Weekend at Cossimbazar Rajbari, Murshidabad

Weekend at Cossimbazar Rajbari, Murshidabad
Reading Time: 7 minutes

Weekend At Cossimbazar Rajbari

কাশিমবাজার রাজবাড়ি, বহরমপুর

রাজবাড়িতে রাত কাটানোর খুব ইচ্ছে হয়েছিল। অনেক খুঁজে ওভারহাইপিড অপশনগুলো বাদ দিয়ে পেলাম কাশিমবাজার রাজবাড়ি। মুর্শিদাবাদে। ছবি দেখে মনেও ধরে গেল বেশ, কারণ, এখানে থাকা-খাওয়ার সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে হাজারদুয়ারি, মতিঝিল-সহ আশপাশের জায়গাগুলো ঘুরে দেখা যাবে।  রাজবাড়ির গেস্ট হাউসের নম্বর জোগাড় করে বুকিং সেরে ফেমলাম তড়িঘড়ি। তবে কলকাতা ও সংলগ্ন রাজবাড়িগুলোর মতো এখানে বুকিং নিয়ে মারামারিটা এখনো নেই। পৌঁছে চেক আউটের সময় পেমেন্ট করা যাবে জেনে খুশি হলেও নিশ্চিন্ত হতে পারছিলাম না। কিন্তু ম্যানেজার মশাই নিজেই বারদুয়েক ফোন করে আশ্বস্ত করলেন।

অনেকদিন পর উইকেন্ড ট্রিপ। বেরলাম এক গরমের শনিবার সকালে সাড়ে ছ’টা নাগাদ। ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি স্টার্ট করব। তবে উইকেন্ড-এর ভাবা তো! ঘুমের ভিতর হারিয়ে যায়। বারাসাত-এ পৌঁছেই দাঁড়াতে হল লম্বা লরির লাইনের পিছনে। টুক টুক করে এগিয়ে সেই জ্যাম কাটাতে লেগে গেল প্রায় 45 মিনিট। তারপর NH34-এ উঠে হুহু করে গাড়ি ছুটিয়ে চলা শুরু। রানাঘাট-এ দাঁড়িয়ে একটু বিস্কুট, কোলড্রিঙ্ক নিয়ে নিলাম। টার্গেট ছিল 11 টার মধ্যে ঢুকব, তাই রাস্তায় বেশি দাঁড়াবার ভাবনা আগেই বাদ দিয়েছিলাম। শুধু কৃষ্ণনগর-এ পৌঁছে একটু সরভাজা, সরপুরিয়া না খেলে পাপ হয় তাই সে সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করলাম না। তারপর আবার ছুটল গাড়ি। রোড ট্রিপ-এর মজা হল নানান ধরণের মানুষের দেখা পাওয়া যায়। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী পাল্টে যেতে থাকা মানুষ, অনেক গাছপালা, রাস্তার পাশে  নুয়ে পড়া কৃষ্ণচূড়া, নানা শেড-এর সবুজ মনটা ফুরফুরে করে দেয়।




রাস্তা বেশ ভালো, খানা-খন্দের দেখা প্রায় নেই বললেই চলে, বেশ কয়েকটা রেলগেট-এ আটকা না পড়লে মোটামুটি 5 ঘন্টার বেশি ড্রাইভ না। বারাসাত যদিও খানিকটা টাইম হাইজ্যাক করে নেবে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

আমরা বহরমপুর পৌঁছে জিপিএস-এর ওপর আস্থা রেখে ও গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে দু-একজনকে জিগ্যেস করে পৌঁছলাম ছোট রাজবাড়ি ওরফে রূপকথা গেস্ট হাউজ। এই নামেই রাজবাড়ির কিছুটা অংশ গেস্ট-দের থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বাড়িটা দেখেই ড্রাইভের ক্লান্তি এক নিমেষে পালিয়ে গেল। সামনের সিঁড়ি বেয়ে ঢুকলাম নাচঘরের মধ্যে দিয়ে। উপর থেকে ঝুলছে নানান ধরণের ঝাড়বাতি। বিশাল লম্বাটে ঘর, দুদিকে বিশাল আয়না, ওপর থেকে ঝোলানো পাখা, লম্বা ডাইনিং টেবিল, প্রচুর আসবাব, বিখ্যার শিল্পীদের পেন্টিং, মডেল-এ সাজানো এই নাচঘর। এই জায়গাটি টুরিস্ট-দের জন্য খোলা থাকে বলে আসবাবপত্রগুলো প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা। নাচঘর পেরিয়ে আমরা বারান্দা সংলগ্ন সিঁড়ি দিয়ে নেমে ঢুকে পড়লাম ভিতরের দালানে। ওপরে খোলা আকাশ, মাঝে থাম ও বসার জায়গা। এখান থেকে ডানদিকের অংশে হেঁটে গিয়ে আমাদের ঘরে যাওয়ার পথ। সেদিকেই এগনো গেল।





সিঁড়ি দিয়ে একটু উঠে গিয়ে লম্বা লন, উপর থেকে ঝুলছে বাহারি আলো। ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে চোখ জুড়িয়ে গেল। সামনেই বসার জায়গা, নাচঘরে যেমন চেয়ার দেখেছিলাম তেমন চেয়ার, রাউন্ড টেবিল, গ্রামোফোন রেকর্ড, শো-কেস-এ সাজানো বেশ কিছু এন্টিক জিনিস। বসার ঘরের পর্দা সরিয়ে বেডরুম। বসার ঘরে এবং বেডরুম-এ আলাদা আলাদা এসি। আমরা 4 জন বলে 4 বেডেড রুমই নিয়েছিলাম, দুটো পাশাপাশি কাঠের কাজ করা বেড, পুরোনো দিনের খাট হওয়ায় চারদিকে কাঠের বার আছে। গোটা ঘর কাঠের আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, দেরাজ দিয়ে সাজানো, বেডরুমের জানলা দিয়ে দেখা যায় বাগান, পুকুর ঘাট। শান্ত স্নিগ্ধ মনোরম পরিবেশ। এসি রুমের দাম জিএসটি নিয়ে মোটামুটি 6 হাজারের মধ্যে। ডবল বেডগুলো 4 হাজারের কাছাকাছি। নন-এসি হলে খরচ আরও কম।

আগে থেকেই ফোন-এ জানিয়ে দিয়েছিলাম লাঞ্চ-এ কী খাব। খাবার জায়গায় যাওয়ার আগে ঘুরে দেখলাম আশপাশটা। জানলাম 1740 খৃস্টাব্দে পেশায় ব্যবসায়ী দীনবন্ধু রায় ও তাঁর বাবা অযোধ্যা রাম রায় এই প্রাসাদোপম বাড়িটি তৈরি করেন। তখন মুর্শিদাবাদে রাজত্ব চলছে নবাব আলিবর্দি খাঁ-এর। দীনবন্ধু রায়ের পুত্র জগবন্ধু রায় মুর্শিদাবাদে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান হলেও বেশিদিন সে কাজ না করে অন্য জায়গায় চলে যান। এই পরিবারের লোকজনের সাধারণ মানুষের প্রতি দয়াশীল মনোভাব দেখে পরিবারের সদস্য আশুতোষ নাথ রায়কে ব্রিটিশ সরকার রাজা উপাধি দেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম এই বাড়িতে থাকলেও অতো বড় বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যায়বহন সম্ভব ছিল না তাই তাঁরা জমিদারি বন্ধ করে দেন। কিন্তু বাড়িটি ছিল।





90-এর দশকে উত্তরাধিকাররা বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেন। বাড়ির কিছুটা অংশ নিয়ে অতীত ঐতিহ্য বজায় রেখে পরিবারেরই উদ্যোগে ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য চালু হয়েছে রূপকথা গেস্ট হাউস। এই পরিবারের পুত্রবধূ শ্রীমতী সুপ্রিয়া রায় সুগার এন্ড স্পাইস চেনটি শুরু করেন, তিনি তাঁর এই উদ্যোগের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। এই গেস্ট হাউজের লাগোয়া সুগার এন্ড স্পাইস-এর একটি শপিং মল রয়েছে, এখানে মুর্শিদাবাদি সিল্ক, গরদের শাড়ি পাওয়া যায়। বর্তমানে বাড়ির সদস্যরা কলকাতাতে থাকলেও প্রতি বছর পুজোর সময় এখানে আসেন। পরিবারের লোকজনকে নিয়ে চন্ডীমণ্ডপে হয় পুজোর আয়োজন। পুজোর সময়ও এখানে থাকা যায়, পুজোর আনন্দে অংশ নেওয়া যায় রায় পরিবারের সঙ্গে।

আমরা বড় বড় দালান দেখে নাচঘরের ভিতর দিয়ে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছলাম উপরের ডাইনিং হল-এ। ডাইনিং হলের জানলা দিয়ে নিচে তাকালে দেখা যায় লম্বা দালানদুটো। এখানেই আছে ট্যুরিস্টদের থাকার আরও 3-4টি ঘর। আমিষ-নিরামিষ মিলিয়ে খাবার আয়োজন ছিল অসাধারণ। মাছ বা চিকেন মিল নিলে দাম মাথাপিছু 300, মটন হলে 400। নিরামিষ বা ডিম 200 টাকা। স্যালাড, ভাত, ডাল, বেগুন ভাজা, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ, মটন, আমের চাটনি আর চিনিপাতা মিষ্টি দই, লোভে পরে বেশ বেশিই খেয়ে ফেললাম। রান্না ঘরোয়া এবং বেশ সুস্বাদু। স্থানীয় দুই মহিলাই রান্না করেন। আর বাড়ির কেয়ারটেকার ছেলেটি খুব যত্ন করে খাওয়ায়।

রাজবাড়ি থেকে ডানদিক নিলে রেলগেট পেরিয়ে হাজারদুয়ারি যাওয়ার রাস্তা। এখানকার স্থানীয় লোকেদের সবই কাছে মনে হয়, তাই রাজবাড়ি থেকে 5 কিলোমিটার দূরত্ব শুনে বেরিয়েও গুগল ম্যাপ-এ দেখলাম প্রায় 10 কিমি যেতে হবে আমাদের। 20 মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম হাজারদুয়ারি। তখন চড়া রোদ। যাওয়ার পথে দেখলাম ওয়াসিফ মনজিল।





গাড়ি পার্ক করে বেশ খানিকটা হেঁটে যেতে হয় টিকিট কাটতে। টিকিট মাথাপিছু 20 টাকা। ক্যামেরা, মোবাইল নিয়ে ঢোকা নিষেধ, তাই সব জমা দিয়ে গাইড-এর সঙ্গে এগলাম। হাজারদুয়ারির ইতিহাস আমাদের অনেকেরই জানা। তাই বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না। বাইরে ঘড়িঘর, ইমামবাড়া, মদিনা দেখে আমরা হাজারদুয়ারির ভিতরের মিউজিয়ামে ঢুকে পড়লাম। ভিতরের বিভিন্ন ঘরে যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, কামান, সৈনিকের পোশাক, তৎকালীন পরাধীন নবাব ও ব্রিটিশ শাসকের অয়েল পেন্টিং, গল্পে শোনা সেই বিখ্যাত আয়না ও ওষুধ দিয়ে সংরক্ষিত কুমির, হাতির দাঁতের সামগ্রী, নবাবী সিংহাসন, নবাবপুত্রকে রানী ভিক্টরিয়ার উপহার দেওয়া বিশাল ঝাড়লণ্ঠন, বন্দিদের বিচারকক্ষ দেখে বেরিয়ে এলাম।

Hazarduari

এরপর মোতিঝিল। পার্কে ঢোকার টিকিট 20 টাকা, লাইট এন্ড সাউন্ড দেখলে ভিতরে ঢুকে আলাদাভাবে সেই টিকিট কাটতে হয়। এখানে গত কয়েক বছরে বিউটিফিকেশন হয়েছে। অনেকটা কলকাতার ইকোপার্কের মতো সাজানো। ভিতরে কলমের আম বাগান, নানা রঙের গোলাপে ভরা গোলাপ বাগান, লাইন দিয়ে সূর্যমুখীর সারি, বাচ্চাদের খেলার পার্ক, জায়গায় জায়গায় টুরিস্টদের বসার জন্য সুদৃশ্য নানা নামের সিটিং এরিয়া। ট্যুরিস্ট-দের জন্য ভিতরে থাকার জায়গাও রয়েছে। এখানে সবচেয়ে ভালো লাগল মতিঝিলে ফুটে থাকা রাশি রাশি পদ্ম। এত পদ্মফুল আগে কখনো এভাবে দেখা হয়নি।





লাইট এন্ড সাউন্ড গরমকালে শুরু হয় 6.30 টায়। ওদিকটায় হেঁটে যেতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে। তাই আমরা হেঁটে চারপাশ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম টিকিট কাউন্টারে। টিকিট কেটে লাইন দিয়ে ঢুকে মনের মতো জায়গা পেয়ে বসলাম। 6.30-এ টাইম হলেও ভিড় জমে আর অন্ধকার নেমে শো শুরু হতে হতে প্রায় 7 টা বাজল। সিরাজের সঙ্গে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনি, স্বয়ং মুর্শিদাবাদ-এর জবানিতে। শো দেখে আমরা গল্ফ কার্ট-এ চড়ে ঝিলের পাশ দিয়ে পৌঁছে গেলাম মতিঝিল-এর মেন গেট এ। সেখান থেকে বেরিয়ে রাজবাড়ি ফেরার আগে সিল্ক শাড়ির সন্ধানে একটু খাগড়া বাজারের দিকে যাবার প্ল্যান ছিল। কিন্তু গাড়ি নিয়ে সে রাস্তায় ঢুকে খুবই অসুবিধায় পড়তে হল। গুগল তখন সরু গলি পেলেও সেখান দিয়ে ফেরার রাস্তা দেখাচ্ছে, আর রাস্তার লোকজন ডান-দিক বাঁদিক করে আরও গুলিয়ে দিচ্ছে।  গুগল ততক্ষণে পুরো ঘেঁটে গেছে, এক ঘণ্টা ঘুরপাক খেয়ে অবশেষে কিছু সহৃদয় মানুষের সাহায্যে রাস্তা বুঝে ফেরা গেল।

Motijheel

রাজবাড়ি ফিরলাম প্রায় 9 টায়। মূল দরজা দিয়ে না ঢুকে এবার ডানপাশ দিয়ে ঢুকলাম। এখান দিয়ে আমাদের থাকার ঘরটা একেবারেই কাছে। ঘরের সামনে ঝাড়বাতি জ্বলছে, পিলারগুলোয় জ্বলা আলো এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে। সেখানে বসে একটু আড্ডা দিয়ে ঘরেই সেরে নিলাম ডিনার। রুটি, আলুভাজা, সবজি, চিকেন, পাঁপড় ভাজা আর কালোজাম। আর একটা ভালো খবর, এখানে মদ্যপান করতে চাইলে ঘরে কেউ আটকাতে আসবে না। খানিকক্ষণ আড্ডা দিয়ে আমরা সবাই বিছানা নিলাম।

রবিবার সকালের রোদে বাড়িটা কি অপূর্ব দেখাচ্ছে। খানিক পরেই ফিরতে হবে সেইটা মানতে ইচ্ছে করছিল না মোটেই। আমরা গেলাম বাইরের বাগানের দিকে। পুকুরটা মজে গেলেও বাঁধানো পাড়টায় গাছের ছায়ায় বসতে বেশ লাগে। আর একটু ডানদিকে গেলে বিশাল নাগকেশর গাছ, থোকা থোকা কুঁড়ি আর ফুলে ভরে আছে, চারপাশটা ফুলের গন্ধে ম ম। আমাদের কেয়ারটেকার এখান থেকে নিয়ে গেল গোবিন্দ মন্দিরে। দরজা দিয়ে ঢুকে ভিতরে নাটমন্দির, ভোগের ঘর, দালান ও মন্দির।





এখান থেকে এগোলাম চন্ডীমণ্ডপের দিকে। ঢোকার আগে অনেকে মিলে বসে ঠাকুরের ভোগ খাবার জায়গা। এই চন্ডীমণ্ডপেই দুর্গাপুজো হয়। ওপর থেকে ঝুলছে নানা মাপের নানা ধরণের ঝাড়লণ্ঠন। উপরের কাঁচের জানলা দিয়ে আসছে মিঠে রোদ্দুর। সুসজ্জিত থামে লাগানো সাবেকি আলো, কয়েক ধাপ সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাঁধানো মণ্ডপ। মণ্ডপের দুপাশে ওপর থেকে  ঝুলছে দুটো রঙিন কাঁচের তোতাপাখি। ধুলোর হাত থেকে বাঁচাতে ঝাড়বাতি ও থামগুলো প্লাস্টিকে ঢাকা থাকে, খোলা হয় পুজোর সময়।

গোটা বাড়িটিতে এত দিকে এত জায়গা যে এখানে হারিয়ে যাওয়াটা খুব সোজা। চন্ডীমণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আমরা গেলাম ব্রেকফাস্ট করতে। ঘড়ি বলছে 10 টা। চেক আউট টাইম 10 টা হলেও লোকজন না থাকায় কোনও তাড়াহুড়ো ছিল না। কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট-এ ছিল গরম গরম লুচি, কালো জিরে, কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে চচ্চড়ি, ডিম সেদ্ধ, কলা, চা/কফি। এমন সাবেকি পরিবেশে রবিবাসরীয় ব্রেকফাস্ট হিসেবে লুচি, চচ্চড়িটা জমে গেল।

আমাদের এখানে আসা থেকেই প্রচুর গাছ ভর্তি আম দেখে ভীষণ আম পাড়া এবং আম বাগান ঘোরার ইচ্ছে হয়েছিল। রাস্তাঘাটে গাছে হাত দিলে জরিমানা দিতে হবে তাই আমরা কেয়ারটেকারকে বলে রেখেছিলাম আম বাগানে নিয়ে যেতে। খাওয়া-দাওয়ার পর যাওয়া হল পাশেই রাজবাড়ির নিজস্ব আমবাগানে। আড়াইশো বিঘা জমির ওপর এই বাগান। সব গাছে নানা সাইজের আম ঝুলছে। কোনো কোনো গাছে উঁচুতে আম, কোনোটায় আবার আমসমেত ডাল মাটিতেই নুইয়ে পড়েছে। বাগানটা রাজবাড়ির হলেও এখন ইজারাদারদের দেওয়া আছে। তাই আম পাড়ার জন্য ইজারাদারদের অনুমতি প্রয়োজন। এখানে পাকা আমের সময় বাগানে গিয়ে আম পেড়ে সেই আম কেনা যায়। অনুমতি পেয়ে দু-তিনটে আম পেড়ে আমরা মহানন্দে ফিরলাম রাজবাড়িতে। এরপর বিল মিটিয়ে বাড়ি ফেরার পালা। খুব থেকে যাবার ইচ্ছে হলেও, গাড়ির কাছে লাগেজ নিয়ে এসে দাঁড়াতেই হল। সঙ্গে নিলাম দালান জোড়া রোদ, গাছের ছায়ার আরাম, জামায় লেগে থাকা ধুলো, আর আগলে রাখার মতোন ভালোলাগা।

বুকিং করতে ফোন করুন- Nitish Ghosh- +91 85840 35663

 


This content has been written by Aditi Laha. The beautiful photographs have also been taken by her.


 




4 Comments

  1. Accha 2joner total khoroch kemn hobe?
    Jadi ektu bolen

    Reply
  2. Very much interested to visit that place.

    Reply
  3. ঢাকা বাংলাদেশ থেকে লিখছি। খুব ভাল লাগলো মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর এবং তার আশেপাশের জায়গা গুলোর পরিচিতি পেয়ে। আমি হাজার দুয়ারী এবং এর আশেপাশে ঘুড়েছি। সকালে কোলকাতা থেকে হাজার দুয়ারী এক্সপ্রেসে গিয়ে বিকেলে ফিরেছি। দৌড়ের উপর বেড়িয়েছি বলা যায়। এরপর সময় নিয়ে যেতে চাই
    সুভাশিষ ভৌমিক।
    রূপনগর,মিরপুর।
    ঢাকা বাংলাদেশ।

    Reply
  4. asombhob sundor lekha, kintu kivabe ei roopkotha guest house ta booking kora jai jodi ektu help koren

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement