WEEKEND TRAVEL GUIDE ON MAYAPUR

WEEKEND TRAVEL GUIDE ON MAYAPUR
Reading Time: 7 minutes

Weekend Travel guide on Mayapur : মায়াপুরের খোঁজখবর – চন্দ্রনাথ মারিকের কলমে

মায়াপুর নামটির সাথে আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত। নবদ্বীপে গঙ্গা এবং জলঙ্গি নদীর সংগমস্থলের তীরে অবস্থিত একটি ছোট্ট শহর হলো এই মায়াপুর। পশ্চিমবঙ্গের এই জায়গাটি কলকাতা থেকে মাত্র ১৩০ কিমি। ইস্কন এর মূল মন্দিরের জন্য বিখ্যাত এই পবিত্র মায়াপুরে প্রতি বছর কয়েক লাখ দর্শনার্থী আসেন। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই মায়াপুর ভ্রমণের খুঁটিনাটি।

Kirtan at Mayapur

Kirtan at Mayapur

কিভাবে যাবেন:

কলকাতা থেকে ট্রেনে যেতে গেলে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে কাটোয়া লোকাল ধরে নবদ্বীপের আগের স্টেশন বিষ্ণুপ্রিয়া হল্টে নেমে যাওয়াটাই সুবিধাজনক। সেখান থেকে ১০ টাকা ভাড়ায় টোটো বা সাইকেল ভ্যানে চেপে ৫ মিনিটে লঞ্চঘাট। তবে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্টে সব ট্রেন দাঁড়ায় না , সেক্ষেত্রে নবদ্বীপ স্টেশনে নেমে লঞ্চঘাট আসতে হবে।  এরপর  লঞ্চে ৩ টাকার টিকিটে ২৫-৩০ মিনিটে মায়াপুরের হুলোর ঘাটে নেমে পরতে হবে। সেখান থেকে আবার ১০ টাকায় টোটোয় বা পদব্রজে মায়াপুরের ইস্কন মন্দিরে।শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর লোকালে কৃষ্ণনগরে নেমেও যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে স্টেশনের বাইরে থেকে ২০ টাকা ভাড়ায় অটোয় চাপলে স্বরূপগঞ্জের ঘাটে পৌঁছাতে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট লাগবে। ঘাট থেকে ২ টাকার টিকিটে নৌকা চেপে ৫ মিনিটে মায়াপুরের হুলোর ঘাটে নেমে যেতে পারবেন।

Mayapur in weekend

Mayapur in weekend





কলকাতা থেকে প্রায় ১৩০ কিমি দূরত্বে মায়াপুরে গাড়ি নিয়ে গেলে রাণাঘাটে চূর্ণী নদীর বড় ব্রীজ পেরিয়ে বাঁ দিকে শান্তিপুরের রাস্তায় না গিয়ে ডানদিকের বাদকুল্লার রাস্তা ধরলে ৭-৮ কিমি রাস্তা কম হয়, কিন্তু যাওয়ার সময় ওয়ানওয়ে থাকায় শান্তিপুর হয়েই কৃষ্ণনগর পেরিয়ে বাহাদুরপুরের জংগলের পাশ দিয়ে NH34 ধরে চলে আসতে পারবেন মায়াপুরে। ফেরার পথে বাদকুল্লা হয়ে ফিরতে পারবেন। ২৪ ঘণ্টা গাড়ি পার্কিং এর জন্য ১০০ টাকা নেবে।পার্কিং করার নির্দিষ্ট জায়গা আছে। মূল মন্দিরের সামনে গাড়ি আসেনা। পায়ে হেটে আসতে হবে।

Garden at Mayapur





Samadhi Mandir at Mayapur

Samadhi Mandir at Mayapur

কলকাতা থেকে মায়াপুরে আসবার আর একটি সুবিধাজনক উপায় হোল কলকাতাস্থিত মায়াপুরের অফিস থেকে ছাড়া AC বাসে এখানে আসা। একই দিনে এসে সেই বাসেই ফেরা যায় অথবা একদিন থেকে পরদিনও ফেরা যায়। অনলাইনে বাস বুকিং করতে পারবেন এখানে:- https://www.busbooking.tourmayapur.com/planjourney;jsessionid=4E9FF5E1CA3B686A48E038CBBF3ABBBE

Bus booking portal

Bus booking portal

বাসটি কোথা থেকে ছাড়ে ও কোন রুটে মায়াপুর যায় সেই তথ্য ওপরের ছবিতে দেওয়া রইল। রুটের নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় বাসটায় আপনি চড়তে পারবেন। বুকিং এর সময় বোর্ডিং পয়েন্টটা শুধু চেঞ্জ করে দিতে হবে।

Bus timing for going to Mayapur

Bus timing for going to Mayapur





কি কি দেখবেন:

মায়াপুরের নির্মীয়মান সুবিশাল মন্দিরটি বর্তমানে এখানকার প্রধান আকর্ষণ। এর নির্মানকাজ ২০২২ সাল নাগাদ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। বর্তমানে বাইরে থেকে দেখা গেলেও ভেতরে প্রবেশ সম্ভব নয়। ইস্কন কমপ্লেক্সের প্রবেশের পরই বাম দিকে দেখতে পাবেন অষ্টপ্রহর নাম কীর্তনের খড়ের ছাউনি দেওয়া ভজনকুটির। চাইলে এখানে বসে অনেক দেশি,বিদেশি ভক্তদের কৃষ্ণ নামকীর্তন শুনতে পারবেন। এরপর ইস্কনের চন্দ্রোদয় মন্দির, শ্রী শ্রী প্রভুপাদের সমাধি মন্দির, গোশালা ইত্যাদি দেখতে পারেন।মন্দির দর্শনের ও বিভিন্ন আরতির সময় সঙ্গের ছবিতে দেওয়া রইল। এই সমস্ত জায়গাগুলি দেখার জন্য গদা ভবনের সামনে ব্যাটারি চালিত টোটো পাওয়া যায়। সবটা ঘুরে দেখাতে ১৫০ টাকা নেয়। পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখলেও সময় বেশি লাগে না।

Mayapur Chandrodaya

Mayapur Chandrodaya

Weekend at Mayapur Chandrodaya

Weekend at Mayapur Chandrodaya





থাকার ব্যবস্থা :

মায়াপুরে থাকবার জন্য সবচেয়ে ভাল জায়গা তাঁদের নিজস্ব গেস্টহাউসগুলি। চারটে গেস্টহাউস আছে যেগুলি অনলাইনে বুক করতে পারবেন এখানে:-

http://www.visitmayapur.com/index.php

Mayapur accomodation booking

Mayapur accomodation booking

গেস্টহাউসগুলির নাম শঙ্খভবন বা Conchভবন, বংশীভবন বা vamsi ভবন , ঈশোদ্যান ভবন ও গদাভবন। বিভিন্ন মানের ও দামের (৭০০-৪০০০ টাকা) ঘর আছে। এর মধ্যে মন্দিরের সবচেয়ে কাছে আছে শঙ্খভবন। এর বারান্দা থেকে নিচে তাকালেই মন্দির প্রাঙ্গণটি দেখা যায়। সন্ধ্যারতিও দেখা যায়।মন্দির থেকে ৫-৭ মিনিটের হাঁটাপথের দূরত্বে ঈশোদ্যান ভবন ও গদাভবন এবং বংশীভবন।এছাড়া নিউ নামহট্ট ভবন নামে (কার পার্কিং গেট দিয়ে ঢুকে ২ য় বিল্ডিং) একটা ভবন আছে, ওখানে ৪০০-৫০০ টাকায় ঘর পেয়ে যাবেন, এটাও নতুন ভবন। এর বুকিং গদা ভবন থেকে হবে না। পার্কিং গেট দিয়ে ঢুকতে প্রথম যে বিল্ডিং আছে (নামহট্ট ভবন),  সেখানে গ্রাউন্ড ফ্লোরে রিসেপশনে এই ভবনের বুকিং হয়। নামহট্ট ভবনের কন্টাক্ট নাম্বার 034-722-45305

Ishodayan Bhawan, Mayapur

Ishodyan Bhawan, Mayapur





Room in Ishodyan bhawan

Room in Ishodyan bhawan

গীতা ভবন নামে আরেকটি ভবনে থাকতে হলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটের মধ্যে 03472245370 নাম্বারে ফোন করে বুক করতে পারবেন ঘর খালি থাকলে। এছাড়াও স্বল্প ব্যায়ে চৈতন্যভবনে ও নিত্যানন্দ কুটিরে থাকতে পারেন। মায়াপুরের মূল চারটি ভবন, চৈতন্যভবন ও নিত্যানন্দ কুটির গদাভবনের ফার্স্ট  ফ্লোরের রিসেপশন থেকেও খালি থাকার ভিত্তিতে গিয়ে অথবা ফোনে 03472245620 নাম্বারে বুক করতে পারবেন। ইস্কন কমপ্লেক্সের বাইরে কিছু হোটেল থাকলেও সেগুলি পরিবার নিয়ে থাকার অযোগ্য। একান্তই বাইরে থাকতে হলে নবদ্বীপে থাকা যেতে পারে।

From Ishodyan Bhawan, Mayapur

From Ishodyan Bhawan, Mayapur





খাওয়ার ব্যবস্থা:

খাওয়ার জন্য গদাভবনের নিচতলায় সুবিশাল ক্যান্টিন আছে। সেখানে মাটিতে বসে খাওয়ার ব্যাবস্থা ৫০ টাকার কুপনে। বয়স্ক মানুষজনদের জন্য চেয়ার-টেবিলে বসে খাওয়ার ব্যবস্থাও আছে। ৭০ টাকার কুপনে পাশের অন্য একটি ক্যাফেটেরিয়ায় সবার জন্য চেয়ার-টেবিলে বসে খাওয়ার ব্যাবস্থা। সেক্ষেত্রে খাওয়ার পদও ভিন্ন।

Gada Bhawan, Fooding option in Mayapur

Gada Bhawan, Fooding option in Mayapur

Dining hall of Gada Bhawan

Dining hall of Gada Bhawan





গীতা ভবন ও নামহট্ট ভবনেও স্বল্পমূল্যের কুপনের বিনিময়ে ভোগপ্রসাদ পাওয়া যায়। মন্দিরের মূল গেটে প্রবেশ করেই ডানদিকে দু-তিনটে কাউন্টারে কুপনগুলি কিনতে পারা যায়। এছাড়া গদাভবনের একতলায় রিসেপশন কাউন্টারে কুপন পাওয়া যায়। মূল মন্দির ছাড়িয়ে একটু এগোলেই গোবিন্দাস রেস্তোরেন্ট দেখতে পাবেন। এখানে নির্দিষ্ট সময়ে সকালের জলখাবার থেকে রাতের নৈশাহার সবই পাওয়া যায়। দাম একটু বেশি হলেও খাবারের মান খুবই ভাল। নিজের পছন্দমত ও পরিমাণমত অর্ডার করা যায়। এর বাইরে কাউন্টারে মায়াপুরের নিজস্ব বেকারির বিভিন্ন পদ কিনতে পারা যায়। ইস্কন কমপ্লেক্সের বাইরেও অসংখ্য খাওয়ার দোকানে সবরকমের খাওয়ার পাবেন।

Dinner Prasad at Rs. 100

Prasad in dinner at Rs. 100





Lunch Coupon at Gada Bhawan

Lunch Coupon at Gada Bhawan

কয়েকটি তথ্য:

এছাড়াও আরও কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয় জানা থাকলে সুবিধা হবে।

১. বয়স্ক মানুষজনের হুইলচেয়ারের প্রয়োজন হলে মূল মন্দিরের বামপাশে পদ্মভবনের নিচতলার অফিসে যোগাযোগ করলে ফেরতযোগ্য ৫০০ টাকার বিনিময়ে তা পাওয়া যাবে। ফটো-আইডেন্টিটি কার্ডের কপি জমা রাখতে হবে। হুইলচেয়ারের সংখ্যা সীমিত হওয়ায়, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে তা দেওয়া হয়। শঙ্খভবনে থাকলে সেই ভবনের নিজস্ব হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।

Toto service at ISKON compound

Toto service at ISKON compound

২. মন্দিরে আরতি দেখতে আসার আগে মোবাইল ফোন, চামড়ার মানি ব্যাগ, বেল্ট ইত্যাদি ঘরে রেখে আসলেই ভাল। নাহলে পাশের কাউন্টারে ১০ টাকার বিনিময়ে জমা রাখতে হবে। বিভিন্ন আরতির সময়গুলি সঙ্গের ছবিতে দেওয়া রইল। প্রয়োজনে দেখতে পারেন।

Aarti Time, Mayapur

Aarti Time, Mayapur





৩. অনলাইনে গেস্টহাউস বুক করলে আপনাকে গদাভবনের একতলায় রিসেপশন কাউন্টার থেকে বুকিং কনফার্মেশন দেখিয়ে pilgrim registration form fill up করে নির্দিষ্ট ভবনের ঘরের বুকিং স্লিপ নিতে হবে। এবার সেই নির্দিষ্ট ভবনে গিয়ে তাদের রিসেপশন কাউন্টার থেকে ঘরের চাবি পাবেন। প্রত্যেকের ফটো আইডি কার্ড লাগবে। চেক ইন ও চেক আউট টাইম সকাল ৯টা। চেক ইন করার সময়েই লাঞ্চের কুপন কেটে নিলে সুবিধা হবে। প্রতিটি ভবনে লিফট আছে।

8. লাঞ্চের সময় শুধু ভাত ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক পদ এবং ডিনারে ভাত ও রুটি দুইই থাকে। খাওয়াদাওয়া সম্পূর্ণ নিরামিষ।

৫. বয়স্কদের লাইনে দাঁড়িয়ে গিয়ে খাওয়ার অসুবিধে থাকলে কুপন দেখিয়ে ভবনে খাওয়ার নিয়ে আসা যায়।শালপাতার থালায় খাওয়ার দিয়ে অপর একটি শালপাতা দিয়ে ঢেকে দেয়। সাথে বয়স্ক কেউ গেলে একটি থালা সঙ্গে রাখলে সুবিধা হবে।

Sunrise from ISKCON

Sunrise from ISKCON

৬.  ইস্কন কমপ্লেক্সের ভেতরে কোন জায়গায় চা-কফি পাওয়া যায়না। তার বদলে আয়ুর্বেদিক চা-কফি বলে দুটি বিশেষ দ্রব্য পাওয়া যায়। আমার অত্যন্ত বাজে ও বিদঘুটে লেগেছে। চা-কফি খেতে গেলে বাইরে গিয়ে খেয়ে আসতে হবে।

৭.  শনিবার বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণে খুব সুন্দর একটা শোভাযাত্রা বেরোয়, নতুন নির্মিয়মান মন্দিরের চারপাশের রাস্তা দিয়ে পরিক্রমা করে।সেই শোভাযাত্রায় দুটি হাতি, বিশালাকার বলদে টানা গাড়ি ইত্যাদি থাকে।নাচ-গান হয়।

Laxmipriya and Bishnupriya

Laxmipriya and Bishnupriya





৮. মায়াপুর থেকে ফেরার পথে কৃষ্ণনগর হয়ে ফিরলে অধরের সরভাজা আর সরপুরিয়া আর নবদ্বীপ হয়ে ফিরলে লক্ষ্মীনারায়ণ মিষ্টান্নভান্ডারের বা বিমলার চাকু দই আর নলেন গুড়ের রসগোল্লা নিতে ভুলবেন না যেন।

হরেকৃষ্ণ !!!

Gour Nitai

Gour Nitai


This content is written by Mr. Chandranath Marick.

The beautiful pictures appearing in this post are clicked by Mr. Sandip Pal.





2 Comments

  1. Very informative blog.thank you.

    Reply
    • Very helpful information. Thank you. Hare Krishna

      Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement