিনীতে দন্ডকারণ্য বলা হয়েছে। রামায়ণের গল্প অনুযায়ী রামচন্দ্র অ্যান্ড কোং এখানেই বনবাস যাপন করেছিলেন। এখান থেকেই সীতাহরণ হয়, আবার এখানেই লক্ষণের হাতে শুর্পনখার নাক কাটা যায়। শুধু রামায়ণ নয়, মহাভারতেও এই দণ্ডকারণ্যের উল্লেখ আছে। জায়গাটা অধুনা ওড়িশার কোরাপুট, মালকানগিরি, অন্ধ্র প্রদেশ, ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলা হয়ে মহারাষ্ট্রের কিছুটা পর্যন্ত বিস্তৃত।



পৌরাণিক আখ্যানগুলোয় দন্ডকারণ্য-কে রাক্ষসদের দেশ হিসাবে প্রজেক্ট করা হয়েছে। কনসেপ্টটা খুব সিম্পল! বহিরাগত আর্যদের কাছে ভারতের এই আদি ও আদিম বাসিন্দারা রাক্ষস ছাড়া আবার কি? কোথায় সেসব তপ্তকাঞ্চনবর্ণ, উন্নত গ্রীবা, তীক্ষ্ণ নাসা, বলিষ্ঠ চেহারাধারী পুরুষের দল, আর কোথায় এই কালোধূলো, প্রায়-উলঙ্গ, জংলী সব পাবলিক ! একদিকে ক্ষীণতটি, গুরুনিতম্ব, স্তন্যাভারে ন্যুব্জ সুন্দরীরা বিলোল কটাক্ষ ঝাড়তে ঝাড়তে গজগামিনী স্টাইলে হাঁটছে, আর অপরদিকে কয়েকটা খেটে খাওয়া, দড়ি পাকানো চেহারার হতকুচ্ছিত নারী, যাদের নিয়ে আর যাই হোক, অ্যাট লিস্ট কাব্য ফলানো যায় না ! ফলে যা হওয়ার তাই হলো ! তাদের রাক্ষস রূপে প্রোজেক্ট করে আর্যরা অবাধ হত্যালীলা চালালো। এদিকে এটাকে স্রেফ হত্যালীলা বললে আমাদের পৌরাণিক হিরোদের মান থাকে না ! অতএব চলে এলো নানারকম গল্প, যাতে এই আদিবাসীদের ভিলেন বানিয়ে আর্যদের হত্যালীলা-কে মহিমান্বিত করা যায়। এরকমই একটা গল্পে ‘দন্ড’ নামক এক রাজার উল্লেখ আছে, যার নামে দন্ডকারণ্য। এই দন্ড ছিলেন প্রথম সূর্যবংশীয় রাজা ইক্ষাকুর কনিষ্ঠ পুত্র। ছোট থেকেই খুব বদমাশ টাইপের ছেলে। চূড়ান্ত অবাধ্য, কথায় কথায় বড়দের সাথে তর্ক করে, রোজ রোজ এখানে সেখানে মারপিট করে আসে, আর বাড়ি ফিরে বাবার কাছে শাস্তি পায়। রেগুলার শাস্তি পেতে পেতে তার নামই হয়ে গেল দন্ড, অর্থাৎ শাস্তি। রাজা ইক্ষাকু একদিন তিতিবিরক্ত হয়ে তাকে তাড়িয়ে দিলেন। দন্ড বিনা বাক্যব্যয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেল, তারপর নানান জায়গায় ঘুরে সে একটা জঙ্গলের মধ্যে নিজের পৃথক রাজ্য স্থাপন করলো। নাম তার দন্ডকারণ্য।

এই দন্ডকারণ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়েই একসময়ে বন্ডারা থাকতো, তবে এখন তাদের বিচরণভূমি কমতে কমতে ওড়িশার মালকানগিরি অঞ্চলের কয়েকটা পাহাড়ে এসে ঠেকেছে। জনসংখ্যাও অনেক কমে গেছে। বর্তমানে মাত্র বারো হাজারের মতো বন্ডা বেঁচে আছে, এবং তারাও অবলুপ্তির পথে। অবলুপ্তির পথে যাওয়ার কারণ একটাই, সেটা হলো যে মাঝখানে হাজার হাজার বছর পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তারা তথাকথিত সভ্য সমাজের সঙ্গে মেশেনি, বরং খুব সচেতনভাবে নিজেদের আদিম অস্তিত্ব বজায় রেখে চলেছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই সভ্যতার উপকারি দিকগুলো তাদের কাছে আজও পৌঁছায় নি, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞান। জীবনযাত্রার মান এবং ধারাও এই কয়েক হাজার বছরে বিশেষ পাল্টায়নি। লাইফ এক্সপেক্টান্সি খুব কম। প্রচুর মদ খায়, যেটা এদের আয়ু কম হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আগে তো এদের দেখাই পাওয়া যেত না, কারণ তখন লোকালয়ে না নেমেও নিজেদের খাবারদাবারের ব্যবস্থা তারা নিজেরাই করে নিতে পারতো। কিন্তু ক্রমে ক্রমে তাদের ভাঁড়ারে টান পড়লো। বনের পশুপাখি অনেক কমে গেছে, ফলে আজকাল আর স্রেফ শিকার করে পেট ভরে না। গরু বাছুর অবশ্যই আছে, কিন্তু সেটা খাওয়ার জন্য নয়, প্রতিপালনের জন্য। বন্ডা জনজাতিদের মধ্যে গরু খাওয়া নিষিদ্ধ।

বন্ডাদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা:

গরুকে এরা সম্পত্তি হিসেবে ট্রিট করে। যার যত গরু, সে ততই বিত্তশালী রমনী। হ্যাঁ, রমনী, কারণ বন্ডারা সম্পূর্ণ মাতৃতান্রিক একটি সমাজে বাস করে। ধনসম্পদের উপর পুরুষদের অধিকার প্রায় নেই বললেই চলে। মেয়েরাই সংসার চালায়, খাটাখাটুনি করে, আর তাদের হুকুম অনুযায়ী ছেলেরা যেটুকু করার করে। এমনকি বিয়ে করাটাও সম্পূর্ণ মেয়েদের উপর নির্ভরশীল। মেয়েরা এখানে বিয়ে করে, আর ছেলেদের বিয়ে হয়। মেয়েরা যাদের বিয়ে করে তারা বৌয়ের থেকে অন্তত আট-দশ বছরের ছোট। নিজের থেকে কমবয়সী পুরুষকে বিয়ে করার কারণ হলো যে মেয়েটা যখন বুড়ি হবে ছেলেটা যেন তার দেখভাল বা সেবাযত্ন করতে পারে। এদের মধ্যে পণপ্রথা খুব জোরদার, তবে মজাটা হলো যে এখানে ছেলেরা নয়, মেয়েরা বিয়ের জন্য পণ নেয়। পণ বলতে জমিজায়গা এবং গরু। বিয়ের পর ছেলেরা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সুবোধ বালকের মতো ঘরজামাই হয়ে থাকে। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ছেলেদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ ! যে ছেলে নিজের বৌকে ছেড়ে অন্য কারও সাথে ইন্টুমিন্টু করবে তাকে প্রথমে শ্বশুরবাড়ি থেকে লাথ মেরে তাড়ানো হবে, তারপর বসবে সালিশি সভা। সেখানেই ছেলেটার ভবিষ্যত স্থির হবে। বৌ তাকে ডিভোর্স দিতে পারে, অথবা দু-একটা চড়চাপড় মেরে আবার গ্রহণ করতে পারে…..সেটা সম্পূর্ণ তার ইচ্ছে। তবে যদি ডিভোর্স দেয় তাহলে ছেলেটার পুরো হালুয়া টাইট কেস, কারণ বাকি জীবনে সে আর কোনদিন বিয়ে করতে পারবে না। বন্ডা সমাজে ডিভোর্সি ছেলেদের পুনর্বিবাহের অনুমতি নেই।

মেয়েদের ক্ষেত্রে অ্যাডাল্টারির শাস্তিটা একটু ভিন্ন। এখানে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক রাখার প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ মেয়েটাকে গরু দিতে হয় ছেলেটির বাপের বাড়িতে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে কতগুলো গরু দেবে সেটা ঠিক হবে সালিশি সভায়। ছেলেটা অবশ্য বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রাখার অভিযোগে বৌকে ডিভোর্স দিতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে ছেলেটা আর জীবনে বিয়ে করতে পারবে না। মেয়েরা কিন্তু ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পরও আবার কাউকে বিয়ে করতে পারে। বন্ডা সমাজে মেয়েদের সে অধিকার আছে।

ধর্ষণ নামক কোনো বস্তু বন্ডাদের অভিধানে নেই। ধর্ষণ করবে’টা কে ? ছেলেরা মেয়েদের কাছে জুজু হয়ে থাকে, সুতরাং সেসব ওদের কল্পনাতেও আসার কথা নয়।



বন্ডাদের বেশভূষা:

বন্ডাদের বেশভূষার বেশিটাই অলঙ্কার-কেন্দ্রিক, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। উভয় লিঙ্গেই কাপড়চোপড়ের বালাই খুব কম। ছেলেরা একটা খাটো কটিবাস পরে, আর আভরণ বলতে তীরধনুক, কুঠার ইত্যাদি অস্ত্র। মেয়েদের পরনের বস্ত্র বলতে স্রেফ কোমরের নিচে একফালি কাপড় লুঙ্গির মতো করে বাঁধা। উর্ধ্বাঙ্গে কোনো কাপড় নেই, শুধু নানারকম হার আর গয়না। এই গয়না আর হারগুলোই তাদের লজ্জা নিবারণের কাজ করে। মাথা পুরো ন্যাড়া। বন্ডা রমণীদের মুন্ডিত মস্তক হওয়ার পিছনে একটা গল্প আছে। দন্ডকারণ্যে যখন রাম-লক্ষণ-সীতা বনবাসী জীবন যাপন করছেন তখনকার কথা। সীতাদেবী সেদিন একটা পুকুরে স্নান করছিলেন। নির্জন জায়গা, চারিদিক শুনশান, তাই তিনি স্নানের সময়ে অঙ্গে কোনও বস্ত্র রাখেন নি। এমতাবস্থায় কয়েকজন বন্ডা রমণী তাঁকে দেখে ফেলে এবং “এ মা, ন্যাংটো, ন্যাংটো” বলে বিরাট হাসিঠাট্টা শুরু করে দেয়। সীতা প্রচন্ড রেগে গিয়ে তাদের অভিশাপ দেন যে তারাও বংশানুক্রমে উলঙ্গ এবং ন্যাড়া হয়ে থাকবে। ন্যাড়া হবে এই জন্যই, যাতে মাথার চুল দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকার সুযোগটুকুও না থাকে। এরপর সেই বন্ডা রমণীরা সীতার কাছে ক্ষমা-টমা চেয়ে অনেক অনুনয় বিনয় করলো অভিশাপটা তুলে নেওয়ার জন্যে। সীতাদেবী তাঁর অভিশাপটা পুরোপুরি তুললেন না বটে, তবে দয়াপরবশ হয়ে নিজের কাপড় থেকে একটা ফালি ছিঁড়ে দিয়ে বললেন – ‘এই নে, কোমরে বেঁধে রাখিস।”
সেই থেকেই নাকি বন্ডা মহিলারা মাথা মুড়িয়ে রাখে এবং কোমরে ওই একফালি কাপড় বিনা কিছু পরে না।

ইদানিং অবশ্য বন্ডা রমণীদের বেশভূষায় কিছু কিছু চেঞ্জ এসেছে। এদের অনেকেই আজকাল লোকালয়ে আসার সময়ে কাপড় দিয়ে বুকের অংশ ঢেকে রাখে, তবে নিজেদের ডেরায় ফেরার পর সেটা আবার খুলে ফেলে। লোকালয়ে আসার কারণ হলো বাজার-হাট করা। আগেই বলেছি, এখন আর পশুপাখি মেরে অথবা চাষবাস করে তাদের খাদ্য কুলোয় না, ফলে শাকসবজি ইত্যাদি জোগাড় করার জন্য লোকালয়ে আসতে হয়।



আমার তোলা বন্ডাদের ছবিগুলোয় দেখতে পাবেন প্রতিটা বন্ডা মহিলাই গলা জুড়ে মোটা মোটা রিঙের মতো গয়না পরে আছে। আফ্রিকার কয়েকটা আদিম জনজাতির মধ্যেও গলায় ঠিক একই রকম রিঙ পড়ার চল আছে, জানেন নিশ্চয়ই ! শুনেছি আফ্রিকাতে নাকি মেয়েদের গলা লম্বা করার জন্য এগুলো পরা হয়, তবে এখানকার গল্পটা অন্য। এরা নাকি বন্য প্রাণীদের থেকে বাঁচার জন্য এরকমটা পরে, যাতে বাঘ-ভাল্লুক আক্রমণ করলেও গলায় কামড় বসানোর সুযোগ না পায়। ছেলেরা অবশ্য গলায় এমন কিছু পরে না ! তাহলে কি তাদের বাঘ-ভালুকের ভয় নেই ? আছে নিশ্চয়ই, তবে আমার মনে হয় বন্ডা সমাজে পুরুষরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বলেই তাদের বাঁচা-মরা নিয়ে কেউ অতটা মাথা ঘামায় না, ফলে গলা বাঁচানোর প্রয়োজনও নেই ! এটা অবশ্য পুরোপুরি আমার থিওরী, সুতরাং ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ওঙ্কাদেলির হাট:

সপ্তাহে একদিনই বন্ডারা লোকালয়ে আসে, সেটা হলো বৃহস্পতিবার। সেদিন কোরাপুটের জেপুর (Jeypore) অঞ্চলে ওঙ্কাদেলি (Onakadeli) নামক একটি পাহাড়ি গ্রামে হাট বসে। বন্ডারা সেখানে হাট করতে আসে, সঙ্গে থাকে বিক্রি করার জন্য অতি উৎকৃষ্ট ‘হান্ডিয়া’ বা হাঁড়িয়া মদ। এই মদের বিনিময়ে তারা চাল ডাল, শাকসবজি, মশলা ইত্যাদি কিনে আবার নিজেদের গ্রামে ফিরে যায়। গ্রামটা আরো বারো-তেরো কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের উপর। সেখানে হেঁটে হেঁটে যেতে হয়, তবে ইচ্ছে করলেই যে কেউ যেতে পারবে তা নয়। অনেক হ্যাপা আছে।



হাটের দিন এখানে প্রচুর বিএসএফের জওয়ান মজুত থাকে, কারণ বন্ডারা একটি বিরল এবং অবলুপ্তির পথে পা বাড়ানো জনজাতি…..সুতরাং তারা লোকালয়ে এলে তাদের উপযুক্ত প্রোটেকশন দেওয়া দরকার। তাছাড়া এরা আবার খুব রগচটা মানুষ, সুতরাং দুম করে রেগে গিয়ে কাউকে মেরে ফেলাটাও বিচিত্র নয়। সেদিকেও খেয়াল রাখার দায়িত্ব এই বিএসএফ জওয়ানদের। হাটের মধ্যে কোনরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারা ছুটে যায় সামাল দিতে।

আন্দামানের জারোয়াদের মতো বন্ডাদের ক্ষেত্রেও আইন বলে কিছু নেই। ওরা কাউকে মেরে ফেললেও কেউ ছুঁতে পর্যন্ত পারবে না। হাটে বন্ডা পুরুষ খুব কম আসে, যারা আসে তারা প্রায় সবাই বন্ডা মহিলা। এদের প্রত্যেকের কাছেই একটা করে ছুরি লুকনো থাকে। ছোট ছুরি, কিন্তু প্রচন্ড ধারালো। ছুরির ডগায় নাকি এমন একটা বিষ মাখানো থাকে যে শরীরে ফুটলেই মৃত্যু অনিবার্য।



ওঙ্কাদেলির হাটে ভারতীয় ট্যুরিস্ট খুব বেশি আসে না, তবে বিদেশী ট্যুরিস্টের আনাগোনা ভালোই ! ট্যুরিস্টদের ক্ষেত্রে বন্ডাদের ছবি তোলা এমনিতে নিষিদ্ধ, তবে তারা যদি স্বতঃপ্রনোদিত ভাবে ছবি তোলাতে রাজি হয় তাহলে তোলা যেতে পারে। বিএসএফ লক্ষ্য রাখে কেউ জোর করে এদের ছবি তুলছে কি না। সেরকম কাউকে দেখলেই ক্যাঁক করে ধরবে। ছবি তোলার জন্য বেশিক্ষণ সময় পাওয়া যায় না, ফটাফট কয়েকবার শাটার টিপেই ক্যামেরা ঢুকিয়ে নিতে হয়। তাতে ছবিটা ভালো এলো তো ভালো, নইলে কিছু করার নেই।

পরিশেষে জানাই, আমার এবারের কোরাপুট সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বন্ডাদের ব্যাপারে জানা এবং সম্ভব হলে কিছুটা ইন্টারঅ্যাক্ট করা। বস্তুত সেই কারণেই আমি আর আমার স্ত্রী একটা রাত ওঙ্কাদেলির কাছাকাছি একটা ট্রাইবাল ক্যাম্পে কাটিয়েছি। সপ্তাহে মাত্র একদিই এদের দেখা পাওয়া যায়, সেটা হলো বৃহস্পতিবার। সেদিন যদি কোরাপুট থেকে আসতাম তাহলে পুরোটা সময় হাটে কাটানো যেত না, তাই সকাল থেকে যাতে বন্ডা-দর্শণ করতে পারি সেই জন্য আগের দিন ওই ক্যাম্পটায় চলে এসেছিলাম। তা বলতে নেই এত কাঠখড় পুড়িয়ে আমার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। বন্ডাদের দেখেছি, স্থানীয় কটা ছেলের মাধ্যমে বন্ডাদের সাথে বেশ খানিকক্ষণ ইন্টারঅ্যাক্ট করেছি, ছবি তুলেছি……আর কি চাই ?


This content is written by Dr. Kaushik Mandal. The photographs are also clicked by him.

 





1 Comment

  1. Useful information

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement