SARNATH : The land of buddhism

SARNATH : The land of buddhism

SARNATH the land of buddhism- ঋষিপত্তন বা সারঙ্গনাথের রাজপাট – শিবাংশু দের কলমে

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha

Sarnath : The land of buddhism

“…. বারাণসির উত্তর-পূর্বদিকে বরণা ( বরুণা) নদী পেরিয়ে ১০ লি মতো গেলে ‘লু ঈ’ বা মৃগদাব সঙ্ঘারামের দেখা পাওয়া যায়। এর সীমানা আট ভাগে বিভক্ত, একটি ঘেরা দেওয়াল দিয়ে সব গুলি সংযুক্ত রয়েছে। কয়েকতল উঁচু বুরুজগুলি সংলগ্ন ঝুলবারান্দা ও সেগুলির কারুকাজ খুব নিপুণ হাতের কাজ। এই সঙ্ঘারামটিতে ১৫০০ মতো ভিক্ষু রয়েছেন। তাঁরা হীনযান মতের সম্মতীয় শাখার উপাসক। বিরাট সীমানার মধ্যে প্রায় দুশো ফুট উঁচু একটি বিহার দেখলাম। তার শীর্ষদেশে একটি সোনায় মোড়া আমের প্রতিকৃতি রয়েছে। দালানগুলির ভিত্তি পাথরের। সিঁড়িও পাথরের, কিন্তু বুরুজ ও কুলুঙ্গিগুলো ইঁটের তৈরি। কুলুঙ্গিগুলো চারদিকে একশোটি সারিতে সাজানো ও তার প্রত্যেকটিতে একটি করে সোনার বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। বিহারের মধ্যে দেশি তামা দিয়ে তৈরি একটি বুদ্ধমূর্তি। ধর্মব্যাখ্যানের রত এই মূর্তিটির আকার স্বাভাবিক মানুষের সমান।“

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddhaSarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha



মূলগন্ধকুটিবিহারের এই বর্ণনা করেছিলেন হিউ এন সাং আনুমানিক ৬৪০ সালে। তাঁর বিবরন পড়ে মনে হয় চতুর্থ ও পঞ্চম শতকে গুপ্তযুগে নির্মিত  এই বিহারটি সেই সময় পূর্ণ গৌরবে বিরাজ করতো। বুদ্ধ নিজে তাঁর অনুগামীদের যে চারটি স্থানকে ‘অভিজাহিতাত্থানানি’ অর্থাৎ অপরিবর্তনীয়  তীর্থভূমি বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন ঋষিপত্তনের  মৃগদাব, যেখানে মূলগন্ধকুটিবিহার নির্মিত হয়েছিলো, তার অন্যতম। বাকি তিনটি লুম্বিনী, উরুবেলা (বোধগয়া) এবং কুশিনারা।  বৌদ্ধদর্শনের পবিত্রতম কেন্দ্র হিসেবে ঋষিপত্তনের বিহারটি সমগ্রবিশ্বে স্বীকৃত ছিলো। একটি রটনা আছে যে গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক নাকি ঋষিপত্তনের বিহারটি বিধ্বস্ত করেছিলেন। এই রটনাটির সূত্র কিন্তু আবার এই হিউ এন সাং। তিনি ৬৪৪ সালে ভারত ত্যাগ করেছিলেন এবং তাঁর ঋষিপত্তন আগমন তার দুচার বছর আগেই।

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha

হিউ এন সাং ‘ধর্ম-ব্যাখ্যানে রত’ যে বুদ্ধমূর্তিটির কথা উল্লেখ করেছেন সেটি বুদ্ধের উপবিষ্ট ‘ধর্মচক্রপ্রবর্তনমুদ্রা’র প্রতিচ্ছবি। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী সেটি ধাতুনির্মিত ছিলো। কিন্তু ঊনবিংশ শতকে মূলবিহারের খননসূত্রে লব্ধ এই মুদ্রায় বুদ্ধের প্রস্তরমূর্তিটির ( যেটি এই সময় সারনাথ জাদুঘরে রয়েছে) মতো উচ্চকোটির ভাস্কর্য আমি দেশে আর একটিই দেখেছি। সেটি পাটনা জাদুঘরে আরো চারশো বছর আগে মৌর্যযুগের শেষ পর্যায়ে নির্মিত বিখ্যাত দিদারগঞ্জের যক্ষী মূর্তি।

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha

যে স্থানটিতে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, সেখানে এখন  সুরম্য তৃণভূমিঘেরা একটি প্রান্তর। পাশে একটি পুরা অবশেষ। নামফলকে লেখা আছে ‘চৌখণ্ডী স্তূপ। চতুর্থ-পঞ্চম শতকে গুপ্তযুগে নির্মিত বর্গাকার স্তূপটি  স্থানটিকে নির্দিষ্ট করছে যেখানে বুদ্ধ প্রথম তাঁর পাঁচ অনুগামীর সঙ্গে পুনঃ সাক্ষাৎ করেছিলেন। সপ্তম শতকে হিউয়েন সাঙের বিবরণীতে এই স্তূপটির উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রথমে ১৮৩৫, ও পরে ১৯০৪-০৫ সালে উৎখননের পর এই ৯৩ ফুট উঁচু পিরামিড আকারের স্তূপটি পুনরাবিষ্কৃত হয়। খননের ফলে এখান থেকে গুপ্তযুগের বুদ্ধমূর্তি ছাড়াও নানা উৎকৃষ্ট ভাস্কর্য উদ্ধার হয়েছে। এই স্তূপের চূড়ায় ১৫৮৮ সালে যুবরাজ সলিমের বারাণসি আগমন উপলক্ষে রাজা টোডরমলের পুত্র গোবর্ধন একটি বুরুজ নির্মাণ করেন।

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha




চৌখণ্ডীস্তূপ থেকে দু-আড়াই কিমি উত্তরে এগিয়ে গেলে সারনাথের মূল পুরাতত্ত্ব অবশেষের অবস্থান। বুদ্ধ পদার্পণ করার সময় এখানে ছিলো বিস্তীর্ণ বনভূমি । স্থানটি হরিণ অধ্যুষিত হবার জন্য সেটি মৃগদাব নামেও কথিত হতো। এই মৃগদাবের  সন্দর্ভ ধরেই পরবর্তীকালে জাতককথার সূত্রপাত হয়। আসলে সারনাথ নামটিই এসেছে মৃগরাজ সারঙ্গনাথের নাম থেকে। এখনও সেখানে একটি সরকার স্থাপিত হরিণ অভয়ারণ্য রয়েছে। সেখানে মূলতঃ বিদেশী বুদ্ধভক্তদের ভিড় দেখতে পেলুম।   মূল চত্বরটির  প্রবেশপথের পাশ থেকে শুরু হয়ে যায় বৌদ্ধ মঠের ভগ্নাবশেষ। চক্রপথের ডানপাশে শ্রমণ ও ভিক্ষুদের সারবাঁধা বাসস্থানের ভগ্নাবশেষ রয়েছে। সেগুলি পেরিয়ে গেলেই ধর্মরাজিকাস্তূপ। এই স্তূপটির মাহাত্ম্য বিষয়ে পরে আলোচনা করছি। ধর্মরাজিকা স্তূপ থেকে ঈষৎ উত্তরমুখী হলেই প্রাচীন মূলগন্ধকুটিবিহার মন্দিরের  ধ্বংসস্তূপ।

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha

এই বিহারটির বাইরে  হিউ এন সাং দশটি স্তূপ, তিনটি সরোবর ও ‘হেঁটে যাবার ভঙ্গিমায়’ তথাগতের একটি ‘মহান করুণা ও ভাবব্যঞ্জক’ মূর্তি দেখেছিলেন।  এছাড়া তিনি একটি প্রায় তিনশো ফুট স্তূপ দেখেছিলেন এখানে। ‘ এই স্তূপটির নীচের ভিত্তি বেশ চওড়া ও নির্মানটি অনেকটা উঁচু। এটি বিভিন্ন ধারার কারু ও শিল্পকাজ শোভিত এবং মহার্ঘ বস্তু দিয়ে সুন্দর করে সাজানো’। এই স্তূপটিই আদিরূপে সম্রাট অশোক নির্মিত ‘ধর্মচক্র স্তূপ’ ছিলো, পরবর্তীকালে পালিভাষায় ধম্মখ বা বর্তমানকালে ধামেখ স্তূপ নামে পরিচিত। এটিকে পঞ্চম শতকে গুপ্তযুগে বিশাল আকার দেওয়া হয়। এর নীচের অংশে আটদিকে আটটি কুলুঙ্গি করা আছে এবং পাথরে উৎকীর্ণ নানা জ্যামিতিক বিন্যাস , স্বস্তিক, পুষ্প-পত্র, পক্ষী ও মানুষিক নক্শা দেখতে পাওয়া যায়। কারুকৃতি হিসেবে এর তুলনা সাঁচীর স্তূপের সঙ্গে করা যেতে পারে। এর দক্ষিনে রয়েছে ধর্মরাজিকা স্তূপ। এখন শুধু এর চক্রাকার ভিত্তিভূমিটিই অবশিষ্ট রয়েছে।




Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha

এই পরিসরে এখনও বেশ কিছু স্তূপ ও চৈত্যের ভগ্নাবশেষ দেখা যায়। দেখা যায় অশোক পিয়দস্সির স্থাপিত ধর্মচক্র সিংহস্তম্ভের ভগ্ন মূল ভিত্তিটি। এই স্তম্ভটি তুর্কি আক্রমণে ভূলুন্ঠিত হয়। কিন্তু সৌভাগ্যবশতঃ এই স্তম্ভের শীর্ষদেশে স্থাপিত চতুর্দিকে সিংহচিহ্নিত মূর্তিটি ভূলুণ্ঠিত হলেও তার ক্ষতি সামান্যই হয়েছিলো। এই সিংহমূর্তিটিই স্বাধীন ভারতের সরকারি প্রতীক। সিংহমূর্তিগুলির  নীচে চারটি পশুমূর্তি, হস্তী, বৃষ, অশ্ব ও সিংহ এবং চব্বিশ শলাকার চক্র উৎকীর্ণ রয়েছে। এই চক্রটি ভারতীয় জাতীয় পতাকার মধ্যমণি। এই চতুর্সিংহ ও অন্য চারটি পশু ভারতবর্ষের চতুর্দিকে সার্বভৌম সম্রাট অশোকের অধিকার প্রচার করছে। একদিকে প্রায় ভূমিগত অবস্থায় রয়েছে এককালের জমকালো পঞ্চায়তন মন্দির।

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha

সারনাথের উপর বারম্বার তুর্কি ও অন্যান্য বিধর্মী আক্রমণ হয়েছে। ফলতঃ এর গরিমাময় প্রাচীন স্থাপত্যের প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই শুধু ধামেখ স্তূপটি ছাড়া। কিন্তু ধর্মরাজিকা স্তূপটির যতোটা অবশেষ বাকি ছিলো, অষ্টাদশ শতকে কাশীনরেশ চেত সিংএর দিওয়ান জগত সিং একটি বাজারের দোকানপাট নির্মাণের জন্য তার ইঁটগুলি  ভেঙে নিয়ে যায়। এই স্তূপে  একটি সবুজ পাথরের  আধারের মধ্যে বুদ্ধের দেহাবশেষ ছিলো। এই লোকটি বুদ্ধের আত্মার শান্তি কামনায় তা গঙ্গায় বিসর্জন দেয়। শূন্য আধারটি এই মূহুর্তে ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতায় রক্ষিত আছে। এই নিদর্শনটি ব্যতিরেকে এই স্তূপটির অভ্যন্তরে বেশ কিছু অমূল্য পুরা সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিলো, কিন্তু তার কোনও হদিশ এখন আর পাওয়া যায়না। ধর্মরাজিকা স্তূপটি প্রাক অশোকপর্ব থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো। কারণ প্রাপ্ত লোককথা বা  ইতিহাস অনুযায়ী এই বিশেষ স্থানটিতেই  বুদ্ধ তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যকে ধর্মচক্রপ্রবর্তন বিষয়ক উপদেশ দিয়েছিলেন। অশোক পিয়দস্সি  ইতোপূর্বে স্থাপিত স্তূপটিকে বিবর্ধিত করেছিলেন। তার পর গুপ্তযুগে দুবার এবং পরবর্তীকালে আরো দুবার এই স্তূপটির আকার বৃদ্ধি করা হয়েছিলো। কিন্তু জগৎ সিংয়ের কল্যাণহস্তের আশীর্বাদে এখন শুধু এর ভিত্তিভূমিটিই অবশিষ্ট আছে।

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha

এই ঋষিপত্তনে শাক্যমুনি গৌতম বুদ্ধ তাঁর এক প্রিয়তম শিষ্য সারিপুত্তকে যা বলেছিলেন, তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কালের উপনিষদেরও মর্মবাণীর মধ্যে সেই একই আকুল পথনির্দেশ পাওয়া যায়।

Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha


This content is written by Mr. Shibanshu De. The photographs are also clicked by him.






To know more about Sarnath the land of Buddhism and lumbini the birth place of buddha you may visit here



You may like to read more about weekend trip here
Weekend Travel Guide

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement