হিমাচলের কয়েকদিন

হিমাচলের কয়েকদিন

‘হিমাচলের কয়েকদিন’ (প্রথম পর্ব) ১লা মার্চ, ২০১৮। আজ দোল। নেট ঘেঁটে ঘেঁটে সিমলা মানালি চণ্ডীগড়ের লেখা পড়ে আর ছবি দেখে চোখে ছানি পড়ে গেছিলো। এদিকে গাদাখানেক লোকজন কোত্থেকে জানতে পেরে ফোন লাগিয়েছে, দাদা গাড়ি লাগেগা, হোটেল লাগেগা, এইসব। আমি আমার বিখ্যাত হিন্দিতে তাদের যথাসম্ভব নিরস্ত করছি। একজন তো বিরক্ত হয়ে বলেই বসল হোটেল লাগবে না তো কি গাছতলায় থাকবেন? সেই কবে টিকিট কাটা হয়েছে, সিমলার ঘর বুক করা হয়েছে। ব্যাস, তারপর দিন যেন আর কাটছেই না। শেষে কাল অফিসে সবাইকে টা টা করে বেরিয়ে মনটা কেমন ফুরফুরে হয়ে গেল। সত্যি বলছি ফেব্রুয়ারির আঠাশ তারিখ, সবে মাইনে ঢুকেছে অ্যাকাউন্টে, অফিসে জেলাস পার্টি গুম হয়ে বসে আছে যেই শুনেছে দেড় সপ্তাহের ছুটিতে সিমলা মানালি বেড়াতে যাচ্ছি। এদিকে আমিও হ্যাপ্পি হোলি ইন অ্যাডভান্স বলে একটু তাড়াতাড়িই বেরিয়ে পড়েছি।আজ রাতের ঘুমটা খুব জরুরি। কারণ কালকে রাতটা ট্রেনে জেগে কাটাবো। গড প্রমিস, একটুও ঘুমোবো না। ট্রেনে ঘুম আসে না তা নয়, ছোটবেলায় দোলনায় দুলিয়ে দুলিয়ে ঘুম পাড়ানো হত, ধেড়ে হয়ে যাওয়ার পরে একমাত্র ট্রেনেই দুলে দুলে ঘুমোনো যায়। কিন্তু কাল তো পূর্ণিমা, চারদিকে চাঁদের আলো পড়বে, আর আমি ভোঁস ভোঁস করে নাক ডাকিয়ে ঘুমোবো এমন বেরসিক আমি নই। তাই বলে যে দাঁতে কলম আটকে কবিতা লিখব তাও নয়। শুধু বাইরের দিকে তাকিয়ে মোবাইলে খুব প্রিয় কিছু গান শুনব এরকম ইচ্ছে আছে। সক্কাল বেলা বাইরে চেঁচামেচি। পিচ্চি পিচ্চি সব বাচ্চাগুলো রং খেলতে বেরিয়ে পড়েছে। ধেড়েরা বারোটার পর বেরোবে, কারণ ওদের বারোটা অনেক আগেই বেজে গেছে। এমন ছুঁচো, কি একটা কিনতে একটু বেরিয়েছিলাম, বাঁদুরে রং লাগিয়ে দিলো। আমিও আচ্ছা করে কথা শুনিয়ে দিয়েছি ওর বাবা না কাকা কে একটা দাঁড়িয়েছিল ভুত হয়ে, তাকে। বুঝলাম, সাতটা চল্লিশে হাওড়া থেকে ট্রেন, যদি সুস্থভাবে যেতে হয়, তবে পাঁচটায় বেরোতে...
শিবখোলা-অহলদাঁড়া ভ্রমণকাহিনী

শিবখোলা-অহলদাঁড়া ভ্রমণকাহিনী

শিবখোলা-অহলদাঁড়া ভ্রমণকাহিনী : শীতের সন্ধ্যার নিশ্ছিদ্র অন্ধকারকে ভেদ করে যখন পূর্ণ-চন্দ্র তার অপরুপ রুপ-মাধুর্যের ডালি নিয়ে অহলদাঁড়ার পাহাড়ে উদ্ভাসিত হল তখন অপেক্ষমান বঙ্গকূলবর্গের আকর্ণরঞ্জিত হাস্যধারা এবং সম্মিলিত কলতান বৃক্ষকোটরে সুখনিদ্রামগ্ন বিহঙ্গকূলকেও জানান দিয়ে গেল “শহুরে অভ্যাসের দাসত্ব ধ্যানমগ্ন পাহাড়েও জলজ্যান্ত রুপে প্রতীয়মান” । চন্দ্রালোকিত অহলদাড়ার শীর্ষদেশে দাঁড়িয়ে দুরের কাঞ্চনজঙ্ঘার আবছা অবয়ব মনের ক্যানভাস রাঙিয়ে দিয়ে গেল, কিন্ত্তু ইঁট-কংক্রীটের জঙ্গল থেকে পালিয়ে এসেও রেহাই পেলাম কই? অপরাধ মার্জনা করবেন, অকস্মাৎ রবি ঠাকুরের প্রতি একটু জেলাস হয়ে পড়লাম, আমসত্ত্ব-দুধকলার কম্বিনেশনে হাপুস-হুপুস শব্দের মাঝেও একমাত্র তাঁর মতো মহামানব-ই পারেন চারপাশের লুকিয়ে থাকা নিস্তব্ধতাকে খুঁজে নিতে । ঘড়িতে সাড়ে ৮টা বাজার ইঙ্গিত মিলতেই পাহাড়ী দাজু এসে রাতের আহার শেষ করে ওদের তাড়াতাড়ি ছুটি দেবার মিনতি জানিয়ে গেল । কিন্তু মনে হলনা তা আদৌ কারোর ‘কর্ণ বেয়ে মর্মে পশিল’ । আরো আধঘন্টা জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহের পাহাড়ী ঠান্ডাটা উপেক্ষা করে কাটিয়ে দিলাম । শীতটা জাঁকিয়ে পড়ার উপক্রম হতেই ধীরলয়ে চন্দ্রশোভা অবলোকন করার লোকের সংখ্যাও কমতে থাকল । ঘড়ির কাঁটা ৯টা পেরোতেই রাতের রুটি-মাংসের বরাদ্দ উদরস্হ করে, গরম পানীয় জলের বোতল কব্জা করে যখন কোয়েচা কোম্পানী-নির্মিত তাঁবুর সামনে এসে দু-দন্ড দাঁড়ালাম, তখনও দুই বীরপুঙ্গব তাৎক্ষনিক স্বর্গসুখ লাভের আশায় কিংবা শীতজয়ের দুরন্ত প্রয়াসে নিভন্ত বনফায়ারের সামনে ঈশ্বরীয়(?) বোতলে স্বেচ্ছাবন্দী । তাঁবুর উষ্ণতায় নিজেকে সেঁকে নিতে নিতে তিন বান্ধব নিজেদের অস্হি-মজ্জা-চর্মকে শ্লিপিংব্যাগরূপী শীতবর্মের মাঝে সমর্পণ করলাম । ‘অদ্যই শেষ রজনী’, কাল ফিরতে হবে শহুরে কোলাহলমুখর কংক্রীটের জঙ্গলে যেখানে প্রচলিত প্রফেশনাল ইঁদুর-দৌড়ে আমিও এক অদক্ষ প্রতিযোগী । প্রকৃতি মায়ের কাছে প্রার্থণা করলাম এই ভ্রমণকে আবার রিওয়াইন্ড করে দেবার জন্য । বাস্তবে যদি নাও বা হয়, অন্ততঃ সুখস্বপ্নে… । ওয়েলস সাহেব কেন যে শুধু টাইমমেশিনের গল্পটা লিখেই ক্ষান্ত হলেন; ফরমূলাটা একবার হাতে পেলে লড়ে যেতাম । অতএব “মন চলো নিজ...
KEDARNATH YATRA

KEDARNATH YATRA

KEDARNATH YATRA   THE ALMIGHTY চারধাম যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। কেদার নাথের নাম নিয়ে আমিও গত বছর ঘুরে এসেছি কেদার বদ্রি। আমার গন্তব্য পথ টা তুলে ধরলাম আপনাদের কাছে……. day ১– শিয়ালদাহ স্টেশন থেকে দিল্লী রাজধানী day ২- দিল্লী থেকে ৩-২০ pm এ 12055 DDN JANSHTBDI ..৭-৩০ pm নাগাদ হরিদ্বার day ৩- সকাল ৮টা এর সময় নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বিকেলের দিকে পৌঁছে গেলাম শোন্ প্রয়াগ। সেখানে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করে ভাড়া গাড়ি নিয়ে পৌঁছে গেলাম গৌরী কুন্ড এ। ছিলাম ভারত সেবাশ্রম সংঘ এর পাশেই সুনীল লজ এ। প্রসঙ্গত জানাই গৌরীকুন্ড এ ঘর ভাড়া একটু বেশি ই ঘরের তুলনায়।তাই বিশাল সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে এটা ভাবাই ভুল day ৪- রাত ৩টের সময় উঠে ঘোড়া পিটটু ঠিক করতে গেলাম।দুলি দিনের দিন বললে পাওয়া যাবে না….এদিকে আমাদের হাতে সময় নির্দিষ্ট থাকায় আমরা ঘোড়া আর পিট্টু নিতে বাধ্য হয়েছিলাম।….সরকারি দাম যাই থাক…..ঘোড়া পিট্টু বেশি নেবেই।…..দরদাম অবশ্যই করে নেবেন।…..আমরা যাওয়ার সময় ঘোড়া পেয়েছিলাম ৩৫০০/- আর আসার সময় ১৮০০/- তে। পিট্টু আস্তে যেতে প্রায় ৫০০০/- মতো নিয়েছিল।….ঠিক খেয়াল নেই…….আমি অবশ্য পুরো পথ টাই হেঁটেছি।.. EI CHOTTO CHOTTO PAYE CHOLTE CHOLTE THIK POUCHE JABO….. ভোর ৫/৩০টাই রওনা দিলাম আমরা।…..যেন সমগ্র ভারতবর্ষ এসে মিলিত হয়েছে ভোলেবাবার কাছে।…….আমি ১-৩০pm নাগাদ পৌঁছলাম কেদারনাথ এ….পৌঁছেই gmvn এর ঘর নিলাম। নাম টা pre fabricated hut….ঘর অনেক আছে……আগে থেকে বুক করার কোনো দরকার নেই.।…..একটু বিশ্রাম নিয়ে পুজো দিলাম।……পুজোর লাইন তা নড়তেই চায় না……আসলে প্রচুর বেলাইনে লোক ঢোকে।…..খালি ৬pm হয়ে গেলে লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উদ্যোগী হয়ে তখন ঠিকভাবে লোক ঢোকায় মন্দির এ …৮টা নাগাদ পুজো দিয়ে কিছু খেয়ে ঘরে ফিরে ঘুম. Day ৫– ভোর বেলা উঠে প্রকৃতি কে বরফে ঢাকা কেদার শৃঙ্গ কে…..দূরের চোরাবালিটাল এর পথ কে দুচোখ ভোরে দেখে নিলাম। . TUMI ROBE NIROBE আর...