JHARGRAM TRAVEL GUIDE – A WEEKEND DESTINATION

JHARGRAM TRAVEL GUIDE – A WEEKEND DESTINATION

Reading Time: 5 minutes A WEEKEND IN JHARGRAM – নিস্তব্ধতার ডাকে – ঈপ্সিতা বসাকের কলমে   একটা বিশালাকার ব্রীজের মত আমার শহর, ব্যস্ততার ট্রাফিক জ্যামে ভগ্নপ্রায় অথচ কি নির্বিকার..! ব্রিজের ওপারে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল…., দূষণ ধোঁয়ায় শহরবাসীর যোগাযোগকারী ব্রীজ মেরামতের হাজার চেষ্টাও বিফল! এমন সময় সাহায্য খুঁজতে ছুটে যায় আকুল মন, বিশ্বাসঘাতক পর্বতমালার দুর্গম চূড়া ডিঙিয়ে পৌঁছায় তখন… একটা হাত! একটা হাত এগিয়ে আসে, এসেই খুন করতে চায় সবাইকে….! বলে হাইজ্যাক করে নিয়ে যাবে সুন্দরী তিলোত্তমাকে… নিয়ে যায় এক পাথরে ঘেরা শান্ত স্থির নীল নদীর তীরে…. আকাশের নীল চোখের ছায়া পরে যেই জলে…নীল চোখেই হারিয়ে যাওয়া যায় যেখানে… যেখানে রাজা রাণীর গল্পেরা জীবিত, নীরবতা কথা বলে কানে কানে…. সাথে করে হেঁটে চলে লাল মাটির পথ, সবুজ শাল পাতার ছোঁয়ায়…. যা পিচের মতো কালো হয়ে যায়নি! পাহাড়, শান্ত  ঝর্ণারা…. যেখানে বাসা বেঁধে আছে নিজেদের মতো, কেউ বিরক্ত করেনা- যাদের, সরলতা আর মাটির গন্ধ যেখানে একসাথে, লুটোপুটি খায়, খড়ের আঁটিতে শুয়ে খেলা করে হাতে হাতে…! এমন একটা হাত যদি সত্যিই হাইজ্যাক করে তোমার ধুলো মাখা শহরকে…. খুব কি অপরাধ হবে? নাকি…তিলোত্তমা তুমিও মত দেবে দুদিনের এই হাইজ্যাকে?? কি? ইচ্ছে হচ্ছে তো এইভাবে হাইজ্যাক হতে? হবারই কথা আমারও হয়েছিল।ব্যস্ততার থেকে একরাত আর দুটো দিনের ছুটি নিয়ে স্বেচ্ছায় হাইজ্যাক হয়েছিলাম…. চলে গিয়ে ছিলাম নীল নদীর ধারে, রাজা রাণীর গল্পেরা সত্যি যেখানে, সেই যেখানে অরণ্যে পাতার খসখসানী সাথে করে গভীরে নিয়ে যায় আদিম বীজ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে বলে, যেখানে নিস্তব্ধতা আপন মনে গুনগুনিয়ে গান গায়। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন…. ঝাড়গ্রাম। ঝাড়গ্রাম পশ্চিমবঙ্গের ২২তম জেলা,যা ২০১৭ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই জেলার উত্তরে বেলপাহাড়ি আর দক্ষিণ দিয়ে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। প্রকৃতিপ্রেমী বিশেষ করে যারা অরণ্যের রোমাঞ্চে আগ্রহী আর যারা অকৃত্রিম সৌন্দর্যরস...
কাজীরাঙ্গা ভ্রমনের খুঁটিনাটি

কাজীরাঙ্গা ভ্রমনের খুঁটিনাটি

Reading Time: 4 minutes তিন দিনে কাজিরাঙ্গা আসুন দেখে নেওয়া যাক তিন দিনের কাজিরাঙ্গা ভ্রমণের একটা সফরসূচি। ভ্রমনসঙ্গী ছিল ৬ জন। কাজীরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের চারটি রেঞ্জ a) Kahora b) Western c) Eastern d) Burapahar সবথেকে ভালো যদি Kahora আর Western রেঞ্জ ঘোরা যায় । সামনে থেকে ওয়াইল্ড লাইফ উপভোগ করা যাবে । কিভাবে যাবেন : প্রথমে হাওড়া থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি চলে আসুন। গুয়াহাটি স্টেশনে নেমে পল্টনবাজারে চলে আসুন আর কাউন্টার থেকে কাজিরাঙ্গার টিকিট কাটুন। গুয়াহাটি থেকে সরাসরি কোনো বাস নেই, খানাপাড়া থেকে বাস ধরতে হয়। গুয়াহাটি থেকে খানাপাড়া মাত্র ৯ কিমি। পল্টনবাজারে টিকিট কেটে অপেক্ষা করুন। ওরাই আপনাকে বাসে খানাপাড়া পৌঁছে দেবে। হাওড়া থেকে গুয়াহাটি ট্রেনে স্লিপার ক্লাসের ভাড়া ৫০০ টাকা। গুয়াহাটি থেকে কাজিরাঙ্গার এসি ভলভো বাসে ভাড়া ৩৭০ টাকা। কোথায় থাকবেন : কাজীরাঙ্গা তে অনেক প্রাইভেট হোটেল আছে কিন্তু ভালো হবে যদি সরকারি হোটেল নেন। অনেকটা বনবাংলো এর মতো। পরিস্কার ও বড় রুম। সবকটা রুম ইংরেজ আমলের। সবথেকে যেটা ভালো লাগবে সেটা হলো বনানীর ম্যানেজার কমলেস্বর বাবুর অমায়িক ব্যবহার। VIP দের জন্য আছে অরন্য গেস্ট হাউস। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি বনানীর থেকে বনশ্রীতে থাকুন। বনশ্রীতে একটা অ্যাডভেঞ্চার গন্ধ আছে যেটা বনানীর নুতুন দেওয়ালে নেই। আর বনশ্রীর উল্টো দিকে আছে জঙ্গলে ঢাকা ঝরনা। গুয়াহাটি থেকে বাসে উঠে ড্রাইভার কে বলে দেবেন বনানীতে নামবো। হাইরোড থেকে নেমে 500 মিটার চা বাগানের মধ্য দিয়ে হেঁটে হোটেল বনানী। বনানী হোটেলের ভাড়া ৮০০ টাকা পার ডে আর বনশ্রী হোটেলের ভাড়া ৬০০ টাকা পার ডে। বনানী বা বনশ্রী হোটেল বুক করতে চাইলে কমলেশ্বর বাবুর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নম্বরটি হলো: 8638802825 এছাড়া আসাম ট্যুরিজমের এই ওয়েবসাইটটিও দেখতে পারেন : http://www.assamtourismonline.com/properties.html ভ্রমনসূচি : প্রথম দিন : কাজিরাঙ্গা পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়ুন লোকাল সাইটসিন...
গঙ্গাসাগর

গঙ্গাসাগর

Reading Time: 11 minutes॥ গঙ্গাসাগর ॥ ( Gangasagar ) – পূর্ণেন্দু ফাদিকার আমাদের গ্রামের বাড়ীটা ভারী অদ্ভুদ সুন্দর জায়গায়। তিন জেলার সঙ্গমস্থলে। একদিকে বয়ে চলেছে রূপনারায়ণ নদ তার সাথে এসে মিশেছে দামোদরের শাখা নদী মুন্ডেশ্বরী। এই নদীগুলিই তিন জেলার সীমানা তৈরি করেছে। রূপনারায়ণের এক পাড়ে মেদিনীপুর (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর)। এখানেই কৈজুড়ী গ্রামে আমার বাপ ঠাকুরদার আদি বাড়ী। মুন্ডেশ্বরী যেখানে রূপনারায়ণের সাথে মিশেছে তার উত্তর দিকটা হুগলি জেলার মাড়োখানা ও দক্ষিণ দিকটা হাওড়া জেলার উত্তর ভাটোরা গ্রাম। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতায় হলেও মাঝে মাঝেই গ্রামের বাড়ী বেড়াতে যাই। অনেক ছোট বেলায় – কোনও এক শীত কালের ঘটনা এখনও স্পষ্ট মনে আছে। তখন গঙ্গসাগর মেলা উপলক্ষে হুগলী জেলার তীরে মাড়োখানা থেকে বড় বড় কাঠের পাল তোলা নৌকা সারা মাসের সব রসদ নিয়ে পাড়ি জমাতো গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির মন্দিরে তীর্থ করতে। তখন দেখছিলাম যারা যাচ্ছে তাদের বাড়ির লোকজন অঝোরে কাঁদছে। আমার ছয় বছরের মনটা তখনও সবটা বুঝতে পারতো না। কেন সবাই কাঁদছ? কোথাও বেড়াতে গেলে তো খুব মজার ব্যাপার, তাও এরা কাঁদছে কেন? মাকে জিজ্ঞাসা করতে জানতে পারলাম যে গঙ্গাসাগরের পথ খুবই দুর্গম এবং বিপদসঙ্কুল। অনেক নৌকাই নাকি যাবার পথে বা ফেরার পথে ডুবে যায়। তাই ওরা সব পুণ্য অর্জন করে বাড়ী ফিরবে কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ছোট্ট মনটা তখনই ছ্যঁক করে উঠেছিল! আরে ঐ নৌকায় তো আমার বড় পিসিই পাড়ী দিচ্ছে। মাকে বলেছিলাম – ‘মা বড় পিসি ফিরবে তো?’ মা বলেছিলো ভগবানকে ডাক। তখনই জেনেছিলাম – ‘সব তীর্থ বারবার …. গঙ্গাসাগর একবার।’ না, কোনও রকম দুর্ঘটনা ঘটে নি। পিসি ভালো ভাবেই ফিরে এসেছিল। পরে পিসি কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম– কেমন বেড়িয়ে এলে? (তখনও আমি তীর্থযাত্রা মানে বেড়ানোই বুঝতাম!) পিসি সস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল – বড় হয়ে তুইও যাবি।...
শান্তিনিকেতন ট্যুর

শান্তিনিকেতন ট্যুর

Reading Time: 9 minutesলেট লতিফ !! শান্তিনিকেতন ট্যুর!! !! Shantiniketan Tour!! আমরা বাঙালিরা একটু late এ চলি সব বিষয়ে সঙ্গে আমাদের সরকারী যাতায়াত ব্যবস্থাও। একে অন্যের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ঠিক হয়েছিল আমরা দুই বন্ধু দু দিনের জন্য শান্তিনিকেতন ঘুরতে যাবো 10 ই নভেম্বর শনিবার। আমার বন্ধু আসবে উলুবেরিয়া থেকে আর আমি একটি বিশেষ কারণে চন্দননগর এসেছি সেখান থেকেই আমার যাত্রা শুরু হবে। কথা ছিল যে আমরা দুই বন্ধু ব্যান্ডেল এই মিট করব। আমার বন্ধু উলুবেরিয়া থেকে হাওড়ায় এসে হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল গামী লোকাল এ উঠবে আর আমি চন্দননগর থেকে ব্যান্ডেল তিনটে স্টপেজ চলে যাব. রিজার্ভেশন এর কোন গল্প নেই তাই প্ল্যান ছিল 8:40 a.m. এর মাতারা এক্সপ্রেস ধরবো ব্যান্ডেল থেকে। কিন্তু ওই যে আমরা লেট লতিফ। উলুবেরিয়া থেকে যে লোকাল ট্রেনটি আমার বন্ধুর ধরার কথা ছিল সেটা যথারীতি ও মিস করেছে অগত্যা পরে ট্রেনে আসছে, কিন্তু সাউথ ইস্টার্ন এর বিখ্যাত অলিখিত হল্ট স্টেশন টিকিয়াপাড়ার হাওড়ার মাঝখানে, সেখানে ট্রেনটি ঝুলিয়ে দেয় এবং প্রায় আধঘন্টা পরে হাওড়া স্টেশন পৌঁছায় এবং হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল এ আসার যে ট্রেনটা ধরার কথা ছিল সেটাও মিস হয় তারপরে কাটোয়া লোকাল ধরে সে ব্যান্ডেলে এসে পৌছালো। ততক্ষণে মাতারা এক্সপ্রেস ব্যান্ডেল ছেড়ে চলে গেছে আমরা দুই বন্ধু ব্যান্ডেল এসে বসলাম। শুরু হলো Plan B – ব্যান্ডেল থেকে বর্ধমান লোকাল এ করে বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছে বর্ধমান থেকে কলকাতা হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস ধরবো ঠিক করলাম। ব্যান্ডেল থেকে নটা পাচের বর্ধমান লোকাল এ যাত্রা শুরু হলো পথে যেতে যেতে ট্রেন লেট করা শুরু করলো একটা সময় দাড়িয়েই গেল। এইদিকে আমরা App এ লাইভ ট্রেন স্ট্যাটাস চেক করে চলেছি। এই করে প্রায় সময়ের 20 মিনিট পরে বর্ধমান পৌছালাম। ততক্ষণে কলকাতা হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস এর ছেড়ে চলে গেছে বর্ধমান স্টেশন থেকে। অগত্যা Plan C...