Tulsi Chara Mela

Tulsi Chara Mela

Reading Time: 5 minutesTULSI CHARA MELA : মজার মেলা – পার্থ দের কলমে ছোটবেলায় বাংলা রচনা লিখতে হত “মেলার মজা”। এখন আমি বলব এক মজার মেলার গল্প। চিত্র ১) দয়ালহরি রায় ব্যাগ হাতে হনহন করে চলেছেন। প্রতিবেশী জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার কোথায় যাচ্ছ ? দয়ালহরিবাবু বললেন, বাড়িতে মেয়ে জামাই এসেছে। তাই মেলা থেকে একটু খাসি মাংস কিনতে যাচ্ছি। চিত্র ২) টোটোচালক কার্তিক ঘোষ পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মেলাতে এসেছেন পূজোর কেনাকাটা করতে। অবাক হচ্ছেন, পৌষ সংক্রান্তির সময় পূজোর কেনাকাটা ? একদমই ঠিক বলছি। এখানকার মানুষজন এই মেলা থেকেই দুর্গা পুজোতে পরার জামাকাপড় কিনে রাখেন। কারন দুর্গা পূজোর সময় কাপড়ের দোকানে যা দাম থাকে তার অর্ধেক দামে মেলা থেকে পছন্দসই জিনিস কেনা যায়। চিত্র ৩) ষাটোর্ধ্ব পৃথ্বীশবাবু ছোটছোট নাতি নাতনিদেরকে সিনেমা দেখাতে মেলাতে নিয়ে এসেছেন। ১৫ কিমি দূরে একটা সিনেমা হল ছিল, সেটা এখন বন্ধ। তাই নাতনিদেরকে একটু আনন্দ দিতে বাড়ির কাছে এই মেলায় আসা। পাশ থেকে একটা পুঁচকি বলে ওঠে, দাদু আগেরবারে আধখানা ডিম কিনে দিয়েছিলে। এবারে কিন্ত গোটা ডিম কিনে দিতে হবে। চিত্র ৪) কোলকাতা থেকে লীনা সাহা মেলা উপলক্ষে গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। মেলার মাঠে হোঁচট খেয়ে গেল জুতোখানা ছিঁড়ে। মেলাতেই ছিল অনেকগুলো জুতোর দোকান। মুশকিল আসান হল। দরদাম করে ১৩৫ টাকায় একজোড়া নতুন জুতো কিনে ফেললেন লীনাদেবী। হাসতে হাসতে সঙ্গের মেয়েটিকে বললেন, কি সুন্দর জুতোগুলো! কলকাতার থেকে দামও অনেক কম!! উপরের ঘটনাগুলো পড়ে অবাক হলেও সত্যি এ এক মজার মেলা। বিচিত্র এই মেলাতে এতকিছু ধরনের জিনিস পাওয়া যায়, যা শহরের একটা শপিং মলেও হয়তো পাওয়া যাবে না। তাই মেলাটাকে ‘গরীবের শপিং মল’ বলা যেতেই পারে। আরেকটা বিশেষ ব্যাপার, মেলা কমিটি থেকে কোন ডিজে বক্স বা মাইকে গান বাজানো হয় না। শুধুমাত্র মেলায় হারিয়ে গেলে...
CHAPCHAR KUT – THE FESTIVAL OF JOY IN MIZORAM

CHAPCHAR KUT – THE FESTIVAL OF JOY IN MIZORAM

Reading Time: 5 minutesChapchar Kut – The Festival of Joy in Mizoram – রেশমি পালের কলমে যখন দেখলাম ট্র্যাডিশনাল পোশাকে-মুকুটে-গয়নায় পুরোদস্তুর সাজুগুজু সত্ত্বেও মেয়েগুলো চড়া মেক-আপ করেনি আর ছবি তোলার সময় প্রাণখোলা মিষ্টি হাসিতে সোজাসুজি ক্যামেরার দিকে তাকাচ্ছে, ঘাড় বেঁকিয়ে মোহময়ী কটাক্ষ-ফটাক্ষ দিয়ে আবেদন-টাবেদন সৃষ্টি করার কোনো চেষ্টা নেই, আর এত্ত বড়ো একটা উৎসবের জমায়েত সত্ত্বেও শহরের এক কুচি আকাশও বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংএ মুখ ঢাকেনি, তখন মনে হল যাক বাবা ঠিক জায়গাতেই এসেছি। হুজুগে সামিল হইনি, সামিল হয়েছি উৎসবে। সত্যিকারের উৎসবে। কলকাতা থেকে আইজল উড়ে আসা সার্থক। মিজোরামের বসন্তোৎসব চাপচারকুট। যদিও রঙ খেলার ব্যাপার নেই, বরং উপলক্ষটা অনেকটাই আমাদের নবান্নের মতো। ঝুমচাষের পর নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ উদ্‌যাপন। বিভিন্ন মিজো গ্রামে আলাদা আলাদা দিনে চাপচারকুট পালিত হলেও রাজধানী আইজলের মাঠে যে চাপচারকুট হয় তা সবচেয়ে জমকালো, আর পালন করা হয় প্রতি বছর মার্চের প্রথম শুক্রবার। ঘটনাচক্রে এ বছর সেদিনটা হোলি ছিল। সারা দেশে যখন বেলুন-পিচকিরি-আবিরের ‘হোলি হ্যায়’ হুল্লোড়, তখন ভারতের এক্কেবারে পুবপ্রান্তের পাহাড়ি শহরটাতেও রঙের মেলা। লালে-সাদায়-কালোয় কি অসম্ভব উজ্জ্বল রঙিন পোশাক ওদের! চোখ ফেরানো যায় না। শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসবে যেমন যারা নাচগান করে তারাই শুধু নয়, আমরা দর্শকরাও নিজেদের সাজিয়ে তুলি হলুদ শাড়িতে-পাঞ্জাবিতে, পলাশের মালায়, এখানেও ঠিক তেমনি ছেলেমেয়ে সকলেই সেজেছে ট্র্যাডিশনাল মিজো পোশাকে-গয়নায়। সমস্ত বড় অনুষ্ঠানের মতো চাপচারকুটও শুরু হল কেউকেটাদের ভ্যাজরং ভ্যাজরং দ্বারা পাবলিককে তুমুল বোর করার মধ্যে দিয়ে। আমার অগত্যা মাঠের গ্যালারিতে বসে বসে দেখতে লাগলাম সারা মাঠ জুড়ে বাঁশ পড়ছে। না না প্যান্ডেল হবে না। নাচ হবে – বাঁশের নাচ। ব্যাম্বু ড্যান্স বা ‘চেরাও’ উত্তর-পূর্ব ভারতসহ সারা দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতেই বেশ জনপ্রিয়। এক-একটা দলে দশ-কুড়ি জন করে থাকে। ছেলেরা বাজনার তালে তালে বাঁশ এদিক ওদিক করে আর মেয়েরা বাঁশের এ পাশে ও পাশে পা দিয়ে দিয়ে...
Moichara Cattle Race Festival

Moichara Cattle Race Festival

Reading Time: 3 minutesMoichara : The cattle race festival of Bengal মৈচারার ইতিবৃত্ত ” মৈচারা ” নামটা বেশ অজানা ছিল আমার কাছে। বলতে পারি প্রথম শুনেছিলাম। খুব কৌতুহল হতো যে কি এটা। এর অর্থই বা কি। কৌতুহল টা খুব বেশিদিন আর রইলো না, অজানাকে জানার ইচ্ছা তো আমার প্রথম থেকেই আছে। তাই সেই অজানাকে জানার জন্যএকটু অপেক্ষাতে ছিলাম। যাইহোক সেই সুযোগ এসে হাজির হলো। ২রা জুলাই ২০১৭ সাল, এই দিনটা আমার কাছে একটা দারুন দিন। এতো ছবি তুলি এতো জায়গাতে যাই, কিন্তু আমাদের বাংলাতে যে কত ধরণের উৎসব পালিত হয়ে তা অনেকটা হলেও আমার অজানা। এমনই এক উৎসব হলো “মৈচারা উৎসব”। উৎসবের সময়কাল : প্রতিবছর জুন-জুলাই করে মানে ভরা বর্ষাতে এই উৎসবের আসর বসে ক্যানিং সংলগ্ন ” হেরোভাঙা ” গ্রামে। স্থানীয় তরুণ সংঘ নামক ক্লাব এই উৎসবের পরিচালনা করে। ২দিন ব্যাপী এই উৎসব চলে। সঠিক দিন ক্ষণ জানার জন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এ নজর দিতে হবে অথবা সংবাদ মাধ্যমেও খবর নেওয়া যায়। কেমন এই উৎসব: এই গ্রামের স্থানীয় কৃষকরা তথা আসে পাশের ক্যানিং সংলগ্ন গ্রাম থেকে অনেক কৃষকরা তাদের গবাদি বলদ দের নিয়ে হাজির হয়ে এই উৎসবে। এটি একটি বলদের দৌড়। এই দৌড়ে অনেক পুরস্কার থাকে। এই দৌড়টি জলে ভরা জমিতে অনুষ্ঠিত হয়ে। যায় বলদ সঠিকসময়ে ও সঠিক ভাবে দৌড় দেয় তারা পুরস্কার পায়ে। স্পেন এ যেমন বুল ফাইট হয়ে আমাদের এই বাংলাতে বলদের দৌড় মানে ” মৈচারা ” উৎসব হয়ে। দূরদূরান্ত থেকে শয়ে শয়ে ফটোগ্রাফার আসে এই উৎসব তথা এই দৌড়ের চিত্র সংগ্রহ করতে। কিন্তু বলে রাখি এইদৌড়ের ছবি সংগ্রহ করতে একটু বিপদ ও থাকে। বলদের দৌড়ের সময়ে অনেক বলদ দিক পরিবর্তন করে এই ছবিপ্রমিক দের দিকে ধাওয়া করে। একে জল কাদা ভরা জমি, তার ওপর বলদের তারা খেয়ে অনেকে...