Chupi Chor Purbasthali : A paradise for bird watcher

Chupi Chor Purbasthali : A paradise for bird watcher

Chupi Chor Purbasthali : A paradise for bird watcher চুপি চুপি “চুপির চর” “এ মন ব্যাকুল যখন তখন” …. কি করা ??? … ব্যাকুল মনকে তো শান্ত করার কোন উপায় চাই ……. তাই সিন্থিয়া আর আমি চুপি চুপি কেটে পড়লাম …. কাটোয়া লোকালে টিকিট কেটে উঠে পড়লাম … ট্রেন ফাঁকাই ছিল … জানলার ধারে বসার সিটও পেয়ে গেলাম …. ব্যাস আর পায় কে …. “আজ আবার মোরা ভবঘুরে ” …. দুই বান্ধবী মিলে পাড়ি অজানার উদ্দেশ্যে ….. ট্রেন মিনিট দশেক দেরী করে ছাড়লেও কোন অসুবিধা হলো না …. এরপর ট্রেনে ঝালমুড়ি, শশা, মটর, চা, বাড়ি থেকে আনা কেক খেতে খেতে আর জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে ১১টা ১০ এ পৌঁছে গেলাম পূর্বস্থলী … ৩ নং প্লাটফর্মে ট্রেন আমাদের নামিয়ে দিয়ে চলে গেল …. স্টেশন চত্তর বেশ বড় । ফ্লাই ওভারের ব্রীজ দিয়ে উপরে উঠে ১ নং প্লাটফর্মের দিকে এসে বাইরে বেরোলাম …. স্টেশনের বাইরে বেশ ফুলগাছ দিয়ে সাজানো …. বাইরে গাছতলায় অনেক টোটো দাঁড়িয়ে … চড়ে বসলাম একটায় … তার আগে অবশ্য একটু আখের রস খেয়ে নিলাম … মিনিট ২৫ এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম আমাদের আস্তানায় …. “চুপি কাষ্ঠস্থালী পাখিরালয় কটেজ” …. ঢুকেই মন ভরে গেল … বিশাল জায়গা নিয়ে বাগান করা …সুন্দর করে সাজানো…. তার সামনেই সেই ঝিল … যেখানে শীতে পরিযায়ী পাখীরা এসে একে অনিন্দ্যসুন্দর করে তোলে … সেই “চুপির চর” …. স্থানীয় লোক একে অবশ্য খাড়ি গঙ্গা বলে । এরপর আমাদের ঘরে গিয়ে দেখি এসি আগে থেকেই চালিয়ে ঘর ঠান্ডা করে রাখা হয়েছে … ঘর পরিষ্কার… ছিমছাম … রট আয়রনের খাট ধবধবে সাদা চাদর পাতা, সোফা কাম বেড, দুটি সুন্দর পাটের দড়ি দিয়ে তৈরি টুল, ছোট একটি আলমারী, টি টেবিল, টি ভি …… বাথরুম টাও...
বুদ্ধগয়া ভ্রমণ

বুদ্ধগয়া ভ্রমণ

বুদ্ধগয়া ভ্রমণ By..Soumitra Bhattacharjee সপ্তাহান্তে ঘুরতে যেতে চান, হাতে দু তিন দিনের ছুটি , কোথায় যাবেন ভাবছেন, আসুন কলকাতা থেকে সল্প দূরত্বের কিছু স্পট প্রতি সপ্তাহে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। ভালো লাগলে শেয়ার করে আর লাইক দিয়ে উৎসাহ দেবেন। *******প্রথম পর্ব******** বৈশাখী পূণিমা উপলক্ষে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অকুন্ঠ শ্রদ্ধাভরে বলেছেন, আমি যাকে অন্তরের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলদ্ধি করি, আজ এই বৈশাখী পূণিমায় তাঁর জন্মোৎসবে আমার প্রণাম নিবেদন করতে এসেছি।কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্তরে ’যাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলদ্ধি করেছিলেন , তিনি হলেন মহামানব গৌতম বুদ্ধ।মহামানব গৌতম বুদ্ধের জীবনের সঙ্গে যে চারটি স্থান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বুদ্ধগয়া তাদের মধ্যে অন্যতম। এই বুদ্ধগয়ার নিরাঞ্জনা নদীর তীরে আজ থেকে ২৫৫০ বছর পূর্বে বোধিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। তাই আজও সারা বিশ্বের বৌদ্ধধর্মালম্বী জনগনের কাছে বুদ্ধগয়া এক মহান তীর্থস্থান। বলা হয় নেপালের কপিলাবস্তুর এক শাক্য বংশে বুদ্ধদেবের জন্ম হয় | তবে তাঁর জন্ম স্থান অবশ্য কপিলাবস্তু নয়, প্রাচীন লুম্বিনী বা বর্তমান রুম্মিনদেঈ গ্রাম তাঁর জন্ম স্থান | তাঁর পিতা শুদ্ধোদন,মা মায়াদেবী | গৌতমের জন্মের সাতদিনের পর তাঁর মা মারা যান | এরপর তিনি তাঁর বিমাতা তথা মাসী প্রজাপতি গৌতমীর কাছে মানুষ হন | কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন গৌতমী মাসির কাছে মানুষ হওয়ায় তাঁর নাম গৌতম | তবে বেশির ভাগ ঐতিহাসিক মনে করেন গৌতম গোত্রে জন্ম হওয়ায় তিনি গৌতম | তাঁর পিতৃ দত্তা নাম ছিল সিদ্ধা র্থ | তাঁর জন্মকালে সকলের ইচছাপূরণ হয়েছিল তাই এরুপ নামকরণ করা হয় বলে মনে করা হয় | শাক্যবংশে জন্ম করেন বলে তাঁকে শাক্যসিংহ বলা হয় | সম্যকজ্ঞানলাভের পর তাঁর বুদ্ধ নামকরণ হয় | সুত্তনিপাতে বলা হয়েছে, গৃহীজীবন বন্ধনময়, দুঃখ কষ্টে ভরা | এই জীবনের প্রতি গৌতমের বিতৃষ্ণা জন্মে এবং এর ফলেই তিনি সন্ন্যাস নেন | ললিত বিস্তারে বলা...
আলস্যের আউলিতে

আলস্যের আউলিতে

  জোশিমঠথেকে সোজা রাস্তা চলে গেছে আরও দূরে বদ্রীনাথের দিকে। কপালে পুণ্যিটুন্যি বিশেষ নেইও আমার। তাই এখান থেকে গাড়ি ঘুরল উপর পানে। আঁকাবাঁকা এ পথ চলে গেছে আরও ১৬ কিলোমিটার দূরে আউলির দিকে। আপাতত গন্তব্য আমার ঐখানে। আরে ভাই, ওটা তো একটা স্কি রিসোর্ট। বরফের ওপর স্কি করতেই সবাই যায় ওখানে। বিদেশিদের ভিড় ই বেশি। আলুপোস্ত খাওয়া ভেতো বাঙালী তুমি ওখানে গিয়ে কি করবে শুনি? তার ওপর আবার ভাঙা কোমর নিয়ে? এমনতর হাজার প্রশ্নের স্রেফ একটাই উত্তর আমার। যাবো আউলিতে একটু আলিস্যি করতে। করুক না সবাই স্কি টি বরফের ওপর। আমি না হয় ততক্ষন কুঁড়েমি করে শুয়ে বসে অপার হিমালয়ের অপরূপ রূপ দর্শন করি। শুরুতেই বিপত্তি। পথ জুড়ে বরফের আস্তরন। একজন আর্মির ভদ্রলোক ওপর থেকে নেমে আসছিলেন। আমাদের চালক শুধল তাকে, পথ কি খোলা না বন্ধ? একগাল হেঁসে মানুষটি জানালেন বিশুদ্ধ হিন্দিতে, কাল তক তো সড়ক বন্ধই থা। বহুত বরফ গিরা থা। লেকিন আজ খুল গিয়া রাস্তা। সাবধানী সে যাও। এই বলে তিনি ওপরের দিকে নাকি স্বর্গের রাস্তার দিকে আঙুল দেখিয়ে দিলেন। অত্যন্ত অনিচ্ছায় ড্রাইভার একবার আমার সর্বাঙ্গ মেপে নিয়ে গিয়ার মেরে গাড়ি চালু করলেন। তার ইচ্ছে ছিল জোশিমঠেই ঘাঁটি গাড়া এবং আমাদের রোপওয়ে দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া। সহযাত্রীরা তো আরও বিরক্ত আমার ওপর। একে ঠাণ্ডা, তায় বরফ, তার ওপর সরু রাস্তা, প্রান রাখার কি বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই? কারুর গোঁফ গেছে ঝুলে, উদ্বেগে আর আমার ওপর রাগে। কারুর বা লিপস্টিক ফ্যাকাশে। এমন বেখেয়ালে বাউন্ডুলে ঘোরাফেরা তাঁদের বিলকুল না পসন্দ। কিন্তু ঐ যে বরফের পাহাড়শ্রেণী উঁচু হয়ে আমাকে হাতছানি দিচ্ছে, পাগল করা রূপ নিয়ে। যেতে তো আমাকে হবেই। বেশ একরোখা হয়েই বললাম, চলিয়ে ড্রাইভার সাহাব, সাবধানী সে চলিয়ে। আউলি তো আ গিয়া হ্যায়। সব হতাশায় জল ঢেলে এগিয়ে চললাম যেন...
হিমাচলের কয়েকদিন

হিমাচলের কয়েকদিন

‘হিমাচলের কয়েকদিন’ (প্রথম পর্ব) ১লা মার্চ, ২০১৮। আজ দোল। নেট ঘেঁটে ঘেঁটে সিমলা মানালি চণ্ডীগড়ের লেখা পড়ে আর ছবি দেখে চোখে ছানি পড়ে গেছিলো। এদিকে গাদাখানেক লোকজন কোত্থেকে জানতে পেরে ফোন লাগিয়েছে, দাদা গাড়ি লাগেগা, হোটেল লাগেগা, এইসব। আমি আমার বিখ্যাত হিন্দিতে তাদের যথাসম্ভব নিরস্ত করছি। একজন তো বিরক্ত হয়ে বলেই বসল হোটেল লাগবে না তো কি গাছতলায় থাকবেন? সেই কবে টিকিট কাটা হয়েছে, সিমলার ঘর বুক করা হয়েছে। ব্যাস, তারপর দিন যেন আর কাটছেই না। শেষে কাল অফিসে সবাইকে টা টা করে বেরিয়ে মনটা কেমন ফুরফুরে হয়ে গেল। সত্যি বলছি ফেব্রুয়ারির আঠাশ তারিখ, সবে মাইনে ঢুকেছে অ্যাকাউন্টে, অফিসে জেলাস পার্টি গুম হয়ে বসে আছে যেই শুনেছে দেড় সপ্তাহের ছুটিতে সিমলা মানালি বেড়াতে যাচ্ছি। এদিকে আমিও হ্যাপ্পি হোলি ইন অ্যাডভান্স বলে একটু তাড়াতাড়িই বেরিয়ে পড়েছি।আজ রাতের ঘুমটা খুব জরুরি। কারণ কালকে রাতটা ট্রেনে জেগে কাটাবো। গড প্রমিস, একটুও ঘুমোবো না। ট্রেনে ঘুম আসে না তা নয়, ছোটবেলায় দোলনায় দুলিয়ে দুলিয়ে ঘুম পাড়ানো হত, ধেড়ে হয়ে যাওয়ার পরে একমাত্র ট্রেনেই দুলে দুলে ঘুমোনো যায়। কিন্তু কাল তো পূর্ণিমা, চারদিকে চাঁদের আলো পড়বে, আর আমি ভোঁস ভোঁস করে নাক ডাকিয়ে ঘুমোবো এমন বেরসিক আমি নই। তাই বলে যে দাঁতে কলম আটকে কবিতা লিখব তাও নয়। শুধু বাইরের দিকে তাকিয়ে মোবাইলে খুব প্রিয় কিছু গান শুনব এরকম ইচ্ছে আছে। সক্কাল বেলা বাইরে চেঁচামেচি। পিচ্চি পিচ্চি সব বাচ্চাগুলো রং খেলতে বেরিয়ে পড়েছে। ধেড়েরা বারোটার পর বেরোবে, কারণ ওদের বারোটা অনেক আগেই বেজে গেছে। এমন ছুঁচো, কি একটা কিনতে একটু বেরিয়েছিলাম, বাঁদুরে রং লাগিয়ে দিলো। আমিও আচ্ছা করে কথা শুনিয়ে দিয়েছি ওর বাবা না কাকা কে একটা দাঁড়িয়েছিল ভুত হয়ে, তাকে। বুঝলাম, সাতটা চল্লিশে হাওড়া থেকে ট্রেন, যদি সুস্থভাবে যেতে হয়, তবে পাঁচটায় বেরোতে...
কিরিবুরু মেঘাটুবুরুর গল্প – অরুনাভ মালো

কিরিবুরু মেঘাটুবুরুর গল্প – অরুনাভ মালো

কিরিবুরু মেঘাটুবুরুর গল্প 23শে জুন, রাত 11:45 পল্লব দা আর প্রীতম ঘুমাচ্ছে। মানে পল্লব দা সত্যি করে ঘুমাচ্ছে আর প্রীতম এমনি চোখ বুজে শুয়ে আছে। আমি সবথেকে ওপরের বার্থে, ঘুম আসছে না। গান শুনছি। প্ল্যানটা খুব একটা পাকাপোক্ত না, তবু যাচ্ছি। অনেকটা জঙ্গল, জঙ্গলের মধ্যে রাস্তা আর “700 পাহাড়” …আসলে কত পাহাড় কেউই ঠিক জানে না, একটা পয়েন্ট আছে, সেখান থেকে নাকি দেখা যায় দূরে তাকালে। সেখানে যাচ্ছি। কিরিবুরু – মেঘাবুরু – সারান্দা। হাওড়া থেকে রাতের খাবার কিনে এনেছিলাম তিনজন। রাত সাড়ে নটার কোরাপুট এক্সপ্রেস। খাওয়ার পরে যে যার মত শুয়ে পড়েছি কারণ কাল খুব রাতভোরে উঠে পড়তে হবে। গরমের সময়, তবু জানালা দিয়ে সুন্দর গা- জুড়ানো ঠান্ডা হাওয়া আসছে… রোজ রোজ অফিস জীবন থেকে দুদিনের পালিয়ে যাওয়া 🙂 এই পালানোর কোনো অর্থ নেই, তবে কিছু একটা সুন্দর ভালোলাগা আছে, যেটার জন্য এরকম সময়ে একটা পুরোনো গান শুনতে শুনতে বেশ খুশি লাগছে। প্রীতম ও কি সেই কারণেই ঘুমায়নি? রাগ হয়েছিল একটু আজ হাওড়া স্টেশনে এসে ওর ওপর। রাগ নেই। রাগ থাকেনা। থাকতে পারে না 🙂 .. কামরা অন্ধকার। বাকি যাত্রীরাও ঘুমোচ্ছে সবাই। এইমাত্র সশস্ত্র দুজন পুলিশ টহল দিয়ে গেল এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। বাইরে এক অদ্ভুত শান্ত ভাব, শুধু ট্রেন চলার আওয়াজ। শোয়ার আগে প্রীতমের সাথে নিচে জানালার ধারে বসে ছিলাম। যতদূর চোখ যায় শুধু শান্ত একটা অন্ধকার। মাঝে মাঝে আলো, দোকানপাট, গাড়ি, কারখানা, মানুষের ভিড়ের আলো। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হয়তো। আবার অন্ধকার। অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে আমাদের কোরাপুট এক্সপ্রেস। কাল থেকে যেন একটু হলেও বৃষ্টি হয়… হালকা বৃষ্টিতে পাহাড় জঙ্গল যেন বেঁচে ওঠে। শুকনো মাটি যেন সুন্দর একটা ভেজা গন্ধে ঘুম ভেঙ্গে জেগে ওঠে। গাছের পাতায় কি সুন্দর ভাবে যেন লেখা হতে থাকে বৃষ্টির জলে খুব সোজা অথচ...