দক্ষিণ কলকাতা পূজা পরিক্রমা 

দক্ষিণ কলকাতা পূজা পরিক্রমা 

দক্ষিণ কলকাতা পূজা পরিক্রমা    সাউথ কলকাতার জন্য আমরা শুরু করব কসবা থেকে। প্রথমেই কসবা পৌঁছে আমরা দেখে নিন বোস পুকুর শীতলা মন্দির। তারপর কিছুটা পায়ে হেঁটে দেখে নিতে হবে তালবাগান। এরপরে একটা অটো ধরে(অটো বিকেল তিনটে অবধি চলবে) বা বাস ধরে চলে আসুন গড়িয়াহাট। বাস থেকে নেমে গড়িয়াহাট এর উড়ালপুল বরাবর দক্ষিণ দিকে কিছুটা এগোলেই একডালিয়া এভারগিন। একটু এগিয়ে সুইনহ স্ট্রীট এ দেখে নিন ফাল্গুনী সংঘ ও দুরগাবাড়ি এটা দেখা হলে, বাম হাতে ফাল্গুনী সংঘ ও ডান হাতে দুরগাবাড়ি ও মাঝ বরাবর যে রাস্তাটা গেছে ওটা বন্ডেল রোডে মিশেছে ওই রাস্তাটা ধরে একটু এগোলেই 21পল্লীর পুজো, এটা দেখার পর গড়িয়াহাট পার্ক সার্কাস গামী বড় রাস্তায় চলে আসুন, বড় রাস্তায় পৌঁছে বাস ধরে চলে আসুন গরিয়াহাটে,নেমে পড়ুন একডালিয়া ঢোকার মুখটাতে। যে ফুটে একডালিয়া গেলেন তার বিপরীতে এসে একটু এগোলেই সিংহী পার্ক। সিংহী পার্ক দেখে আবার চলে আসুন  গড়িয়াহাটের মোড়ে। গড়িয়াহাট এর মোড় থেকে একটা বাস ধরে চলে আসুন যোধপুর পার্ক, 95পল্লী ও পল্লিমঙ্গল সমিতির পুজো। যোধপুর পার্কের পুজো দেখা পায়ে হেঁটে চলে আসুন সেলিমপুর। ওখানে সেলিমপুর পল্লী দেখে এবার ঢাকুরিযার দিকে আসুন। দেখে নিন বাবুবাগান এর পুজো। ঢাকুরিয়া থেকে একটা বাস ধরে চলে আসুন গোলপার্কের মোড়ে। এখান থেকে পুর্নদাস রোড ধরে চলে আসুন হিন্দুস্তান পার্ক (আপনার ডান দিকে পড়বে), এটা দেখা হলে আবার পূর্ণদাস রোড ধরে এগোলেই বামহাতে পড়বে বালিগঞ্জ কালচারেল। পাশেই রয়েছে সমাজসেবী চাইলে ওটা দেখে লেক ভিউ রোড ধরে বা পূর্ণদাস রোড ধরে(যদি সমাজসেবী স্কিপ করেন) রাসবিহারী এভিনিউ আসুন। একটা ক্রসিং পড়বে পর পর দুটো রাস্তা একটা মনোহর পুকুর রোড আরেকটি মতিলাল নেহেরু রোড, মতিলাল নেহেরু রোড ধরুন। একটু এগোলেই বাম হাতে দক্ষিণ কলিকাতা সার্বজনীন, এটা দেখে সোজা একই রাস্তায় এগোলে দান হাতে ত্রিধারা সম্মিলনী। এপথে সোজা...
বুদ্ধগয়া ভ্রমণ

বুদ্ধগয়া ভ্রমণ

বুদ্ধগয়া ভ্রমণ By..Soumitra Bhattacharjee সপ্তাহান্তে ঘুরতে যেতে চান, হাতে দু তিন দিনের ছুটি , কোথায় যাবেন ভাবছেন, আসুন কলকাতা থেকে সল্প দূরত্বের কিছু স্পট প্রতি সপ্তাহে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। ভালো লাগলে শেয়ার করে আর লাইক দিয়ে উৎসাহ দেবেন। *******প্রথম পর্ব******** বৈশাখী পূণিমা উপলক্ষে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অকুন্ঠ শ্রদ্ধাভরে বলেছেন, আমি যাকে অন্তরের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলদ্ধি করি, আজ এই বৈশাখী পূণিমায় তাঁর জন্মোৎসবে আমার প্রণাম নিবেদন করতে এসেছি।কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্তরে ’যাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলদ্ধি করেছিলেন , তিনি হলেন মহামানব গৌতম বুদ্ধ।মহামানব গৌতম বুদ্ধের জীবনের সঙ্গে যে চারটি স্থান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বুদ্ধগয়া তাদের মধ্যে অন্যতম। এই বুদ্ধগয়ার নিরাঞ্জনা নদীর তীরে আজ থেকে ২৫৫০ বছর পূর্বে বোধিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। তাই আজও সারা বিশ্বের বৌদ্ধধর্মালম্বী জনগনের কাছে বুদ্ধগয়া এক মহান তীর্থস্থান। বলা হয় নেপালের কপিলাবস্তুর এক শাক্য বংশে বুদ্ধদেবের জন্ম হয় | তবে তাঁর জন্ম স্থান অবশ্য কপিলাবস্তু নয়, প্রাচীন লুম্বিনী বা বর্তমান রুম্মিনদেঈ গ্রাম তাঁর জন্ম স্থান | তাঁর পিতা শুদ্ধোদন,মা মায়াদেবী | গৌতমের জন্মের সাতদিনের পর তাঁর মা মারা যান | এরপর তিনি তাঁর বিমাতা তথা মাসী প্রজাপতি গৌতমীর কাছে মানুষ হন | কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন গৌতমী মাসির কাছে মানুষ হওয়ায় তাঁর নাম গৌতম | তবে বেশির ভাগ ঐতিহাসিক মনে করেন গৌতম গোত্রে জন্ম হওয়ায় তিনি গৌতম | তাঁর পিতৃ দত্তা নাম ছিল সিদ্ধা র্থ | তাঁর জন্মকালে সকলের ইচছাপূরণ হয়েছিল তাই এরুপ নামকরণ করা হয় বলে মনে করা হয় | শাক্যবংশে জন্ম করেন বলে তাঁকে শাক্যসিংহ বলা হয় | সম্যকজ্ঞানলাভের পর তাঁর বুদ্ধ নামকরণ হয় | সুত্তনিপাতে বলা হয়েছে, গৃহীজীবন বন্ধনময়, দুঃখ কষ্টে ভরা | এই জীবনের প্রতি গৌতমের বিতৃষ্ণা জন্মে এবং এর ফলেই তিনি সন্ন্যাস নেন | ললিত বিস্তারে বলা...
আলস্যের আউলিতে

আলস্যের আউলিতে

  জোশিমঠথেকে সোজা রাস্তা চলে গেছে আরও দূরে বদ্রীনাথের দিকে। কপালে পুণ্যিটুন্যি বিশেষ নেইও আমার। তাই এখান থেকে গাড়ি ঘুরল উপর পানে। আঁকাবাঁকা এ পথ চলে গেছে আরও ১৬ কিলোমিটার দূরে আউলির দিকে। আপাতত গন্তব্য আমার ঐখানে। আরে ভাই, ওটা তো একটা স্কি রিসোর্ট। বরফের ওপর স্কি করতেই সবাই যায় ওখানে। বিদেশিদের ভিড় ই বেশি। আলুপোস্ত খাওয়া ভেতো বাঙালী তুমি ওখানে গিয়ে কি করবে শুনি? তার ওপর আবার ভাঙা কোমর নিয়ে? এমনতর হাজার প্রশ্নের স্রেফ একটাই উত্তর আমার। যাবো আউলিতে একটু আলিস্যি করতে। করুক না সবাই স্কি টি বরফের ওপর। আমি না হয় ততক্ষন কুঁড়েমি করে শুয়ে বসে অপার হিমালয়ের অপরূপ রূপ দর্শন করি। শুরুতেই বিপত্তি। পথ জুড়ে বরফের আস্তরন। একজন আর্মির ভদ্রলোক ওপর থেকে নেমে আসছিলেন। আমাদের চালক শুধল তাকে, পথ কি খোলা না বন্ধ? একগাল হেঁসে মানুষটি জানালেন বিশুদ্ধ হিন্দিতে, কাল তক তো সড়ক বন্ধই থা। বহুত বরফ গিরা থা। লেকিন আজ খুল গিয়া রাস্তা। সাবধানী সে যাও। এই বলে তিনি ওপরের দিকে নাকি স্বর্গের রাস্তার দিকে আঙুল দেখিয়ে দিলেন। অত্যন্ত অনিচ্ছায় ড্রাইভার একবার আমার সর্বাঙ্গ মেপে নিয়ে গিয়ার মেরে গাড়ি চালু করলেন। তার ইচ্ছে ছিল জোশিমঠেই ঘাঁটি গাড়া এবং আমাদের রোপওয়ে দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া। সহযাত্রীরা তো আরও বিরক্ত আমার ওপর। একে ঠাণ্ডা, তায় বরফ, তার ওপর সরু রাস্তা, প্রান রাখার কি বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই? কারুর গোঁফ গেছে ঝুলে, উদ্বেগে আর আমার ওপর রাগে। কারুর বা লিপস্টিক ফ্যাকাশে। এমন বেখেয়ালে বাউন্ডুলে ঘোরাফেরা তাঁদের বিলকুল না পসন্দ। কিন্তু ঐ যে বরফের পাহাড়শ্রেণী উঁচু হয়ে আমাকে হাতছানি দিচ্ছে, পাগল করা রূপ নিয়ে। যেতে তো আমাকে হবেই। বেশ একরোখা হয়েই বললাম, চলিয়ে ড্রাইভার সাহাব, সাবধানী সে চলিয়ে। আউলি তো আ গিয়া হ্যায়। সব হতাশায় জল ঢেলে এগিয়ে চললাম যেন...
দক্ষিণ কলকাতার কিছু পুজো দেখতে যাবার Route Map – শুভব্রত সান্যাল

দক্ষিণ কলকাতার কিছু পুজো দেখতে যাবার Route Map – শুভব্রত সান্যাল

আজ আলোচনা করবো একট দক্ষিণ কলকাতার দুর্গা ঠাকুর দেখার ব্যাপারে। যে ঠাকুর গুলো আমরা দেখতে চলেছি এই তালিকায় সেগুলোর মধ্যে কোনো প্যান্ডেল সনাতনী ঐতিহ্যের ধারক কোনোটি অপরূপ শিল্প সুষমায় উজ্জ্বল। আবার কোনটি শিল্পের মাধুর্য বজায় রেখেও সনাতনী মায়ের রূপ বজায় রেখেছে। আসুন শুরু করি… রুট প্ল্যান 1 শিয়ালদাহ স্টেশনের দক্ষিণ শাখা থেকে বজবজ বাদে যে কোনো ট্রেন ধরে আমরা সহজেই পৌঁছে যাব ঢাকুরিয়া স্টেশন। line পাল্টে রাস্তায় এসে গলি দিয়ে মিনিট পাঁচেক এগোলেই আমরা পাবো বাবুবাগান। দেখে নিয়ে একটু সংলগ্ন মাঠে খাওয়া দাওয়া করে আমরা বান্ধব সম্মেলনী দেখে main road এ এসে একটু খানি হেঁটেই চলে যাবো সেলিমপুর পল্লী। পল্লী দেখে আবার main road এ এসে রাস্তা পেরিয়ে আমরা পাবো যোধপুর পার্ক। আর তার সমান্তরাল রাস্তায় 95 পল্লী, দেখা শেষ। আবার বড় রাস্তায় এসে বাস ধরবো বালিগঞ্জ যাওয়ার,অনেক বাস পাবো। নামবো গড়িয়াহাট ব্রীজ পেরিয়ে pantaloons এর সামনে। পিছিয়ে এসে দেখে নেব সিংহী পার্ক। কিছুটা পাশে হিন্দুস্থান পার্ক,এরপর একডালিয়া ফাল্গুনী সঙ্ঘ দেখে বালিগঞ্জ স্টেশন দিয়ে বাড়ি। রুট প্ল্যান 2 Sealdah station থেকে বজবজ গামী ট্রেনে new alipore নেবে একটু খানি হেঁটেই পাবো দক্ষিণ কলকাতার বড় পুজো সুরুচি সঙ্ঘ। দেখা হয়ে গেলে auto 20 টাকা প্রতিজন বা min 20 হেঁটে আপনি পৌঁছে যান আর এক বড় পুজো চেতলা অগ্রণী। এর পর ধরুন রাসবিহারী avenue, কালীঘাট মন্দিরের কাছে আসতেই আপনি পেয়ে যাবেন বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ ও 66 পল্লী। দুটোই একদম পাশাপাশি। আরো কিছুটা এগিয়ে আসুন, চার রাস্তার মোড়, ডান দিকে গেলে পাবেন শিবমন্দির ও মুদিয়ালি। এই দুই ঠাকুরের মধ্যবর্তী রাস্তার নাম জানেন? রজনী সেন রোড, চেনা চেনা লাগছে?? লাগবেই তো, আমাদের কিশোর জীবনের চির সাথী ফেলুদার বাড়ি ই তো 21 রজনী সেন রোড। যদিও বাস্তবে 21A আর 21B আছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটুন,...
বেড়াতে যাওয়ার আগে কিছু টিপস

বেড়াতে যাওয়ার আগে কিছু টিপস

বেড়াতে যাওয়ার আগে কিছু টিপস: সামনে অনেকেই বেড়াতে যাচ্ছেন, সব প্ল্যান তৈরী, টিকিট ও কাটা হয়ে গেছে এবার বেরিয়ে পড়ার পালা। বেড়াতে যাওয়ার আগেই বা বেড়াতে গিয়ে যদি আপনার বেড়ানোটা মাটি হয়ে যায়? ভাবুনতো কতটাই না খারাপ হবে। তাই বেড়াতে বেরোনোর আগে প্রাক ভ্রমণ কিছু টিপস আপনাদের জন্য আজ শেয়ার করছি। 1. ট্রেন বা প্লেনের টিকিটটা ভালো করে দেখে নিন, pnr টা চেক করে দেখেনিন, সব ঠিক আছে কিনা। টিকিটে লেখা Journey Date and  Schedule Departure ভালো করে দেখুন। অনেক সময় ট্রেন বা প্লেন এর date: 12-Oct-2018, (শুক্রবার) আর Schedule Departure time : 00: 10 am দেখায়, অনেক সময়েই আমাদের ভুল হয়ে যায় এরকম সময় গুলির ক্ষেত্রে। এটা মানে আপনার জার্নি শুক্রবার ভোরে যেটা আমরা চলতি কথায় বৃহস্পতিবার রাতে বলে থাকি। তাই গুলিয়ে যাওয়ার প্রমুখ সম্ভাবনা। 2. PNR স্ট্যাটাস রেলের চার্ট তৈরীর পর অবশ্যই চেক করুন। অনেক সময় seat and coach upgrade হয়ে যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। 3. এখন হোটেল বুকিং অনেকেই অনলাইনে করেন তাই হোটেলের পেমেন্ট এর প্রিন্ট নিন। 4. রওনা হওয়ার একদিন আগে হোটেলে ফোন করে কনফার্ম করুন আপনি আসছেন আর আপনার বুকিংটা ঠিক আছে কিনা জেনে নিন। 5. সঙ্গে নিজের ও ভ্রমণ সঙ্গীদের অরিজিনাল id বিশেষ করে ভোটার বা আধার কার্ড সঙ্গে রাখুন। বাচ্চা থাকলে বার্থ সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখুন। আর সকলের id গুলোর দুকপি করে জেরক্স করিয়ে রাখুন। 6. Indian railway এর ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিন আপনার ট্রেনের রুট ঠিক আছে কিনা। 7. যদি ফ্লাইটে যান তাহলে ডোমেস্টিক ফ্লাইটের জন্য 2ঘন্টা আগে চেকইন এর জন্য ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট হলে 3ঘন্টা আগে চেকইন এর জন্য পৌঁছে যাবেন। 8. গাড়ি আগেথেকে বুক করা থাকলে এজেন্সি বা ড্রাইভারকে বলুন গাড়ির নাম্বার টেক্সট করে দিতে। আপনি পৌঁছনোর আগে ড্রাইভারকে কল...