বুদ্ধগয়া ভ্রমণ

বুদ্ধগয়া ভ্রমণ

বুদ্ধগয়া ভ্রমণ

By..Soumitra Bhattacharjee

সপ্তাহান্তে ঘুরতে যেতে চান, হাতে দু তিন দিনের ছুটি , কোথায় যাবেন ভাবছেন, আসুন কলকাতা থেকে সল্প দূরত্বের কিছু স্পট প্রতি সপ্তাহে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। ভালো লাগলে শেয়ার করে আর লাইক দিয়ে উৎসাহ দেবেন।






*******প্রথম পর্ব********
বৈশাখী পূণিমা উপলক্ষে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অকুন্ঠ শ্রদ্ধাভরে বলেছেন, আমি যাকে অন্তরের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলদ্ধি করি, আজ এই বৈশাখী পূণিমায় তাঁর জন্মোৎসবে আমার প্রণাম নিবেদন করতে এসেছি।কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্তরে ’যাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলদ্ধি করেছিলেন , তিনি হলেন মহামানব গৌতম বুদ্ধ।মহামানব গৌতম বুদ্ধের জীবনের সঙ্গে যে চারটি স্থান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বুদ্ধগয়া তাদের মধ্যে অন্যতম। এই বুদ্ধগয়ার নিরাঞ্জনা নদীর তীরে আজ থেকে ২৫৫০ বছর পূর্বে বোধিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। তাই আজও সারা বিশ্বের বৌদ্ধধর্মালম্বী জনগনের কাছে বুদ্ধগয়া এক মহান তীর্থস্থান।




বলা হয় নেপালের কপিলাবস্তুর এক শাক্য বংশে বুদ্ধদেবের জন্ম হয় | তবে তাঁর জন্ম স্থান অবশ্য
কপিলাবস্তু নয়, প্রাচীন লুম্বিনী বা বর্তমান রুম্মিনদেঈ গ্রাম তাঁর জন্ম স্থান | তাঁর পিতা শুদ্ধোদন,মা মায়াদেবী | গৌতমের জন্মের সাতদিনের পর তাঁর মা মারা যান | এরপর তিনি তাঁর বিমাতা তথা মাসী প্রজাপতি গৌতমীর কাছে মানুষ হন | কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন গৌতমী মাসির কাছে মানুষ হওয়ায় তাঁর নাম গৌতম | তবে বেশির ভাগ ঐতিহাসিক মনে করেন গৌতম গোত্রে জন্ম হওয়ায় তিনি গৌতম | তাঁর পিতৃ দত্তা নাম ছিল সিদ্ধা র্থ | তাঁর জন্মকালে সকলের ইচছাপূরণ হয়েছিল তাই এরুপ নামকরণ করা হয় বলে মনে করা হয় | শাক্যবংশে জন্ম করেন বলে তাঁকে শাক্যসিংহ বলা হয় | সম্যকজ্ঞানলাভের পর তাঁর বুদ্ধ নামকরণ হয় |
সুত্তনিপাতে বলা হয়েছে, গৃহীজীবন বন্ধনময়, দুঃখ কষ্টে ভরা | এই জীবনের প্রতি গৌতমের বিতৃষ্ণা জন্মে এবং এর ফলেই তিনি সন্ন্যাস নেন | ললিত বিস্তারে বলা হয়েছে প্রথম দিন জরা গ্রস্ত লোক. , দিতীয় দিন রুগ্ন ব্যক্তি তৃতীয় দিন মৃতদেহ ও চতুর্থ দিন সৌম্য কান্তি সন্ন্যাসী দেখে গৌতমের মনে প্রবল বৈরাগ্য জন্মে এবং তিনি গৃহত্যাগী হন |




গৃহ ত্যাগের পর ছয় বছর ধরে সন্ন্যাসী গৌতম মুক্তির সন্ধানে নানা স্থান ঘুরে বেড়ান | বৈশালী এবং রাজগৃহে দুজন শিক্ষকের কাছে শাস্ত্র পাঠ নেন | কিন্তু এসব করে তিনি মুক্তির পথ খুজে পেলেন না | অবশেষে তিনি উরুবিল্ব বা বর্তমান বোধগয়া নামক স্থানে গিয়ে তপস্যা শুরু করেন | সঙ্গে ছিলেন তাঁর পাঁচ সতীর্থ | এ সাধনা চলল দীর্ঘ বছর | কিন্তু কঠোর কৃচ্ছসাধনের পরও সত্যের কোন সন্ধান মিলল না | এ থেকে তাঁর উপলব্ধি হয় যে শরীর কে কষ্ট দিয়ে কঠোর তপস্যা করলেই সত্য লাভ করা যাবে, এ কথা ঠিক নয় | তাই গৌতম পাশেই বয়ে যাওয়া নৈরাঞ্জনা ( ফল্গু ) নদীতে স্নান করে সুজাতা নামে এক বনিক কন্যার দেওয়া পরমান্ন গ্রহণ করে এবং তাঁর পর. অনেকটা সাধারণ ভাবে মুক্তি লাভের পথে ব্রতী হয়ে এক পিপল গাছের তলায় গভীর ধ্যানে বসেন | কিন্তু এইপবে তাঁর খাদ্য গ্রহণ তাঁর পাঁচ জন শিষ্য ভালো চোখে দেখেননি | তারা এতে বিরক্ত হয়ে তাঁর সঙ্গ ছেড়ে চলে যান |




অবশেষে বৈশাখী পূর্ণিমার রাতে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ | উনপঞ্চাশ দিন ধরে ধ্যান করার পর তিনি বোধি প্রাপ্ত হন। এই সময় তিনি মানব জীবনে দুঃখ ও তাঁর কারণ এবং দুঃখ নিবারণের উপায় সম্বন্ধে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন, যা চতুরার্য সত্য নামে খ্যাত হয়। তাঁর মতে এই সত্য সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করলে মুক্তি বা নির্বাণ লাভ সম্ভব।তখন তাঁর বয়স 35 বছর |
এই উরুবিল্ব বা বর্তমান বোধগয়ার সেই বোধবৃক্ষের পাশেই তিনশো বছর খ্রিস্টপূর্বাব্দে বালিপাথরের সিংহাসন আর বুদ্ধের স্তূপ তৈরি করেছিলেন সম্রাট অশোক। দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত ওই স্তূপই ছিল বৌদ্ধদের প্রধান আরাধ্য স্থান। তার পর ওখানে শুরু হয় মহাবোধি মন্দির। সপ্তম শতাব্দীতে গুপ্তযুগে শেষ হয় পিপুল গাছের পূর্ব দিকে মহাবোধি মন্দির তৈরির কাজ। মন্দিরের ভিতরে সোনার জল করা কষ্টিপাথরের ভূমিস্পর্শ মুদ্রায় বুদ্ধের বসে থাকার মূর্তি তৈরি করেন পাল রাজারা। ৪৮ বর্গফুট চৌকো বেসমেন্টের বুকে পিরামিডের মতো উপরের দিকে উঠে গিয়েছে মন্দির। লম্বায় যা প্রায় ১৭০ ফুট।মহাবোধি টেম্পল (Mahabodhi Temple) বর্তমানে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। খ্রীষ্টপূর্ব ১৮৪-১৭২ শতকের এই মন্দিরে রয়েছে প্রাচীন সুদৃশ্য বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা সুবর্ণ বুদ্ধ।




চিন, জাপান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো দেশ থেকে বুদ্ধগয়ায় তৈরি করা হয়েছে বুদ্ধের বিহার বা মন্দির। সারা বিশ্বের বৌদ্ধদের কাছে বুদ্ধগয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক তীর্থক্ষেত্র। তাই, সারা বছর ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বৌদ্ধদের আনাগোনা চলে এখানে। বছরে অন্তত একবার বুদ্ধগয়ায় আসেন দলাইলামাও। সে সময়ে মহাবোধি মন্দিরে বসে ‘শান্তি প্রার্থনা’র আসর। যা সত্যিই দেখার মতো। আর রাস্তাঘাটে জাপানি আদলের শিশুদের ঠেট হিন্দিতে কথা বলতে শুনলে অবাক হবেন না। অনেক জাপানিরই বিশ্বাস, বুদ্ধগয়ার বাসিন্দাদের শরীরে বুদ্ধের অংশ রয়েছে। তাই অনেক জাপানি মহিলাই এখানে এসে বিয়ে করে ফেলেন স্থানীয় ‘গাইড’দের। তার পর এখানেই তাঁদের অর্ধেক সংসার।

বুদ্ধগয়ায় কী দেখবেন
(১) বোধিবৃক্ষ – পণ্ডিতদের অনুমান,দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে ভারতে এসেছিলেন চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন। ৪০০-৪১১, মতান্তরে ৪০৫-৪১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ভারতে ছিলেন। বুদ্ধগয়ার মতো পুণ্য ভূমিতে বুদ্ধদেবের লীলার স্থানগুলিতে সংঘারাম, স্তূপ ইত্যাদি নানা বিষয় দেখে তিনি লিখেছিলেন তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত ‘ফো-কো-কি’ নামক গ্রন্থ। বিল সাহেবের ফা-হিয়েনের ভ্রমণ বৃত্তান্তের ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থের ৩১ অধ্যায়ে ফা-হিয়েন বুদ্ধের সাধনক্ষেত্র এবং বোধিবৃক্ষ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘পশ্চিমদিকে ৪ যোজন গমনের পর আমরা গয়ানগরে উপস্থিত হইলাম। এখানেও নগরটি জনশূন্য ও পরিত্যক্ত। দক্ষিণে ২০ ‘লি’ (সাড়ে ৪ লি-তে ১.০১ মাইল) যাইয়া যে স্থানে বোধিসত্ত্ব ছয় বৎসর ধরিয়া তপস্যা করিয়াছিলেন সেই স্থানে আমরা উপস্থিত হইলাম। এই স্থানটি এখন জঙ্গলাকীর্ণ। এই স্থানের ৩ লি পশ্চিমে আমরা উপস্থিত হইলাম, যেখানে বুদ্ধ স্নান করিবার জন্য নদীতে নামিতেন।





এখান হইতে ২ লি উত্তরে এক বৃক্ষতলে যে স্থানে বুদ্ধদেব পাষাণের উপর বসিয়া পূর্বদিকে চক্ষু নিবদ্ধ রাখিয়া দুগ্ধ ও অন্ন ভক্ষণ করিয়াছিলেন সেই স্থান অবস্থিত। আজও সেই বৃক্ষ ও প্রস্তর সেই স্থানেই অবস্থিত। পাথরটি প্রায় ছয় ফুট চৌকো এবং দুই ফুট উচ্চ। মধ্য ভারতে জলবায়ু এমনই সমতা-বিশিষ্ট নাতিশীতোষ্ণ যে এই স্থানে গাছ হাজার হাজার বৎসর বাঁচিয়া থাকে।…’ পঞ্চম শতাব্দে ফা-হিয়েনের দেখা বোধিবৃক্ষটি যে ছোট ছিল না তা তাঁর কথাতেই বোঝা যায়, ‘…বর্তমানে সেই বৃক্ষই তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজের ছায়াতলে ঢেকে রেখেছে। রাজা অশোক এই বৃক্ষের ধারে সুউচ্চ একটি প্রাচীর গেঁথে দেন যাতে কেউ এর কোনওরূপ ক্ষতি করতে না পারে।’ হিউয়েন সাঙ ৬২৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে চিন থেকে যাত্রা শুরু করে ভারত সীমানায় পদার্পণ করেন ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে। তারপর অধ্যয়ন ও ভ্রমণ করতে করতে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে আসেন মগধে ও নালন্দা বিহারে। সম্ভবত ওই সময়েই তিনি এসেছিলেন বুদ্ধগয়ায়।




হিউয়েন সাঙ তাঁর ভারত ভ্রমণ গ্রন্থে (সি-ইউ-কাই) সুন্দর একটি চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন বোধিবৃক্ষ প্রসঙ্গে। হিউয়েন সাঙ লিখেছেন,“বজ্রাসনের উপরের বোধিবৃক্ষটি একটি অশ্বত্থ গাছ (পিপল)। পুরাকালে বুদ্ধের সময়ে গাছটি কয়েকশো ফুট উঁচু ছিল। তারপর একে প্রায়ই কেটে ফেলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও এটি ৪০ থেকে ৫০ ফুট উঁচু। বুদ্ধ এর নীচে বসে সম্যক সম্বোধি বা যথার্থ জ্ঞান লাভ করেন বলে একে জ্ঞানের বৃক্ষ বা বোধিবৃক্ষ বলা হয়। এ গাছের বাকল হলদেটে-সাদা, পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। কি শীত কি গ্রীষ্ম কোনও ঋতুতেই এর পাতা ঝরে না। সব সময় সেগুলি তেলতেলে চিকণ। কখনও কোনও হেরফের নেই। কিন্তু প্রত্যেক বছর বুদ্ধের নির্বাণ তারিখটি এলে পাতাগুলি হলদে হয়ে ঝরে পড়ে ও মুহূর্তের মধ্যে আবার নতুন পাতা গজিয়ে ওঠে ও আগের চেহারা ফিরে পায়। এই দিনটিতে বিভিন্ন দেশের রাজারা ও অসংখ্য ধর্মানুরাগী চারদিক থেকে কাতারে কাতারে এসে এখানে জমা হন। বোধিবৃক্ষের পাদদেশ সুগন্ধি জল ও সুরভিত দুধ দিয়ে ধুইয়ে দেওয়া হয়। সবাই স্তবগান করে ফুল ছড়ায়, সুগন্ধি ধূপধূনা জ্বালায়। রাতে মশালের আলোয় জায়গাটি আলোকিত হয়ে ওঠে। নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান-সহ পূজা ও উপহার নিবেদন করা হয়।’… বুদ্ধত্ব লাভের পর ভগবান বুদ্ধ কৃতজ্ঞ ছিলেন বোধিবৃক্ষের কাছে, যার নির্মল প্রশান্ত সুশীতল ছায়ায় কেটে গিয়েছিল সাধন জীবনের টানা ছ’টি বছর। পরিব্রাজকের কথায়, ‘…বুদ্ধ যেখানে পায়চারি করেন সেখান থেকে উত্তর রাস্তার বাঁদিকে একটি বড় পাথর আছে। এর উপরে একটি বুদ্ধের মূর্তি আছে। মূর্তিটি উপরের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে রয়েছে। তথাগত বুদ্ধত্ব লাভের পর ৭ দিন ধরে বোধিবৃক্ষের দিকে ওই ভাবে চেয়ে থাকেন। এই সময় মধ্যে তিনি ক্ষণিকের জন্যও বোধিবৃক্ষ থেকে তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে নেননি। এভাবে চেয়ে থেকে তিনি বোধিবৃক্ষকে তাঁর অন্তরের কৃতজ্ঞতা জানান।’ রাজা অশোক মগধের সিংহাসনে বসেন ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, বুদ্ধের দেহত্যাগের ২১৪ বছর পরে। অশোকের মানসিক পরিবর্তনের আগে বোধিবৃক্ষটিকে ধ্বংস করার জন্য সচেষ্ট হলেও তা পরিব্রাজকের কথায়, ‘গাছটি ঠিক আগের মতোই তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। রাজা সে দৃশ্য দেখে এত অভিভূত হয়ে পড়লেন যে নিজেই তাকে পূজার্ঘ্য নিবেদন করে চললেন।’ এরপর শৈব রাজা শশাঙ্ক বৌদ্ধধর্মের প্রতিপত্তি নাশের জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। তিনিও বোধিবৃক্ষটি কেটে দিলেন ক্রোধবশত। কিন্তু সে বারও বৃক্ষটি রক্ষা পায়।




হিউয়েন সাঙের কথায়, ‘রাজা অশোকের শেষ বংশধর মগধরাজ পূণবর্মা এ খবর শুনে দুঃখ পেলেন। কয়েক মাস পরে তিনি গাছের শিকড়গুলিতে এক হাজার গরুর দুধ ঢাললেন।…গাছটি আবার গজিয়ে ১০ ফুটের মতো লম্বা হয়ে গেল। পাছে আবার কেটে ফেলা হয় সেই ভয়ে তিনি তার চারদিকে ২৪ ফুট উঁচু পাথরের দেওয়াল তুলে দিলেন। গাছটি এখন ২০ ফুট উঁচু দেওয়াল দিয়ে ঘেরা।’ রাজা অশোক তাঁর রাজত্বকালেই বোধিবৃক্ষের একটি শাখা কেটে তাঁর প্রিয় কন্যা ভিক্ষুণী সঙ্ঘমিত্রাকে দিয়ে পাঠালেন সিংহলে। এর প্রাচীন রাজধানী অনুরাধাপুরে রোপিত হল বোধিবৃক্ষের শাখা। অসংখ্য শাখা-প্রশাখায় সে বৃক্ষ বেড়ে উঠল ধীরে ধীরে। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের কথা। বৌদ্ধধর্ম প্রসারের প্রচেষ্টায় মহাবোধি সোসাইটি স্থাপন করলেন আচার্য অনাগারিক ধর্মপাল। তিনি অনুরাধাপুর বিহার থেকে বোধিবৃক্ষের একটি শাখা কেটে আনেন সারনাথে। রোপণ করেন মূলগন্ধকুটি বিহারের পূর্ব প্রাঙ্গণে। সেই বৃক্ষটি আজ বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষটি এক বার প্রবল ঝড়ে উৎপাটিত হয় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে। পরে একই জায়গায় রোপণ করা হয় বৃক্ষটিকে।






(২) সুজাতা দিঘি – কথিত আছে, এই দিঘির জলে স্নান করে সুজাতা পায়েস নিবেদন করতেন বুদ্ধদেবকে।
(৩) মহাবোধি মন্দির – ৬০ ফুট প্রশস্ত, ১৮০ ফুট উঁচু পিরামিডধর্মী চুড়োওয়ালা দ্বিতল মন্দির। ভূমিস্পর্শ মুদ্রায় ৮০ ফুটের বুদ্ধমূর্তি। প্রবেশফটক বৌদ্ধধারায় দক্ষিণ ভারতীয় শৈলীতে ।মন্দিরের উত্তরে চক্রমাণা(বুদ্ধের ধ্যানস্থান), ঘেরা প্রাঙ্গণে অনিমেষলোচন চৈত্য (এক সপ্তাহ ঠায় দাঁড়িয়ে বুদ্ধ পিপুল গাছ অবলোকন করেন), মোহান্তর মনাস্ট্রি, রত্নাগার।
(৪) মহাবোধির দু’ কিমি পশ্চিমে সুজাতা মন্দির
(৫) মুচলিন্ড সরোবর – ৩ কিমি দূরে, নাগরাজ মুচলিন্ড ফণা মেলে ধ্যানস্থ বুদ্ধকে রোদ-ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতেন।
(৬) মহাবোধির উত্তর-পশ্চিমে বাজার পেরিয়ে ১৯৩৮ সালে তৈরি তিব্বতীয় মনাস্ট্রি
(৭) ১৯৪৫ সালে তৈরি সাদা রঙের চিনা বুদ্ধিস্ট মন্দির মন্দির।

(৮) চিনা বুদ্ধিস্ট মন্দিরের বিপরীতে, বৌদ্ধ মিউজিয়াম যেখানে বৌদ্ধ স্থাপত্যের নানা নিদর্শন প্রদর্শিত আছে।(৯) প্যাগোডাধর্মী থাই মনাস্ট্রি
(১০) ভুটান মনাস্ট্রি

(১১) তিব্বতীয় বুদ্ধ মন্দির।

(১২) জাপানি বুদ্ধ মন্দির।




এ ছাড়াও মায়ানমার, বাংলাদেশ, লাওস, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনামও মনাস্ট্রি গড়েছে। খোলা আকাশের নীচে ২৫ মিটার উঁচু বুদ্ধমূর্তিটিও খুব সহজেই নজর কাড়ে।
যাওয়া -নিকটতম রেলস্টেশন গয়া জংশন ১২ কিলোমিটার দূরে। বিহারের নানাদিক থেকে বাসও আসছে।

কোথায় থাকবেন?
বুদ্ধগয়াতে থাকবার সেরা জায়গা ভারত পর্যটনের হোটেল বোধগয়া অশোক, যোগাযোগ- ০৬৩১৪০০৭৯০। এছাড়া বিহার পর্যটনের হোটেল সিদ্ধার্থ বিহার, যোগাযোগ-০৬৩১২২০০৪৪৫। এছাড়াও আছে হোটেল মহাযান, যোগাযোগ- ০৬৩১২২০০৭৫৬। শান্তি গেস্ট হাউস, যোগাযোগ-০৬৩১২২০০১২৯। আম্রপালি গেস্ট হাউস, যোগাযোগ- ০৯০০৬৩৭৪৯৭৫। ওম গেস্ট হাউস, যোগাযোগ-০৯৯৩৪০৫৭৪৯৮। ওয়েলকাম গেস্ট হাউস, যোগাযোগ- ০৬৩১২২০০৩৭৭।




আসুন পরিচয় করিয়ে দেই Soumitra Bhattacharjee  বাবুর সাথে :– 



Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement