বাবার সঙ্গে পাহাড় চড়ার গল্প : তুঙ্গনাথ ও দেওরিয়া তাল

বাবার সঙ্গে পাহাড় চড়ার গল্প : তুঙ্গনাথ ও দেওরিয়া তাল

যাত্রা সময়কাল : ০১-১০-২০১৮ – ০৭-১০-২০১৮   যাত্রা শুরুর আগের পর্ব : গল্পটা আমার থেকেও বেশি আমার বাবার। মানুষটার ভ্রমণের প্রচুর গল্প শুনে বড় হয়েছি। না সেরকম অর্গানাইসড্ বেড়ানো নয়। কখনও কাজের সূত্রে, কখনও চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার সূত্রে, কখনও কোন কারণ ছাড়াই এমনিতেই হঠাৎ বেরিয়ে পড়া। স্বাভাবিক ভাবেই তাই মনে করা হয় আমার এই ভ্রমণ পাগলামোর পিছনে বাবার দায় সর্বাধিক। না বাবা আমাদের নিয়ে ছোটবেলায় কোনদিন সেই অর্থে বেড়াতে নিয়ে যাননি, আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ছাড়া। বলা ভালো নিয়ে যেতে পারেননি। আর্থিক অবস্থাই এর মূল কারন। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা না হলেও কোনরকম বিলাসিতার ধার দিয়ে যাইনি ছোটবেলায়। তাই অভিযোগ করার জায়গাও ছিলনা তেমন। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে সম্পর্কটা ছিল আতঙ্কের। সেই দূরত্বটা তাই আজও বজায় আছে। কোনদিনই কাছের হয়ে উঠতে পারিনি বাবার। আগে ছিল আতঙ্ক এখন তা সসম্ভ্রম দূরত্ব। বাবার সাথে বেড়াতে যাওয়াটা তাই আমার জীবনের বেশ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু একসঙ্গে বেড়ানোর আবশ্যিক শর্ত তখনই লঙ্ঘিত হল যখন জানা গেল কেউই অন্যজনের শর্তে ঘুরতে রাজি নয়। আমার মতে বাবার প্ল্যান একটু গোলমেলে এবং অহেতুক জটিল। আবার বাবার মতে আমারটা বড্ড সাদামাটা আর কমন। যাই হোক অবশেষে সাদামাটা কমন প্ল্যান ১-০ গোলে জিতল এবং আমাদের যাত্রা শুরু হল দুন এক্সপ্রেসে বর্ধমান জংশন থেকে। আমি মোটামুটি বছরে তিন-চারটে বেড়ানোর চেষ্টা করি ছোট বড় মিশিয়ে। বাবা সেভাবে বেড়ানো শুরু করেছে রিটায়ার করার পর। মোটামুটি একটা-দুটো ঘোরে বছরে মায়ের সাথে। মায়ের গতবছর হাঁটু ভাঙার পর এখন তা আরও কমেছে সংখ‍্যায়। ফলে বাবার সঙ্গী নেই বিশেষ। বহুদিনের পরম অভীষ্ট তুঙ্গনাথ ও চন্দ্রশীলা তাই হওয়ার উপায়ও ছিলনা বাবার। একদিন তাই একটু সঙ্কোচ করে আমাকে কথাটা পেড়েই ফেলল বাবা। আমি জানতাম বাবার সাথে কোথাও বেড়াতে গেলে পদে পদে মতবিরোধ হবেই। কিন্তু না বলার ইচ্ছাও আমার ছিলনা...