Meghalaya Travel Guide

Meghalaya Travel Guide

Meghalaya Travel Guide

#মেঘালয় #শিলং

মেঘালয়ের আনাচেকানাচে ঃ

সেভেন সিস্টার্সের এক বোন হলো এই মেঘালয়। এই মেঘালয় ঘুরে এসে খুব সংক্ষিপ্ত একটা ভ্রমণপঞ্জি দিলাম। সাথে কিছু ছবি।কি ভাবে যাবেন, কি কি দেখবেন, কি খাবেন এই সব আর কি। তবে সবই আমার মত করে বলবো। মডিফাই করা আপনার কাজ।

 

কামাখ্যা মন্দির



 

কি ভাবে যাবেনঃ

ট্রেনে গেলে গুয়াহাটি স্টেশনে নামবেন। স্টেশনের বাইরে, বা পল্টন বাজার থেকে শিলং এর গাড়ী পাবেন। বাসও আছে। রাস্তা খুব ভালো, সময় লাগবে গাড়ীতে ঘন্টা তিনেক।

ফ্লাইটে গেলে গুয়াহাটি বিমানবন্দর শিলং থেকে ১২৩ কিমি। আর আছে উমরই বিমানবন্দর ৩৫ কিমি দূরে। উমরইএ মঙ্গলবার ছাড়া সবদিন এলায়েন্স এয়ারের বিমান ছাড়ে।

গুয়াহাটি থেকে শিলং গাড়ীর ভাড়া পড়বে সীট প্রতি ২০০ টাকা। পুরো গাড়ী ভাড়া করলে নেবে ১০ টি সীটের দাম, মানে ২০০০ টাকা। দরদাম করে ১৭০০-১৮০০ টাকা করা সম্ভব। বাসের ভাড়া জন প্রতি ১৩৫-১৫০ টাকা। বাসের আগাম টিকিটের জন্য এই ওয়েবসাইটে ঢুকুনঃ https://astcbus.in/

আমরা গেছিলাম সেল্ফ ড্রাইভ গাড়ী নিয়ে। এরকম গাড়ী পাবেন গুয়াহাটি থেকে। জুমকার (zoomcar.com) তার মধ্যে অন্যতম। সেক্ষেত্রে আপনার গাড়ী চালানোর ইচ্ছা এবং দক্ষতা থাকা দরকার।



ট্রেনের সময়, টিকিট, পিএনআর, রানিং স্ট্যাটাস ইত্যাদির জন্য Ixigo app টা রাখুন। খুব কাজে দেবে। IRCTC তো আছেই।

গুয়াহাটিতে হোটেলের জন্য বলার কিছু নেই। প্রচুর হোটেল। আমার ব্যাক্তিগত পছন্দের কথা বললে রি-সান হোম স্টে তে থাকতে পারেন। দিসপুরে MLA Hostel এর ঠিক উল্টো দিকে। আমার ভালো লেগেছে।

কি কি দেখবেনঃ

শিলং এ বা মেঘালয়ে কি কি দেখবেন সেটার একটা তালিকা দেওয়া ভালো। কাজে লাগবে।

গুগল এ আপনি পেয়ে যাবেন দেখার জায়গাগুলো। তাও একবার বলে দিচ্ছি। অনেক সময় ভাড়ার গাড়ীর ড্রাইভার বলে দেয় যে, ওখানে কিছু নেই, গিয়ে কি করবেন ইত্যাদি।

১. এলিফ্যান্ট ফলস খারাপ লাগবে না। দেখবেন অবশ্যই। তবে চেরাপুঞ্জির বাঘা বাঘা ফলস দেখার আগে দেখে নেবেন।

এলিফ্যান্ট ফলস



২. শিলংয়ে দেখবেন উমিয়াম লেক, গুয়াহাটি থেকে শিলং ঢোকার রাস্তায় পড়বে। এন্ট্রি ফি জন প্রতি ৫০ টাকা। বোটিং এর আয়োজন আছে। ৬ সীটের বোট, ৪ সীটের স্পিড বোট আর ওয়াটার স্কুটার আছে। ভেতরে ক্যাফেটেরিয়া আছে, বাচ্চাদের পার্ক আছে। রিসর্টও আছে। ভালো লাগবে।

উমিয়াম লেক



৩. শিলং ভিউ পয়েন্টটা দেখবেন। ভালো লাগবে যদি আবহাওয়া পরিস্কার থাকে।

৪. আর দেখতে পারেন বোটানিক্যাল গার্ডেন, এনটোমোলজি মিউজিয়াম, বিডন ফলস, গল্ফ কোর্স ইত্যাদি, সময় কাটানোর জন্য।

৫. কেনাকাটার জন্য অবশ্যই পুলিশ বাজার যাবেন। জমে যাবে।

৬. আর যাবেন লাইটলুম ক্যানিয়ন রিজ। ভুলবেন না একেবারেই। শিলং থেকে ২৫ কিমি উত্তরে স্মিট গ্রাম পেরিয়ে। দেখার মতো জায়গা। খাসিয়া ভাষায় লাইটলুম মানে হলো সব পাহাড়ের শেষ, বা পৃথিবীর শেষ।

লাইটলুম



চেরাপুঞ্জিতে চলে আসুন লাইটলুম দেখে। দেখার জায়গার শেষ নেই এখানে।

চেরাপুঞ্জিতে একটা জলপ্রপাত, একটা গুহা আর একটা লিভিং রুট ব্রিজ তো দেখতেই হবে। তাই একটু বলে দি, কি কি দেখা সম্ভব।

১. মওসমাই কেভ বা গুহা দেখুন। অন্ধকার গুহার মধ্যে প্রবেশ করলে গা ছমছম করবে। মাঝে সাঝে খুব কসরত করে গলে যেতে হবে। খুব ভয় লাগবে না, কারণ ভেতরে আলো আছে ছোটো ছোটো। স্ট্যালাক্টাইট আর স্ট্যালাকমাইটের গুহা। বেশ ভালো লাগবে।

 

২. জলপ্রপাতের লিস্ট বলি। নামগুলো মনে রাখলে দেখতে সুবিধা হবে। ওয়াকাবা ফলস, ডায়ান্থলেন ফলস, নোহকালিকাই ফলস, রেইনবো ফলস পাবেন কাছাকাছি। আরও আছে, একটু দূরে, অন্যদিকে। যেমন ডাউকি যদি যান, তাহলে ফেরার সময় ক্রাংগ শুরি আছে দেখার মতো। নোহকালিকাই অবশ্যই দেখবেন, আর সকাল সকাল দেখবেন। দুপুরের পরে মেঘে ঢেকে যেতে পারে।

ডায়ন্থলেন



Krang Suri

৩. আরও একটি দেখার মতো গুহা আছে। চেরাপুঞ্জির তিন মাথার মোড় থেকে মাত্র ২ কিমি। আড়োয়া গুহা। বেশ কিছুটা হেঁটে যেতে হবে জঙ্গলের রাস্তায়। তারপর গুহাতে প্রবেশ। অন্তহীন এ গুহা। যদি সাহস ও সময় থাকে, চেষ্টা করতে পারেন অন্য দিকে বেরোনোর। ৪-৫ ঘন্টা লাগবে। গুহার ভেতরে আলোর ব্যবস্থা আছে। আছে একটি ছোট নদীও। আর আছে বিভিন্ন ফসিল। দারুণ লাগবে। দেখে নেবেন।

আরোয়া গুহা



 

আরোয়া গুহা

৪. লিভিং রুট ব্রিজ অনেক কটাই আছে। সিঙ্গল আছে, ডাবল আছে। ডাবল ডেকার রুট ব্রিজ দেখতে হলে অনেক চড়াই উৎরাই পার করতে হবে। কঠিন রাস্তা। আর সিঙ্গল রুট ব্রিজ, যেটা রেইনবো জলপ্রপাতের দিকে আছে, যাওয়ার আগে রাস্তা কেমন একটু জেনে নেবেন। মাঝে মাঝে রাস্তা খারাপ থাকে। সহজে দেখার জন্য মাওলিলং এ আছে একটি সিঙ্গল রুট ব্রিজ। ভালো লাগবে। এই মাওলিলং গ্রামটাও দেখবেন। এটি এশিয়ার সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রাম।

খাসি হোমস্টে



 

খাসি হোম

৫. সোহরার আশেপাশে আর যে সব দেখার জায়গা আছে, সেগুলো বলি। আছে সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত। একসাথে সাতখানা জলের ঝুরি দেখতে ভালোই লাগবে। ওই রাস্তাতেই পড়বে থাঙ্গকারাঙ্গ পার্ক। ইকো পার্ক। থাঙ্গকারাঙ্গ পার্ক পেরিয়ে আর কিছুটা গেলে দেখতে পাবেন বিশ্বএর বৃহত্তম শিবলিঙ্গ, কোহরামহা। বিশাল তার আয়তন।

কহারমা



সেভেন সিস্টার্স

৬. মেঘালয়ের অন্যতম আকর্ষন ডাউকি আর উমগট নদী দেখতে ভুলবেন না। বাংলাদেশ সীমানায় অবস্থিত। তবে একটা ভালো জায়গার কথা বলি। শোংপেডাং। খাসিদের নিজেদের ঘরে থাকুন, আর উমগট নদীর সৌন্দর্য্য উপভোগ করুন।

উমগট নদী



উমগট নদী

উমগট নদীতে ফিশিং



উমগট নদীতে কায়াকিং

 

উমগট নদীতে নৌকা



 

শংপেদাং

কোথায় খাবেন? সব হোটেলেই নিজেদের রেস্তোরাঁ আছে। দাম একটু বেশী। হাইরোডের ধারে লাইন হোটেল আর ধাবা গুলো ভালোই। একটু সস্তাই হবে। তবে শ্নোংপেডাং এ গেলে বিটল নাট এই খাবেন। অন্যটা সেরকম নয়।

আর কি, এর মাঝে মাঝে চলার পথেই দেখতে পাবেন কতো কিছু। কতো নাম না জানা জলপ্রপাত, পাখি, কতো অজানা ফুল, অচেনা দিকে চলে যাওয়া রাস্তা, আর অচেনা মানুষজন। চলার পথে ছোট্ট একটা দোকানে চা বিস্কুট সিগারেট খেতে খেতে দু চার কথা, আবার ম্যাপ ধরে অতি কষ্টে উচ্চারণ করা জায়গাগুলো মিলিয়ে নেওয়া, অথবা মাঝবয়সী কোনো মহিলাকে খুবলেই বলে সম্মোধোন করে সঠিক দিকে যাচ্ছি কিনা মিলিয়ে নেওয়া, এভাবেই মেঘালয় আস্তে আস্তে ধরা দেবে আপনার কাছে। আর চলতে চলতে দেরী হয়ে গেলে নতুন রাস্তায় নতুনভাবে দেখা সূর্যাস্তগুলো আপনার মন ভরিয়ে দেবে। আপনার মন ভরে থাকবে সারাদিনের অপূর্ব সব ভুলতে না পারা স্মৃতিতে।

যেভাবে প্ল্যানটা সাজাবেন:

প্রথম দিন : গুয়াহাটি থেকে গাড়ি নিয়ে শিলং।
দ্বিতীয় দিন : সকালে লাইটলুম দেখে চেরাপুঞ্জি। ওখানেই রাত্রিবাস।
তৃতীয় দিন : চেরাপুঞ্জিতেই থাকা ও ঘোরা
চতুর্থ দিন : চেরাপুঞ্জি থেকে শ্নোংপেডাং। ওখানেই রাত্রিবাস
পঞ্চম দিন : শিলংয়ে ফেরত আসা ও রাত্রিবাস শিলংয়ে।
ষষ্ঠ দিন : রাতে ফেরার ট্রেন ধরা

কোথায় থাকবেন?

White orchid, shillong 096124 95842

Cordial lodge, sohra 070853 12737

Shatshangi Homestay, Shnongpdeng:

9612089521
8119816147
7085451532

স্থানীয় বাজার



 

আসুন এবার লেখকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই:

Dr. Shiladitya Pujari, Professor, Department of Information Technology, Burdwan University





5 Comments

  1. থাকার জায়গা গুলো (night stay )একবার বলে দিলে ভালো হতো

    Reply
  2. Nice …and thank u…

    Reply
  3. Tailor made information,very effective for. Can u pls tell me d rate of hotel per night/double bed room. Also pls suggest some budget accommodations if possible.
    Thank u very much.

    Reply
  4. পুজোয় গিয়েছিলাম। মাওলিলং গ্রামের সম্পর্কে যতটা শুনেছিলাম তেমন পরিস্কার কিন্তু দেখলাম না। চারিদিকে অপরিচ্ছন্নতা। ফুলের গাছে গাছে মাকড়সার বাসা। রাস্তাঘাট ও নোংরা।

    Reply
  5. খুব সুন্দর বর্ণনা। এইরকম পোস্ট সবসময় স্বাগত।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement