Holong Tourist Lodge Travel Guide : Jaldapara, Dooars

Holong Tourist Lodge Travel Guide : Jaldapara, Dooars
Reading Time: 10 minutes

Holong Tourist Lodge Travel Guide : Jaldapara, Dooars

হলঙ বাংলোতে নিশিযাপন : –




পাহাড় সমুদ্র মিলিয়ে বেশ কিছু জায়গা বেরিয়ে আসা হলেও উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের জঙ্গলে আগে কখনো ঘোরা হয়ে উঠেনি । কোনো এককালে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শ্যালককে বলেছিলাম সেকথা । ও আগে ডুয়ার্সের জঙ্গল ঘুরে গেছে । আমি হলঙে থাকার কথা তুলতে সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিলো কথাটা । এরপর যতবারই তার সঙ্গে দেখা হয় ততবারি এক কথা “কিগো তোমার হলঙের কি হলো ? ” । মাথায় মধ্যে তাই সবসময় হলঙ ঘুরছিল । আগে শুনেছিলাম যে হলঙ ছয় মাস আগে বুকিং করতে হয় । কিন্তু পুজোর কিছুদিন আগে wbtdcl.com e দেখি ঠিক একমাস আগে বুকিং করা যাচ্ছে ।আর দেরি না করে দুইরাত্রির জন্য হলঙ লজে একটা রুম বুকিং করে ফেললাম । আমি ,গিন্নি,শ্যালক । করে তো ফেললাম কিন্তু যাবো কি করে ।



লক্ষী পুজোর পরপরই বুকিং । সব ট্রেন ভর্তি প্রায় । শেষে কলকাতা হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে নিউ জলপাইগুড়ি গিয়ে সেখান থেকে শিলিগুড়িতে পৌঁছে হোটেলে রাত্রিবাস । পরের দিন ভোর 6:10 র শিলিগুড়ি – ধুবরি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ধরে হাসিমারার উদ্দেশে রওনা হলাম । ট্রেনে বামদিকে জানলার ধারে বসে প্রকৃতির শোভা দেখতে দেখতে চললাম । নিউ মাল স্টেশন ঢোকার আগে পাহাড়ের খাঁজে কাঞ্চনজঙ্ঘা কিছুক্ষনের জন্য দেখা দিয়ে গেল । হাসিমারা পৌঁছে একটা গাড়ি 500 টাকাতে বুক করে হলঙের উদ্যেশে বেরিয়ে পড়লাম । জলদাপাড়া অভয়ারণ্য ঢোকার গেটে বুকিং স্লিপ দেখিয়ে ছাড়পত্র পেলাম ভিতরে ঢোকার । গেটে ফরেস্ট গার্ড বলে দিলেন যে আজকে দুপুরের লাঞ্চ বাইরে থেকে করতে হবে । তাই গেটের বাইরে একটা হোটেল থেকে তিনজনের চিকেন মিল প্যাক করে ভিতরে ঢুকলাম । যখন হলঙে পৌছলাম তখন 10:30 টা বাজে । ম্যানেজার সাহেব বললেন যে ওদের সব থেকে ভালো রুমটি খালি আছে – রুম নং 5 (kingfisher) । সেটাই উনি আমাদেরকে দিলেন। রুমের জানলা খুললেই সামনে নালা ও ঘাট – তারপরেই সল্ট পিট ।কয়েকটা ময়ূর ঘুরে বেড়াচ্ছে সেখানে ।

ময়ূরের দল



আমাদের আর পায় কে – শ্যালক বাবাজি ক্যামেরা নিয়ে তখন বেরিয়ে পড়েছে । আমি নিচে গিয়ে পরের দিনের জন্য হাতি সাফারি বুক করে এলাম । রুমে গিয়ে ফ্রেশ হতে যেই না বাথরুমে ঢুকেছি , গিন্নির চিৎকার – তাড়াতাড়ি বের হও । বেরিয়ে দেখি দূর থেকে একটা একটা করে দুটো বাইসন ধীরে ধীরে সল্ট পিটের দিকে এগিয়ে আসছে । কাছে এসে নুন চাটতে শুরু করলো । আমরা ফ্রেশ হয়ে রুমেই জানালার পাশে বসে বাইসন দেখতে দেখতে লাঞ্চ সারলাম । তারপর একঘুম ।

বাইসন (ভারতীয় গাউর)



বিকেলে ঘাটে এসে বসে জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম । এর মধ্যে আমার শ্যালক একগুচ্ছ পাখি , একটা ঈগল ক্যামেরা বন্দি করে ফেলেছে ।বিকেলের দিকে লজের দুজন কর্মী বালতি করে নুন আর গুড় নিয়ে খাল পেরিয়ে চললো সল্ট পিটের দিকে । নুন গুড়ের সাথে মাটি মিশিয়ে পিট দুটো ভর্তি করে দিলো তারা । প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চারিদিকের গাছ থেকে একের পর এক ময়ূর উড়ে এসে সেখানে বসতে লাগলো । একগাদা বাঁদর এসে জুটল নুন খাবার জন্য । আগের বাইসনদুটো দেখলাম আবার এসে জুটেছে । আরো কয়েকটা বাইসন দেখলাম জঙ্গলের ভিতর থেকে বেড়িয়ে এলো ।বাঁদরগুলো বাইসনের দিকে অঙ্গভঙ্গি করে ভয় ধরানোর চেষ্টা করছে । একটা বাইসন নালার খুব কাছাকাছি চলে এলো জল খাবে বলে – মনের আনন্দে কয়েকটা সেল্ফি নিলাম। একঝাঁক পায়রা ও অন্যান্য পাখিরা উড়ে এসেছে । সন্ধ্যে পর্যন্ত বসে থাকার পর লজের কর্মীরা এসে স্ন্যাকস এর আয়োজন করে দিয়ে গেলেন লনে – চা,কেক,বিস্কুট, চানাচুর সহযোগে ।

Eagle at holong dooars

ঈগল



Tourplannerblog

গাউর

নুন নিয়ে বনকর্মী



বাঁদর

ময়ূর



পায়রা ও টিয়ার ঝাঁক

রুমে আসার আগে আর একবার গেলাম ঘাটের কাছে – গিয়ে দেখি একটা সম্বর হরিণ এসে উপস্থিত নুন খেতে – নালার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে । আমাদের এগিয়ে আসতে দেখে সল্ট পিটের দিকে হাঁটা দিলো । এরপর লজের কর্মীরা এসে আমাদের রুমে যেতে বললেন – সকাল পর্যন্ত বাইরে বেরোনো বারণ । আমাদের একটা সার্চ লাইট ধরিয়ে দিয়ে বললেন রুম থেকে বা ড্রইং রুম থেকে সার্চ লাইট ফেলে পশু দেখা যাবে রাত্রি বেলা ।



রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে একটু শুয়েছি – হঠাৎ রুমে নক । ম্যানেজার সাহেব নিজে এসে সবাইকে বলে গেলেন যে নীচের লনে গন্ডার এসেছে খাল পেরিয়ে । সবাই হুড়মুড় করে দৌড়ে নীচে গেলাম ডাইনিং রুমের দিকে – কিন্তু গন্ডার এসেছে সামনের লনে । আবার উপরে উঠে রুমের জানলা দিয়ে সার্চ লাইট ফেললাম গন্ডার বাবাজির উপর । কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে উনি নিজের ইচ্ছে মতো ঘাস খেয়ে চলেছেন । এবার লাইট ফেললাম সল্ট পিটের দিকে – দেখি ততক্ষণে আরো তিনটে গন্ডার এসে উপস্থিত সেখানে । এরপর রাত্রি পর্যন্ত চললো মাঝে মাঝে লাইট ফেলা আর সঙ্গে ফটোগ্রাফি । সবাই ওখানেই নুন খাচ্ছে আর দাঁড়িয়ে আছে । জানালার নীচে গন্ডার বাবাজি তখন একদম কাছাকাছি চলে এসেছে । দূরে বাইসনদের চোখ সার্চ লাইটের আলোয় জ্বলে উঠছে । চারিদিক সুনসান , মাঝে মাঝে ময়ূরের ডাক , নাম না জানা পাখির ডাক , সঙ্গে চল্লো আমাদের আলো ফেলে পশু দেখা ।

সম্বর হরিণ

জানালার বাইরেই গন্ডারের উপস্থিতি রাতের বেলায়



রাতের হলং

হলঙের সম্পূর্ণ গাইড ভিডিও আকারে:

ডিনারের ডাক পড়েছে । ডাইনিং রুমটি সুন্দর ভাবে সাজানো । মেনুতে ছিল গরম ভাত , স্যালাড , মোটা মুগের ডাল , বেগুন ভাজা ,আলু ফুলকপির তরকারি , চিকেন কারি ও মিষ্টি । পেট ভরে খেয়ে ঘুম চলে এলো যেন চোখে । কিন্তু রুমে এসে সামনে লাইট ফেলে দেখি আরো দুটো গন্ডার এসে জুটেছে সল্ট পিট এ। আর লনে অবস্থিত বাবাজীবন যথারীতি শব্দ করতে করতে ঘাস চিবিয়ে চলেছে । অনেক রাত্রি পর্যন্ত চললো লাইট ফেলে পশু দেখা । মাঝে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লাম ।

রাতের বেলায় গণ্ডার দম্পতি

হরিণ



গণ্ডার

সার্চ লাইটে দেখা গণ্ডার ও বাইসন



ভোররাত্রে উঠে দেখি সব পশুরা চলে গেছে – শুধু ময়ূর গুলো গাছে বসে রয়েছে । তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে পড়লাম হাতি সাফারির জন্য । আজকে আমরা সেকেন্ড লটে যাবো । পাঁচখানা কুনকি হাতি ও তাদের তিনটে বাচ্চা হাতি সহযোগে শোভাযাত্রা বনের গভীরে হারিয়ে গেল । দলটি ফিরলে জানতে পারলাম তারা একটি গন্ডারের কিছুটা অংশ দেখতে পেয়েছে জঙ্গলের ভিতরে । পরের লটে দুটো হাতি সঙ্গে একটা বাচ্চা হাতি নিয়ে আমাদের সাফারি শুরু হলো । কিছুটা যাওয়ার পর কয়েকটা ময়ূর আমাদের দেখে দৌড়ে পালাল । কয়েকটা নালা পেরিয়ে একটি উঁচু ঘাসবন এলো । সেই বনে ঢোকার একটু পরেই দেখি সামনে দাঁড়িয়ে একটা গন্ডার । সঙ্গে সঙ্গে সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো । এত কাছ থেকে গন্ডার দেখার সৌভাগ্য আগে হয় নি । গন্ডারটি আমাদের দেখে খানিকটা বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে ঘন ঘাসবনের দিকে হাঁটা দিলো । গণ্ডারের সঙ্গে সেল্ফি নিলাম কিন্তু হাতির উপর থেকে ঠিকঠাক ফোকাসে এলো না । পথে আরো কয়েকটা ময়ূর চোখে পড়লো ।

ভোরের হলং

ভোরের আলোয় হরিণ



বুনো শুয়োর

হাতি সাফারি



গভীর জঙ্গলে হাতির পিঠে

ঘাসবনে গণ্ডার



ফিরে এসে ব্রেকফাস্ট সারলাম ব্রেড, বাটার ,জ্যাম, কলা,ওমলেট ,চা সহযোগে । এরপর শুরু হলো বাংলোতে ট্যুরিস্ট আসার পালা – যারা জীপ সাফারি করতে বেরোন তারা একবার হলঙ হয়ে ঘুরে যান । কিন্তু তখন কয়েকটা ময়ূর ছাড়া আর কোনো পশুপাখি নেই । হলঙে রাত্রিবেলাতেই আসল মজা – সকালে ততোটা নেই। কিছুটা বেলা বাড়তে একটা বাইসন দম্পতি একটা বাচ্চা বাইসন নিয়ে নুন খেতে চলে এসেছে – তা দেখতে ট্যুরিস্টদের মধ্যে উৎসাহ বেরে গেলো । এরপর ডাক পড়লো লাঞ্চের জন্য । ভাত ,স্যালাড, মিক্সড সবজি , আলু ভাজা , মুগের ডাল , কাতলা কালিয়া , মিষ্টি সহযোগে ভুরিভোজ হলো । একটু দুপুরের দিকে জানালা দিয়ে দেখি একটি ধনেশ পাখি উড়ে একটি গাছের ডালে গিয়ে বসল । যথারীতি সে ধরা পড়লো আমার শ্যালকের ক্যামেরাতে । আগের বাইসনরা সব তখন চলে গিয়েছে । কিছুক্ষণ পর একসঙ্গে চার খানা বাইসন এলো । লজের দুজন কর্মী নুন ঢালতে চলে এসেছেন তখন । কিন্তু বাইসনদের হেলবার নাম নেই । শেষে মাটি খোদার বেলচা দিয়ে ডং ডং শব্দ করে তাদের তাড়িয়ে নুন ঢেলে এলেন তারা । নুন ঢালতেই দেখি একই দৃশ্য – ময়ূরের গাছের ডাল থেকে উড়ে নেমে আসা , একদল বান্দরের মস্তানি , অনেক পায়রা ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়ানো ।



এদিকে দুপুর তিনটের দিকে হলঙের বাইরের নদীতে কুনকি হাতিদের স্নান করানো হচ্ছিল । সন্ধ্যে নামলো – আমরাও স্ন্যাকস খেয়ে অন্ধকারের অপেক্ষায় রইলাম । সন্ধ্যে নামার আগে দেখি যে বাইসনগুলোকে তাড়ানো হয়েছিল তারা এক এক করে ফিরে আসছে । সকালের বাইসন ফ্যামিলিটাকেও দেখলাম বাচ্চা নিয়ে ফিরে আসতে । একটা গন্ডার একটা সম্বর এসে উপস্থিত । আজ কিন্তু গন্ডার আর লন পর্যন্ত এলো না – নালার কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করে নুন খেতে চলে গেল । একটা শুকর দেখলাম নুন খেতে এসেছে। রাত্রি একটু বাড়তে একটা নতুন হরিণ বেরিয়ে এলো জঙ্গল থেকে । কিছুক্ষণ পরে হরিণটি জল খেতে নালা পর্যন্ত চলে এলো । গায়ে লাইট মেরে দেখি হরিণের গলায় বড়ো একটা ক্ষত । পাশের ড্রইং রুমে সবাইকে জানাতে তারাও দেখতে পেলো । যথারীতি সারা রাত আরো পশু এলো গেল । আরো দুটো গন্ডার তারমধ্যে একটা ছোটো গন্ডার এলো নুন খেতে – কিন্তু বারবার আলো ফেলাতে তারা যেন বিরক্ত বোধ করছিল । কখনো কখনো সল্ট পিটের কাছাকাছি , আবার আলো ফেললে জঙ্গলের দিকে চলে যাচ্ছিলো। এর মধ্যে কখন ঘুমিয়ে গেছি খেয়াল নেই । মাঝরাত্রে যতবার উঠেছি ততবার লাইট ফেলে জন্তু গুনে গেছি



পরদিন সকালে উঠে আবার চললাম হাতি সাফারি করতে । জঙ্গলে ঢোকার একটু পরেই মাহুত আঙ্গুল তুলে ঝোপের মধ্যে একটা হরিণ দেখালো কিন্তু চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই সে ভোকাট্টা । একটু গিয়ে একটা বুনো শুকর দেখলাম । এও দৌড়ে জঙ্গলের মধ্যে পালালো । একটা বাইসন আর কিছু ময়ূরের দেখা পেলাম । আজ আর গন্ডারের দেখা মিলল না । যদিও ছয় খানা হাতি মিলে ঘাস বনের মধ্যে অনেকটা ভিতরে নিয়ে গিয়েছিল । এরপর ফেরার পালা । ব্রেকফাস্ট করে সমস্ত টাকা পেমেন্ট করে বেরিয়ে এলাম হলঙ থেকে । ফেরার রাস্তায় চেক পোস্টের একটু আগে দেখতে পেলাম ছোট্ট একটা হরিণ ঘাস খাচ্ছে । গাড়ি দাঁড় করিয়ে একটু ফটোশুট হলো । এরপরের গন্তব্য ঝান্ডি ইকো হাট।সেখান থেকে লাভা, রিশপ, কোলাখাম,কালিংপঙ – কিন্তু সে অন্য গল্প – এর সাথে না মেশানোই ভালো । হলঙ থেকে বেশ মজাদার অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা ফিরলাম।

জীপ সাফারি করে হলং এ আসা ট্যুরিস্টদের ভিড়

বাইসনের দল



হরিণ ছানা

ধনেশ পাখি



Stork পাখি

হলং বাংলোর সামনের মাঠ



গল্প শেষ এবার আসুন হলঙ নিয়ে কিছু তথ্য ও হিসেব নিকেশ সেরে নিই ।।।

1. হলঙ ট্যুরিস্ট লজে বুকিং সাধারণ মানুষদের wbtdcl. com থেকে করতে হয় । আগে কখনো 6 মাস ,কখনো 3 মাস আগে বুকিং শুরু হতো কিন্তু এখন ঠিক একমাস আগে বুকিং শুরু হয় । সাধারণ জনতার জন্য বরাদ্দ 5 টি রুম । ধরুন আপনি ডিসেম্বর মাসের 15 তারিখ বুক করতে চান তাহলে 14th নভেম্বর রাত্রি 12 টা পেরোলে লগ ইন করুন wbtdcl. com এ । সাধারণত 10-15 মিনিট বাদে রুম বুকিং ওপেন হয় – 12:10- 12:15 am এর দিকে । চেক ইন / চেক আউট ডেট দিলে ওই কদিন কটা রুম খালি আছে সেটা দেখা যাবে । কটা রুম লাগবে সেটা দিয়ে এন্ট্রি করলে টাকা পেমেন্ট অপশন আসবে । এটা যত তাড়াতাড়ি পারবেন করবেন না হলে একিসঙ্গে যারা বুকিং করছেন তাদের নামে রুম বুকড হয়ে যাবে , আপনি পাবেন না কিন্তু টাকা কেটে নিতে পারে । তবে টাকা কেটে নিলেও চিন্তা নেই ওই টাকা আপনি ফেরত পাবেন । আপনাকে একটা ইমেল করতে হবে ratandebnath.wbtdc@gmail.com – এই আড্রেসে । আপনার টাকা ফেরত করে দেবে ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্ট । আর একদিন না পেলে বারবার চেষ্টা করতে কোনো ক্ষতি আছে কি ??? একদিন না হলে তার পরের দিনটাতে পেয়ে যেতেই পারেন ।

হলং এর সম্পূর্ণ গাইড ভিডিও আকারে : 

2.এবার আসি কি ভাবে যাবেন ।
কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে এসে ডিরেক্ট হাসিমারা নামতে পারেন ।অন্য কোনো ট্রেনে NJP এসে গাড়ি করেও যেতে পারেন । কিংবা আগের দিন শিলিগুড়ি পর্যন্ত এসে পরেরদিন সকাল 5:00 , 6:10 ও 7:15 র ট্রেন ধরে হাসিমারা আসতে পারেন । এরমধ্যে 6:10 র ট্রেনটি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস । ট্রেনে বাম দিকে বসার চেষ্টা করবেন । তাহলে পাহাড় জঙ্গলের সঙ্গে সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ অল্প সময়ের জন্য হলেও পেয়ে যেতে পারেন । যদিও মাদারিহাট স্টেশন থেকে জলদাপাড়া কাছাকাছি কিন্তু গাড়ি বেশি পাওয়া যায় বলে সবাই হাসিমারা স্টেশনে নামে । হাসিমারা থেকে হলঙ 500-600 টাকা নেবে । জলদাপাড়া অভয়ারণ্য ঢোকার আগে কাছের হোটেল থেকে লাঞ্চ করে ঢুকতে পারেন বা লাঞ্চ প্যাক করে নিয়েও যেতে পারেন । চিকেন থালি 150 টাকা করে – সরু চালের ভাত , ডাল, দুরকমের তরকারি ,ভাজা, স্যালাড,4 পিস করে চিকেন। বেশ সুন্দর করে ফয়েলে প্যাক করে দেয় – সঙ্গে সোলার থালা । রান্না বেশ ভালো । প্যাকিং চার্জ 10 টাকা ।



3. এবার আসি খাইখরচাতে
#রুম ভাড়া – 2500/- প্রতি ডবল রুম । একজন অতিরিক্ত লোক থাকতে পারবেন । 1000/- টাকা অতিরিক্ত প্রতিদিন দিতে হবে । এক্সট্রা মার্ট্রেস ও বালিশ দেওয়া হয় । যদিও আমরা নিই নি । দুটো খাট জোড়া লাগাতে যথেস্ট বড়ো বিছানা হয়ে গেছিল । তবে এক্সট্রা বেডিং না নিলেও টাকা দিতে হবে ।
## লজে গাড়ি ঢোকার জন্য পারমিট ফি 300 টাকা । অতিরিক্ত ব্যাক্তির জন্য ফি 100 টাকা । স্টিল ক্যামেরার কোন ফি নেই । কিন্তু ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে গেলে ফি দিতে হয় বলে শুনেছি ।
### বিকেলের স্ন্যাক্স , ডিনার , ব্রেকফাস্ট – 400 টাকা জনপ্রতি । লাঞ্চ করলে 250 টাকা জনপ্রতি আলাদা করে দিতে হবে । খাওয়ার কোয়ালিটি খুব ভালো ।
#### হাতি সাফারি 800 টাকা জনপ্রতি ।
##### সবাই এককপি করে পরিচয়পত্র জেরক্স করে নিয়ে যাবেন ।

আর কি !! মাঝরাত্রে ইন্টারনেট খুলে বসে পড়ুন । কবে বুকিং পাবেন সেটা আপনার ইন্টারনেট স্পীড , সার্ভার ও আপনার হাতের টাইপিং স্পীডের উপর নির্ভর করছে । তবে একদিন না একদিন বুকিং ঠিক পাবেনই পাবেন ।🤗🤗🤗🤗🤗।।

ডুয়ার্সে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? ভাবছেন তো কোথায় কোথায় যাবেন, প্ল্যানটা কিভাবে সাজাবেন, কি কি দেখবেন, কোথায় থাকবেন, কিভাবে যাবেন? সব সমাধানের জন্য আমাদের ডুয়ার্সের ট্রাভেল গাইড ভিডিওগুলো দেখুন। নিচে লিংক দিলাম

Dooars Travel Guide:

 




সমগ্র ভ্রমণ অভিজ্ঞতাটি যার লেখা আসুন তার সাথে পরিচয় করে নেই।

Sankar N. Maity

Mr. Sankar N. Maity

সুন্দর ছবিগুলি তুলেছেন :

Sourav Maity



6 Comments

  1. Very very good post for us, thank you

    Reply
    • Good information,holong banglo na pele kothai book korle elephant safari confirm pabo.

      Reply
  2. Darun information, onker kaje lagbe.

    Reply
  3. Excellent information..thank you so much

    Reply
  4. Very useful guidence

    Reply
  5. দারুন লাগলো। যাওয়ার ইচ্ছা রইলো দেখা যাক কবে হয়।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement