Moichara Cattle Race Festival

Moichara Cattle Race Festival

Moichara : The cattle race festival of Bengal

মৈচারার ইতিবৃত্ত

” মৈচারা ” নামটা বেশ অজানা ছিল আমার কাছে। বলতে পারি প্রথম শুনেছিলাম। খুব কৌতুহল হতো যে কি এটা। এর অর্থই বা কি। কৌতুহল টা খুব বেশিদিন আর রইলো না, অজানাকে জানার ইচ্ছা তো আমার প্রথম থেকেই আছে। তাই সেই অজানাকে জানার জন্যএকটু অপেক্ষাতে ছিলাম। যাইহোক সেই সুযোগ এসে হাজির হলো।
২রা জুলাই ২০১৭ সাল, এই দিনটা আমার কাছে একটা দারুন দিন। এতো ছবি তুলি এতো জায়গাতে যাই, কিন্তু আমাদের বাংলাতে যে কত ধরণের উৎসব পালিত হয়ে তা অনেকটা হলেও আমার অজানা। এমনই এক উৎসব হলো “মৈচারা উৎসব”।



উৎসবের সময়কাল :

প্রতিবছর জুন-জুলাই করে মানে ভরা বর্ষাতে এই উৎসবের আসর বসে ক্যানিং সংলগ্ন ” হেরোভাঙা ” গ্রামে। স্থানীয় তরুণ সংঘ নামক ক্লাব এই উৎসবের পরিচালনা করে। ২দিন ব্যাপী এই উৎসব চলে। সঠিক দিন ক্ষণ জানার জন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এ নজর দিতে হবে অথবা সংবাদ মাধ্যমেও খবর নেওয়া যায়।

কেমন এই উৎসব:

এই গ্রামের স্থানীয় কৃষকরা তথা আসে পাশের ক্যানিং সংলগ্ন গ্রাম থেকে অনেক কৃষকরা তাদের গবাদি বলদ দের নিয়ে হাজির হয়ে এই উৎসবে। এটি একটি বলদের দৌড়। এই দৌড়ে অনেক পুরস্কার থাকে। এই দৌড়টি জলে ভরা জমিতে অনুষ্ঠিত হয়ে। যায় বলদ সঠিকসময়ে ও সঠিক ভাবে দৌড় দেয় তারা পুরস্কার পায়ে। স্পেন এ যেমন বুল ফাইট হয়ে আমাদের এই বাংলাতে বলদের দৌড় মানে ” মৈচারা ” উৎসব হয়ে। দূরদূরান্ত থেকে শয়ে শয়ে ফটোগ্রাফার আসে এই উৎসব তথা এই দৌড়ের চিত্র সংগ্রহ করতে। কিন্তু বলে রাখি এইদৌড়ের ছবি সংগ্রহ করতে একটু বিপদ ও থাকে। বলদের দৌড়ের সময়ে অনেক বলদ দিক পরিবর্তন করে এই ছবিপ্রমিক দের দিকে ধাওয়া করে। একে জল কাদা ভরা জমি, তার ওপর বলদের তারা খেয়ে অনেকে পরে গিয়ে এই বাংলার কাদা মাটির সংস্পর্শে আসে।কিন্তু ” হার মানব না ” এই মনোভাব নিয়ে চললে কেল্লাফতে।এই হলো মৈচারা।

কি ভাবে যাবেন :

শিয়ালদা থেকে ক্যানিং লোকাল ধরে ক্যানিং স্টেশন। সেখান থেকে অটো করে হেরোভাঙা গ্রাম।
কোলকাতা থেকে সড়ক পথে গেলে বারুইপুর হয়ে ক্যানিং, তারপর সেখান থেকে হেরোভাঙা।

কি কি রাখবেন :

ভরা বর্ষাতে এই দৌড় হয়ে , তাই সঙ্গে ছাতা , রেইন কোর্ট, জল, আর ক্যামেরা কে মোড়ার জন্য প্লাস্টিক রাখবেন।

কি পরবেন :

যারা মনে করবেন জল কাদা ভর্তি জমিতে নেমে ছবি তুলবেন অবশ্যই হাফপ্যান্ট বা বারমুডা হলো সঠিক। জুতো খুলে নিজের ব্যাগে রাখবেন।

 

দিনের অভিজ্ঞতা :

দিনটা ছিল ২রা জুলাই ২০১৭ ,রবিবার। সকাল ৮.২৮শের ক্যানিং লোকাল এ সবাই উঠে বসলাম।একের পর এক স্টেশন পেরিয়ে ৯.৪৪শে ক্যানিং এসে পৌছালো।স্টেশন এর বাইরে এসে অটো এর খোঁজ শুরু করলাম। শেষ এক অটো দাদা রাজি হলেন ২০ টাকাজনপ্রতি বিনিময়ে।খুব কষ্টে শেষমেষ পৌঁছে গেলাম হেরোভাঙা গ্রামে।



অটো থেকে নামতেই কানে এলো একটা ঘোষণা ..” হেরোভাঙা গ্রামে আপনাদের স্বাগত, মৈচারা এর ২য় রাউন্ড শুরু হবে। ”
সবাই যে যার মতো জায়গা নিয়েছেন।আমিও তৈরি… কিন্তু এতো ভিড়ে কি করে ছবি তুলবো। ব্যাস…. নিজের পায়ের জুতোটা খুলে ব্যাগে ভোরে নিলাম। খালি পায়ে নেমে পড়লাম জল কাদা ভর্তি জমিতে। জমির আল ধরে অনেক চিত্র গ্রাহক বন্ধুরা আগেই যে যারজায়গা নিয়েছেন। আমিও হাটু জলকাদা মধ্যে দাঁড়িয়ে রইলাম।এবার হাজির সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ।কিছুক্ষন পর শুরু হলো সেই দৌড় । আমিও নিজের ক্যামেরা তে সব মুহূর্ত ধরতে শুরু করলাম। বেশ চলছিল, হঠাৎ হলো এক বিপত্তি। আমি যে দিকে ছিলাম, ঐ দিকেই ৩ -৪বার বলদ বাবাজিরা নিয়ন্ত্রন হারিয়ে আমাদের দিকে ধাওয়া করল। আমরা যে যেদিকে পারছিলাম দৌড় লাগলাম। অন্য চিত্র গ্রাহক বন্ধুরা এই বিরল দৃশ্যের ছবি তুলছিলেন। আমি আর আমার সহ-চিত্র গ্রাহক দাদারা আগে আর পেছনে বলদ বাবাজি।এই ভাবেই চললোসারাদিন। শেষমেষ বলদের তাড়া খেয়ে অনেক ছবি সংগ্রহ করে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে, কাদা জল মেখে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। কিন্তু পেলাম অনেক কিছু, বলদের তাড়া, আর এই বাংলার এক অভুত পূর্ব উৎসব এর সাক্ষি হয়ে।তাই কি ভাবছেন পরের বছর তৈরি হউন,আমি তো যাচ্ছি আবার আর আপনারা???

সজাগ থাকবেন :

বলদের দল যখুন তখুন দিক পরিবর্তন করে । তাই ছবি তুলুন কিন্তু সজাগ দৃষ্টি রেখে।


This content is written by Mr. Joy Karmakar. The pictures used in this blog are also clicked by him.





2 Comments

  1. আপনার চেষ্টা সার্থক ভাই। দারুন রোমাঞ্চকর বর্ণনা। এটা অনেকটা কেরলের কালাপাত্তু-র অনুরূপ। এই বাংলাতেও যে এরকম রোমাঞ্চকর খেলা হয় জেনে ভালো লাগলো। একবার দেখতে যাবার ইচ্ছা রইলো।

    শুভেচ্ছান্তে,
    দীপঙ্কর সেনগুপ্ত

    https://en.m.wikipedia.org/wiki/Maramadi

    Reply
    • ধন্যবাদ আপনাকেও

      Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement