JHARGRAM TRAVEL GUIDE – A WEEKEND DESTINATION

JHARGRAM TRAVEL GUIDE – A WEEKEND DESTINATION

A WEEKEND IN JHARGRAM – নিস্তব্ধতার ডাকে – ঈপ্সিতা বসাকের কলমে

 

একটা বিশালাকার ব্রীজের মত আমার শহর,
ব্যস্ততার ট্রাফিক জ্যামে ভগ্নপ্রায় অথচ কি নির্বিকার..!
ব্রিজের ওপারে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল….,
দূষণ ধোঁয়ায় শহরবাসীর যোগাযোগকারী ব্রীজ মেরামতের হাজার চেষ্টাও বিফল!
এমন সময় সাহায্য খুঁজতে ছুটে যায় আকুল মন,
বিশ্বাসঘাতক পর্বতমালার দুর্গম চূড়া ডিঙিয়ে পৌঁছায় তখন…
একটা হাত! একটা হাত এগিয়ে আসে, এসেই খুন করতে চায় সবাইকে….!
বলে হাইজ্যাক করে নিয়ে যাবে সুন্দরী তিলোত্তমাকে…
নিয়ে যায় এক পাথরে ঘেরা শান্ত স্থির নীল নদীর তীরে….
আকাশের নীল চোখের ছায়া পরে যেই জলে…নীল চোখেই হারিয়ে যাওয়া যায় যেখানে…
যেখানে রাজা রাণীর গল্পেরা জীবিত, নীরবতা কথা বলে কানে কানে….
সাথে করে হেঁটে চলে লাল মাটির পথ, সবুজ শাল পাতার ছোঁয়ায়….
যা পিচের মতো কালো হয়ে যায়নি! পাহাড়, শান্ত  ঝর্ণারা….
যেখানে বাসা বেঁধে আছে নিজেদের মতো, কেউ বিরক্ত করেনা-
যাদের, সরলতা আর মাটির গন্ধ যেখানে একসাথে, লুটোপুটি খায়, খড়ের আঁটিতে শুয়ে খেলা করে হাতে হাতে…!
এমন একটা হাত যদি সত্যিই হাইজ্যাক করে তোমার ধুলো মাখা শহরকে….
খুব কি অপরাধ হবে? নাকি…তিলোত্তমা তুমিও মত দেবে দুদিনের এই হাইজ্যাকে??

Kanak Durga Temple - Jhargram weekend

Kanak Durga Temple





কি? ইচ্ছে হচ্ছে তো এইভাবে হাইজ্যাক হতে? হবারই কথা আমারও হয়েছিল।ব্যস্ততার থেকে একরাত আর দুটো দিনের ছুটি নিয়ে স্বেচ্ছায় হাইজ্যাক হয়েছিলাম…. চলে গিয়ে ছিলাম নীল নদীর ধারে, রাজা রাণীর গল্পেরা সত্যি যেখানে, সেই যেখানে অরণ্যে পাতার খসখসানী সাথে করে গভীরে নিয়ে যায় আদিম বীজ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে বলে, যেখানে নিস্তব্ধতা আপন মনে গুনগুনিয়ে গান গায়। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন…. ঝাড়গ্রাম।

Dulung River - A weekend in jhargram

Dulung River

Kanak Durga Temple - Jhargram

Kanak Durga Temple





ঝাড়গ্রাম পশ্চিমবঙ্গের ২২তম জেলা,যা ২০১৭ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই জেলার উত্তরে বেলপাহাড়ি আর দক্ষিণ দিয়ে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। প্রকৃতিপ্রেমী বিশেষ করে যারা অরণ্যের রোমাঞ্চে আগ্রহী আর যারা অকৃত্রিম সৌন্দর্যরস উপভোগ করতে চান, তাদের জন্যে আদর্শ সাপ্তাহান্তিক গন্তব্য হতেই পারে এই ঝাড়গ্রাম। শাল, মহুলের জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া, পাখিদের কলতানে সুর মেলানো, পাহাড় চূড়া ডিঙানো আর অজগর সাপের মত রাস্তা গুলোর বুক চিরে এগিয়ে চলার রোমাঞ্চ এককথায় অসাধারণ। শহুরে মানুষদের কাছে এ যেন এক ভিন্ন গ্রহ, আবার উল্টোটাও ঠিক ততটাই সত্যি।ওখানকার বাসিন্দাদের কাছে এই শহরের মানুষগুলো প্রায় ভিন্ন গ্রহের প্রাণী, অন্ততঃ তাদের অবাক দৃষ্টি, পাশ দিয়ে চারচাকায় ছুট দিলে ওখানকার অতি সরলমুখের শিশুদের সামান্য হাত নাড়ানোর যে উৎফুল্লতা তা সেটাই বুঝিয়ে দেয়। মন ভারাক্রান্ত হয়।

Towards Jhargram

Towards Jhargram





হাইজ্যাকারের দয়ায় বেলপাহাড়ি (যেখানে ট্রেকিং চলে), চিল্কিগড় রাজবাড়ী, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী- (ভিতরে প্রবেশ নিষেধ, তবে বুকিং করলে ভেতরে থাকা যায়, আমারও ইচ্ছে আছে পরেরবার রাজবাড়ীতে থাকবো,বেশ একটা রাজকীয় ভাব আসবে নিজের মধ্যে, ‘মেজাজ টাই তো আসল রাজা আমি রাজা নই….’ ঠিক সেই রকম আরকি!),ঘাগড়া ফলস(মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে যেখানে বসে থাকা যায় অনেকক্ষণ… যেখানে কেউ বিরক্ত করার নেই…. সময় কখন যে ঝর্ণার জলের সাথে বয়ে যাবে বোঝাই যাবে না), খান্দারানী লেক(যেখানে কেউ হয়তো কানে কানে বলেছিল…’ তুমি এখানেই থেকে যাও’❤️) কনক দুর্গা মন্দির( প্রাচীন দুর্গা মন্দির আর তার চার পাশে বিভিন্ন ঔষধি গাছের গভীর জঙ্গল, কাছেই ডুলং নদী বয়ে গেছে, আর আছে হনুমান ও জঙ্গলে বিভিন্ন পশু পাখি ও প্রজাপতির  অবাধ বিচরণ), মিনি জু ( মিনি হলেও আমাদের আলিপুর জু এর তুলনায় বেশ ভালো) আর ভেষজ উদ্যান( নানা রকম ঔষধি গাছ পালার চাষ আর ফুলের সমারোহ, আছে মৌচাক, আরো অনেক কিছু  যা কিনা স্কুল বা কলেজ পড়ুয়াদের জন্যে উপযোগী)। আরও হয়তো দুএকটা দর্শনীয় স্থান ছিল সময়ের অভাবে দেখা হয়ে ওঠেনি।

Chilkigarh Palace

Chilkigarh Palace

ও হ্যাঁ আর একটা কথা উল্লেখ না করলেই নয় তা হলো ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের আতিথেয়তা। ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের অন্তর্ভুক্ত চেতনা ইকো  ভিলেজ রিসোর্টে ছিলাম আমরা পাঁচ বন্ধু, আর ওনাদের দেওয়া গাড়িতেই  ঘুরে দেখেছি চারপাশটা। বারবার ফোন করে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের পক্ষ থেকে সুমিত দত্ত বাবু। সব রকম সুবিধা অসুবিধার খেয়াল রেখেছেন।আমাদের ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করেছেন যথা সম্ভব। এই যেমন ধরুন ফেরার ট্রেন( ইস্পাত এক্সপ্রেস) প্রায় তিন ঘন্টা দেরীতে আসছে শুনেই আমাদের ঝাড়গ্রাম জেলার হস্তশিল্প মেলার খোঁজ দিয়েছেন যাতে ওই সময়টুকু আমরা বিরক্ত না হই। ধন্যবাদ ওনাকে, ধন্যবাদ ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমকে। ওনাদের কথা মতোই হস্তশিল্প মেলায় কিছু সময় কাটাই আর বলাই বাহুল্য খুবই ভালো লেগেছে। ছৌ নাচ সাঁওতালি নৃত্য, বাউল গান দিয়ে সজ্জিত ছিল মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যা অত্যন্ত উপভোগ্য।আর ছিল নানা জেলার নানা ধরণের হাতের কাজের পশরা।

In Handicraft Fair, Jhargram

In Handicraft Fair, Jhargram





Entrance of Chilkigarh Palace - jhargram

Entrance of Chilkigarh Palace

Khandarni Lake - A weekend in Jhargram

Khandarni Lake

জঙ্গলে প্রবেশের রোমাঞ্চ যতটা আনন্দের ফিরে আসাটা হয়তো তার চেয়ে অনেক বেশি কষ্টের। তাইতো এইভাবে স্বেচ্ছায় হাইজ্যাক হই বারবার! আপনারাও কি তাই চান? তবে দেখে নিন কিছু দর্শনীয় স্থানের ছবি, আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।আমি তবে যাই, হাইজ্যাকারের দৌলতে কিছু ফটোসেশন চলেছিল আমাদের সেগুলো  বিতরণ করা হচ্ছে এখন…. সংগ্রহ করি গিয়ে। যদিও টাটকা তবুও একটু স্মৃতি রোমন্থন করি গিয়ে যাই….! আবার কথা হবে অন্য কোনোদিন….আজ আসি…।

Entrance of Jhargram Palace

Entrance of Jhargram Palace





In Kanak Durga Temple - Jhargram

In Kanak Durga Temple

ACCOMMODATION IN JHARGRAM :

Chetona Eco Village Resort & Tourism
Nakat, Paschim Medinipur, Jhargram, West Bengal 721514
Phone : +91 80017 87820 | Email : info@chetona.in

Flower in Jhargram

Flower in Jhargram





FOOD OPTION :

সব্জী ভাত ১০০
ডিম ভাত ১৪০
মাছ ভাত ১৭০
মাংস ভাত ২০০

Lunch + evening snakes + dinner + breakfast
Package 400

Lunch Buffet

Lunch Buffet

কিভাবে যাবেন

ঝাড়গ্রাম দূরত্ব কলকাতা থেকে প্রায় ১৫৭ কিমি। হাওড়া লাইনের খড়গপুর টাটা নগর সেকশনের মধ্যে একটি স্টেশন ঝাড়গ্রাম। হাওড়া থেকে ট্রেনে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘন্টা। আমাদের যাওয়া আসা দুটোই ইস্পাত এক্সপ্রেসে। আর আমাদের মতো ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের ঠিক করে দেওয়া গাড়িতেই ঘুরেতে পারেন চারপাশটা।
এছাড়া নিজেদের গাড়ি নিয়েও খুব সহজে পৌঁছে যেতে পারেন ঝাড়গ্রাম। রাস্তা খুব ভালো।


This content is written by Ipsita Basak. The beautiful pictures appearing in this blog is also captured by the writer.





1 Comment

  1. Simply excellent at par

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement