অরুণাচলের পথে

অরুণাচলের পথে
Reading Time: 12 minutes
 শুনছ, এবারে পুজোয় অরুণাচল যাবে?

উত্তর এল : গেলেই হয়।

আন্দামান থেকে সবে ফ্লাইট রওনা দিয়েছে কলকাতার উদ্দেশ্যে, একটা ট্রিপ শেষ হতে না হতেই আরেকটা ট্রিপের প্ল্যান শুরু হয়ে গেল। এটাই ছিল শুরু।

মে (যাত্রা শুরুর চারমাস আগে): টিকিট কাটা হয়ে গেল।

জুলাই-আগস্ট: হোটেল বুকিং হয়ে গেল।

সেপ্টেম্বর (যাত্রা শুরুর একমাস আগে) : আসাম, অরুণাচল এবং সমগ্র নর্থ বেঙ্গল জুড়ে প্রবল বর্ষণ, ফলস্বরূপ ভয়াবহ বন্যা ও ট্রেন লাইন ভেঙে যাওয়া।

সেপ্টেম্বর (যাত্রা শুরুর দশ দিন আগে): সবে মাত্র ট্রেন চলাচল শুরু। আপ-ডাউনে 7-14 ঘন্টা লেট।

সেপ্টেম্বর (যাত্রা শুরুর একদিন আগে): ডাউন ট্রেনটা রাইট টাইমে গুয়াহাটি ছাড়লো। আপ ট্রেন এখনো 7ঘন্টা দেরিতে চলছে।




সেপ্টেম্বর: সকাল থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি, দুপুর দুপুর বৃষ্টি মাথায় নিয়েই হাওড়া স্টেশনে পৌঁছলাম, বাড়ির সবাই একত্রিত মিলিত হয়ে যথা সময়ে সারাইঘাট এক্সপ্রেস এ চেপে বসলাম। ট্রেন অন টাইম ছাড়লো। সারারাত বৃষ্টির টুপটাপ আর কু ঝিক ঝিক শব্দের কোলাজ শুনতে শুনতে সকালে অন টাইমে গুয়াহাটি পৌঁছলাম। গাড়ি আগে থেকেই বুক করা ছিল,মালপত্র সব সেট করে সোজা রওনা দিলাম ভালুকপঙ এর উদ্দেশ্যে। গুয়াহাটি থেকে তেজপুর হয়ে কালীভোমরা ব্রীজ পেরিয়ে ভালুকপঙ পৌঁছতে হয়, সময় লাগে প্রায় 6-7 ঘন্টা। তেজপুর আসামের সুন্দর একটি শহর। এখানে এয়ারপোর্ট ও আছে। কালীভোমরা ব্রিজের নিচদিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মাপুত্র নদ, যেমনি তার রূপ,তেমনি কলেবর। এরপর কিছুটা এগিয়েই নামেরি অভয়ারণ্য।



আবার বৃষ্টি শুরু হল। জঙ্গলের প্রতিটা পাতা যেন চির যৌবন পেয়েছে, চরাচর যেন সবুজ রং মেখে নিয়েছে, দূরে নীলচে পাহাড়ের কোলে সাদা মেঘ আদর খাচ্ছে। মোহময়ী জিয়াভরলি যেন অষ্টাদশী যুবতী। পৌঁছলাম অরুনাচলের চেকপোস্ট এ। কলকাতা থেকে প্রিন্ট করে আনা ইনার লাইন পারমিট ও পরিচয় পত্র দেখিয়ে অরুনাচলে ঢোকার অনুমতি মিলল। বৃষ্টিটা ধরে এসেছে, আমরা হোটেল এ ঢুকলাম। ঘরের কাঁচের জানালা দিয়ে পাহাড় ও জিয়াভরলি দেখা যাচ্ছে, এযেন স্বপ্নের দেশে পৌঁছে গেছি। গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে জিয়াভরলির বুকে কাশ ফুলের মাথা নাড়া দেখছি। সন্ধ্যা নামছে, মেঘ গুলো সংসার পাতছে নদীর উপর ভেসে ভেসে ।দূরের পাহাড় গুলো ও সমভূমিটা থেকে জোনাকীর মতো মিটমিট করে আলোগুলো উঁকি দিচ্ছে। ঠান্ডা নেই বললেই চলে। পরিশ্রান্ত আমরা তাড়াতাড়ি ডিনার করে শুয়ে পড়লাম, পরের দিন বমডিলা রওনা দিতে হবে।

Bhalukpong

Bhalukpong Town

সেপ্টেম্বর: সকাল থেকেই আকাশের মুখভার। পাহাড়ে মেঘের আনাগোনা অবশ্য দারুন লাগে। সাদা সাদা মেঘগুলো কেমন যেন জড়িয়ে থাকে পাহাড়ের বুকে। কফির মাগে চুমুক দিতে দিতে বৃষ্টিস্নাত জিয়াভরলির রূপ দেখছি। বেশি দেরি না করে রওনা দিলাম, উদ্দেশ্য বমডিলা, যাত্রাপথের দুরত্ব  কিমি। ভালুকপঙ ছেড়ে কিছুটা এগোতেই জিয়াভরলি নাম পাল্টে কামেঙ নাম নিল। আরো খানিকটা এগোতেই আমাদের থেকে বিদায় নিল সে।আমরা এগিয়ে চললাম বমডিলার পথে। গাড়ি এসে থামল টিপি আর্কিড রিসার্চ সেন্টার এর সামনে। জনপ্রতি 10টাকা এন্ট্রিফি দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। অনেকটা জায়গাজুড়ে হাজার হাজার অর্কিডের মেলা,দেখতে ভারী সুন্দর। বাহারি রঙের বাহারি নাম। পুরোটা ঘুরে দেখতে একবেলা চলে যাবেই।

Tippi

Orchid

হাতে সময় নেই এখনো অনেক পথ বাকি,তাই এবার এগিয়ে চললাম বোমডিলার দিকে। বৃষ্টির দৌরাত্ম্যে পাথুরে পিচের রাস্তা আর কাদা মিলেমিশে ভাইভাই।কিছুটা পর পরই পাহাড়ের পিঠবেয়ে নেমে আসছে জলরাশি। গাড়ি এসে থামল বেশ বড় একটা ঝর্নার সামনে, নাম লুমুম। ঝর্নার সাথে তালমিলিয়ে নেচে বেড়াচ্ছে রং-বেরঙের প্রজাপতি। আকার অবয়বেও কত বৈচিত্র্য। হটাৎ মাথার কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া একটা প্রজাপতিকে পাখি ভেবে ভুল করলাম।

Waterfalls in arunachal pradesh

Lumum Waterfall




      ডানে বামে ছোট বড় শ’খানেক ঝর্নাকে পাশ কাটিয়ে আমাদের বাহন এগিয়ে চললো। রাস্তা খুবই খারাপ, কোথাও রাস্তা কে কাদাপথ ভেবে গুলিয়ে ফেললেও অবাক হবোনা। টানা ঘন্টা তিনেক চলার পর একটা ছোট্ট বাজারের মতো জায়গায় পৌঁছলাম। পাহাড় চুড়ায় একটা মন্দির দেখিয়ে ড্রাইভার দাদা বললেন এটা নাগ মন্দির,কিছু উৎসাহী ট্যুরিস্ট সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠছেন। আমাদের পেটে তখন ছুঁচো জিমখানা খুলে বসেছে। ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে আহারাদি সম্পন্ন হল।

Nag Temple of Bomdila

Market near nag temple

এগিয়ে চললাম টেঙ্গার দিকে, টেঙ্গা বাজার পেরিয়ে বাঁ দিকে একটা রাস্তা এঁকে বেঁকে চলেগেছে চিলিপম এর দিকে,আর সোজা রাস্তাটা এগিয়েগেছে বোমডিলার দিকে। আমরা বামদিকের রাস্তাটা ধরে চিলিপম এর দিকে এগিয়ে চললাম। সোজা ভ্যালীকে বামদিকে রেখে সর্পিল পথ উঠেগেছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে। উপর থেকে পাখির চোখে সোজার রূপ মন ভরিয়ে দেয়। আঁকাবাঁকা পথের যেন শেষ নেই। গুগল ম্যাপে লোকেশন দেখে বুঝলাম আরো কিছুটা এগোতে হবে, গুগল তাজুর(দাদা) সাহায্য নিয়ে চিলিপম পৌঁছলাম। ঢোকার রাস্তার মুখেই কিছু চর্তেন। একটা পাহাড়ের চূড়ায় অনেকটা সমতল জায়গাতে চিলিপম মোনাস্ট্রি। এন্ট্রি গেট পেরিয়ে এগোতেই,রাস্তার দুদিকে রঙ্গীন ফুলগুলো মাথা দুলিয়ে অভ্যর্থনা জানালো।

Chillipam Travel guide, Arunachal Travel guide,

Chillipam Travel guide, Arunachal Travel guide,

সামনের মাঠটা পেরিয়ে এগিয়ে গেলাম মোনাস্ট্রির দিকে। মেঘ গুলো হেথায় গাভীর মতো চরে, এখনই চরাচর মেঘে দেখে গেল তো পরমুহূর্তে সব পরিস্কার। ঠিক যেন স্বর্গের ঠিকানা। অদ্ভুত সুন্দর জায়গাটা। মোনাস্ট্রির চাইনিজ আর্কিটেকচার আলাদা করে চোখ টেনে নিল। ভেতরে প্রার্থনা চলছে, চান্টিং এর শব্দে আলাদা একটা অনুভুতির সৃষ্টি হয়।

Chillipam Travel guide, Arunachal Travel guide,

Chillipam Travel guide, Arunachal Travel guide,

মোনাস্ট্রির পেছনেই লামাদের হোস্টেল। বেলাগড়িয়ে বিকেল প্রায়, চিলিপমকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চললাম বোমডিলার দিকে। বমডিলা পৌঁছতে আরো 2ঘন্টা লাগলো। সন্ধ্যে নাগাদ বমডিলা পৌঁছলাম। সূর্য্যের শেষ আলোয় পাহাড় চূড়া গুলো সিঁদুরে লাল,মেঘ গুলো এখানেও পাহাড়ের কোলে আদর খাচ্ছে। বোমডিলার বুদ্ধ স্টেডিয়ামে খেলার আসর ভাঙছে, সবাই বাড়ি ফিরছে, আমরাও হোটেল এ পৌঁছলাম। আজও তাড়াতাড়ি ডিনার করে শুয়ে পড়লাম, পরদিন তাওয়াং যেতে হবে যে।




bomdilaTravel guide

সেপ্টেম্বর: বমডিলা থেকে তাওয়াং এর দুরত্ব যা, তার থেকেও বেশি মাথা ব্যাথার কারন হলো রাস্তার পরিস্থিতি। সকাল সকাল দুগ্গা দুগ্গা বলে বেড়িয়ে পড়লাম। বমডিলা ছেড়ে কিছুটা এগোতেই একটা বড় ল্যান্ডস্লাইড চোখে পড়ল, গতকয়েকদিন যাবৎ এটা মাথাব্যথার আরেক কারন ছিল। কিছুটা এগিয়ে দিরাং মুখী হতেই পৌঁছে গেলাম তাশি ডেলেক (উষ্ণ পশ্রবন)। সিঁড়ি ভেঙে বেশ কিছুটা নিচে নদীর বুকে পৌঁছে তবেই দেখা মেলে । ছোট্ট বাঁধানো দুটো পস্রোবন।

এখন থেকে দিরাং ভ্যালি যেন শিল্পীর ক্যানভাসে রঙের প্রলেপ।নদী বয়ে গেছে আপন গতিতে,কিছুটা দূরে পাহাড়ের সারি,নদী ও পাহাড়ের মাঝে চাষের জমিতে ফসলের মাঠ নাড়া, জমির মাঝে ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর। যদি একটা দিন কাটানো যেত এই ঘরগুলোর কোনো একটায়, মনের এই অভীপ্সাকে প্রশ্রয় দিতে দিতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ফিরলাম।

Tawang, Arunachal Pradesh

Dirang




 

এগিয়ে চললাম দিরাং এর দিকে। দিরাং থেকে দিরাং ভ্যালীর আরো অপরূপা। দূরে পাহাড়ের চূড়ায় দিরাং মোনাস্ট্রি উঁকি দিচ্ছে। ছোট্ট জনপদ, বেশির ভাগই কাঠের ছোট্ট বাড়ি,দোকান পাট,আর স্বল্প ঘন জনবসতি। দিরাংকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চললাম। ধীরে ধীরে পথের উচ্চতা বাড়তে লাগলো, একদা আমরা মেঘের ওপরে আর মেঘ আমাদের নীচে,পাহাড়ের খাঁজে মুখ লুকোচ্ছে। হটাৎ পথ আটকে দাঁড়ালো গাড়ির লাইন,সর্বনাশ ল্যান্ডস্লাইড হয়েছে সামনে,তাই খানেক গাড়ি পিছে পিছে যেন রেলগাড়ি। অনতিদূরে বুলডোজার পাথর সরাতে ব্যস্ত,আমরাও উদ্গ্রীব হয়ে,আশায় বুক বাঁধছি, এই বুঝি রাস্তা পরিস্কার হয়,আশায় আশায় ঘন্টা দুয়েক কেটে যায়,মেঘ কেটে সূর্য্য উঁকি দেয়,রাস্তা খুলে যায়,আবার যাত্রা শুরু, উদ্দেশ্য সেলা পাস।

ঘন্টা খানেকের মধ্যেই সেলা পৌঁছলাম। পাহাড়ের রূপ সম্পূর্ণ বদলে গেছে,বদলে গেছে প্রকৃতিও। পাহাড়ের কোলে ফুলের খেলা শুরু হলো। নীল,লাল,হলদে,মেরুন, বেগুনী কি রং নেই,হাজার হাজার ফুল তাদের সম্ভার নিয়ে পাহাড়গুলোকে অতিযত্নে সাজিয়ে রেখেছে।


পাহাড়ের মাঝে নীল জলের লেক সেলা, টলটল করছে জল,মনে হচ্ছে এখুনি উপচে পড়বে ঢেউ এর তালে। মেঘগুলোর বড্ড তাড়া, হওয়ার সাথে তালমিলিয়ে আসছে যাচ্ছে। হেঁটে নেমে গেলাম লেকের ধরে,ওপরের থেকে হওয়া কম কিন্তু ঠান্ডাটা বেশ উপভোগ্য এখানে। হাওয়ার তালে তালে লেকের জল ছলাৎ ছলাৎ সুরে নাচছে। বেশকিছুটা সময় কাটিয়ে আঁকাবাঁকা পথে তাওয়াংএর দিকে এগোতে শুরু করলাম। কিছুটা যাওয়ার পরেই রাস্তা পাথরের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারলাম না। একে রাস্তা না বললেই চলে, মনে হচ্ছে যেন পাথরের উপর দিয়ে গাড়ি চলছে। এদিকেওদিক হেলেদুলে ঝাঁকুনি দিতে দিতে গাড়ি চলছে। এবার ঠান্ডাটা বেশ অনুভূত হচ্ছে। পাহাড়ে ফুলের মেলা বসেছে, মেঘেদের সেথা আনাগোনা। চামরি গাই গুলো মনের সুখে চরেবেড়াচ্ছে পাহাড়ের উপর বিভিন্ন উচ্চতায়।


পাহাড়ি পথে হেলতে দুলতে পৌঁছলাম যশবন্তগড়। বমডিলা থেকে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে লাঞ্চ করার জায়গা পাইনি। পেটে ছুঁতো ডন দিচ্ছে। এপ্রসঙ্গে বলে রাখি বমডিলা বা দিরাং থেকে বেরোনোর সময় সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে শুকনো খাবার রাখা উচিৎ। যশবন্তগড়ে একটা ছোট মিলিটারি ক্যান্টিন আছে, আর আছে একটা সুভেনিয়ার সপ। সিঙ্গারা, মোমো পাওয়া যায় এখানে সঙ্গে অবশ্য চাটা ফ্রী। ইডেনে খেলা দেখতে গিয়ে ব্রেক টাইমে কিছু খাবার কেনার জন্য যেরকম হুটোপুটি করতে হয়, এখানেও তার অন্যথা হলোনা। ঠেলাঠেলি করে কোনো ভাবে মোমো ভর্তি প্লেটগুলো নিলাম। ক্যান্টিন লাগোয়া খাদের গাঘেঁষে একটা বসার জায়গা বানানো আছে।

বহু নীচে বয়েগেছে নদী। চারপাশ মেঘের চাদরে মোড়া। হাতের ঘড়িতে দেখলাম 3টে বাজে, সময় নষ্ট না করে চটপট মোমো গুলো খেয়ে এগিয়েগেলাম যশবন্তগড় মেমোরিয়াল এর দিকে। অসাধারণ এক নিশস্তব্ধতায় ঘিরে রয়েছে চরাচর। মেঘ এর আনাগোনায় দৃশ্যটা বেশিদূর যায়না। এযেন মেঘের রাজ্যে আমরা প্রজা। মেমরিয়ালের মধ্যে যশবন্ট সিংএর ব্যবহৃত নানান সামগ্রী পরিপাটি ভাবে সাজানো রয়েছে। বাইরে পাহাড়ের শরীর জুড়ে ব্যাংকার। 1962 সালে সিনোইন্দো যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার জটিল বদ্যুতিক সামগ্রী সাজানো রয়েছে ব্যাংকারের গহ্বরে। ব্যাংকারের ভিতরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা আলো যেন নিহত সৈনিকদের আত্মার বার্তা বহন করে চলেছে ব্যাংকারের ঘুপচি গুলির প্রতিটা কোনায়। কান পাতলে সোনা যায় যুদ্ধের দামামা। মনকে শান্ত করে ফিরে এলাম গাড়িতে, আবার এগিয়ে চলার পালা, উদ্দেশ্য তাওয়াং। তাওয়াং ঢোকার বেশ কিছুটা আগে একটা চেকপোস্ট আছে, এখানে সব কাগজপত্র দেখিয়ে ভেতরে ঢোকার অনুমতি মিলল।


সন্ধ্যা নেমে এসেছে, সেই সাথে বাড়ছে মেঘের ঘনত্ব। একহাত দূরের বস্তু দেখা দায়, গাড়ির হলদেফগ কাটারলাইট জেলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে চললাম হোটেলের দিকে। ঝিরঝিরে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হোটেলে ঢুকলাম। কফি পাকোড়া সহযোগে একটু পেটপুজো করে নিলাম। রাতে তারাতারি খেয়ে শুয়ে পড়লাম, আগামীকাল তাওয়াং ঘুরে দেখার পালা।

সেপ্টেম্বর: কোথাও বেড়াতে গেলে আমার খুব ভোরে ভোর ঘুম ভেঙে যায়, সূর্য্যের প্রথম আলো আমার দেখা চাই ই চাই। এখানেও তার ব্যতিক্রম হলনা। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি হোটেলের মেইন গেট বন্ধ। সোজা হোটেলের ছাদে চলে গেলাম। হোটেল থেকে তাওয়াং মোনাস্ট্রিটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। সূর্য্যের লাল আভায় আকাশ সাজতে শুরু করেছে। আমি দুচোখ ভোরে উপভোগ করছি সে দৃশ্য। সূর্যের প্রথম আলো এসে পড়ল তাওয়াং মোনাস্ট্রির ওপরে, একে একে পাহাড় হতে পাহাড়, গ্রাম হতে গ্রাম আলোকিত হয়ে সকালের সূচনা করলো। সকালে সবাইমিলে ব্রেকফাস্ট করে রওনা দিলাম তাওয়াং এর সাথে পরিচিত হতে। প্রথমেই গেলাম তাওয়াং মোনাস্ট্রিতে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোনাস্ট্রি এটি। পাহাড়ের ওপরে পিঠো পিঠি করে মোনাস্ট্রির ঘরগুলো সাজানো। লাল রংয়ের ঘরগুলোর হলুদ রঙের ছাউনি। এখানে 108 টা ঘর রয়েছে লামাদের জন্য। ঢুকেই মাঠের মতো একটা বাঁধানো খোলা জায়গা, আর মাঠের চারপাশ জুড়ে সাজানো মোনাস্ট্রির বিভিন্ন ঘর গুলো। প্রধান মোনাস্ট্রির ভেতরে প্রার্থনা আর চান্টিং চলছে। চান্টিং এর আওয়াজে চারদিক গমগম করছে। প্রার্থনা শেষে ছোট বড় বিভিন্ন বয়সের লামারা ছোটাছুটি করে বেরিয়ে এলো। ঠিক যেমন স্কুল ছুটির পর বাচ্চারা করে।

Tawang travel guide

Top of Tawang monastery

প্রধান মোনাস্ট্রির ভেতরে ঢুকেই বিরাট আকারের বুদ্ধ মূর্তি চোখে পড়লো। অনুভব করলাম জায়গাটার মধ্যে একটা আধ্যাত্মিক ভাব বিরাজ করছে। সমগ্র মোনাস্ট্রি জুড়ে রঙের ছোঁয়া। বিভিন্ন রঙের প্রলেপে প্রীতিটি কোনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের নানান স্কাল্পচার গুলোকে। প্রধান মোনাস্ট্রির উল্টো দিকেই মিউজিয়াম। অনবদ্য কালেকশন সেখানে। মোনাস্ট্রির অলিগলি ঘুরে বেরিয়ে এলাম, এবার যাবো বুদ্ধ পার্ক।এক বিশাল আকারের বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে এখানে।

Tawang travel guide

Inside tawang monastery tourplannerblog

তাওয়াং এর প্রতিটা কোন হতে এই বুদ্ধ মূর্তিটি সবার আগে চোখে পড়ে। এখান থেকে দূরে তাওয়াং মোনাস্ট্রিটা মিনিয়েচারের মতো লাগে। এরপর যেতে হবে তাওয়াং ওয়ার মেমরিয়ালের উদ্দেশ্যে। একটা পাহাড়ের ওপরে ওয়ার মেমরিয়াল। পাশেই মিলিটারি সেটেলমেন্ট আর অফিস। সুন্দর ভাবে সাজানো এই ওয়ার মেমোরিয়াল তাওয়াং এর এই প্রকৃতির মধ্যে জায়গা করেনিয়েছে নিজগুনে। শ্বেত শুভ্র চর্তেনের ওপরে উড়ছে বিভিন্ন রঙের পতাকা। চর্তেনের দেওয়াল জুড়ে উজ্বল 1962 সালের যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের নাম। কান পাতলে সোনা যায় তাদের আর্তনাদ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা 1962 সালের যুদ্ধের কাহিনী,ইতিহাস শুনিয়ে দিচ্ছেন গ্রূপে গ্রূপে আগত ট্যুরিস্টদের। শুনিয়ে দিচ্ছেন অরুনাচলের দুই কন্যা নূরা ও জেলার আত্মহুতির কাহিনী। এখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমফিঠিয়েটের এ অডিও-ভিডিও-আলোক সহযোগে দেখানো হয় 1962 সালের যুদ্ধের কাহিনী। ঘন্টা 2 এক এখানে কাটিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।




Arunachal Travel guide

Tawang travel guide tour planner blog

কথিত আছে পঞ্চম দলাই লামার জন্মস্থান এখানে। সামনেই রয়েছে দলাই লামার কাহিনী বিজড়িত একটি গাছ। কথিত আছে পঞ্চম দলাই লামা একটি লাঠি রোপন করেন এখানে যা পরবর্তীতে বৃক্ষে পরিনত হয়। কথিত আছে দলাই লামা র আদেশ অনুযায়ী গাছের মোট তিনটি শাখা হয়, যার সাথে আগমন ঘটে স্বয়ং দলাই লামার। পরবর্তীকালে গাছের একটি শাখা ভেঙে যায়। ভিতরে ঢুকে দেখলাম শান্ত স্নিগ্ধ। প্রথা অনুযায়ী মূল গোমফার ভেতরে সাদা রঙের বেশ কয়টি সারিবদ্ধ স্তুপ। সবকটির মাথার ওপরে ধর্মীয় পতাকা টাঙানো। সামনে দুটি ঘোড়া মনের সুখে চরে বেড়াচ্ছে। এরপর চলে এলাম তাওয়াং এর নেহেরু মার্কেটে। লাঞ্চ সেরে, মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করা হল। কলকাতার থেকে দামের তারতম্য খুঁজে পেলামনা উল্টে একটু বেশিই মনে হলো। বিকেলের দিকে আবার রওনা দিলাম ওয়ার মেমোরিয়াল এ লাইট-সাউন্ড সহযোগে ভিডিওতে 1962 সালের যুদ্ধের কাহিনী দেখার জন্য। জনপ্রতি 10 টাকা দিয়ে টিকিট কেটে গ্যালারিতে বসলাম সারদিয়ে।


বিকেলের আকাশে রঙের খেলা চলছে। অপূর্ব সুন্দর সে দৃশ্য। হঠাৎই নিস্তব্ধতা ভেদ করে ভারি বুটের আওয়াজ সহযোগে শুরু হলো ভিডিও শো। যুদ্ধের দামামা আর দৃঢ় গলার আওয়াজ চারপাশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। না সত্যি সত্যি যুদ্ধ নয়, লাইট ও সাউন্ড সহযোগে যুধকালীন পরিস্থিতির বর্ণনা আর হাড় হিম করা ভয়াবহ যুদ্ধের কাহিনী। একসময় মনে হলো এই সুন্দর প্রকৃতির মাঝে কেন মানবিক বর্বরতা, কেন এই প্রকৃতির ওপর দেশে দেশে ভেদাভেদ, কেনই বা কাঁটাতারের বেড়া? আমাদের মত ভ্রমনপ্রেমী দের কাছে সমগ্র পৃথিবীটাই একসূত্রে বাধা। মনে মনে এসব ভাবতে ভাবতে হোটেলে ফিরলাম। আগে থেকে হোটেলের রিসেপশনে সবার আইডি কার্ড দেওয়াছিল পরদিনের বুমলা পারমিটের জন্য, হোটেলে ফিরে দেখি পারমিট হাজির। আনন্দে আর উৎসাহে তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম। পরদিন যাত্রা বুমলা পাস, মাধুরী লেকের উদ্দেশ্যে।

সেপ্টেম্বর: সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে ব্রেকফাস্ট প্যাক করে বেরিয়ে পড়লাম। যাত্রা পথে কোথাও খাওয়ার পাওয়া যাবেনা। জনমানবহীন নির্জন প্রান্তর মাঝে মাঝে শুধু ছোট ছোট মিলিটারি সেটেলমেন্ট। যাত্রাপথের প্রথম কিছুটা পথ থেকে মেঘের ফাঁকে তাওয়াং মোনাস্ট্রিটা নজরে আসে। কিছুটা পথ এগিয়ে একটা মোড় ঘুরতেই পি.টি.সো লেকের দেখা মিলল। সবুজে মোড়া সুউচ্চ পাহাড়ের কোলে নীল জলের পসরা নিয়ে বসে এই লেক। মেঘের প্রতিচ্ছবি জলের নীল ক্যানভাসের ওপর যেন স্বর্গের প্রতিরূপ। মাঝে মাঝেই কানে আসছে জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ।

দেখলাম লেকের ধারে নতুন কিছু কটেজ তৈরী হচ্ছে। হয়তো ভবিষ্যতে লেকের ধারে থাকার ব্যবস্থা হবে। লেকের জলে ঘুরে বেড়াচ্ছে কয়েকটা রুডি সেল ডাক।কিছুটা গিয়েই চেকপোস্ট। চেকপোস্টে পারমিশনের কাগজ দেখিয়ে ছাড়পত্র মেলে। সমগ্র যাত্রাপথে ছোট বড় অনেক গুলো লেক চোখে পড়ে। নীল জলে টইটুম্বুর লেকগুলো আলাদা করে চোখটানে বারবার।




যাওয়ার পথে ওয়াই জংশন পড়ে, ড্রাইভার বন্ধুটি জানালো আমরা প্রথমে যাবো বুমলা। বেলাবাড়ার সাথে সাথে বুমলা মেঘে ঢেকে যায়, কমে যায় দৃশ্যমানতা ।তাই বুমলার রূপ বেলাবাড়লে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়না। তাই এগিয়ে চললাম বুমলার উদ্দেশ্যে। অনেকখানি পথ,কিন্তু পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় মোহময়ী প্রকৃতি। যাওয়ার পথে চোখে পড়ে পাহাড়ের কোলে কোলে প্রকৃতির ফুলের বাগান। কি রংনেই সেখানে? রামধনু যেন পাহাড়ের কোলে কোলে খেলা করে বেড়াচ্ছে। চলার পথে একটা লেক দেখিয়ে ড্রাইভার দাদা বলেন এটি ‘হেভেন লেক’।

প্রকৃতির মাঝে আবারও একটি নীল জলের লেক। হেভেন লেক পেরোনোর পর প্রকৃতি একটু রূঢ় হতে শুরু করল। কমতে লাগল গাছ-গাছালি। একসময় সামনে চলে এলো ন্যাড়া পাহাড়ের সারি। ন্যাড়া পাহাড়ের পিঠ বেয়ে এগিয়ে চলছি বুমলার দিকে। দূরে দেখা যাচ্ছে মিলিটারি ক্যাম্প। ধীরে ধীরে ক্যাম্প গুলো স্পষ্ট হতে লাগল। এসে পৌঁছলাম বুমলায়। ঠান্ডাটা বেশ অনুভূত হচ্ছে। দূরের পাহাড়ের চূড়ায় বরফের আবরণ। সেনাবাহিনী থেকে গ্রূপে গ্রূপে ভাগ করে এক একটা গ্রূপকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তথাকথিত বর্ডার এর ধারে। দূরে দেখা যাচ্ছে চীনা সেনাবাহিনীর রাডার। দুটি পোষ্ট এর মাঝে খানিকটা জায়গা কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা, ওপারে যাওয়া নিষেধ। পোষ্টের ওপরে বড় বড় হরফে ইংরেজি ও চাইনিজ ভাষায় লেখা ‘ চায়নায় স্বাগতম’ এটাই বহুলচর্চিত ইন্দো-চীন সীমান্ত। ভারতের দিকটায় যদিও বা সেনাবাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ে,চীনের দিকটায় কাউকেই দেখতে পেলাম না। দূরে চীনের দিকটায় সৌন্দর্য মন্ডিত তিব্বতীয় মালভূমির রূপ দেখা যাচ্ছে।

মনে মনে ভাবলাম তথাকথিত এই কাঁটাতারের বেড়ায় আবদ্ধ না থাকলে, একবার ঘুরে আসাই যেত ওখান থেকে। ভারতের দিকে একটা বড় মিটিংহল চোখে পড়ল। এক বছর ছাড়া ছাড়া দুদেশের সেনাবাহিনী মৈত্রী মিটিং করে এখানে। চীনা দিকটায় ও নাকি এমনি আরেকটি মিটিং হল আছে। সেখানেও একবছর ছাড়া ছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনী যায় মৈত্রী মিটিং করতে। সেনাবাহিনীর এক জওয়ান জানালেন চীনা দিকটায় নিকটবর্তী প্রথম গ্রামটি 15কিমি দূরে।

তিনি দূরে বারফাবৃত একটি পাহাড়ের দিকে দেখিয়ে বললেন, এটি শিব-লিঙ্গ পর্বত। এর মাঝ বরাবর চলেগেছে ইন্দো-চীন কাল্পনিক সীমারেখা। শোনালেন রোজ কিভাবে ওই উঁচুতে সারাদিন পালা করে পাহারা দিতে হয় তাদের। দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষায় সেনাবাহিনী কতটা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তাদের কঠোর জীবন যাপন দেখেই তার প্রমান মেলে। এরজন্য মনে মনে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম। ফেরার পথে একই রাস্তা ধরে ওয়াই জংশন পর্যন্ত এলাম, সেখান থেকে আরেকটি রাস্তা ধরে রওনা দিলাম মাধুরী লেকের দিকে। মাধুরী লেকের আসল নাম ‘সংগেটসর’ লেক।




কোয়লা সিনেমার শুটিং এ মাধুরী দীক্ষিত এর একটি নাচের সিকোয়েন্স ছিল এই লেকের ধরে,তারপর থেকে লেকটি মাধুরী লেক নামেই সর্বজন বিদিত।লেকে যাওয়ার রাস্তার বাঁদিক ঘেঁষে একটা সরু নদী বয়ে চলেছে, জল একেবারে নেই বললেই চলে। যাত্রাপথে কটা ছোট ছোট ভ্যালি চোখে পড়লো। শেষের 4-5 কিমি পথের দুধারে ফুটে রয়েছে বন্য ফুল। এযেন ফুলের উপত্যকা।

ডানদিকে একটা বড় ঝর্ণাকে পাস কাটিয়ে বামদিকে বাঁক নিতেই চোখে পড়ে সংগেটসর। এটাই প্রথম দর্শন,পাখির চোখে সংগেটসর অপূর্ব সুন্দর। চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা মাঝে টলটলে নীল জলের লেক। লেকের মাঝে গাছের মৃত কান্ডগুলো মায়াবী রূপ দিয়েছে। এগিয়ে চললাম, সংগেটসর এর ঢোকার মুখে গাড়ি পার্কিং এর জায়গা। লেকের সামনে অনেকটা জায়গা জুড়ে পার্কের মতো বানান। লেকের ধারে একটা ছোট্ট ক্যান্টিন আছে, পুরো জায়গাটির তত্বাবধানে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

একটা জলের স্রোত নদীর মতো লেকে এসে মিশছে, তার ওপর দিয়ে একটা ছোট্ট কাঠের ব্রিজ।ব্রিজের অপর প্রান্তে জঙ্গল লাগোয়া একটা ছোট্ট কাঠের কটেজ। ঠিক যেন স্বপ্নপুরী। এখানে একরাত কাটাতে পারলে জীবনকে অন্য ভাবে উপলব্ধি করা যেত, কিন্তু এখানে থাকার পারমিশন সাধারণ জনগণকে দেওয়া হয়না। বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে গাড়িতে গিয়ে ব্রেকফাস্ট করলাম। ড্রাইভার দাদাকে অনুরোধ করলাম এখান থেকে 3কিমি দূরে তাশিগ্যাং গোমফা নিয়ে যাওয়ার জন্য, কিন্তু বিধি বাম, রাস্তায় ধস নেমেছে তাই ওদিকে যাওয়া গেলনা।অগত্যা ফেরার পথে ধরলাম। ফেরার পথে ওয়াই জংশনের কিছুটা আগে একটা পাহাড়ের মাথায় পাশাপাশি দুটো লেক দেখে দাঁড়ালাম। সুন্ধর প্রকৃতির মাঝে অসম্ভব সুন্দর নীল জলের দুটি টলটলে লেক। এতো স্বর্গের হাতছানি।

তাওয়াং ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়েগেল। নেহেরু মার্কেট থেকে থুকপা, মোমো সহযোগে আহারাদি সম্পন্ন করে একটা ফাঁকা জায়গা দেখে বসলাম।আকাশে রঙের খেলা চলছে,মনের ক্যামেরায় সাদৃশ্য বন্দী করলাম দুচোখ ভোরে। আজ তাওয়াং এ শেষ দিন। আগামীকাল আবার একই পথ ধরে ফিরতে হবে বমডিলা। তারপর বমডিলা থেকে সোজা গুয়াহাটি। এসব ভাবতে ভাবতেই রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।




সেপ্টেম্বর: সকাল সকাল তাওয়াং থেকে রওনা দিয়ে প্রথমেই পৌঁছলাম জং জলপ্রপাত। বহুদূর থেকে উচ্ছসিত জলরাশির গর্জনের আওয়াজ শোনা যায়। একটা জায়গায় গাড়ি পার্ক করে হেঁটে হেঁটে নামতে হয় প্রথম ধাপে। সেখানে রয়েছে একটা হাইড্রাল প্রজেক্ট। এখন থেকে আবার বেশ কিছু সিঁড়ি ভেঙে নামাযায় একেবারে জং এর পাদদেশে। হাঁটা পথের পুরোটাতেই জং এর অপরূপ রূপ চোখে পড়ে। নিচে নামলে তার বিধ্বংসী রূপ চোখে পড়ে। ওপর থেকে গ্যালন গ্যালন জল ঝাঁপিয়ে পড়ছে নিচের পাথরের ওপর। পাথরের সঙ্গে সংঘাতে জলকনায় ভোরে যাচ্ছে চারপাশ। সেই জলকনায় সূর্যরশ্মির বিকিরণে সৃষ্টি হচ্ছে রামধনু। জলপ্রপাতের জল তীব্রগতিতে মিশে যাচ্ছে জং নদীর সাথে। অপূর্ব, অসাধারণ এসব বলতে বলতে ফিরে এলাম গাড়ির কাছে। এবার আর থামবোনা, সোজা এগিয়ে যাবো বোমডিলার দিকে। এই সফরে অরুনাচলের অপূর্ব রূপ দেখেছি আমরা, যেটা চিরকাল মনের মণিকোঠায় বন্দি থেকে যাবে।




8 Comments

  1. খুবই সুন্দর বর্ণনা করেছেন। আমরাও নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যাবো ঠিক করেছি ।রাস্তা ভালো নয় জানতে পারলাম, কিন্তু উচ্চতা জনিত কিছু সমস্যা আছে কিনা জানতে পারলামনা। কারণ আমাদের 60 বছর গর বওশ। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    Reply
    • প্রথমেই লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
      আমাদের কারুর উচ্চতা জনিত সমস্যা হয়নি। আমাদের গ্রূপের 4জন সদস্য 60+ বয়সের ছিলেন। আশাকরি কোথাও সমস্যা হবেনা। তবে সেলা পাস ও বুমলা পাসে একটু হলেও হতে পারে। তাই চলাফেরার সময় একটু সচেতন থাকবেন।
      আশাকরি আমার উত্তর আপনাকে সাহায্য করবে। সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন। লেখাগুলি ভালোলাগলে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়দের সাথে যতখুশি শেয়ার করুন।

      এক্সক্লুসিভ ট্রাভেল গাইডের জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে: http://www.youtube.com/tourplannerblog

      Reply
      • Amader ecche next year March a jaoar ,tour plan hisabe 11th/12th March hobe bumla pass -madhuri lake jaor. Tkhn ki amra permission pabo jaoar? Ektu idea dite perben please.

        Reply
  2. অনেক দিন থেকেই যাবার ইচ্ছা কিন্তু কিছুতেই যাওয়া হয় না। তাই এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম ।সংগে ভ্রমণ ও হয়ে গেল ।

    Reply
    • প্রথমেই লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। পারলে সময় করে একবার ঘুরেই আসুন, খুব ভালো লাগবে জায়গা গুলো।
      আমাদের সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন। লেখাগুলি ভালোলাগলে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়দের সাথে যতখুশি শেয়ার করুন।

      এক্সক্লুসিভ ট্রাভেল গাইডের জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে: http://www.youtube.com/tourplannerblog

      Reply
  3. আপনার ভক্ত হয়ে গেছি।তথ‍্যসমৃদ্ধ লেখাটার জন্য ধন্যবাদ।আমরা 2020তে যেতে পারি।উপকৃত হলাম।

    Reply
    • ধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন। অবশ্যই ঘুরে আসুন।খুব ভালো জায়গা, আশাকরি খুব ভালো লাগবে।

      Reply
  4. অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর তথ্যসমৃদ্ধ লেখার জন্য৷ আগামী ফেব্রুয়ারীতে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে৷ আমদের সদস্যরা প্রত্যেকেই ষাটোর্দ্ব তাই ভাবছি, ফেব্রুয়ারীর শেষে আমাদের শরীর ধকল নিতে পারবে কিনা?

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement