Mechuka – A Hidden Paradise in Arunachal Pradesh

Mechuka – A Hidden Paradise in Arunachal Pradesh

অরুণাচলের মেচুকায়…মেম্বাদের দেশে




বছর  তিনেক  আগে এয়ারফোর্সে কর্মরত  আমার এক বন্ধুর কাছে প্রথম মেচুকার কথা জানতে পারি। পূর্ব অরুনাচলের ওয়েস্ট কামেং জেলায় ভারত-চিন সীমান্ত ম্যাকমোহন লাইন থেকে  মাত্র ২৯ কিমি আগে চারদিকে পাহাড় ঘেরা একটা ভ্যালি, মেচুকা।ভ্যালির মাঝখান দিয়ে ইয়ারগ্যাপ ছু নদী বয়ে গেছে। মেম্বা আর অন্য কিছু আদি উপজাতিদের বাস। শুনলাম সেখানে যাওয়া বেশ ঝামেলার, রাস্তাও দুর্গম। ভেবেছিলাম পরে কখনো রাস্তাঘাট ভাল হলে যাওয়া যাবে। কিন্তু ছবিগুলো দেখে আর গল্প  শুনে বেশ  দোটানায়  পরে গেলাম।যাব কি যাব না! অবশেষে কয়েকমাস আগে ইউটিউবে মেচুকার একটা ভিডিও দেখে মেচুকা অভিযানের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হল। বিভিন্ন সূত্র থেকে যত বেশি সম্ভব তথ্য নিয়ে পারমিট জোগাড় করে মে মাসের শেষ সপ্তাহে যাত্রা শুরু করলাম।অরুণাচলের ইনারলাইন পারমিটের জন্যে যে কেউ অনলাইনে(http://arunachalilp.com/index.jsp) আবেদন করতে পারেন।

কলকাতা থেকে মেচুকা যেতে গেলে এই মুহুর্তে সবথেকে সুবিধাজনক উপায় হল কিছুদিন আগে চালু হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে পাসিঘাট চলে যাওয়া।কিন্তু এই পরিষেবা শুরু হওয়ার আগেই আমি ডিব্রুগড়ের টিকিট কেটে ফেলেছিলাম। সেখান থেকে স্টিমারে ব্রহ্মপুত্র নদ পার করে পাসিঘাট ও আলং হয়ে মেচুকা।আমার পরিচিত একজনের কাছ থেকে ডিব্রুগড় থেকে একটা ইনোভা গাড়ি ভাড়া করেছিলাম। দিনপ্রতি ৪৫০০ টাকা নিয়েছিল।পাসিঘাট থেকে আলো, আলো থেকে মেচুকা লোকাল সুমো সার্ভিস আছে। সকাল ৫টা থেকে ৫:৩০ এর মধ্যে সুমো ছাড়ে। আগের দিন সুমোর সিট রীসার্ভ করতে হয়।পাসিঘাট থেকে আলোর জনপ্রতি ভাড়া ৫০০ টাকা আর আলো থেকে মেচুকার ভাড়া ৬০০ টাকা। তবে নিজেদের ভাড়া গাড়ি সাথে রাখলে কোথাও গিয়ে আশপাশের জায়গাগুলোকেও ভাল করে ঘুরে দেখে নেওয়া যাবে। অরুনাচলের এই অংশে ঘোরার ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে গেলে ও নিজস্ব যোগাযোগ না থাকলে ভাল কোন ট্রাভেল অপারেটরদের সাথে যাওয়াই ঠিক হবে।যদিও এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত।




II ডিব্রুগড় ও পাসিঘাটের দিনলিপি II

২৭শে মে :

সকাল ৮:১০ এ ডিব্রুগড় এয়ারপোর্টে এসে দেখি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। লাগেজ নিয়ে বাইরে আসতে আসতেই শিবার ফোন। শিবাকে আমি আগে  দেখিনি। কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে শুধু। ডিব্রুগড় থেকে পাসিঘাট, আলো (অনেকে আলং ও বলেন) হয়ে মেচুকার দীর্ঘ যাত্রাপথে ওই আমাদের সারথি ও পথপ্রদর্শক।২৫-২৬ এর হাসিখুশি স্বভাবের যুবক।মালপত্র চটপট গাড়ির মাথায় তুলে দিয়ে আমাদের নিয়ে গাড়ি ছোটাল ৪০ কিমি দুরের বগিবীল জেটির দিকে। আজ আমাদের গন্তব্য পাসিঘাট।

বগীবিল ব্রিজ

শহর ছাড়িয়ে চা বাগানের ভিতর দিয়ে ঘন্টাখানেকের যাত্রাপথে জেটিঘাটে এসে গেলাম। ব্রহ্মপুত্র নদ এখানে অনেকটাই চওড়া। বগিবীল ব্রিজের কাজ এখনো চলছে। অগত্যা পারাপারের জন্য স্টিমারই ভরসা। ভোর চারটে থেকে শুরু করে সকাল সাতটার মধ্যে সরকারি স্টিমার সব চলে গেছে। কিছু বেসরকারি স্টিমার গাড়ি ও লোকজন পাড় করাচ্ছে। তাতেও যা দেখলাম প্রায় দুঘণ্টা লাইন দিতে হবে। এদিকে ফ্লাইটে খাবার দেওয়ায় জলখাবারের পর্বও শেষ। পরিবার সমেত গাড়িতে বসে কি করব, না করব ভাবছি। গাড়ি লাইনে দাঁড় করিয়ে শিবা টুক করে কোথায় যেন চলে গেল। একটু পরেই ফিরে এসে বলে….দাদা ব্যবস্থা হয়ে গেছে তবে কিছু বেশি লাগবে। নিচে নেমে খোঁজ নিয়ে দেখলাম লাইন না দিয়ে তৎক্ষণাৎ যেতে চাইলে বেশি লাগে বটে,  তবে বেশি টাকার অংকটাও নির্দিষ্ট। সেই ভোররাতে উঠে রওনা দিয়েছি সবাই। ক্লান্ত লাগছে। কাঠের পাটাতনে চেপে গাড়ি উঠে পড়ল স্টিমারে। আমাদের কেউ কেউ স্টিমারের খোলের বসার জায়গায় চলে গেল। আমরা কজন ওপরে সারেঙ সাহেবের ঘরের সামনে এসে বসলাম। বেশ হাওয়া খেতে খেতে আর সবকিছু দেখতে দেখতে যাওয়া যাবে। নদের জল ঘোলা। মাঝেমাঝে কয়েক জায়গায় চড়া পরেছে। স্টিমার তাই সরাসরি পেরোতে পারে না। ওপারে শিলাপাথারের দিকে কারেং ফেরিঘাট। এপারওপার দেখা যায়না। পাশে বসা স্থানিয় মানুষজনের সাথে গল্প শুরু করি। বেশিরভাগই অসমিয়া। কিছু অরুনাচলিও আছেন। তবে তারা সহজে মুখ খুলতে চায় না। তার বিভিন্ন কারন আছে। সেসব থাক। এখানকার বিস্তীর্ণ অংশের মানুষদের কাছে এই ফেরিঘাট অন্যতম লাইফলাইনের মত। বহু বছর ধরে তারা বগিবীল ব্রিজের আশায় বুক বেঁধে আছে। আবার ব্রিজ হলে স্টিমারের মাঝিমাল্লারা  কাজ হারানোর আশংকা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। দেখতে দেখতে ঘন্টাখানেকের মধ্যে ওপারে নেমে পড়লাম।




একটু চা খেয়ে নিয়ে বেলা বারোটা নাগাদ আমরা   আবার ৯৫ কিমি দূরত্বে পাশিঘাটের দিকে এগোলাম। পুরোটাই বেশ ভাল মোরাম বিছান পাকা রাস্তা। কিছুদূর গিয়েই রাকসিন গেটে পারমিট চেক  করিয়ে অরুনাচলে ঢুকে পড়লাম।  তিনঘন্টায় পাশিঘাট  পৌঁছে দু-তিনটে হোটেল দেখার পর হোটেল আ্যনে তে এসে উঠলাম।মাঝে পাশিঘাটে ঢোকার মুখে ফার্স্ট ফ্লোর নামের একটা রেস্তোরাঁয় বেশ ভাল চাওমিন আর মোমো খাওয়া হল।হোটেল আ্যনে মোটামুটি চলনসই। ডাবলবেড নন-এসি রুমের ভাড়া ১৬০০ টাকা, এসি ডাবলবেড ২৩০০ টাকা। ইংলিশ টয়লেট, গীজার আছে।লিফট নেই, নিজস্ব রেস্তোরাঁ আছে। মোটামুটি সবই পাওয়া যায়। দামও মডারেট, তবে রান্না খুবই সাধারন মানের।ঘরে মালপত্র রাখার কিছুক্ষণের মধ্যে আকাশ কালো করে এসে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামল।বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরের ঝাপসা পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে মনটা কোন এক অজানা আশংকায় কেঁপে উঠল। সামনে দুর্গম রাস্তা, কে জানে কি হয়!

পাসিঘাটের রাস্তায়

বৃষ্টি থামার পর আমরা কজন শহর দেখতে বেরোলাম। রবিবারের বিকেল। ইয়ং জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা সেজেগুজে টু-হুইলার নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। রাস্তার ধারে ধারে জটলা করে দাঁড়িয়ে আড্ডা চলছে। বেশ ভিড়। এতক্ষণে শিবা আমাদের পছন্দ-অপছন্দ বেশ বুঝে ফেলেছে। সোজা গাড়ি নিয়ে শহরের বাইরে ছোট্ট এয়ারপোর্টের পাশ  দিয়ে সিয়াং নদীর ওপর রানাঘাট ব্রিজে নিয়ে এল। রানাঘাট ব্রিজ জায়গাটা বেশ সুন্দর। সিয়াং নদী, নদীর দুধারের জংগল, দুরের পাহাড় যেন হাতছানি দিয়ে ডাক  দেয়। কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই ফিরে এলাম। এখানে দেখলাম সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শুনলাম বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না থাকাই শ্রেয়। সারাদিনের ধকল শেষে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে বিছানায় শুতেই চোখে রাজ্যের ঘুম নেমে এল।

পাসিঘাট থেকে রানাঘাট ব্রিজের রাস্তায়

IIআলং হয়ে মেচুকার পথে II

২৮শে মে:

ভোর পাঁচটা নাগাদ ঘুম ভেঙে গেল। বাইরে ঘুরতে  এলে আর আ্যলার্ম ক্লক লাগে না। বারান্দায় এসে দেখি নিচে রাস্তাপাশের দোকানগুলো খুলতে শুরু করেছে। এদিকে দেশের অন্য অংশের তুলনায় একটু আগেই ভোর হয়। সকালের চা টা বাইরে খাব  ভেবে হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম। কিছুটা গেলেই গান্ধী মোড়ের কাছে বাজার বসেছে। বাজারের উল্টোদিকে একটা চায়ের দোকানে বেশ ভিড়। ২০ টাকা পিসের পেল্লায় সাইজের আলুর পরোটা পাওয়া যাচ্ছে। সংগে আলুর তরকারি। সবার জন্য পরোটা অর্ডার করে এককাপ চা খেয়ে বাজার দেখতে বেরোলাম। আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে মহিলারা বিভিন্ন পসরা নিয়ে বেচাকেনায় বসেছে। বিভিন্ন ধরণের শাক-সব্জি, ফল-ফুল, শুকনো মাছ এমনকি কয়েক ধরণের পোকাও দেখলাম। হোটেলে ফিরে চট করে প্রাতরাশ সেরে সকাল দশটার মধ্যে আলোর পথে বেড়িয়ে পড়লাম। পাসিঘাট থেকে বাবুক, পাংগি,কোমসিং, বেগিং হয়ে  আলো প্রায় ১০৫ কিমি।

পাসিঘাট শহর থেকে বেরিয়ে সিয়াং নদীকে ডানদিকে রেখে গাড়ি ছুটল। প্রথম দিকে পাংগি পর্যন্ত রাস্তা মোটামুটি ভাল হলেও কোমসিং থেকে আলো  শেষ ৩০ কিমি পাহাড়ি  রাস্তা একেবারেই ভাঙা, কর্দমাক্ত । রাস্তায় বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি পড়ে জল জমে থাকায় আরও অসুবিধা হচ্ছে। এখানে শিবার গাড়ি চালানোর মুন্সিয়ানার পরিচয় পেলাম। বেলা একটা নাগাদ পাংগিং গ্রামের কাছে রাস্তার ধারে একটা ছোট্ট  দোকানে শিবা সামান্য কিছু খেয়ে নিয়েছিল। আমরা সঙ্গে থাকা কেক, চিড়েভাজা দিয়ে কাজ চালালাম। কমসিঙের কাছে এসে রাস্তার ধারে সিয়াং নদীর ওপর একটা ঝুলন্ত ব্রীজ দেখতে পেলাম। গাড়ি থামিয়ে সেখানে গিয়ে ব্রীজের ওপর উঠে একপ্রস্থ ছবি তোলার পর্ব সারা হল। যত এগোচ্ছি রাস্তার ধারের জংগল আরও ঘন হচ্ছে।




প্রথমদিকে কিছু গালো, আদি  উপজাতি গ্রাম দেখলেও এখন আর  কোন জনবসতি চোখে পড়ছে না। সদ্য বৃষ্টিস্নাত জংগল থেকে দিনের বেলাতেই প্রচণ্ড ঝিঁঝিঁপোকার ডাক ভেসে আসছে। ক্রমশ আমরা যেন এক আদিম বন্য প্রকৃতির মাঝে ঢুকে পড়লাম।অরুনাচলের এই অংশেও প্রচুর প্রজাপতি ও পাখি চোখে পড়ল। মাঝেমধ্যেই গাড়ি থামিয়ে সাথে থাকা ক্যামেরা বাগিয়ে শিবা গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছিল।প্রজাপতির ছবি তোলা ওর নেশা।ছবি তুলে ফিরে এসেই সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া আমার ছেলে আর ভাগ্নেকে দেখাচ্ছিল।এক অনাবিল আনন্দের হাসিতে ভরে উঠছিল ওর মুখ।ছেলেটা সত্যিকারের প্রকৃতি-প্রেমিক।আমার মা একবার ভুল করে চিড়েভাজার প্যাকেট রাস্তায় ফেলেছিল।গাড়ি সাইডে দাঁড় করিয়ে রাস্তা থেকে প্যাকেট কুড়িয়ে এনে গাড়িতে রেখে দিল।বলল সব প্যাকেট আলোয় পৌঁছে ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। যেতে যেতে অন্তত তিনবার হ্যাচকা ব্রেক মেরে গাড়ি থামাতে হল। বনের সাপ রাস্তা পার হচ্ছে।

বর্ষার মেঘলা আকাশ, দুপুরেই দিনের আলো কমে আসছে। এইরকম একটা সময়ে  বিশাল একটা গর্তে পড়ে গাড়ির নিচের অংশটা পাথরে ভালরকম  ঘষে গেল। নিচে নেমে দেখা গেল ফুয়েল ট্যাংকে লিক হয়ে ডিজেল পড়তে শুরু করেছে।এরপর থেকে রাস্তায় বড় গর্ত এলেই আমরা কয়েকজন গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে পেরিয়ে যাচ্ছিলাম। আলোয় পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় বিকেল চারটে বেজে গেল।শহরে ঢোকার মুখেই নতুন বানানো হোটেল মিন্টা তে ঘরের খোঁজ নিলাম। আমাদের মোট তিনটে ঘর দরকার ছিল। দুটোর বেশি খালি নেই বলল। এই হোটেলের ঘরগুলো বেশ ভাল মানের। রুম সার্ভিস আছে।ভাড়া ঘরবিশেষে ১৫০০-৩০০০ টাকা।যাইহোক ঘর না পাওয়ায় আবার একটু এগিয়ে আলং রানওয়ের পাশেই হোটেল ম্যানসন প্লাজাতে গেলাম।সেখানে ঘর খালি থাকলেও, শুধু দুটো ঘর পছন্দ হোল।শিবা জানাল সিয়ম নদীর ধারে খুব ভাল একটা রিসর্ট আছে। এছাড়া নতুন ও পুরোন বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটা সাধারণ মানের হোটেলও আছে।আমি নদীর ধারে রিসর্ট শুনে ভাবলাম প্রচুর ভাড়া হবে, তাই আর ওদিকে না গিয়ে নেট থেকে পাওয়া একটা হোমস্টে তে ফোন করে জানলাম ঘরের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এই হোমস্টেটা আলং শহর থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে। সেখানে গিয়ে দেখি হোমস্টের বাইরেটা বেশ সাজান-গোছান হলেও ঘরগুলো বদ্ধ আর অপরিষ্কার।একটা ঘরের লাগোয়া বারান্দা থাকলেও বাকি দুটো ঘরের বারান্দা তো বটেই, জানালাও নেই।তিনটে ঘর ১৫০০ টাকা করে, আর ননভেজ মিল ৪৫০ টাকা ও ভেজ মিল ৩৫০ টাকা করে নেবে জানাল।আমরা তখন পথশ্রমে ক্লান্ত। তাই এখানেই একটা রাত থাকব ঠিক করলাম।এই সিদ্ধান্তের জন্য পরে অনেক আফসোস করেছি।




মেচুকা থেকে ফেরার সময় আমরা আবার আলোতেই দুদিন ছিলাম।নদীর ধারে সেই পি এন্ড পি রিসর্টেই। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা।বিশদে পরে লিখব।শিবা আমাদের নামিয়ে দিয়েই ফুয়েল ট্যাঙ্কের লিক সারাতে মার্কেটে চলে গিয়েছিল।সন্ধ্যায় বেশ জোরে বৃষ্টি নামল।আবার আমার মনের মধ্যে সেই আশঙ্কার কালো মেঘের আনাগোনা শুরু হল।কথায় বলে যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়।শিবা ফিরে এসে জানাল সুমো কাঊন্টার থেকে সে জেনে এসেছে, গত দুদিন ধরে মেচুকার রাস্তা বন্ধ। ধ্বস নেমেছে তিন-চার জায়গায়।কাজ চলছে, কবে ঠিক হবে কেউ জানে না।আমরা ভগবানের নাম নিতে শুরু করে দিলাম। মন খুব খারাপ হয়ে গেল।পরদিন মেচুকা যাওয়া যাবে না। কবে আদৌ যাওয়া যাবে তাও জানি না।আগামিকাল আলোর আশেপাশের কিছু জায়গা দেখতে যাব ঠিক করে, ঠাণ্ডা ভাত, ডাল, আলু-বাঁধাকপির ঘ্যাঁটের ৩৫০ টাকার ভেজমিল খেয়ে মনের দুঃখে চুপচাপ ঘুমাতে চলে গেলাম।

২৯শে মে :

পোবদি গ্রাম

সকালে উঠে মেঘলা আকাশ  আর ঝিরঝিরে বৃষ্টি দেখে আরও মন খারাপ হয়ে গেল। চা খেতে খেতে সবাই মিলে বসে আলোচনা করছিলাম মেচুকা না যেতে পারলে আর কোথায় যাওয়া যায়। ইংকিওং হয়ে টুটিং যাব ভাবলাম। অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকায়ে যায় এই আপ্তবাক্য সত্যি করে  শিবা জানাল সেদিকেও রাস্তা বন্ধ।  শংকরদা বলল তাহলে দাপোরজিও আর জিরো ঘুরে আসা যাক।আমি জানি তাতে আমার মন ভরবে না। যাহোক ঠান্ডা সেঁকা পাউরুটি আর  ততোধিক ঠান্ডা ডিমভাজার (অমলেট নয়। কারণ পেঁয়াজ,লংকা কিছু নেই তাতে) কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট চিবিয়ে বেরিয়ে পড়লাম গালো উপজাতিদের গ্রাম দেখতে।




প্রথমেই যাওয়া হল পোবদি ভিলেজে। আলো শহর থেকে  ১৫ কিমি দূরে। সিয়ম নদীর ওপারে দড়ি ও কাঠের ব্রিজ পেরিয়ে সেখানে  যেতে হয়। ব্রিজ পেরোলেই নদির ধারে খুব সুন্দর একটা জায়গা। গ্রামের লোকেরা এখানে পিকনিক করতে আসে। আমরা গিয়ে দেখি আজকেও একটি পরিবার বাচ্ছাদের নিয়ে এসেছে। বাচ্চাগুলো নদীর ধারে খেলা করছে। বড়রা আগুন জ্বালিয়ে রান্নার ব্যাবস্থা করছে। বাঁশের মধ্যে পাতায় মোড়া ভেজান চাল, আর নদীর মাছ ঢুকিয়ে সেই বাঁশ আগুনে ঝলসাচ্ছে। আমি একা থাকলে ওদের খাবারে  ভাগ বসাতাম। অনেকে থাকায় সেটা  আর হোল না।নদীর ধারে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে পোবদি গ্রাম দেখতে গেলাম। গ্রামের পুরুষেরা বেশিরভাগ কাজে বেরিয়ে গেছে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দেখলাম ডোন্যি পোলো ধর্মের উপাসক। তার প্রমাণস্বরুপ বাড়ির উপর সাদা পতাকা উড়ছে। তাতে লাল সূর্য আঁকা।আরও যা যা দেখলাম তার বিবরণ দিয়ে লেখার কলেবর বাড়ালাম না।

বেনে গ্রাম

পোবদি থেকে ফিরে আলো বাজারের কাছে আগম হোটেলের নিচে একটা টিবেটিয়ান দোকানে দুপুরের খাবার খেতে ঢুকলাম। সেখানে শুধু পর্ক আর চিকেন চাওমিন/থুকপা/মোমো ইত্যাদি পাওয়া যায়। সেদিন মঙ্গলবার হওয়ায় আমরা দু-তিন জন নিরামিষ খাব। ভেজ চাওমিন চাইতে দেখি শুধু টমাটো আর পেঁয়াজ দেওয়া  নুডলস দিয়ে গেল। ক্ষিধের মুখে খেতে বেশ ভালই লাগল। খাওয়া সেরে একটু আলোর  বাজার ঘোরা হল।বেশ বড় পাইকারি বাজার। এখানেও পাসিঘাটের মত সেইরকম রঙিন বাজার। মহিলারাই চালায়।সামান্য কিছু কেনাকাটা করে চললাম আলোর রামকৃষ্ণ মিশন ও স্কুল দেখতে। শহর থেকে মাত্র ৫ কিমি। এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারে এই স্কুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সান্ধ্য উপাসনা দেখে বাড়ি ফিরলাম। কিন্তু মন অশান্ত। সুমোর টিকিট কাটার  কাউন্টার থেকে জানাল আজকেও রাস্তা খোলেনি। আর এখানে থাকতেও ভাল লাগছে না। কি করব! এতগুলো দিন কোথায় কাটাব কিছুই জানিনা।রাতে এরা বলেছিল পুকুরের মাছ খাওয়াবে। খেতে গিয়ে দেখি  ৪৫০ টাকার নন-ভেজ মিলে বরফের চালানি কাটাপোনা দিয়েছে। বাইরে বেড়াতে গেলে কোনদিনই খাওয়া নিয়ে ভাবিনি। যে কোন জায়গায় যা  কিছু পেলেই হোল।কিন্তু যেখানে সব পাওয়া যায় সেখানেও মিথ্যার বেসাতি মনটা আরও খারাপ করে দিল। সেদিন অনেক রাত অবধি ঘুম এলনা। মেচুকা কি আমাদের  ফিরিয়ে দেবে ?

পোবদি গ্রামে যাওয়ার সেতু

II মোহময়ী মেচুকা ও ইয়ারলুং এর পথে এক গুরুদ্বোয়ারা II

৩০শে মে :

ভোর ৪:৩০ টের সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভাঙল। দরজা খুলতে শিবার মুখে শুনলাম ওর সুমো-চালক বন্ধু ফোন করে জানিয়েছে ভোর ৪টে থেকে নাকি মেচুকার রাস্তা খুলে গেছে। আমরা চাইলে যেতে পারি। ওর নিজেরও ইচ্ছা আমাদের নিয়ে যায়। তখনই আমার সেই এয়ারফোর্সের বন্ধুকে ফোন করে শুনলাম আর্মি মুভমেন্ট ঠিক রাখার জন্য রাস্তায় ধ্বসপ্রবণ এলাকাগুলোতে সমস্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, কোন চিন্তার কারণ নেই। ব্যস্….আর আমাদের পায়  কে!…তড়িঘড়ি সবাই তৈরি হয়ে সকাল আটটার মধ্যে আলং ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম। হোমস্টের মালিক অবশ্য শেষ পর্যন্ত পথের সম্ভাব্য বিপদের ভয় দেখিয়ে আমরা যাতে মেচুকায় না গিয়ে ওর  ওখানেই থাকি সেই চেষ্টা চালিয়ে গেছিলেন।

ইয়ারলুং এর পথে

যাওয়ার পথে আলং বাজারে ব্রেকফাস্ট করে, গাড়িতে খাওয়ার জল তুলে নিলাম। শিবা মোড়ের মাথার পেট্রল পাম্প থেকে ফুয়েল ভরিয়ে নিল। আলং থেকে মেচুকার ১৮৬ কিমি লম্বা রাস্তায় হাতে গোনা গুটিকয়েক দোকান। পথে কোন পেট্রল পাম্প নেই। ঘন্টাদুয়েক চলার পর কেয়িং ছাড়িয়ে প্রায় দশ কিমি যেতেই রাস্তার সবচেয়ে বড় ল্যান্ডস্লাইড জোনটা দেখতে পেলাম। বেশ সময় নিয়ে শিবা জায়গাটা পার করাল। আবার সেই সিয়ম নদীকে ডানপাশে রেখে পাহাড়-জংগল পেরিয়ে পথ চলা।

আলং এ সিয়ম নদী

জঙ্গলের এদিকটায় পাহাড়ের গায়ে প্রচুর কলা গাছ দেখলাম। কিন্তু কি আশ্চর্য!…কোথাও একটা বাঁদর বা হনুমানের দেখা পেলাম না।এর উত্তর পরে মেচুকায় গিয়ে পেয়েছিলাম।চলতে চলতে একজায়গায় উল্টোদিক থেকে আসা একটা DUSTER গাড়ির চালক আমাদের গাড়ির পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে শিবার সাথে স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে লাগল। মাঝে মাঝে আবার আমাদের দিকে চেয়ে মিটিমটি হাসছিলেন।শিবা আলাপ করিয়ে দিল,- ‘ইনি মেচুকার প্রথম হোমস্টের মালিক গেবু সোনা’। গেবুজি আমাদের চিনতে পেরেছিলেন।আলো থেকে আমরা ওনার সাথে ফোনে কথা বলেছিলাম।সপরিবারে ছেলেকে আলোর বোর্ডিং স্কুলে ছেড়ে আসতে যাচ্ছেন।দুদিন পরে ফিরবেন।ওনার হোমস্টেতে রাখতে পারবেন না বলে বারবার আফসোস করছিলেন।শিবাকে বলে দিলেন অন্য আরেকটি হোমস্টের হদিশ।মেচুকায় ফিরে এসে দেখা করবেন জানিয়ে গেবুজি বিদায় নিলেন।

ইয়ারলুং এর পথে

বেলা দুটো  নাগাদ ‘পেনে’ নামের একটা জায়গায় এসে রাস্তার ওপর ‘Welcome to  Mechuka ‘ লেখা গেটটা দেখতে পেলাম। শিবা বলছিল এই গেট পর্যন্ত আসা মানে অর্ধেক রাস্তা পেরিয়ে আসা। আমরাও দেখলাম প্রায় ৯৯ কিমি রাস্তা পেরিয়ে এসেছি। এখানে একটা পাইস হোটেল আছে। ডাল,ভাত,তরকারি, চিকেন সবই পাওয়া যায়। এপথের নিত্য যাত্রিরা এখানেই খাওয়া সেরে নেয়।এছাড়া লাগোয়া একটা মাথা গোঁজার মত হোটেলও আছে। মুরগি শেষ হয়ে গেছে।  বাকিরা ডাল,ভাত,সবজি নিলেও আমি,শঙ্করদা,আর শিবা ভাতের সাথে এখানকার ঝালঝাল পোর্ক কারি নিলাম। আহা!… তার স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে। খেয়ে-দেয়ে বেলা তিনটের মধ্যে আবার রওনা দিলাম। পেনে থেকে টাটো ৩৯ কিমি, আরো দু -ঘন্টার পথ। ২০০৩ সালেও টাটোর পর আর গাড়ি যেত না। টাটো থেকে মেচুকা আরো ৫০ কিমি। পথে অনেক মিথুন চোখে পড়ল। এগুলো গোরুর মত একরকমের গৃহপালিত পশু। গয়াল প্রজাতির। শিবা বলছিল এখানে মিথুনের সংখ্যা দিয়ে কোন পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নির্ধারণ হয়। বিয়েতে ছেলেদের বাড়ি থেকে মেয়েদের বাড়িতে মিথুন দেওয়ার চল আছে। বিভিন্ন পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মিথুন বলি দেওয়া হয়। বিশেষ করে আপাতানি উপজাতির প্রায় সব পরিবারে এদের পোষা হয়।

মেচুকার পথে

পেনে ছাড়িয়ে ২০ কিমি যাওয়ার পর লিপোর কাছে একটা বড় ওয়াটার ফলস চোখে পড়ল। নাম সিকো-ডিডো ওয়াটার ফলস।তখনো অনেক পথ বাকি। ফেরবার সময় এখানে দাঁড়াবো ঠিক করে আমরা ওয়াটার ফলস ছাড়িয়ে টাটোর দিকে এগিয়ে গেলাম। টাটো মূলত আদি উপজাতিদের গ্রাম। এরা বেশিরভাগই এখন   ধর্মান্তরিত  খ্রিষ্টান। এখানে একটা চায়ের দোকানে হিন্দিতে চায়ের অর্ডার দিতে দোকানদার পরিষ্কার বাংলায় বলল, ‘আপনি বাংলাতেই বলতে পারেন। ‘- আমি চমকে তাকাতে বললেন তিনি আসামের বাঙালি।বহুদিন বর্ধমানে থেকেছেন। এখন সপরিবারে এখানে থেকে একটা মুদির ও খাবারের দোকান চালান। কিছুক্ষণ এখানে থাকার সুবিধা -অসুবিধার গল্পগুজব করে আবার মেচুকার পথে এগোলাম। প্রায় সন্ধ্যা নেমে গেছে। কিছুদুর যেতে দেখি সামনে রাস্তার ধারে একটা লোকাল সুমো দাঁড়িয়ে।ভেতরে স্থানীয় কজন বসে। ড্রাইভার বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। আমরা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় শিবাকে স্থানীয় ভাষায় কি সব বলল। শিবাকে জিজ্ঞাসা করতে বলে আগে নাকি রাস্তা বন্ধ। আবার দুশ্চিন্তা শুরু। কিছুদুর গিয়েই দেখি সামনে পরপর তিনটে আর্মি ট্রাক দাঁড়িয়ে। তারও আগে একটা মালভর্তি ম্যাটাডোর গাড়ি খারাপ হয়ে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। আশার কথা এটাই যে ততক্ষণে মেচুকা আর্মি সেটেলমেন্ট থেকে ছোট ক্রেন লাগান ট্রাক পাঠান হয়েছে। তারা ম্যাটাডোরটাকে সরিয়ে একপাশে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। শুনলাম প্রায় ২.৫ ঘন্টা আগে এ ঘটনা ঘটেছে। আর্মির জওয়ানরা গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার ধারে বসে আছে।আমরাও কয়েকজন গাড়ি থেকে নেমে কত সময় লাগতে পারে সেই খোঁজ নিতে গেলাম। বলল আরো ঘন্টাখানেক লাগতে পারে।আমরাও জওয়ানদের পাশে গিয়ে বসলাম। তাঁদের সব নতুন পোস্টিং হয়েছে ইয়ারলুং আর মেচুকায়।অনেক সুখ-দুঃখের কথা হোল।




আমি গাড়িতে চটি পরে বসে ছিলাম। চটি পরেই নেমে গেছি।কিছুক্ষন পরে দেখি পা বেশ চুলকাচ্ছে।বেশ কিছু জায়গায় ফোঁড়ার মত ফুলেও উঠেছে।জওয়ানদের মধ্যে একজন বলল এখানে পাহাড়-জঙ্গলে ব্ল্যাক ফ্লাই নামে একধরণের মাছি আছে। স্থানীয় নাম “দাম-দুম”।কামড়ালে টের পাওয়া যায় না, কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকে রক্ত পড়ে আর জায়গাটা লাল হয়ে ফুলে ওঠে।খুব চুলকায়।একজন তাড়াতাড়ি ওডোমস এনে দিল।জুতো-মোজা পরে নিতে বলল।গাড়িতে উঠে বসলাম।ক্রমশ অন্ধকার নামল।এক-একটা মিনিট যেন আর কাটতে চায় না।কাজ শেষ হতে হতে সাড়ে সাতটা বেজে গেল।এতক্ষনে আমাদের পৌঁছে যাওয়ার কথা।কিছু লোকাল সুমো আর সামনে মিলিটারি ট্রাকের কনভয় নিয়ে আমরা মেচুকার দিকে রওয়ানা দিলাম। যেতে যেতে ট্রাকগুলো সরে গিয়ে আমাদের আগে যাওয়ার সুযোগ করে দিল। জঙ্গলের রাস্তায় হেডলাইটের আলোয় অন্ধকারের বুক চিরে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলেছে। এবারের মত জঙ্গলে গাড়ির মধ্যে রাত্রিবাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে মনে মনে ভগবানকে (সেই সঙ্গে মানুষরূপী ভগবান সেই সব আর্মি ভাইদের)ধন্যবাদ জানালাম।

গুরুদ্বোয়ারা

হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে রাত নটা নাগাদ আমরা যখন মেচুকা ঢুকছি ততক্ষণে মেচুকার প্রায় সব দোকান-পাট বন্ধ হয়ে গেছে।বাজারে ঢোকার মুখে রাস্তার ডানদিকে থানার পাশের রাস্তা দিয়ে কিছুটা গিয়েই গ্রেস হোমস্টেতে এসে উঠলাম। একেবারেই নতুন হোমস্টে। বেশিরভাগটাই কাঠের তৈরি। বেশ বড় বড় চারটে ঘর।সঙ্গে লাগোয়া টয়লেট।শুধু গীজারটাই নেই।তবে গরম জলের ব্যাবস্থা আছে। ১৫-১৬ বছরের একটি ছেলে আমাদের ঘর দেখিয়ে দিল।তার সাথে আরও তিন-চার জন ৪-৭ বছরের ভাই-বোন আমাদের মালপত্র নামানোর জন্য ছুটে এল। কোনরকমে তাঁদের নিরস্ত করা গেল।বড়টির নাম ভীম।সে বাড়ির মেজ ছেলে।তাদের বাবা-মা অর্থাৎ এই হোমস্টের মালিক ও মালকিন আরও কয়েকজনের সাথে জঙ্গলে গেছেন গত ১৫ দিন আগে। আরও ১০-১৫ দিন পরে ফিরবেন।ততদিন বাড়ির ও ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব ভীমের কাঁধে।

গ্রেস হোমস্টে

অত রাতে বাচ্ছাগুলো হইহই করে আমাদের হাতমুখ ধোয়ার জন্য গরমজল দিয়ে চা বানাতে লেগে গেল। বাড়িতে শুধু চাল, ডাল, আর আলু ছিল।আমরা হাত লাগিয়ে সবার জন্য খিচুড়ি চাপিয়ে দিলাম।এঁরা আদি উপজাতির লোক।এখানকার প্রায় সব বাড়িতে রান্নাঘর লাগোয়া একটা বড় বসার ঘর থাকে যার মাঝখানে একটা দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি ফায়ারপ্লেস আছে। এখানেই এঁরা সান্ধ্য আড্ডার আসর বসায়, টিভি দেখে,খায়। সেদিন রাত্রে সবাই মিলে বসে একসাথে বড় তৃপ্তি করে রাতের খাওয়ার খেলাম।বাইরে জোরে বৃষ্টি নামল।সকালে উঠে পরিষ্কার আকাশ পাব এই আশায় তাড়াতাড়ি ঘুমোতে চলে গেলাম।

৩১শে মে :

প্রথমে ভেবেছিলাম ফোনে কোঁকর কোঁ আ্যলার্ম বাজছে। তারপর দেখি না! আমি সত্যিকারের মোরগের ডাকই শুনছি। মেচুকার ভোর দেখতে বাইরে বেরিয়ে এলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সামনে চোখ চলে যায় দূরের সবুজ গালচে মোড়া সারিবদ্ধ পাহাড়ের দিকে। তারও ওপরে মেঘেদের আড়াল থেকে রুপোলী বরফে মোড়া পর্বতশৃঙ্গ উঁকি দিচ্ছে। মেচুকার রাস্তাঘাট আর বাজার দেখতে বেরিয়ে এলাম। ভোর চারটেতেই দোকানপাট খুলে গেছে । থানার পাশের চায়ের দোকানের বোনের কাছ থেকে এককাপ চা  নিয়ে বাইরের বেঞ্চে এসে বসলাম। সামনেই মেচুকার গান্ধি মার্কেট। একটু এগোলেই চার মাথার মোড়। সেখানে একটা চোর্তেন বানান আছে। রাস্তার পাশেই বাজার বসে।দুদিকে বিভিন্ন জিনিষপত্রের দোকান। এখানেই সুমো বুকিং কাউন্টার।  মেচুকার একটু আগে দোর্জিলিং গ্রাম থেকে একটি মেম্বা পরিবার এসেছে আলো যাওয়ার সুমো ধরবে বলে। এরা বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী। চা খেতে খেতে গল্প হচ্ছিল। মেম্বারা মাছ-মাংস সব খেলেও আদিদের মত নিজেরা শিকার করে না। এযুগেও চাষবাসে আধুনিক সার বা কীটনাশক ব্যাবহার হয় না। অসুখবিসুখ হলে বিভিন্ন পাহাড়ি জড়িবুটি, নদীর জল আর বিশেষ ধরণের মাছ থেকে বানান ওষুধ খায়।

মেচুকা

ওষুধের কথাপ্রসঙ্গে লাকপাজি বলছিলেন মেচুকা শব্দেই নাকি ওষুধের কথা আছে। মে(medicinal) – চু(River water) – কা (snow) মানে বরফগলা নদীর জল যার ওষধিগুণ আছে। কথা বলতে বলতে দেখি কুমায়ুন রেজিমেন্টের জওয়ানেরা দৌড়ে ছাউনিতে ফিরছে। এখানে অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন আর্মি রেজিমেন্টের সেনা ছাউনি আছে। এছাড়া আছে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের advanced landing ground.
ফিরে এসে প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে আমরা বেরিয়ে পড়লাম ১২ কিমি দূরে গুরুদ্বোয়ারার দিকে। পাশেই গুরুনানকজির তপোস্থল। কথিত আছে গুরুজি এই পথে লোলা পাস ধরে চীনদেশ যাওয়ার পথে এখানে কিছুদিন বসবাস করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে আর্মি এখানে গুরুদ্বোয়ারা বানায়। আমরা বাজার ছাড়িয়ে পাকা রাস্তা ধরে সেগং,  গেলিং গ্রাম ছাড়িয়ে ইয়ারলুং এর রাস্তায় এগিয়ে গেলাম। ইয়ারলুং মেচুকা থেকে ২৫কিমি। এখানে ইন্ডিয়ান আর্মির শেষ আর্মি পোস্ট আর একটা আইটিবিপি পোস্ট আছে। এখান থেকে আরো ২৫-৩০ কিমি দূরে লোলাপাস। সাধারণত ট্যুরিস্টদের ইয়ারলুং  পোস্টের পরে যেতে অনুমতি দেওয়া হয় না। এপথে গেলিং গ্রামের পর থেকে আর জনবসতি নেই। আমরা ফেরার পথে গুরুদ্বোয়ারা  দেখব বলে আরো ৫কিমি দূরের হনুমানগড়ি দেখতে চলে এলাম। এখানে পাহাড়ের গায়ে প্রাকৃতিক ভাবে ক্ষয় পেয়ে হনুমানের মুখ তৈরি হয়েছে।  ছোট একটা হনুমান মন্দিরও আছে। হনুমানগড়ি দেখে আমরা ইয়ারলুং  এর দিকে এগিয়ে গেলাম।




ইয়ারলুং পোস্টে এখন ছবি তোলা নিষিদ্ধ। কিছুক্ষণ এখানে সময় কাটিয়ে চলে এলাম গুরুদ্বোয়ারায়। একদম নদীর পাশে। জায়গাটা স্থানমাহাত্ম্যে অসাধারণ। ভেতরে কিছুক্ষণ বসলে মন শান্ত,স্নিগ্ধ হয়ে যায়। এখানকার সেবকরা সবাই আর্মির লোক। দর্শনের পরেই আমাদের দুপুরের খাওয়ার বা প্রসাদ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। যত বলি সামান্য ফলপ্রসাদ দিন, হোমস্টেতে রান্না করে রাখবে।কিছুতেই শুনতে রাজি নয়। শেষে পরদিন আবার এসে প্রসাদ নেওয়ার কথা দিয়ে কোনক্রমে ফিরে এলাম। দুপুরবেলা খেয়ে নিয়েই আবার বেরিয়ে পড়লাম। এবার পায়ে হেটে চার মাথার মোড় থেকে ডানদিকে মেচুকা প্রাইমারি স্কুল ছাড়িয়ে আর্মিদের রেজাং লা ক্যাম্পের ভিতর দিয়ে নদীর ধারে চলে এলাম। এই জায়গাটি বড় সুন্দর। নদীর ওপর  কাঠের ঝুলন্ত ব্রীজ। ওপারে ছড়ানো ছেটান খুব সুন্দর সাজানো কিছু বাড়িঘর। আর্মি ক্যাম্পে সচিত্র পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। ব্রীজ পেরিয়ে ওপারে কিছুটা হেটে এলাম।

বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা নেমে গেল। এসে দেখি ভীম ভাইবোনেদের পড়াতে বসেছে।ভীমের যে পিসি টাটো থেকে এসেছে, রান্নার কাজে নেমে পড়েছে। আমরা কজন ফায়ারপ্লেসটাকে ঘিরে আড্ডায় বসে গেলাম।কজন গেল রান্নার কাজে হাত লাগাতে।শিবা তার বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের গল্প শুরু করল।পরদিন এখানকার দুটো মনাস্ট্রি দেখতে যাব আর গুরুদ্বোয়ারায় প্রসাদ নিতে যাব।আজকের মত দিন শেষ হল।

পায়া ব্রিজ

১লা জুন :

ডেছেনথাং গ্রাম

আজ প্রথমেই পাহাড়ের মাথায় নতুন তৈরি হওয়া সামতেন ইয়ংগচা মনাস্ট্রি দেখতে গেলাম। পুরোটাই গাড়ি চলে আসে।এখান থেকে সম্পূর্ন মেচুকা ভ্যালিটাই দেখতে পাওয়া যায়।বড় সুন্দর সে দৃশ্য।এরপর যাওয়া হল ইয়ারলুং এর রাস্তায় রেগং ছাড়িয়ে ডেচেনথাং গ্রামের কাছে। সেখানে গাড়ি রেখে ঝুলন্ত ব্রীজ পেরিয়ে পাহাড়ি পথে প্রায় ৩ কিমি হেঁটে পৌঁছাতে হবে মেচুকার পুরান মনাস্ট্রিতে। নদী পেরিয়ে হাঁটা শুরু হোল। শীবা এ পথে আগে এসেছে।আমাদের রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে মাঝেমধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।প্রজাপতির ফটো তোলা চলছে।আগের দিন রাতে বৃষ্টি পড়ে নদীর পাড় থেকে পাহাড়ের নীচে সমতল অংশটায় বেশিরভাগ জায়গায় জল জমে ছিল।

মেচুকাতে

মেচুকাতে

কিছুদুর যাওয়ার পর পায়ের পাতা কাদায় ডুবে যেতে লাগল। আমরা এবারের মত মনাস্ট্রি যাওয়ার প্ল্যান বাতিল করে ফিরে এলাম। গাড়ি ছুটল গুরুদ্বোয়ারার দিকে। গুরুদ্বোয়ারার ১০০ মিটার আগে গাড়িরাস্তায় একটা লোহার ব্রীজ পেরলেই বাঁদিকে গুরুজির তপোস্থল। তার পিছনে একটা ঝর্ণাও আছে। কিছু সময় এখানে কাটিয়ে গুরুদ্বোয়ারায় যেতেই সবাই আনন্দে হইহই করে উঠল।দুজন সেবক আমাদের নিয়ে এল প্রার্থনাকক্ষে।প্রার্থনা সেরে আবার ওপরে যেতেই দেখি সারি দিয়ে খাওয়ার আসন পাতা হয়েছে।সামনে খোপ কাটা স্টিলের থালা আর গ্লাস রাখা।ওখানকার সবাই আমাদের প্রসাদ দিতে ব্যাস্তসমস্ত।এমন জামাইআদর পাব কল্পনাতেও ভাবিনি। সত্যি বলতে কি একটু লজ্জাই করছিল।হাত ধোয়ার পর সবাইকে মাথায় বাঁধার রুমাল দিল।তারপর একে একে রাজমার ডাল,ঢ্যাঁড়শের তরকারি, আলু-সয়াবিনের তরকারি, রায়তা, ভাত ও রুটি।সবশেষে পেয়ারা,পায়েস আর বরফি।রুটি নেওয়ার সময় দুহাত পেতে নিতে বলছিল।খাওয়ার পরে থালাবাসন নিজেরা মেজে নিতে হয়।আমরা সবাই বাইরে পাতা চেয়ারে এসে বসলাম।এখানকার সেবকরা সবাই পাঞ্জাব রেজিমেন্টের।কেউ তিন বছর, কেউ চার বছর ধরে আছেন।অনেক গল্প হল।এখানেও প্রচুর দামদুমের উৎপাত।একজন আমাদের ওডোমস এনে দিলেন।পায়ে লাগিয়ে, মোজা-জুতো পরে নিয়ে বসলাম।আড্ডা চলতে চলতে ওঁদের একজন আমার ছয় বছরের মেয়ের সাথে সারাক্ষন গল্প করে যাচ্ছিলেন। বললেন, খুকি তুমি আমাদের সাথে থেকে যাও।মেয়ে বলল–‘তুমি আমাদের সাথে যাবে?’।উত্তর এল-‘তাহলে এখানে গুরুজির কাজ কে করবে?’।…বা রে! আমি এখানে থাকলে ওখানে আমার কাজ কে করবে তাহলে। সবাই হো হো করে হেসে উঠল।বিকেল হয়ে এল, এঁরা কিছুতেই আমাদের ছাড়তে চায় না।আবার চা বানিয়ে নিয়ে এলেন।আসবার সময় ঐ ভদ্রলোক বলছিলেন-‘দেশের বাড়িতে আমার এর মত ছোট খুকি আছে।আপনারা যতক্ষণ এখানে ছিলেন আমার মনে হচ্ছিল যেন আমার খুকি আমার সাথে আছে’।সবার চোখ ছলছল।বিকেলের বিষন্ন আলোয় একরাশ মন খারাপ নিয়ে ওদের কাছে বিদায় নিলাম।পরদিন ভোরবেলা উঠতে হবে।আজ মেচুকায় আমাদের শেষ রাত।

২রা জুন :

মেচুকা থেকে ইয়ারলুং এর পথে

ঠিক সকাল ৫:৩০টায় মেচুকা ছেড়ে দিয়ে আমরা আবার আলোর রাস্তায়।পথে একবার টাটোতে থামলাম ব্রেকফাস্টের জন্য। এরপর আবার সিকো-ডিডো ওয়াটার ফলসে দাঁড়ানো হল। দুপুরে খেলাম পেনের সেই ধাবায়। সারাদিন পথ চলে আমাদের গাড়ি যখন আলোয় ঢুকছে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি বিকেল চারটে বাজতে চলেছে।আলোয় ঢোকার ঠিক মুখেই সিয়ম নদীর ধারে পি অ্যান্ড পি রিসর্ট।দুর্দান্ত লোকেশন।এখানে এসে সবাই মুগ্ধ হয়ে গেলাম।একেবারে নদীর ধারে নতুন তৈরি হওয়া রিসর্ট।নদীর ওপারে কুয়াশাঘেরা জঙ্গল-পাহাড়। অনেকটা জায়গা জুড়ে বানান রিসর্ট। বিশাল বড় ঘর। সুন্দর ভাবে সাজান ও মেইনটেইনড। আবার ডর্মেটরিও আছে। শিবা এর আগে আমাদের এখানেই থাকতে বলেছিল।আসার সময় এখানে না থাকার জন্য সত্যি আফসোস হচ্ছিল।সবথেকে বড় কথা ঘর ভাড়াও হোমস্টের তুলনায় কম। নিজেদের কিচেন ও ডাইনিং হল আছে।খুব ভাল খাবার।দামও ঠিকঠাক।এখানেই আমাদের আগামি দুটো দিনের ঠিকানা বানিয়ে ফেললাম।দুটো দিন নদীতে চান করে,টেবিল টেনিস খেলে আর প্রচুর খাওয়াদাওয়া করে কেটে গেল।

এ যাত্রায় আর বলার মত গল্প কিছু নেই। সেই একই পথে ফেরা। ৪/০৬ তারিখ আলো ছেড়ে রাত কাটালাম পাসিঘাটে। তার পরদিন ডিব্রুগড়ের হোটেলে।পরদিন সকালে শিবা আমাদের ডিব্রুগড় এয়ারপোর্টে ছেড়ে দিয়ে গেল। পরে আবার ওর সাথে রোয়িং হয়ে মায়োডিয়া পাস, আনিনি আর পরশুরাম কুন্ড যাব কথা দিয়ে এলাম।এবারে মেচুকা ভ্রমণ শিবা (Nick Dusad), আমার বাল্যবন্ধু এয়ারফোর্সে কর্মরত উইং কমান্ডার সৌরভ (Rony Chakravarty) এদের সাহায্য ছাড়া করা সম্ভব হত না।




কতগুলো জরুরী তথ্যঃ

১) অরুণাচলের ইনারলাইন পারমিটের জন্যে যে কেউ অনলাইনে(http://arunachalilp.com/index.jsp) আবেদন করতে পারেন। কলকাতায় সল্টলেকের অরুণাচল ভবন থেকেও পারমিট দেয়।প্রত্যেকের এককপি করে সচিত্র পরিচয়পত্র, এককপি পাসপোর্ট সাইজ ফটো,আর ১০০ টাকা লাগে।
২) মেচুকা যাওয়ার সবথেকে ভাল সময় হল নভেম্বর থেকে মে মাসের প্রাথম সপ্তাহ।নভেম্বরে অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভালের সময় গেলে হোমস্টে বুক করে যাওয়া ভাল।
৩) কলকাতা থেকে বর্তমানে পাসিঘাটের সরাসরি উড়ান চালু হয়েছে।কলকাতা থেকে পাসিঘাট হয়ে আলোতে একদিন থেকে পরদিন মেচুকা পৌঁছান যায়।
৪) আলো থেকে মেচুকার রাস্তায় কোন পেট্রলপাম্প নেই। আলো থেকে বা মেচুকা থেকে গাড়িতে যথেষ্ট ফুয়েল ভরে নিতে হবে।
৫) আলোতে আদিবাসিদের গ্রাম ও বাড়িতে গেলে ওদের  আচার-আচরণ বা জীবনযাপনের শৈলী নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করা উচিত হবে না।
৬) আলোর পর থেকে শরীরের খোলা অংশে ওডোমস ব্যবহার করুন দামদুমের হাত থেকে বাঁচার জন্য।
৭) মেচুকায় থাকার সময় রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাইরে খোলা আকাশের নীচে বেরিয়ে আসুন।ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে প্রায়ই দেখা যায়।
৮) এদিকে সাধারণত বড় গাড়ির ভাড়া দিনপ্রতি ৪৩০০-৪৫০০ গাড়িবিশেষে। এই রাস্তায় ভাল কন্ডিশনের গাড়ি নেওয়া উচিত।আমাদের ট্যুর গাইড ও ড্রাইভার শিবার সাথে যোগাযোগের নম্বর 09401947966, 08638173035.

মেচুকা

থাকবার ব্যাবস্থাঃ

পাসিঘাটঃ

1. Hotel The serene Adobe (0368 222 2382, Rs 2000-3500)
2. Hotel Anne (0368 222 3333, Rs 1500-3000)

আলং:

1. P & P Tourist Resort, Near PI colony, Manager Jummin Ete, 08256928458, 070854 23763, 09436040676, Facebook page:https://www.facebook.com/pptouristresort/ . (Rs 1500-4000)
2. Hotel Min-Ta (Mr. Sandeep Tamang, 03783222482, 07085525580 Rs 1800-3000)
3. Hotel Mansons Plaza (03783 222 040, Rs 1500-2500)




এছাড়াও আলোতে বাজারের কাছে সাধারণ মানের Hotel Toshi Palace, Hotel Agaam, Hotel Veggie, Hotel Lolen Palace, Hotel West etc.

মেচুকাঃ

1. Gebu’s Traditional Homestay (http://gtlhomestay.com/, Mr. Gebu Sona, 094360 74877, 09402423444, Rs. 2000 – 3000)
2. Grace Homestay ( Mr. Rapden Koje, 09402474078, 09436621827,09402058062, 08974065606, Rs. 1200-2000,
Veg meal: Rs 100 & Non-veg meal: Rs. 150/-). আমরা এখানেই থেকেছি।

 3.  Almost Heritage Homestay (09436672649)
4. Potala Homestay (09402292356, 09435572649, 09402292338 )
5.Bazashree Homestay (9402461368)
6. Dorsom Homestay (09402456808, 09402049671, 09402821184)


This content has been written by Mr. Chandranath Marick. The photos are mostly clicked by him. Some of them are clicked by her wife and their driver in this route Mr. Shiba.





3 Comments

  1. Khub valo laglo,ebong contact no gulo paoate khub help o holo bished kore driver er no ta.ami arunachal er poschim pranto ti ghure esechi, ebar purbodike jabo.apnar lekga ama k pkan bsnate khub help korbe.thamk you for shaering the info.

    Reply
  2. Nice, informative write up…..arunachal khub tane….Kobe je jabo!

    Reply
  3. Nice and Informative

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement