Panchmura – A Terracotta Village near Bishnupur

Panchmura – A Terracotta Village near Bishnupur
Reading Time: 4 minutes

Panchmura – A Terracotta Village near Bishnupur

টেরাকোটার মলাটে মোড়া

content by Sudipto Patra



নিমাইবাবু বলে চললেন, “বিষ্ণুপুরে যত টেরাকোটার মন্দির দেখতে পাবে, তার বেশিরভাগই আমাদের গ্রামের শিল্পীরাই তৈরী করেছে। কিন্তু বিষ্ণুপুরে বাঁকুড়ার একটা ঐতিহাসিক স্থান আর আমাদের পাঁচমুড়ার নাম খুব কম মানুষই জানে। তবু গত কয়েক বছর ধরে তোমাদের মতো অনেক মানুষজন আসার জন্য আমাদের গ্রামকেও মানুষ চিনছে।”

নিতাই মন্ডল – পিয়ারডোবা থেকে বাসে যাওয়ার পথে পাঁচমুড়া স্থানীয় প্রায় ষাটোর্ধ্ব আমার এই সহযাত্রী ভদ্রলোকের গলায় নিজের ভালোবাসার গ্রাম নিয়ে আবেগ ঝরে পড়ছিল। তার কথার সত্যতা যাচাই করার সাধ্য বা সদিচ্ছা কোনোটাই আমার মতো কিঞ্চিৎ শিক্ষিত অধমের নেই। আমার বাঁকুড়া আসার উদ্দেশ্য ২-৪ নভেম্বর তিনদিন ব্যাপী Toureast(dot)in ও banglanatak(dot)com পরিচালিত বাঁকুড়া জেলার গ্রামীন শিল্পকর্ম মেলার অংশ হওয়া।

‘টেরাকোটা’ শব্দটির উৎপত্তি লাটিন শব্দ থেকে যার অর্থ ‘পোড়ামাটি’। এঁটেল এবং বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত মাটির সঙ্গে খড়কুটো, তুষ প্রভৃতি মিশিয়ে কাদামাটি প্রস্তুত করা হয়। সেই মাটি থেকে মূর্তি বা অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি তৈরি করে ও পরে আগুনে পুড়িয়ে টেরাকোটা ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। সিন্ধুসভ্যতার সময়কাল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে মৌর্য সাম্রাজ্যে ও গুপ্ত সাম্রাজ্যে টেরাকোটার বহু নিদর্শন পাওয়া গেছে।

ফিরে আসি পাঁচমুড়ার টেরাকোটা শিল্পে প্রায় ৫০টি পরিবার বংশপরম্পরায় পাঁচমুড়ার এই পোড়ামাটির হস্তশিল্পের জীবিকার উপর নির্ভরশীল। পাঁচমুড়ায় সৃষ্ট টেরাকোটার ঘোড়া, হাতি বহু গ্রামে গাছের তলায় সাজানো থাকতে দেখা যা গ্রামবাসীদের মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ার প্রতিকস্বরূপ। এছাড়া দেবদেবী হিসাবে পূজিত হয় আরও কয়েকরকম মূর্তি যেমন বাঘ, সাপ, মনসার থালি এবং নিত্যদিনের কাজের অঙ্গ যেমন রান্নার হাঁড়ি, খোলা, ভাঁড়, জল রাখার কলস, জালা প্রভৃতি এখানে নির্মিত হয়।





টেরাকোটার সামগ্রী নির্মাণের প্রক্রিয়া:
১। প্রথমে হাত দিয়ে ছেনে মাটি থেকে বালি, কাঁকড়, নুড়ি বেছে নিয়ে তা কাজের উপযোগী করে নেওয়া হয়। পরে কাজের সুবিধার জন্য খানিকটা বালিও দেওয়া হয়।

২। এরপর ঘূর্ণায়মান চাকে দিয়ে কাজের সুবিধার জন্য মাটিকে চোঙার আকার দেওয়া হয়। এই ঘুরন্ত অবস্থাতেই তা চাক থেকে তুলে নিয়ে পুতুলগুলির এক একটি নির্দিষ্ট অঙ্গ তৈরি করা হয়।

৩। এরপর পুতুলগুলি রোদে বা বাতাসে শুকিয়ে তা ‘বটর’ বা জোড়া লাগানোর উপযোগী করে নেওয়া হয়।


৪। এবার শুকনো বিভিন্ন অংশকে জোড়া দিয়ে তাকে পূর্ণাঙ্গ আকার দেওয়া হয়। এরপর বাঁশের ‘চিয়ারী’ দিয়ে পুতুলগুলির গায়ে বিশেষত গলায়, পায়ে ও মাথায় নানা অলঙ্করণ করা হয়। সেগুলির বিভিন্ন জায়গায় গর্ত করা হয় যাতে সেগুলিতে সমানভাবে হওয়া খেলতে পারে এবং পুতুলে যাতে চির না ধরে। তারপরে তা বাড়িতেই স্বাভাবিকভাবে শুকোয়। এরপর ‘পুয়ান’ বা ভাঁটিতে দেওয়ার আগে তা রোদে দেওয়া হয়।

৫। এরপর পুতুলগুলোর উপর গদ, বনক মাটির তিনটি প্রলেপ দেওয়া হয়।


৬। তারপর ‘পুয়ান’ বা ভাঁটিতে দিয়ে পুতুলগুলি ৭০০-৭৫০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় প্রায় ৪-৫ ঘন্টা পোড়ানো হয়। জ্বালানী হিসেবে ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা ব্যবহার করা হয়।


৭। এইভাবে পুতুল তৈরি সম্পূর্ণ হয়।

এত পরিশ্রমের পরেও আজ পাঁচমুড়ার শিল্পীরা স্বস্তিতে নেই। বর্তমানকালে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে যার প্রধান কারণ আর্থিক অনটন ও কাঁচামালের অভাব। তাই কখনও চাহিদা অনুযায়ী জিনিসের জোগান দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এছাড়া এখন নকল পোড়ামাটির প্রস্তুতকারীরা এই টেরাকোটার বাজার নষ্ট করে দিচ্ছে তাই পরিশ্রমের অনুপাতে যৎসামান্য দামে এই শিল্পদ্রব্যাদি বিক্রি করতে হচ্ছে।





তাই সবশেষে এই লেখাটির পাঠকদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ কোনও ছুটির দিনে একবার ঘুরে যান বাঁকুড়ার টেরাকোটার সত্বাকে টিকিয়ে রাখা এই সুন্দর গ্রামটিতে। নিজের থেকে চাক্ষুষ করুন সম্পূর্ণ এই সৃষ্টিকান্ড এবং নিঃসন্দেহে আপনার ড্রয়িং রুমের শোভাবর্ধক বস্তুটি এখানে খুঁজে পাবেন।

কিভাবে যাবেন:

নিকটবর্তী স্টেশন পিয়ারডোবা। এখান থেকে পাঁচমুড়ার দূরত্ব ২০ কিমি এবং বাসে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে।
এছাড়া বিষ্ণুপুর থেকে পাঁচমুড়া দু’ভাবে আসা যায়। এক, বিষ্ণুপুর থেকে থেকে বাসে তালডাংড়া নেমে সেখান থেকে বাস পরিবর্তন করে পাঁচমুড়া। দুই, বিষ্ণুপুর থেকে পাঁচমুড়াগামী বাস যেটি পিয়ারডোবা হয়ে যায়।


This content is written by Mr. Sudipto Patra. The beautiful pictures are also clicked by him.

 


 



Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement