A Travel Story on Panwali Kantha Trek

A Travel Story on Panwali Kantha Trek

Panwali Kantha Trek : একটি হারিয়ে যাওয়া লেখা ও একটি পুরনো পদযাত্রা – কৃষ্ণা চৌধুরীর কলমে

Panwali Kantha - travel story

Panwali Kantha


২০০৭ সালে জুন মাসের ৭ তারিখে আমরা চার অসমবয়সী বান্ধবী বেরিয়ে পড়েছিলাম হিমালায়ের পুরান পথে। “তোমায় নতুন করে পাবো বলে………….”
এ পথ প্রাচীন। কেদারনাথ থেকে গঙ্গোত্রী যাওয়ার প্রাচীন পথ। আমরা পায়ে হাঁটা শুরু করলাম ত্রিযুগী নারায়ন থেকে।যাত্রা শেষ করলাম লতা গ্রামে এসে ( উত্তরকাশীর কাছে)। পেরিয়ে এলাম শত মাইল পথ। প্রায় ১০ দিন দুলকি চালে হেঁটে পৌঁছলাম গন্তব্যে। ভরে উঠলো মন,আর স্বপ্নে আসতে লাগলো সবুজ বনভুমি, তৃণরেখা আর আকাশজোড়া শিখররাজি। গ্রীষ্মমন্ডলের মধ্যে দিয়ে কয়েক হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে যখন শোনপ্রয়াগের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছলাম তখন আমরা সবাই খুব ক্লান্ত। সেখানে দেখলাম বিশাল এক গাড়ির মিছিল, তার মাথাটা শুনলাম গৌরীকুন্ড পর্যন্ত পৌছেছে।পাহাড়ে ট্রাফিক জ্যাম!
আসলে সারা ভারতবর্ষ এসে দাঁড়িয়েছে কেদারনাথের পদতলে। কন্ডাক্টর পরামর্শ দিলেন জিনিসপত্র নিয়ে হাঁটা দিতে। কারন আমরা শোনপ্রয়াগ থেকে জীপ ধরে ত্রিযুগীনারায়ণ যাবো। প্রায় কোয়ার্টার কিমি রাস্তা। সাহায্যের হাত বাড়ালেন পথের বন্ধু বাঙ্গালোর থেকে আসা রাজু আর তার দাদা। শোনপ্রয়াগ থেকে শুরু হোল সবুজের পথে যাত্রা, ঘুরে ঘুরে উঠতে উঠতে চোখে পড়ল দূরে শাকম্ভরী মন্দির। কিছুক্ষনের মধ্যেই এসে দাঁড়ালাম ত্রিযুগীনারায়নের অঙ্গনে। একটুকরো হিমালয়ের প্রাচীন তীর্থ ইতিহাস আর প্রকৃতিকে বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রাচীন কাহিনী হল হর-পার্বতীর বিবাহের যজ্ঞাগ্নি জ্বলছে আর সাক্ষী স্বয়ং ত্রিযুগীনারায়ন। তিন যুগ ধরে ধুনি জ্বলছে। মন্দিরের সংস্কার ঘটেছে,পান্ডারাও বেশ সক্রিয়। তবে ব্যবহার খুবই ভদ্র।

Panwali Kantha - travel story

Panwali Kantha

আমাদের তখন গোছাবার পালা।অনেক খোঁজ করে গাইড/পোর্টার মিলল। জগদম্বা প্রসাদ আর ভুপিন্দর সিং। জেপি আর ভুপি নামেই বেশি স্বছন্দ।দু জনই বাবু,শিক্ষিত,মাল বইতে বড়ই কষ্ট।তাই তৃতীয় মালবাহকের বড়ই দুর্দশা। হীরা লাল শর্মা আমাদের সঙ্গী হয়েছিল ঘুট্টু পর্যন্ত।এখানেও সেই শাসক আর শোষিতের গল্প।

১০ ই জুন

সকালে যাত্রা শুরু হওয়ার কথা, কিন্তূ শুরু আর হয় না। JP অনেক দেরীতে এসে জানালো কেরোসিন মিলবে না। যাই হোক যাত্রা হোল শুরু।
প্রথমে গ্রামের মধ্যে পথ উঠে গেছে। একেবারে উপরের দিকে বুনিয়াদী বিদ্যালয়,ভারী চমৎকার পরিবেশ,আমাদের ভুপী এখানকার শিক্ষক। এরপর ধীরে ধীরে উঠে চললাম। আজ আমরা পাড়ি দেব মাত্র ৬ কি.মি । থাকব মগ্গু চটিতে। শক্তপোক্ত দল হলে একেবারে পাওয়ালী গ্রামে পৌঁছতে পারে। কিছুক্ষন উঠে এসে একটা সবুজ প্রান্তর পার হয়ে প্রবেশ করলাম বনপথে। পুরো পথটাই চড়াই,ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। সারা পথে জলের খুব অভাব। একটা ছোট্ট উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে একটা নালা, মগ্গু চটির ২ কি.মি আগে। সেটাই আমাদের জলের উৎস। চলতে চলতেই চোখে পরলো অসংখ্য মোষ। মোষ চরানো এখানকার প্রধান পেশা।

Panwali kantha - travel story

Panwali Kantha

৬ কি.মি হেঁটে আমরা পৌঁছলাম মগ্গু চটি। পথ শুধুই চড়াই,ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে।চোখের দৃষ্টি বাধা পায়। মগ্গুর উচ্চতা ১০০০০ ফুট। আমরা উঠেছি মাত্র ২৫০০ ফুট। মগ্গু চটি একসময় খুব জমজমাট ছিল, কালীকমলীর ধ্বংসাবশেষ এখনও সেই সাক্ষ্য বহন করছে। P.W.D এর একটা শেডও আছে, তাও ভগ্নদশা। এখন পশুপালকদের আড্ডাস্থল,অযত্নে অপরিছন্ন।আমরা যাওয়ার পর অন্ধকার হয়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হোল। মগ্গুতে আমাদের দিন খুব একটা ভাল কাটেনি।তাঁবুর মধ্যে ঢুকে পরদিন প্রভাতের অপেক্ষা করতে করতে কখন ঘুমের দেশে চলে গেলাম।

১১ই জুন

Panwali Kantha - travel story

Panwali Kantha

শুরু হোল এক দীর্ঘ পদযাত্রা। আজ আমাদের পাড়ি দিতে হবে ১৬ কি.মি. পথ। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। রওয়ানা হলাম প্রায় ৯ টার সময়। প্রথম ২ কি.মি. পথ জঙ্গুলে, তবে আগের দিনের মতো অত ঘন নয়। ১০০০০ ফুট এর উপরে চলেছি,তাই আস্তে আস্তে পাতলা হয়ে আসছে জঙ্গল। পাহাড়ের এইদিকটার ঢালে রোদ্দুর কম আসে তাই এখনও বরফের শেষ চিহ্ন রয়ে গেছে।মাঝে মাঝে দু একটা বরফের ক্ষেত্র পার হয়ে এলাম। কিছুদুর পর জঙ্গল ফাঁকা।পথ উঠে গেছে অনেক অনেক উপরে।দূরে দেখা যাচ্ছে কিমখোলা খাল ১২০০০ ফুট, ডানপাশে ছোট,ছোট বুগিয়াল। গোটা ট্রেক পথটা জুড়েই বসেছে বুগিয়ালের মেলা। শুধু সবুজ আর সবুজ, সবুজ মখমল পাতা আছে সবখানে। কিছুক্ষনের মধ্যে চড়াই শেষ হোল, পৌছে গেলাম কিমখোলা খাল। পাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে চোখে পড়ল এক দীর্ঘ সর্পিল পথ মিলিয়ে যাচ্ছে দূর থেকে বহু দূরে। গোটা পথটাই পাহাড়ের ছাদের উপর দিয়ে(রিজের)। দুপাশে দিগন্ত পর্যন্ত দৃষ্টি প্রসারিত হয়। একদিকে আকাশ জুড়ে তুষারমৌলী হিমালয় আর গোটা ভিলাঙ্গনা উপত্যকা ছবির মত দেখা যায়,আর পথ চলা শুধু বুগিয়ালের মধ্যে দিয়ে। তবে আমাদের অনেক শোনা কথা, অনেক পাওনা বাকী রয়ে গেলো।অধরা রয়ে গেল শৃঙ্গরাজির রূপ, অধরা রয়ে গেল ভীলাঙ্গনার সবুজ উপত্যকা। কারন আমরা চলেছি মেঘ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। সবুজ আমাদের আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ছিল, আমরা দেখছিলাম শুধু দিগন্তজোড়া বুগিয়াল আর দূরে দূরে পশু চরে বেড়াছে, কোথাও ভেড়ার পাল কোথাও মোষের দল আবার কোথাও একটি,দুটি ঘোড়া, আর ঘাপ্টি মেরে আছে পাহাড়ের কুকুর। গোটা পথ জনমানবহীন। পাওয়ালী গ্রাম পর্যন্ত একজন ট্রেকারের সঙ্গেও দেখা হয়নি।শুধু উলটো দিক থেকে আসা দু-এক জন সাধুকে দেখেছি।

Panwali Kantha - travel story

Panwali Kantha

বৃষ্টির জন্য সঙ্গীরা অপেক্ষা করেনি তাই লাঞ্চ ব্রেক ও হয়নি। ক্লান্ত,অবসন্ন শরীরে আমরা রাজখড়ক পৌছলাম বেলা ৩ টার সময়।এখানে দু-তিন ঘর মানুষের বাস, মোষ চরাতে এসেছে। এক গ্লাস করে মোষের দুধ খেয়ে সমস্ত ক্লান্তি নিমেষে উধাও। পথ বাকি আর মাত্র ৩ কি.মি। এবার শুরু হোল পাইনের জঙ্গল, পথে মাঝে মধ্যেই মোষের দলের সঙ্গে দেখা হছে। তার নিজেরাই চলেছে, নিরীহ প্রাণী, তাও সসম্ভ্রমে পথ ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

১২ই জুন

আজ আমাদের ছুটি,সারাদিন শূধু ভেসে বেরানো স্বপ্নের মায়াপুরীতে। সকাল থেকেই মেঘ ও রৌদ্রের খেলা চলছে। ঢেউ খেলানো সবুজ বুগিয়াল বয়ে গিয়েছে দিক থেকে দিগন্তে।

Panwali Kantha - travel story

Panwali Kantha

গ্রামের অনেকটা উপরে কয়েক ঘর গুজ্জর বাস করছে। সেখানে দেখা হোল এক হাজী সাহেবের সঙ্গে। গুজ্জর যাযাবর সম্প্রদায়, মুসলিম ধর্মাবলম্বী।এক ফাঁকে মরা মোষের ছবিও তুলে দিতে হোল। ছবি আর কান দেখিয়ে ব্যাংক এ ঋণ মকুবের আবেদন করবে মালিক। গ্রামের অনেক উপরে দেখা যাচ্ছে পাওয়ালী কাঁটা,তার পাশে পাওয়ালী মন্দির। পরদিন আমরা পাওয়ালী কাঁটা পেরিয়ে ঘুত্তুর দিকে নেমে যাবো,তাই ঠিক হোল পরদিনই মন্দির দর্শন করব। কিন্তূ পরেরদিন যাত্রার সময় কখন আমরা মন্দির পাশে রেখে নেমে গিয়েছি পথের দুর্নিবার আকর্ষণে।অদেখা রয়ে গেল পাওয়ালীর সেই ছোট্ট মন্দির।এমনি করেই আমরা চলার পথে কত কি হারিয়ে ফেলি। পাওয়ালী গ্রামে ২/৩ দল ট্রেকারের সঙ্গে দেখা হোল, প্রত্যেকে ঘুট্টুর দিক থেকে ‘ঘুট্টু কা চড়াই জার্মান কা লড়াই’ উঠে এসেছেন।আসলে ঘুট্টু বহু নিচে, ওখান থেকে যে কোনও দিকে যেতে হলে বুকভাঙ্গা চড়াই ভাঙ্গতে হয়। আর ঘুট্টু তো ট্রেকারদের স্বর্গ। কিন্তু আমাদের কলিজার জোর কম, তাই ফাঁকি দিয়ে যতটা পারি উসুল করে নিই, আমাদের তাই উলটো পথে এ পদযাত্রা। ৪/৫ জন বাঙ্গালি এসেছেন রেলওয়ের। ঘুট্টু থেকে ত্রিযুগীনারায়ণ যাবেন। ১ দল কানাডা থেকে এসেছেন,আর ১ দল এসেছেন ফ্রান্স থেকে। পাওয়ালী হোল ‘ল্যান্ড অফ মিল্ক’ মাঠাতোলা দুধ এখানে নালা দিয়ে বয়ে যায়। আর তাই পান করে কুকুরবাচ্ছা গুলো এক একটা ফুটবলের মতো ,তাদের মা-বাবারাও স্বাস্থ্যবান।

Two Beauties in a bugiyal

Two Beauties in a bugiyal

আমরাও দুধ মাঠা খেলাম। পৌষ্টিক অত্যাচারের ফল ও পেলাম,সামলেও গেলো। দুপুরে দেখি সঙ্গীরা বিশ্রামে আগ্রহী, একাই বেরিয়ে পরলাম এদিক ওদিক। একটা উচুঁ টিলার উপর বসে কাটালাম একখন্ড দুপুর। যা হয়ে রইলো সারা জীবনের পাথেয়। সেই চিত্রখন্ড স্থায়ী আসন করে নিলো আমার মনের লেন্সে। আজ লিখতে গিয়ে উপস্থিত হচ্ছি সেই স্বর্গ রাজ্যে,তাই বার বার লেখার খেই হারিয়ে যাচ্ছে। হাতের ডিজিটাল ক্যামেরায় পরের পর ছবি তুলে যেতে লাগলাম।অনেক নীচে দূরে দেখা যাচ্ছে পাওয়ালী গ্রাম। উল্টো দিকে অনেকটা দূরে ফরাসীরা তাঁবু ফেলেছে।দূরে দেখা যাচ্ছে আগের দিনের ফেলে আসা বনপথ,এক সাদা ঘোড়ার লাগাম ধরে এক পাহাড়ী চলে যাচ্ছে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সে পরদিন আমদের সঙ্গী হয়েছিলো।এমনি করেই কেটে গেল একটা দুপুর,একটা বিকাল আর একটা রাত। শুধু আধাঁরে রয়ে গেলো আকাশজোড়া তুষার প্রাচীর, তা রইল মেঘ-কুয়াশার ওড়না মুখে দিয়ে।

১৩ ই জুন

আজ আমরা বনপথ পেরিয়ে নেমে যাবো ভীলাঙ্গনার তীরে, ঘুট্টুতে। পেরতে হবে ১৮ কি.মি. পথ। প্রথম ১ কি.মি পথ উঠে চলা পাওয়ালী গ্রাম থেকে পাওয়ালী কাঁটা।বুগিয়ালে চরে বেড়াচ্ছে কতকগুলি সাদা ঘোড়া,যেন পক্ষীরাজ। পাওয়ালীর ছাদে উঠে পিছন ফিরে তাকাই আমার ফেলে আসা স্বপ্নপুরীর দিকে, বিদায় দিতে মন চায় না, তবু এগোতে হয়। নেমে চলি ,নেমেই চলি। আবার জঙ্গল শুরু হয়। ২/৩ কিমির মাথায় পার হয়ে আসি ‘দোফান্দা’,অনেকটা রাজ়খড়কের মত, ২/১ ঘর মোষ পালকের বাসস্থান। আর ২ কি.মি এগিয়ে পড়ে এক চায়ের দোকান। আর কি কান্ড! ত্রিয়ুগীর পর এখানে সভ্যতার (BSNL Tower) চিহ্ন পাওয়া যায়। কলকাতায় যোগাযোগ করি, ভালই লাগে।

হঠাৎ গোটা পাহাড়টা মেঘ-কুয়াশায় মুখ ঢাকে,খাড়া পথ দিয়ে নেমে চলেছি।ঘন জঙ্গল, বৃষ্টি পড়লে খুবই অসুবিধা হবে, যথাসম্ভব পা চালাই।লাঞ্চ ব্রেকের পর শেষ রক্ষা হয় না।বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি নামে। খুব সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে, ২/১ বার আছাড়ও খেলাম, সারা গায়ে কাদা মাটি। আধ ঘন্টা বৃষ্টি ঝরিয়ে ঝকঝকে রোদ উঠল।,আর সামনের কুয়াশার পর্দা ছিঁড়ে দেখা দিল ভীলাঙ্গনা ভ্যালি। নিচে,বহু নিচে ঘুট্টু। ঘর বাড়ি দেখা যাচ্ছে। নামতে নামতে পেশী যেন আলগা হয়ে এসেছে,মনে হছে পা ঠিকমত পড়ছে না। তবুও পথ শেষ করতে হবে, চরৈবতি! অনেকটা হেঁটে এসে এক বর্ধিষ্ণু গ্রামে এসে পৌছলাম। শুনলাম গ্রামের নাম গোমান্দা। নদীর অপর পাড়ে তখন দেখা যাচ্ছে ‘খাতলিং’ উঠে যাওয়ার পথ। অনেক নিচে চোখে পড়ল একটা মন্দির,অনেক আশা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ঘুট্টু আর কত দূর? শুনলাম আরও ৩/৪ কি.মি। পা ভীষন ভাবে বিদ্রোহ করছে। সঙ্গীরা অনেক পিছনে। পোর্টারদের বলা আছে পিছনে থাকতে তাই আমিই এগিয়ে চলেছি। গ্রামের মধ্যে দিয়ে পথ,এখানে শুরু হোল আরেক বিড়ম্বনা! ঘুট্টু পর্যন্ত বাস এসেছে বহুদিন। তাও গ্রামের বউ বাচ্ছারা দেখছে এক কাদামাখা মহিলা স্যাক কাঁধে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে,সে এক মজার দৃশ্য! আমি চলেছি,পিছন পিছন একগাদা বউ-বাচ্ছা। একবার নদী পেরিয়ে আরও অনেকটা হেঁটে পৌছলাম ঘুট্টুর বাজার। দূর থেকে জি.এম.ভি.এন এর বাংলো দেখা যাচ্ছে। সঙ্গীদের জন্য অপেক্ষা করলাম,কারোর পাত্তা নেই। আমি এগিয়ে গেলাম,ভয়ঙ্কর গর্জন করে ছুটে চলেছে বর্ষার ভীলাঙ্গনা।

১৪ ই জুন

সারাদিন কাটল ঘুট্টুর পথে পথে ঘুরে বেড়িয়ে।তবে আগের রাত্রি থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত যা অঝোর ধারায় বৃষ্টি তাতে GMVNএর ঘরে শুয়ে শুয়ে মনে হচ্ছিল এবার রণে ভঙ্গ দিতে হবে। হয়ত হৃষিকেশেই নেমে যেতে হবে। সকাল ৯টায় দেখি একটু বৃষ্টি ধরেছে,যদিও আকাশের মুখ ভার। ঠিক হোল আবার এগিয়ে যাব। পোর্টারদের ছেড়ে দিয়েছি,তাই শুরু করি পোর্টার গাইড খুঁজতে। ঘুট্টু ট্রেকারদের স্বর্গ,কিন্তু দালালে ভর্তি,রেট খুব বেশী। নিজেরাই বের হলাম ,দেখা হোল ধন সিং এর সঙ্গে।ও ঠিকাদারের কাজ করতো,নেপালী,আমাদের সঙ্গে যেতে রাজি হোল।তারপর বাজারে ঘুরতে ঘুরতে দেখি J.P আর ভূপি আড্ডা দিচ্ছে। ওদেরকেই আবার বহাল করলাম।আর ওরা নানা ফন্দিতে বেশীরভাগ বোঝাটা ধন সিং এর কাঁধেই চাপালো।

১৫ই জুন

আবার কাঁধে স্যাক নিয়ে এগিয়ে চলা।প্রথম ১ কি.মি নদীর ধার দিয়ে পথ,পাকা রাস্তা টেহরীর দিকে চলে গেছে।তারপর ভীলাঙ্গনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে উঠে চললাম ডান দিকের পথ ধরে। সরু পথ, আশেপাশে গ্রামের ঘর বাড়ি রয়েছে। বেশ কিছুটা উঠে এসে এক টুকরো সবুজ শ্যামল ক্ষেত্র,সেখানে ছোট এক মন্দির জগদম্বার নামে।গ্রাম ছেড়ে এগিয়ে চললাম। ঘুট্টু ছাড়িয়ে,ভীলাঙ্গনা ছাড়িয়ে অনেকটা উপরে,জায়গাটার নাম ‘কোপারধার’। এখানে একটা সরকারি ‘ভেড়া প্রজনন কেন্দ্র’ ছিল,এখন খুবই করূণ অবস্থা। অল্টিচিউড ৭০০০ ফুট । জুন মাস,ঠাণ্ডা খুবই কম । লাঞ্চে রুটি খেয়ে আবার পথ চলা। শুরু হোল পাইনের জঙ্গল।মৃদুমন্দ বাতাস বইছে,আনমনে পথ চলতে চলতে হারিয়ে যাচ্ছি কোন অজানা এক দেশে।পথ ধীরে ধীরে ঊর্ধমুখী হচ্ছে,যেন বেড়াতে বেড়াতে পথ চলছি!খুব আরামের ট্রেক অথচ দারুন এনজয় করার মতন। পাইন বন ছাড়িয়ে এসে এবার তৃণক্ষেত্র,যথারীতি মোষের পাল চলেছে,এক সময় এক পশলা ট্রেকার তারানো বৃষ্টিও হোল।লাভের মধ্যে জোঁকগুলো মহা উৎসাহে বেরিয়ে পড়ল।এবার জঙ্গল বেশ ঘন,বৃষ্টির পর মাটি ভিজে,তার উপর ভিজে পাতা।চলতে চলতে একটা ভাঙ্গা পুল পড়ল,নিচে দিয়ে ঝরনা বয়ে চলেছে।বেশ ব্যালেন্সের খেলা দেখাতে দেখাতে পার হলাম।এর মধ্যে কখন দেখি গাছের মধ্যে দিয়ে রোদ্দুর ঝিলিক দিচ্ছে।একটুখানি রোদের স্পর্শে যেন চারদিক হেসে উঠল।অনেকটা নেমে আবার আমরা উঠে চলেছি। যথারীতি আমার দিদি হাঁফাচ্ছে আর রাগ করছে।দিদি তখন সবে বড়িষ্ঠ নাগরিক হয়েছে৷এরপর দিদি আর হাঁটাপথে যায়নি৷যদিও আমাদের আরেক সঙ্গী অঞ্জনাদি আমার দিদির থেকেও সিনিয়র৷
অনেক অনেক ওঠা নামার পর পৌঁছলাম এক অপুর্ব ময়দানে।উন্মুক্ত প্রান্তর। প্রথমে পৌঁছলাম আমি,অঞ্জনাদি আর ধন সিং। ধন সিং খুব সুন্দর নেপালি গান গাইতে পারত। এমন বিজন পরিবেশে সেই মধুর ধ্বনি পাহাড়ে পাহাড়ে অপুর্ব প্রতিধ্বনি তুলছিল। বহুদুর উন্মুক্ত। দেখা যাচ্ছে আমাদের কয়েক দিনের ফেলে আসা পথ,অনেক অনেক নীচে যেন দেখা যাচ্ছে ভীলাঙ্গনার রেখা।এবার নামার পালা,পাহাড়ের উলটো পথে।একটুখানি পথ ঘুরতেই দেখা গেল এক ছোট্ট সাদা মন্দির।দূর থেকে দেখা যাচ্ছে ভৈরবঘাঁটি স্থানীয় ভাষায় হাটকুনি। আজ আমরা হেঁটেছি মোট ১৪ কিমি।পৌছলাম হিমালয়ের নিভৃতে একটা ছোট্ট সুন্দর আশ্রমে।আশ্রমে ঢুকতেই জুটল উষ্ণ অভর্থনা। কিন্তু মোজা খুলতেই দেখি জোঁক ধরেছে।বৃষ্টি ধোয়া আকাশ,বাতাস,গাছ সব ঝকঝক করছে।বিকালের আলো নিভে এল আর চারপাশ গভীর মায়াবী আলোয় ভরে গেল। এরই মধ্যে গরম পানীয় আর বিস্কুট খেয়ে শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

সেই অপার্থিব আলোয় ভরা হাটকুনি তে পশ্চিম আকাশে আগুন জ্বালিয়ে পাটে বসলেন সুর্যদেব। সেই মায়াবি রঙের মধ্য দিয়ে একটা দুটো করে তারা ফুটতে লাগলো আকাশজুড়ে।তখনই শোনা গেল র্স্বগীয় শঙ্খধ্বনি,সন্ধ্যারতি শুরু হোল ভৈরব মন্দিরে। সকলে জড়ো হলাম মন্দির চাতালে। আরতি শুরু করলেন এক নাগা সন্ন্যাসী। এক অদ্ভুত অনুভুতিতে মন ভরে গে্লো।হিমালয়ের এক নিভৃতে ছোট্ট এক মন্দির,জনমানববিহীন এক প্রান্তর,শুধু দুএক ঘর পশুপালকের বাস।মন্দিরে একজন পুজারী আর এক জন সন্ন্যাসী। পুজারীর সঙ্গে দু একটি গ্রামের বাচ্ছা ছেলে মেয়ে এসেছে। আরতি শেষ হলে দেখি আকাশ জুড়ে দিপাবলীর মালা। আশ্রমের মাথায় আচ্ছাদন দেওয়া, চারিপাশ খোলা, একটা চাটাল আছে সেখানে ধুনি জ্বালিয়ে সাধুজী বাস করছেন।ওই আগুনেই রান্না হছে, তবে ভাত রান্নার জায়গা আলাদা। বাচ্ছাগুলো সাধুজীর শেখানো ভজন গাইলো, কেটে গেলো এক অপূর্ব সন্ধ্যা।

১৬ই জুন

ঘন্টা ২ চলার পর জঙ্গল শেষ হয়ে এল,শুরু হল গ্রামের রাস্তা।পথের পাশে একটি চায়ের দোকানে খিদে তেষ্টা মেটানো হোল,ছোট্ট নিকানো উঠান, ছোট্ট একটা বাড়ী,পুরো পরিবার মিলে একটা দোকান চালাচ্ছে।পরিবারের একটি ছেলে হয়ত বাইরে কাজ করে,কোনো তাড়া নেই ,কোনো টেনশন নেই,রোদ ঝলমলে উঠানে দুটো বাচ্ছা খেলে বেড়াচ্ছে। সমস্যা হয়তো আছে, কিন্তু হাসি মিলিয়ে যায়নি। পাহাড়ের এক একান্তে বড় মায়াময় সেই গৃহস্থের আঙ্গিনা। একটু এগিয়ে মোটর রাস্তায় এসে পড়লাম।অনেক উঁচু থেকে সর্পিল রাস্তা চোখে পড়ছে।ডান হাতি জঙ্গলের পথ ধরলাম আমরা। ঘন পাইনের জঙ্গল,তার মধ্যে দিয়ে পথ নেমে গেছে সেই নদীর বেলাভুমিতে। অনেক,অনেক নীচে দেখা যাচ্ছে বালগঙ্গা। যার তীরেই রয়েছে বৃদ্ধ কেদার । দিদিদের ট্রেক শেষ হয়ে আসছে,সেই আনন্দেই বোধহয় ওরা অনেক আগেই পৌঁছে গেল। সঙ্গীরা অনেকটা এগিয়ে তাই ফরেস্ট রেস্ট হাউসের লোভনীয় মায়া ত্যাগ করে আমরাও এগিয়ে চললাম লোকালয়ের মধ্যে। নদীর ধারেই একটা ঘর পাওয়া গেলো ,মন্দিরের কাছাকাছি,কাটিয়ে দিলাম একটা রাত। শুধু একজন দিদির বড়ই অনিচ্ছা গ্রুপ ভাগ হচ্ছে বলে। অথচ তাদের পা অসহযোগিতা করছে। অনাবিল আনন্দে একটু মালিন্যর ছোঁয়া লাগলো। একসময় আমিও মনস্থির করতে পারছিলাম না কিন্তু জেপীর আগ্রহে ঠিক হোল আমরা এগিয়ে চলবো,আর তাতেই মিলেছিল আর দুটো অনিন্দ্যসুন্দর দিন।

১৭ই জুন

সকাল থেকেই তোড়জোড় শুরু হোল।সকালের বাসে দিদিরা রওয়ানা হবে,তারপর আমরা বেরব।মন খারাপ।বাস ছেড়ে দেওয়ার পর অনেকক্ষন দেখা গেল ওদের।পাহাড়ী আঁকা বাঁকা পথে বাস চলেযাচ্ছে দূর থেকে দূরান্তে৷বিচ্ছেদের বেদনা ঘিরে রইল।
আমরা প্রথমে যাব ঝালা,সেখান থেকে হাঁটা শুরু হবে।একটা জীপ নিয়ে ঝালা পৌঁছবার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটা শুরু করলাম। রবিনদার লেখায় পড়েছি আজ ১২ কিমি চলতে হবে। এই প্রসঙ্গেই বলি আমাদের উৎসাহদাতা ছিলেন রবিনদা আর ওনার একটা লেখা ‘সাধু সন্তের পথে পথে’।সেই বইখানি হাতে নিয়েই আমরা এগোচ্ছিলাম৷ যাই হোক আবার ঘন জঙ্গল,প্রায়ান্ধকার পথ চলতে চলতে পেরোতে হচ্ছে পাহাড়ী ঝর্না ,দারুন বেগে ছুটে চলেছে একেবারে কিশোরীর উচ্ছলতায়।বেশ চলছিলাম, কিছুক্ষন পরে শুরু হল ঝিরঝির বৃষ্টি আর চারদিক থেকে জোঁকেরা প্রবল উৎসাহে বেরিয়ে পড়ল।রীতিমতো কাঠি নিয়ে জোঁক ছাড়াতে ছাড়াতে এগুতে থাকলাম। সারাপথ জনমানব বিহীন, একবার মাত্র ২/১ জনের দেখা পেয়েছিলাম পানগ্রানার আগে। পানগ্রানা মানেই অর্ধেক পথ পেরনো হোল।উর্ধমুখী পথ দেখে মনে হয় আরও এতোটা পথ চলতে হবে? সেই একই পার্বত্য তৃণভূমি,২/৪ ঘর পশুপালকের বাস,অজস্র মাছি আর জোঁক আর শুধু সবুজ আর সবুজ। প্রানগ্রানার পর কিছুটা এগিয়ে এক ঝরনার ধারে মধ্যাহ্নভোজন সারা হলো। এইখানেই এক বিপত্তি,স্থানীয় এক ছোকরা বলল আর মোটে ২ কিমি বাকি আছে,আর সব জানা সত্বেও আমরা সেটাকে সত্যি বলে ধরে নিলাম।

এতক্ষনে বৃষ্টি থেমে গেছে, বৃষ্টিস্নাত অরণ্য ঝলমল করছে,আমরা উঠে চলেছি। পার হলাম এক ঝুলা, সমস্ত উপত্যকা অসীম নির্জনতার মধ্যে ডুবে গেছে,অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে বামাকন্ঠের ডাক,ভাষা বোঝা যাচ্ছে না। আমরা ধীর পদক্ষেপে চলছি আর সে তরতর করে ভারী বোঝা নিয়ে উঠে চলেছে।সে এক মজার দৃশ্য। মেয়েটি ডাকতে ডাকতে উঠে আসছে। আর তার পেছনে আসছে এক পাল গরু, তারও পেছনে পেছনে আরও ছোট্ট ছোট্ট মেয়ের দল। হঠাৎ দেখি পৌছে গেছি এক সুন্দর ছোট্ট বুগিয়ালে।রাখাল বালিকারা সেইখানেই গরু চরাতে বসে পড়ল। কিন্তু আমাদের গন্তব্য বেলাক কই? ২ কিমি অনেকক্ষন হয়ে গেছে। এই সময় সেই গানটার কথা মনে হয়, ‘কতদূর আর কতদূর..’ যাই হোক চলেছি তো চলেছি, হঠাৎ করে মনে হোল পথরেখা নেই। এদিকে আমাদের পোর্টার ২ জনও প্রথম আসছে।কিছুক্ষনের জন্য মনে হোল পথ হারালাম নাতো? কোথাও জনপ্রানী নেই,ছেলেগুলো অবশ্য বলছিল ওরা সঠিক রাস্তাতেই আছে। কদিন ধরে হেঁটে হেঁটে আমরাও বোধহয় ক্লান্ত, আলো কমে আসছে,আর মনে হচ্ছে এক জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছি। একটা মানুষের মুখ দেখার জন্য আকুল হয়ে উঠছি । শব্দ পেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি, পুর্বপুরুষের এক নিশান, এক গাছ থেকে আর এক গাছে লাফিয়ে চলে গেল।যখন ক্লান্তির শেষ সীমায়, দেখি দূরে একটা ভাঙ্গা বাড়ি, পুরানো কালিকমলি ধর্মশালা। এসে পড়েছি বেলাকখাল। এরপার আর এক মজা, আমাদের গাইডরা খুব রেগে লাল আমরা ওদের উপর ভরসা করিনি বলে। তারপর ঘর ,আগুন পোহান, গরম চায়ের গ্লাস, ছোট্ট বুগিয়াল আর রাতের আশ্রয় মিলে গেল । বেলাকখালে কয়েকটা চটি আছে ,ওরা অবশ্য বলে হোটেল,খাওয়া থাকার বন্দোবস্ত আছে, তেমনই একটা ঘরে আশ্রয় মিলল। আমাদের ২ জনের জন্য পার্টিশন এর ওপারে ব্যবস্থা হল, সেটা কাঠ রাখার ঘর, আমরা বেশ আরামে কাটিয়ে দিলাম একটা রাত ।

১৮ই জুন

দিনের প্রথম প্রহরের আলোয় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক অবাক বিস্ময়। মেঘেদের দেশে চলতে চলতে ভুলেই গিয়েছিলাম,পরদার আড়ালের রঙ্গমঞ্চে রয়েছে তুষারমৌলি হিমালয় । সকালে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বেরিয়েই স্তব্ধ হয়ে গেলাম, আকাশের একটা দিক জুড়ে ধ্যানগম্ভীর হিমালয় তুষারকিরী্ট মাথায় দিয়ে প্রভাত সুর্যের বন্দনায় মগ্ন। ভীষন আপসোস হল সুর্যোদয় না দেখার জন্য।যতটুকু পেলাম মনের ঝুলিতে ভরে নিলাম। আর খচ খচ করে ধরার চেষ্টা করলাম ক্যামেরার লেন্স এ।
বেলাক এর হাইট ৯৫০০ ফুট , সামনেই বন্দরপুঞ্জ পর্বতশ্রেনী। আজ শেষ হবে আমাদের ১০ দিনের পথ চলা ২২ কিমি পাড়ি দিয়ে গঙ্গা তীর এ নামব সেই মাল্লার কাছে।
আবার জঙ্গলের পথ, উলটো পথে আসা এক সাধুর সঙ্গে দেখা হল। আজ মেঘমুক্ত আকাশ, রোদ ঝলমলে দিন, তাই পথে জোঁকের উপদ্রব নেই। পথ ক্রমশ উতরাই, মনের আনন্দে নেমে চলেছি। শউরি-কা-গাদ আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। অনেকদুর চলার পর শুনলাম আমরা পথ ভুল করেছি, পথ নদীর অপর পারে। অনেকটা পথ পিছোতে হবে। তবে এই পারেও রাস্তা আছে। গ্রামের পগারের মধ্য দিয়ে, তাইই সই। গ্রামের পথ দিয়ে অনেক ওঠা নামার পর দূরে বহু দূরে চওড়া ফিতের মত এক গেরুয়া জলধারা দেখা গেল, ‘দেবি সুরেশ্বরী ভগবতী গঙ্গে’— কেমন যেন আপনজনের সঙ্গে বহুদিন পরে দেখা হওয়ার মত অনুভুতি। শউরি-কা-গাদ এর বেলাভুমিতে পৌঁছে লাঞ্চ সারা হোল ।
তারপর বোল্ডার পার হয়ে উঠে চললাম ‘পুরানো সেই তীর্থপথ’ টুকু শেষ করব বলে। গঙ্গার প্রকৃত বামতীর ধরে উজানে এগিয়ে চলা, তারপর অকস্মাৎ নেমে এলাম নদীর বুকে, পুল এর উপর, নীচ দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলেছে গঙ্গা। শেষ হল আমাদের আশ্চর্য সুন্দর পদযাত্রা।

আমরা পার হয়েছি শতাধিক মাইল, ছুঁয়ে এসেছি ঊত্তরাখন্ড এর ৩ জিলা। ত্রিযুগীনারায়ন রুদ্রপ্রয়াগ জেলায়, কিমখোলা খাল পার হয়ে টেহরী জেলায় প্রবেশ, আর বেলাকখাল এর পর ঊত্তরকাশি জেলা।
এই আনন্দ যাত্রা সফল হওয়ার জন্য যাঁরা সবথেকে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন তাঁরা হলেন আমার বন্ধু রনতোষ মজুমদার (পাহাড়ের নীলু দা)_ আর অবশ্যই রবিন ব্যানার্জী, যাঁর লেখার এক কপি আমাদের কাছে থাকতো গোটা ট্রেকে।

উপসংহারের গল্প

২০১২সালে আর একবার পাওয়ালি কাঁটা গিয়েছিলাম অগাস্ট মাসে সবুজ মখমলে ফুলের আলপনা দেওয়া পথ ধরে ঘুট্টু থেকে ত্রিযুগীনারায়ণ৷ ‘ঘুট্টু কা চড়াই জার্মান কা লড়াই’ পার হয়েছিলাম দুদিনে৷দোফান্দাতে একটা ক্যাম্প হয়েছিল৷ পাওয়ালির মন্দির এবারও অদেখা রয়ে গেল৷চড়াই শেষে ডানদিকের পথ ধরে আমরা গ্রামে নেমে গেলাম৷মন্দির ছিল বাঁদিকে৷পাওয়ালি গ্রামে একদিন ছিলাম৷পরদিন ভোরে আকাশজোড়া তুষারমৌলী গিরিরাজ দেখা দিয়েছিলেন৷
মগ্গুর পথে বরফ চাদরগুলো বেগবতী ঝরনা হয়ে গিয়েছিল৷ এই দ্বিতীয় পদযাত্রায় আমাদের কাণ্ডারী ছিলেন রবিন দা।


This content is written by Mrs. Krishna Chowdhury. The beautiful pictures are also clicked by her.


Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement